Category Archives: Politics

লজ্জ্বাহীন কাপুরুষের দল ধর্মদর্শন বোঝে না!

03-07-2016

জাহাঙ্গীর আকাশ ॥ আমি ক্ষুব্ধ। আমার করার কিছুই নেই। এজন্য নিজেকে বড় অসহায় মনে করি। ওরা অস্ত্রধারী। ধর্মকে ওরা ভুল ব্যাখ্যা করে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের খুন করলে ওরা নাকি “বেহেস্ত” এ যাবে। ওরে বোকার দল, তোরা জানিস না যে, পৃথিবীতে কোন ধর্মই মানুষ হত্যা অনুমোদন করে না। তোরা কেবল ধর্মকে ভুল ব্যাখ্যা করে এবং সন্ত্রাসের মাধ্যমে সবাইকে অশান্তির আগুনে ফেলছিস। একবারও কী ভেবেছিস যে, তোদের জন্মদাতা পিতা-মাতা, এবং তোদের স্বজনরাও এই আগুনে জ্বলে-পুড়ে মরছে?

শংকা ছিল ওরা আঘাত হানতে পারে আমাদের সোনার বাংলায়! রাজনীতিকরা ক্ষমতার স্বার্থে স্বীকার করুক বা নাই করুক, মনে হতো ওরা আছে সর্বত্র। আমার আশংকাই আজ কাঁদালো আমাদের সবাইকে। ১৬ কোটি মানুষ আজ শোকাহত। আমি হতবাক হইনি। কিন্তু আমার হ্রদয় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। আমার আর সহ্য হচ্ছে না এমন নৃশংসতা, বর্বরতা আর এতো কান্না।

ওরা কিভাবে বেড়ে ওঠলো, কারা ওদেরকে জন্ম দিলো, কিভাবে এই কাপুরুষের দল ফ্রাংকেনস্টাইনে পরিণত হলো, কেন আজ গোটা বিশ্বজুড়ে ওরা ওদের অমানবিক নৃশংসতার ডাল-পালা ছড়িয়ে দিচ্ছে? বোধকরি, এসব প্রশ্নের উত্তর সবার জানা। আর এসবের উত্তর খোঁজার জন্য আজ আমার “ডিজিটাল কলম” কম্পিউটারে লিখতে শুরু করেনি। আমার ক্রোধ, আমার ব্যথা, আমার কষ্ট, আমার যন্ত্রণা আমাকে তাড়িত করে বেড়াচ্ছে। আমি আজ উন্মাদ, আমার মন আজ অশান্ত! এই তাড়না, হ্রদয়ের রক্তক্ষরণ কমানো আর অশান্ত মনকে শান্ত রাখার ব্যর্থ প্রচেষ্টা থেকেই আমার এই নড়ে ওঠা।

প্রধানমন্ত্রি বলছেন, অপরাধীদের শেকড় খুঁজে বের করা হবে! আমরা কী তবে জানি না যে অপরাধীদের শেকড়টা কোথায়, নাকি গেটা বিশ্বের কাছেই এটা দিবালোকের মতো পরস্কার “জঙ্গি”দের কে সৃষ্টি করেছে, কোন স্বার্থে? বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রসহ বহু রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত একাধিক জোট ও সংস্থা জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা বা দমন করতে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু কোন ইতিবাচক ফল কি বিশ্ববাসী দেখতে পাচ্ছে?, এককথায় না। কার্যত রাজনৈতিক ও সামরিক উভয় ব্যবস্থাই সন্ত্রাসবাদকে দমন করতে পারছে না। এর কারণ কি বিশ্ববাসী জানে না? নিশ্চয়ই এটা পরিস্কার যে, বৈশ্বিক এই যুগে সব রাষ্ট্র, সব দেশের একটা “ব্যবসায়িক স্বার্থ” জড়িয়ে যাচ্ছে এই সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদকে খতম করার সত্যিকারের একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাবার প্রশ্নে! এর ফল হিসেব নৃশংসভাবে মানুষ হত্যার কলেবরটা বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। বিশ্বের কোন দেশটি আজ নিরাপদ, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ এর বাইরে, সেটাই একটা বড় প্রশ্ন আজ?

প্রাকৃতিক তেল, গ্যাস আর জ্বালানি আজ বিশ্ব রাজনীতির এক বড় হাতিয়ার। আর এই হাতিয়ার বা সম্পদ যেসব দেশে আছে তার প্রায় সব ক´টি দেশেই আত্মঘাতি বোমা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও হানাহানি অবিরামভাবে চলছে। এর সাথে আছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এক উন্মত্ত নেশা। এই ক্মতার নেশাকে পাকাপোক্ত করতে গিয়ে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ তাদের অবস্থানকে সংহত করছে প্রতিনিয়ত।

কাজেই দেশে কোন “জঙ্গি” বা “আইএস” নেই এমনটা বলে দায় এড়ানোর কোন সুযোগই নেই। মানুষের আজ বদ্ধ ধারণা যে, সরকার যতই বলুক ওরা নেই, এদেশেরই মদদদাতারা এসব করাচ্ছে, এমনটা করে কেবল সন্ত্রাসীরাই আস্কারা পাবে তাদের জালটাকে বর্ধিত করার! গুলশানের পৈশাচিক বর্বরতার ঘটনার মধ্য দিয়ে একটা বিষয় এখন পরিস্কার যে, ওরা এখন আমাদের সোনার বাংলায় তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

দুই রাত ধরে ঘুমোতে পারছি না। স্বদেশের মাটি ছেড়ে আছি বহুদূরে। নিজের তাগিদে বা ইচ্ছায় দেশ ছাড়িনি। দেশের মাটিতে শরীরটা নেই বটে, তবে হ্রদয়টা আমার পড়ে আছে সেখানেই। আশা করেছিলাম, এবার বোধহয় রাজনীতির চোখ খুলবে স্বদেশে। ঘটনার পরপরই রাজনীতিকদের কথাবার্তা এবং ভাষণ-বক্তৃতায় তেমনই একটা আশা জন্ম নেয়। কিন্তু সময় যতই গড়াতে থাকলো, আমার আশাগুলিও নিরাশার অতল তলে হারিয়ে যেতে বসলো। কথায় বলে, “কুকুরের লেজকে যতই সোজা করে টেনে ধরি না কেন তা ছেড়ে দেয়ার সাথে সাথেই বাঁকা হয়ে যায়”! না, আমার দেশের রাজনীতিকরা কুকুর নন। কিন্তু এই রাজনীতিকরা (সবাই নন, অধিকাংশই…) সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটামাত্রই তার দায় একে অন্যের ওপর চাপানোর একটা প্রতিযোগিতায় নামেন।

এবারের ভয়ংকর বর্বরতার ঘটনাটির পরে রাজনীতিকরা দেশের স্বার্থে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় না দিয়ে দেশের মানুষের জন্য, দেশের স্বার্থকে মাথায় নিয়ে দেশের ভাবমূর্তিকে ধরে রাখে একযোগে কাজ করবেন, বলে মনে একটা স্বপ্ন বুনেছিলাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন ভেঙ্গে চুরমার তে চলেছে। রাজনীতিরা তাদের সেই পুরনে “বদঅভ্যাস” এ ফিরে যেতে বসেছেন। তারা এখন পরস্পরকে দোষারোপ করতে উঠে-পড়ে লেগেছেন।

এই যে “দোষারোপের রাজনৈতিক সংস্কৃতি” তা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে কী আমার আমাদের রাজনীতিকরা সোনার বাংলাকে বাঁচাতে পারবে? নাকি স্বদেশের ভুমিকেও সন্ত্রাস- জঙ্গিবাদের উর্বরমাটি বানানোতে এই “দোষারোপের সংস্কৃতি” সহায়কের ভূমিকা পালন করছে?

পুলিশের মহাপরিদর্শক বললেন, হামলাকারীরা (নিহত পাঁচজন) সবাই জেমএবি। আমরা জানি, এই জেমএবি যখন বাংলাদেশে তাদের জঙ্গি কার্যক্রম চালাতে শুরু করে বিএনপি-জামাতের শাসনামলে তখনই খবর বেরয়েছে যে এই জঙ্গিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক আছে। কিন্তু তারপরও সরকার দেশে জঙ্গি নেই বলে সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জঙ্গিরা যে এতোবড় একটা হামলার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেনি তার কি সার্টিফিকেট আছে সরকারের কাছে?

ঘটনার পর দেশের প্রধান তাঁর ভাষণে বলেছিলেন যে, এই হত্যাকান্ড ও সন্ত্রাসী হামলা ধারাবাহিক জঙ্গি হামলারই অংশ! সবমিলিয়ে এটা এখন আর বলার কোন অবকাশ আছে কি যে, আমাদের সোনার বাংলায় “আইএস” নেই! জঙ্গিরা, সন্ত্রাসীরা, হামলাকারীরা যেই হোক না কেন, দেশের মানুষের অধিকার আছে ওদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানার। শুধু আকাশ, বিকাশ, ডন, বাঁধন আর রিপন বলেই সব পরিচয় বলা হয় না। এমন নামে আরও অনেক মানুষ আছেন, তারাও কিন্তু সামাজিকভাবে হেয় হতে পারে, যদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী হামলাকারি দুর্বৃত্তদের পুরো পরিচয় প্রকাশ না করে।

একজন মন্ত্রি বললেন, জঙ্গিরা খালেদার পাশে বসে থাকে। জামা-শিবির, যুদ্ধাপরাধীদের বিএনপি আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পাশে আছে বটে, আইএস কিন্তু থালেদার পাশে বসে থাকে না। আর খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি সাফ জানিয়ে দিলেন যে, গুলশান হামলার সঙ্গে আইএস জড়িত নয়! খালেদা জিয়া যখন বললেন, সন্ত্রাস-জঙ্গি দমনে জাতীয় ঐক্যের কথা জানালেন, তখন আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ বললেন, খালেদাকে আগে মাফ চাইতে হবে!

ওদিকে মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছে যে, জীবীত যাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে তারা এখনো ছাড়া পাননি, আছেন জিজ্ঞাসাবাদের ভেতর। যেসব মানুষ জীবীত উদ্ধার হয়েছে তারা সবাই যে নৃশংসতা ও বর্বরতা স্বচোখে দেখেছে। এমন একটা নৃশংসতা যে চোখে অবলোকন করে অস্ত্রের মুখে জিম্ম অবস্থায় তার যে ট্রমা সৃষ্টি হয় তার থেকে বেরিয়ে আসাটা খুব সহজ নয়। এই অবস্থায় তারা এখন আবার জিজ্ঞাসাবাদের ঝক্কির মধ্যে পড়ে গেলো। এসব মানুষের এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি প্রয়োজন, সেই ট্রমা থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে সহায়তা করা। নইলে এসব মানুষ জীবনে এই ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। মানুষগুলিকে পরেও জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতো।

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ খালেদার জাতীয় ঐক্যের আহবানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। শুলশানের এতবড় বীভৎসতার ঘটনায় যেখানে আইএস তার সাইটে সরকারের ডেথসংখ্যার পরিস্যখ্যান প্রকাশের আগেই পরিস্কার করে জানিয়েছে কতজনকে তাদের “কমান্ডো” রা হত্যা করেছে, সেখানে হানিফ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন যে, বাংলাদেশ আইএস-আল-কায়দার কোন অস্তিত্ব নেই। যারা এসব সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা জামাত-শিবিরের সন্ত্রাসী এবং তারাই বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে সন্ত্রাস চালিয়ে সরকারকে বিবৃত করে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র করছে।

একজন প্রবীণ সাংবাদিক (আওয়ামী সমর্থক) মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছেন, জামাত-শিবিরের লোকেরা কৌশলে আওয়ামী লীগে ঢুকছে এবং আওয়ামী লীগের বদনাম করছে। মিডিয়ার খবরে দেখা যায়, যৌথবাহিনীর অভিযানে গুলশান জিম্মি অবসান ঘটে। এই অভিযানে ৬ জঙ্গি নিহত, ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ ৫ জন নিহত মানুষের ছবি ও সংক্ষিপ্ত নাম মিডিয়ায় পাঠায়, যাদেরকে চিহ্নিত করা হয় হামলাকারি হিসেবে। পুলিশ যাদের ছবি পাঠিয়েছে হামলাকারি হিসেবে তাদের মধ্যে একজনকে ক্যাফের পাচক যার নাম সাইফুল বলে দাবি করেছে তার পরিবার। আইএসের সাইটেও এই লাশের সঙ্গে মিলে এমন কোন ছবি দেখা যায়নি বলে অনেকেই বলছে। জিম্মিউদ্ধার অভিযানে ৬ জন নিহত হবার খবর জানানো হলেও পুলিশ ৫ টি লাশের ছবি প্রকাশ করলো কেন? এই প্রশ্নটি এখন নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে।

অনেকে মনে করছে, জঙ্গিরা বাংলাদেশে একটা আতংক ও ভীতিকর অবস্থা তৈরী এবং তাদের উপস্থিতি জানান দিতেই দেশের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গাটিকেই তারা তাদের হামলার টার্গেটে নেয়। জঙ্গিরা তাদের টার্গট পুর্ণ করতে সাময়িক হলেও সফল হয়েছে বলেও অনেক বিশ্লষক মনে করছে।
শুধু অস্তিত্ব নেই, ওরা করেনি, এটা দেশীয় ষড়যন্ত্রকারীদের কাজ বলে সবকিছু চালিয়ে দেয়াটা ববোধহয় কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা এখন ভাবার সময়। আর যা বলছেন তার একটা সুস্পষ্ট প্রমাণ ও তথ্য থাকা চাই, নইলে মানুষ এমন গতানুগতিক কথায় আস্থা পাবে না। এই দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মানুষ আশা করে সরকার এই বীভিষীকাময় হামলার ব্যাপারে প্রতিপক্ষ ঘায়েল নয় বরং প্রকৃত সত্য উৎঘাটন করে এমন জঘন্য ঘটনা যাতে আর না ঘটতে পারে সেদিকটাতেই গুরুত্ব দেবে।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে, এবং বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। যে সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে এবং চলছে তারা সকলেই স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য। বাহাত্তরের মূল সংবিধান অনুযায়ী এসব যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দল দেশে রাজনীতি করার কোন অধিকারই পাওয়ার কথা না। কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের গণহত্যা এবং জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশে রাজনীতি করার সুযোগ পায়। মানুষের প্রত্যাশা ছিল মুক্তিযুদ্ধের নের্তৃত্বদানকারি রাজনৈতিক দলটি দেশে বাহাত্তরের মূল সংবিধানকে পুনর্বহাল করে দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ ও সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম প্রথা বিলোপ করে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে সামনে এগিয়ে নেবে। কিন্তু এই দলটি ও তাদের জোট দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকলেও সেটি করেনি। অনেকে মনে করে, বাহাত্তরের মূল সংবিধানকে পুনর্বহালের ক্ষেত্রে এই রাজনৈতিক দোদুল্যমানতা দেশে জঙ্গিবাদকে বিকশিত হতে খানিকটা হলেও সহায়তা করেছে। বাহাত্তরের মূল সংবিধান প্রশ্নে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের অবস্থান এখনও পরিস্কার নয় বলে অনেকে দাবি।

পরিশেষে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১৭ বিদেশী ও তিন বাংলাদেশী এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তার আত্মার শান্তি প্রত্যাশা করছি। একই সাথে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আমরা আশা করি তদন্তকারি দলগুলি গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন এক জঙ্গি এবং জিম্মি অবস্থা থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে ঘটনার পেছনের প্রকৃত ইতিহাসটাকে জানতে পারবে এবং দেশ ও বিশ্ববাসির সামনে সেটা পরিস্কার করবে।

সবশেষে আমি বলবো যেসব মানুষ ধর্মকে অবমাননা করে, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গিবাদের দীক্ষা নিয়ে মানুষ হত্যা করে তথাকথিত “খিলাফত” প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা আসলে “ইসলাম” এবং অন্য যেকোন ধর্মেরই শত্রু। এরা অমানবিক, মুর্খ এবং কাপুরুষ। এদের অবস্থান হবে নিশ্চিত “দোজখ” এ (যদি বেহেস্ত-দোজখ বলে কিছু থাকে আসলে!!!

 

Advertisements

ওরা কেন সকলেই হারলো?

KH

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সামগ্রিক নির্বাচনি ফলাফলে হতাশ হওয়ার কোন বিকল্প নেই। ব‍্যক্তিগতভাবে চারজনের ভেতরে একজনের কারণে আমি আজ দেশান্তরিত, যেটা কখনই চাইনি, শতকষ্টেও দেশের মাটিতে স্বদেশের মানুষের পক্ষে কিছু করার অনবরত প্রচেষ্টা ছিল আমার। সেটাতো নিতান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। নির্বাচন বিষয়ে আমি জানি না বাস্তবে কী ঘটেছে? কিন্তু একটা বিষয় পরিস্কার আমার কাছে। সেটা হলো আমার দেশের সিংহভাগ সাধারণ মানুষ সাম্প্রদায়িক নন, যুদ্ধাপরাধী, হেফাজতি বা বিএনপি যতই সেটা প্রচার করার চেষ্টা করুক না কেন তা কাজে লাগবে না। আমাদের আওয়ামী  দলীয় বুদ্ধিজীবী, মিডিয়া একটা বিষয় স্বীকার করতে চাননা সম্ভবত:। আর তা হলো উনাদের পছন্দের দল বা জোট যা করে তা সবসময় ভালো করে!  উনারা হারলে বলে সাম্প্রদায়িকতার সুড়সুড়ি তুলেছে ওরা তাই প্রগতিশীল জোট তথা আওয়ামী লীগের প্রাথর্ি হেরেছে! এবারের নির্বাচনে পরাজিত এবং বহু কেলেংকারির হোতা এক মেয়রতো আবার মিডিয়া কু্যয়ের মতো একটা হাস্যকর কৌতুকের জন্ম দিয়েছেন ইতোমধ্যে! কৌতুক বললাম একারণে যে দেশের সিংহভাগ মিডিয়াই এখন বলতে গেলে সরকারের তল্পিবাহক (ব্যতিক্রম দু´চারটি ছাড়া), সেখানে কী করে মিডিয়া কু্য সম্ভব তা জানা নেই। প্রগতিশীল জোট বা মহাজোটের সংগঠনগত অবস্থাটা কোন পর্যায়ে আছে বা সংগঠনের কী দুরবস্থা সাংগঠনিকভাবে সেটার বিশ্লেষণ আমরা কখনই পাইনা প্রগতিশীল জোট বা মহাজোটপন্থি বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে। মহাজোট বিশেষত: আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক হযবরল অবস্থার পেছনের কারণগুলি কী, কেন এমন হলো কারা দায়ি তার চুলচেরা বিচার আমাদের দলঅনুরাগি মিডিয়া বা বুদ্ধিজীবী মহলের কাছ থেকে কোনদিনই পাওয়া যাবে না।

তবে আমার এখন ভীষণভাবে স্বরণে পড়ছে শ্রদ্ধেয় আনু মোস্তফার একটা ছোট্র ফেইসবুক স্টাটাস। উনার সেই স্টাটাসে আজকের পরাজয়ের কারণগুলি বলা আছে। আমি সে প্রসঙ্গে যেতে চাই না, শুধু বলবো আমরা যেন কাকে কান নিয়ে গেছে এই শোরগোল তুলে কাকের পেছনে না দৌঁড়িয়ে কানটার দিকে ভালোভাবে নেড়ে দেখার চেষ্টা করি! নইলে যাকিছু খারাপ তার সবকিছুই ওই বিরোধীরাই করেছে, করছে বলে নিজেদের ভেতরের বাস্তব অবস্থাটাকে আঁড়াল করার চেষ্টার ফল চার সিটি করপোরশনের নির্বাচনি ফলাফলের মতোই নতুন ফলাফলই এনে দেবে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করা হবে না, ক্ষমতায় চিরস্থায়ীভাবে থাকার মানসিকতাও ভুলে যেতে হবে, আর মার খাবেন শুধু মাঠ পর্যায়ের সাচ্ছা লড়াকু মুক্তমনা মানুষগুলি।

দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নারী ধর্ষণ-নির্যাতন, দুর্নীতি, তত্ত্বাবধায়ক ইসু্য এসব বিষয় কী নির্বাচনে কাজ করেনি। নিশ্চয়ই করেছে। সাংবাদিক ও মিডিয়া দলন-পীড়ন এবং সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিদের ধরতে সরকারি টালবাহানাসহ নানান বিষয় মাথায় রেখেই জনগণ সিটি নির্বাচনে মহাজোটের ওপর থেকে ভালোবাসা তুলে নিয়েছেন। আরেকটা বিষয় এখানে উল্লেখ করতে চাই, সেটা হলো আমাদের কিছু ব্লগার, বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়াম্যান আছেন যারা সবসময় জনগণকে “অশিক্ষিত” বলে তাঁদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আমি এমন গাজাখুরি তত্ত্বে কখনই বিশ্বাস করি না। আমাদের দেশের আমজনতা শিক্ষিত তবে তাঁরা তথাকথিত শাট-প্যান্ট টাই পরা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত নন, তাঁরা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত, তাঁরা কখনও বিবেককে বিকোয় না। তবে তাঁরা বাধ্য হন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজিদেরকে মিলিয়ে নেয়ার জন্য। কার ণ জনগণ জানেন রাজনীতিকদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা ও পাওয়া কোনটাই যাবে না, সব রাজনীতিবিদদের কথা বলছি না ব্যতিক্রমতো আছেই। কিন্তু সেই ব্যতিক্রমী রাজনীতিবিদদের অংশটুকুও কোন কিছুই করতে পারে না দুর্বৃত্তপনা রাজনীতির কারণে। দেশের মানুষের হাতে একটাই অস্ত্র আছে সেটা তাঁরা প্রয়োগ করেন যথাসময়ে। দেশের মানুষ নির্ভয়ে নির্বাচনে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারলে আর নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়ম না হলে জনগণের রায়টা সঠিকভাবেই প্রতিফলিত হয়। জনগণ দেখেন তাঁরা শান্তিতে ঘুমোতে পারছেন কিনা, দ্রব্যমূল্যের দাম সহনশীল আছে কিনা, রাজনীতিকরা বিশেষ করে সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রিরা দুর্নীতি করছেন কিনা, তাদের কথাবার্তায় সংযমী ভাবটা আছে কিনা, মানুষের মানবাধিকার রক্ষা হচ্ছে কিনা, যোগ্য ও মেধাবিরা চাকরি পাচ্ছেন কিনা, কেউ চাঁদাবাজি করছে কিনা, দেশে আইনের শাসন চলছে কিনা, বিনা কারণে কেউ র্নিযাতিত  হচ্ছেন কিনা, কেউ গুম হয়ে গেলে তাকে উদ্ধারের পরিবর্তে সরকার ও সরকারি দলের লোকেরা কোন ফালতু তত্ত্ব ও কথাবার্তা বলছে কিনা, কেউ নিহত হলে খুনিকে ধরার চেয়ে খুনিকে রক্ষার জন্য নানান কায়দা-কৌশলে বহুরুপি তত্ত্ব হাজির করছে কিনা এমন আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জনগণ ঠিকই বিবেচনায় রাখেন সবসময়। কাজেই সময় থাকতে কেউ নিজেকে সংশোধন করতে ব্যর্থ হলে জনগণ ঠিকই ভোট নামক শক্ত অস্ত্রের ব্যবহার করতে কখনই ভুল করেন না তাদের বিরুদ্ধে যারা জনগণের অর্থ নিয়ে নিজেদের আরাম-আয়েশের স্বর্গ গড়ে তুলে!!!

কালো টাকার প্রভাব, দলীয় গ্রুপিং ও ষড়যন্ত্রের মুখে দল থেকে বহুদিনের ত্যাগি ও পরীক্ষীত কোন নির্বাচিত নেতাকে বাদ দিয়ে টাকাওয়ালা, ব্যবসায়ী কাউকে দলে এনে কিংবা অনির্বাচিত কাউকে সেই পদে বসানো হচ্ছে কিনা-এসব বিষয়ও জনগণ বিবেচনায় রাখেন যখন কাউকে ভোট দিতে যান । সুতরাং জনগণকে বোকা ভাবা মানেই নিজেই বোকামিটা করা। অহংকার পতনের মূল-এই সর্বজনীন সত্যটা ভুলে গেলে তার মাশুল বা খেসারতও দিতে হবে! সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আঞ্চলিক নির্বাচন হলেও বাস্তবতাটা জাতীয় নির্বাচনের আদলেই ধরা পড়ে, সেটার ব্যতিক্রম এবারও ঘটেনি।

আমরা সবাই জানি বিগত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কাদেরকে নমিনেশন দিয়েছিল, কেন দিয়েছিল? আওয়ামী লীগ জানতো দেশের মানুষও জানতেন যে এবারে আওয়ামী লীগ যাকেই নমিনেশন দেবে সেই বিজয়ী হবে। কারণ বিএনপি-জামাতের দুর্নীতি, দু:শাসন, সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদকে মদদদান এসবের নেগেটিভ প্রভাব পড়বে নির্বাচনে যার প্রমাণ মিলেছে নির্বাচনি ফলাফলে। কাজেই যার কাছেই মোটা বড় অংকের টাকা পেয়েছে তাকেই নমিনেশন দিয়েছে দীর্ঘদিনের দলীয় ত্যাগি নেতাদের বাদ দিয়ে। এমনও ঘটেছে জামাত পরিবারের অনেকেই নমিনেশন পেয়েছে। নবাগত, ব্যবসায়ী তরুণ যারা নমিনেশন পেয়েছিলেন তাদের সঙ্গে মাঠর্পযায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কোন যোগাযোগ নেই, তাদের অধিকাংশই নিজস্ব ব্যবসাপাতি ও আখের গোছাতেই ব্যস্ত। ফলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা একেবারেই তথৈবচ অবস্থায় নিপতিত। এসব নিয়ে পরে কোন লেখায়  আলাদা করে তুলে ধরার আশা রইলো। আওয়ামী বুদ্ধিজীবী, মিডিয়া এসব নিয়ে মাথা ঘামায়না। তারা শুধু পদপদবি আর স্বার্থ রক্ষা ও সুবিধা আদায় নিয়েই ব্যস্ত, তাই সত্য বিশ্লেষণ চাপা পড়ে যাচ্ছে। এখন আমাদের বঙ্গবন্ধু কন্যার এবং উনার নীতিনিধর্ারকবৃন্দের ঘুম ভাঙলেই ভালো, দেশের মঙ্গল!

পরিশেষে বলবো, বড় বড় রাঘব-বোয়াল রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের কারো কিছুই হবে না সরকারে আওয়ামী লীগ থাক আর বিএনপি থাক। আমি বলবো ওদের এই বিজয় তাদের নিজের বিজয়, সাম্প্রদায়িকতা বা যুদ্ধাপরাধীদের বিজয় নয়; এই বিজয় প্রগতিশীল শিবির তথা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দূর্বলতার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি-জামাত জোটের নেগেটিভ বিজয়! এই বাস্তবতাটুকু আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড, নীতিনির্ধারকমহল, বুদ্ধিজীবী, সুবিধাবাদি ও চাটুকারের দল বুঝতে পারলেই হয়ত আগামি জাতীয় নির্বাচনে আশা বেঁচে থাকবে, নইলে ফের যুদ্ধাপরাধীরাই বাংলাদেশের স্বাধীন পতাকা উড়াবে তাদের গাড়িতে!!!! ছবিটি গুগল থেকে নেয়া।

অসহিষ্ণু গণতন্ত্র: সংলাপ ও সামরিক হস্তক্ষেপ ভাবনা!

sangbad-31-7-2009-hrc-politics

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। যেখানে গণতন্ত্র থাকে সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপে তার ক্ষতি হয়। আর যেখানে গণতন্ত্রের নামে ব‍‍্যক্তি, দল বা বিশেষ পরিবারের শাসন চলে সেখানে সামরিক কিংবা সাম্রাজ‍্যবাদি কিংবা জঙ্গি হস্তক্ষেপ তাতে  জনগণের কী আসে যায়? সাধারণ মানুষ খালেদা-নিজামীর গণতন্ত্রের সময়ে যেমন নির্যাতিত ঠিক তেমনিভাবে হাসিনা-ইনু-মেনন-বড়ুয়াদের গণতন্ত্রের আমলেও মার খায়!

 

ফারাকতো একটা আছেই, আর তা হলো খালেদা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চান, হাসিনা স্বৈরাচারকে সাথে নিয়ে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করেন। সবার উপরে ক্ষমতা সত্য তাহার উপরে নাই! দুর্নীতি, দলীয়করণ, সংখ‍্যালঘু নির্যাতন কার আমলে ছিল না বা নেই? গণতন্ত্রটা কেবল হাসিনা খালেদা এই দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে তাদের স্তুতি গাওয়া নয়, গণতন্ত্র কিন্তু পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা, সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষার কী কোন চিহ্ন দেখা যায় বাংলাদেশের গণতন্ত্রে?

রেডিও র্জামান ডয়েচেভেলের এক রিপের্াটে সামরিক হস্তক্ষেপ বিষয়ে একটি রিপের্াট নিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল ফেইসবুকে। তারই প্রতিক্রিয়ায় উপরোল্লিখিত প্রতিক্রিয়া আমার। আজ আবার তারা লিখেছে যে,  বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংলাপ ছাড়া সমাধান নেই৷ আপনার কি মত?

আমার মত পরিস্কার। আমি বলবো-এই সংলাপ জিনিসটা আসলে কী? বাংলাদেশে কী সংলাপ কোন শান্তি আনে, অতীতে তার কদযর্ রুপটিই বারবার ধরা পড়েছে মানুষের চোখে। ওখানে যতক্ষণ পর্যন্ত ব‍্যক্তি হাসিনা ও খালেদার মনোজগত পরিচ্ছন্ন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই দুই “মহামানবী”র পক্ষে অথবা বিপক্ষে সুশিল-কুশিল সবাই বিভক্ত হয়ে থাকবে! আর যেখানে অন্ধ দলপ্রীতি, ব‍্যক্তিতন্ত্র সেখানে আর যাই হোক সংলাপে কোন সমাধান মিলবে না। সহনশীলতা ছাড়া সংলাপ সফলতায় আসে না।

কে ভারসাম‍্যহীন: সাংবাদিক এ বি এম মুসা নাকি মাহবুব উল আলম হানিফ?

abmmusa-hasina
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাংবাদিক এ বি এম মুসা। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কেউ কেউ হয়ত উনাকে চেনেন না। শুদ্ধ ও স্বচ্ছ চিন্তার প্রগতিশীল এই শ্রদ্ধেয় সাংবাদিকের ওপর মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। বাংলায় সাংবাদিকতার এই প্রাণ পুরুষকে আজ জীবন সায়াহ্নে এসে “স্বাধীনতাবিরোধী”র কু উপাধি দেয়া হচ্ছে। অথচ এই মানুষটির সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছিল ঘনিষ্ট হৃদ‍্যতা। ছি ছি ছি লজ্জায় মাথায় নূ‍্যয়ে পড়ছে এই কারণে যে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দলটির আজ কী অবস্থা!
১৯৯১ কী ১৯৯২ সালের কথা। সালটির কথা এখন আমার পুরো মনে নেই। এ বিএম মুসাকে পেয়েছিলাম সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কোর্সের শিক্ষক হিসেবে। ওই সময়ে আমি পঞ্চগড় থেকে দৈনিক বাংলা ও বাংলার বাণীতে কাজ করি। যাহোক তখন থেকেই উনাকে (এবিএম মুসা) আমি ব‍্যক্তিগতভাবে চিনি। নব্বইয়ের দশকে তিনি (এবিএম মুসা) “নিউজ ডে” নামে একটি ইংরেজী দৈনিকের সম্পাদকও হয়েছিলেন তিনি। সেই পত্রিকায় কিছুদিন পঞ্চগড় সংবাদদাতা হিসেবেও কাজ করি আমি। মেয়র লিটন, কতিপয় সংবাদকর্মীর্ ও র‍্যাবের যৌথ ষড়যন্ত্রের মাধ‍্যমে র‍্যাব ২০০৭ সালে বেআইনিভাবে আমাকে গ্রেফতার করে। প্রায় এক মাস পর নির্যাতন ও কারামুক্তির পর ঢাকায় চলে যাই। তখন এই প্রিয় সাংবাদিক শিক্ষক আমার ওপর নৃশংসতার ঘটনাটি শোনেন এবং খুব বিরক্ত প্রকাশ করেন যে শহীদ জাতীয় নেতা কামারুজ্জামানের ছেলে আমার ওপর অত‍্যাচার করার পেছনে মদদ দেয়ার কারণে। সেসময় উনি আমাকে ভয় না পাবার জন‍্য অনেক সাহস ও অনুপ্রেরণাও দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশে এখন একটা নতুন ট্রেন্ড চালু হয়েছে। সেটা হলো মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দলটির সমালোচনা করলেই মুক্তিযোদ্ধাও তাদের কাছে রাজাকার বনে যায়। সুতরাং আওয়ামী লীগ বা সরকারের বিপক্ষে কোন কথা বলা যাবে না যদিও বা সেইসব কথা সত‍্যও হয় তবুও না, নইলে আপনিও “রাজাকার” উপাধি পাবেন যেমনটি পেয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। অথচ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত‍্যার পর তিনিই প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা করেছিলেন।
সাংবাদিক এবিএম মুসাকে স্বাধীনতাবিরোধী বলার প্রসঙ্গে আসি এবার। বঙ্গবন্ধুর আমলে ১৯৭৩ সালে এবিএম মুসা আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে জাতীয় সংসদের সদস‍্য নির্বাচিত হন। তিনি সংসদ সদস‍্য হয়েছিলেন ফেনি থেকে। সরকার নিয়ন্ত্রিত টিভি ষ্টেশন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক পদেও তাঁকে নিযুক্ত করেছিলেন বঙ্গবন্ধুই। অভিজ্ঞ এই সাংবাদিককে আওয়ামী লীগ সরকারই একুশে পদকে ভূষিত করেছিল।
সাংবাদিক এবিএম মুসার সাম্প্রতিক এক বক্তব‍্যকে কেন্দ্র করে তাঁর ওপর প্রচন্ড নাখোশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে আওয়ামী লীগ। আর এই ক্ষুব্ধতার প্রকাশ ঘটেছে সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের মুখে। তিনি বলেন, “এবিএম মুসা মানসিক ভারসাম‍্যহীন এবং স্বাধীনতাবিরোধী”। হানিফ মাহেবের বক্তব‍্য প্রমাণ করে যে, এবিএম মুসা নন আওয়ামী লীগই সম্ভবত ভারসাম‍্য হারাচ্ছে! প্রশ্ন হলো, হানিফ কী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যে যাকে তাকে তিনি মানসিক ভারসাম‍্যহীন বলে দেবেন? আসলে এই হানিফমাকর্া আওয়ামী লীগারদের কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব‍্য আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তিকে পায়ের তলে পিশিয়ে দিচ্ছে!
ব‍্যক্তিগতভাবে যুদ্ধাপরাধী বা রাজাকারদের সমর্থন করি না! তবে সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলাই আমার ধর্ম। শ্রদ্ধেয় এবিএম মুসা কী মন্তব‍্য করেছিলেন তা আমি শুনিনি নিজ কানে। তবে আমার প্রচন্ড তাগিদ হচ্ছে এই জনে‍্য যে উনার পুরো বক্তব‍্যটি পড়া বা শোনা উচিত আমাদের সবার। কোন প্রেক্ষাপটে, কোন বিবেচনায় উনি কী মন্তব‍্য করেছেন? কারও কাছে যদি উনার বক্তব‍্য বা মন্তবে‍্যর কোন অনলাইন লিংক থাকে দয়া করে আমাকে দেবেন। আর দেশে যখন ছলিমুদ্দিন, কলিমুদ্দিন, জগাই, মঘা সকলেই টিভির লাইসেন্স পাচ্ছেন, মিডিয়ার মালিক বনে যাচ্ছেন সেখানে এবিএম মুসার মতো ব‍্যক্তিকে হাসিনার সরকার কোন যুক্তিতে টিভির লাইসেন্স পেলেন না বা পাবেন না সেটারও একটা পরিচ্ছন্ন ব‍্যাখ‍্যার প্রয়োজন। হানিফরা বঙ্গবন্ধু হত‍্যার পরে কী ধরণের প্রতিবাদ করেছিলেন নাকি মোশতাকদের তোষামদী করেছিলেন তাও আমি জানি না, তবে তোষামদি, জ্বিহুজুর বা জ্বি ম‍্যাডাম (হুজুর বা ম‍্যাডাম যা বলে করে তার সবই ১০০০০ গুণ সত‍্য!) করে যুগ্ম সম্পাদকের পদ লাভ করা যায় বটে (মনোনীত বা দলীয় প্রধানের পছন্দের তালিকাভুক্ত হিসেবে) কিন্তু গণতান্ত্রিক হওয়া যায় না! তারজন‍্য সহনশীলতা,কান্ডজ্ঞান, ধৈয‍্য আর সততা-স্বচ্ছতারও দরকার পড়ে। হানিফ সাহেবদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে জেলায় জেলায় নেতা বানিয়ে দেবারও অভিযোগ কানে আসে। আর এই হানিফদের তথাকথিত সাংগঠনিক রিপোর্টের কারণেই অনেক জেলায় নির্বাচিত নেতাদেরকেও বাদ দেয়া হয়েছে। এসব অভিযোগেরও চুলচেরা তদন্ত ও বিচার হওয়া দরকার।
বাংলাদেশনিউজ২৪x৭’র রিপোটর্ থেকে সাংবাদিক এবিএম মুসার সেদিনের বক্তব‍্য থেকে বোঝা যাবে আসলে তিনি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কী বলেছিলেন? জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ২৪ জানুয়ারি সাবেক ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান দিবসে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশে এবিএম মূসা বলেন, আপনারা প্রতিবাদ করুন। আপনারা বলুন- ছাত্রলীগের নামটাকে তোমরা কলঙ্কিত করো না। প্রয়োজনে তোমরা একে ‘হাসিনা লীগ’-‘বাম লীগ’ নাম দাও। শেখ মুজিবের সময়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এবিএম মূসা বলেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা ছাত্রদের সূচনা। আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ কর্তৃক সৃষ্টি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন তৃতীয় শ্রেণীর নেতা ছিলেন। নিজগুণে তিনি এগিয়ে এলেন এবং ছাত্রদের চেষ্টাতেই তিনি প্রথম শ্রেণীর নেতা হলেন। বঙ্গবন্ধু যতটা না উর্বর মস্তিষ্কের নেতা ছিলেন, তার চেয়েও বড় ছিল তার বিশাল আস্থা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের দিন ৭ মার্চই হচ্ছে- প্রকৃত স্বাধীনতা দিবস। সত্যিকারের স্বাধীনতা তিনি সে দিনই ঘোষণা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু জনগণের পালস (নাড়িস্পন্দন) বুঝতে পারতেন। পাঠ্যপুস্তক থেকে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাম বাদ দেয়ার কঠোর সমালোচনা করে এবিএম মূসা বলেন, ভাসানী আওয়ামী লীগের জন্মদাতা, তাকে বাদ দেয়া মানে জন্মদাতাকে অস্বীকার করা। আর যে জন্মদাতাকে অস্বীকার করে বা যার জন্মদাতা থাকেনা, তাকে আমরা কী বলি? জারজ বলি। ভাসানীকে বাদ দিলে আওয়ামী লীগ হয় জারজ। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এখনও এক বছর সময় আছে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশুন, তাদের কথা শুনুন।
আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীকেও ‘উন্মাদ’ বলে আখ‍্যা দিয়েছেন। হানিফের ভাষায়, নূরে আলম ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবনের ফ্লোরে গড়াগড়ি খেয়ে ছাত্রলীগের সভাপতির পদটি বাগিয়ে নিয়েছিলেন। সাংবাদিক মুসাকে ‘স্বঘোষিত বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগপ্রেমী’বলেও অভিহিত করেন হানিফ। সূত্র-বিডিনিউজ২৪।
ঢাকার রাজপথে বিশ্বজিৎকে নৃশংসভাবে হত‍্যা, ময়মনসিংহে শিশু রাব্বীকে গুলি করে হত‍্যাসহ প্রায় দেশজুড়েই ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, নির্যাতন, বন্দুকযুদ্ধে মানুষ অতিষ্ঠ। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রলীগের তান্ডবে শিক্ষার বারোটা বেজে যাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর দলের দ্বারা পরিচালিত সরকারের মঙ্গল চেয়ে যখন সরকারকে খারাপ দিকগুলি থেকে সরে আসার জন‍্য পরামর্শ দেন তখন সেটা হানিফদের মতো তোষামদকারি নেতারাই কেবল সাংবাদিক মুসাকে মানসিক ভারসাম‍্যহীন বা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নূরে আলমকে উন্মাদ বলতে পারেন!
ডাক্তারি কোন পরীক্ষা, নীরীক্ষা বা সনদপত্র ছাড়াই কাউকে উন্মাদ বা মানসিক ভারসাম‍্যহীন বলাটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্সও বটে। এধরণের বক্তব‍্য ব‍্যক্তি মানুষের মর্যাদার ওপর আঘাতও বটে। সেই বিচারে মাহবুব উল হানিফদের বিরুদ্ধে মামলাও হতে পারে। আর এ বিএম মুসাযদি স্বঘোষিত বঙ্গবন্ধুপ্রমিকই হতেন তবে তাঁকে বঙ্গবন্ধুই বা কেন তেহাত্তরের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিলেন? হানিফ সাহেবের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর আছে কী? জনাব হানিফের কথা অনুযায়ী নূরে আলম সিদ্দিকী নাকি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গড়াগড়ি করে ছাত্রলীগের সভাপতির পদটি বাগিয়ে নিয়েছিলেন! যদি হানিফের কথাই সত‍্য হয় তবে তো বলতেই হয় অগণতান্ত্রিক পন্থায় তোষামদি করে ছাত্রলীগের সভাপতি ও অন‍্যান‍্য পদে নেতা হওয়াটাও খুবই মামুলি ব‍্যাপার। আওয়ামী লীগ প্রধানও কী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বক্তবে‍্যর সঙ্গে একমত? হানিফের বক্তব‍্যতো কেবল ব‍্যক্তি হানিফের নয়, তাঁর বক্তব‍্য আওয়ামী লীগের, সরকারের এমনকি আওয়ামী লীগ ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনারও।
প্রিয় পাঠক এখন আপনারাই বলুন, কে ভারসাম‍্যহীন? আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ নাকি এই প্রবীন সাংবাদিক এ বি এম মুসা? ছবি গুগল থেকে নেয়া।

“পেপার স্প্রে”র প্রয়োগ আপনাদের ওপরও হতে পারে ।। ব্লগার আসিফের ওপর হামলাকারিদের ধরুন

paperspray
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। মানবাধিকার লংঘণের হাতিয়ার হিসেবে হাসিনার মহাজোট সরকার একের পর এক নতুন স্টাইলের প্রবর্তন করছে। আর আমাদের দলীয় স্তাবক বুদ্ধিজীবীরা বসে বসে আঙুল চুষছেন! খালেদা-নিজামির আমলে গণহারে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, এনকাউন্টার নামক ঘাতক বাহিনীর নৃশংসতা দেখেছেন দেশবাসি। ক্ষমতায় আরোহনের আগে হাসিনা বারংবার এই বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছিলেন। মানুষ আশ্বস্ত হয়েছিলেন এই ভেবে যে হয়ত হাসিনা ও তার ক্ষমতায় গেলে নারকীয় এই রাষ্ট্রীয় হত‍্যাযজ্ঞ বন্ধ হবে। কিন্তু ক্রসফায়ারতো বন্ধ হয়ইনি উল্টো এখন মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে, মানুষকে গুম করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় হ‍্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় মানুষ রাস্তাঘাটে লাশ হয়ে পড়ে থাকছেন। আর বাকপটু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিরা মানবাধিকার লংঘণের ঘটনাগুলিকে ধামাচাপা দেবার জন‍্য একের পর এক খোঁড়া যুক্তি দেখাচ্ছেন দেশবাসির সামনে।
হাসিনা ও মহাজোট সরকারের সর্বশেষ আবিস্কার হলো “পেপার স্প্রে”। সরকারবিরোধী কিংবা জনকল‍্যাণে আহৃত আন্দোলন দমনের এই নতুন হাতিয়ার ইতোমধে‍্য এক শিক্ষকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে স্বদেশের মিডিয়ায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রি সরকারের শেষ সময়ে দেশের মানুষকে নিয়ে যে খেলা শুরু করলেন তা বন্ধ করুন। নইলে আখেরে আপনার ও আপনার দলের পুন:ক্ষমতায় যাবার স্বপ্নটা দু:স্বপ্ন হয়ে যাবে! আর হাওয়া তারেক-ও ঘাতক নিজামিরা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে কী পরিণতি অপেক্ষা করছে তা কী আঁচ করতে পারছেন না মোটেও, নাকি ভাবছেন যেকোনপ্রকারেই হোক ক্ষমতায় আসবেনই!
এই মহাজোট সরকারের ভেতরে এবং বাইরে এতো মানুষ আছেন যারা দেশে-বিদেশে মানবাধিকার নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন সেইসব মুর্খ জ্ঞানপাপীরা একেবারেই ভেজাবেড়ালের ন‍্যায় চুপচাপ করে হালুয়া-রুটি খাবার বা পাবার আশায় লেজ গুটিয়ে সরিয়ে রাখছে নিজেদের, কিন্তু কেন? মনুষ‍্যত্ব, বিবেক বলে কী এসব মানুষের হৃদয়ে কিচ্ছু নেই? আর সরকারের অংশীদার অনেক বাম, প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতারা সরকারের ভেতরে থাকার পরও কারও মুখে শোনা গেলো না যে এসব মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড থেকে সরকার সরে না আসলে তারা সরকার থেকে সরে দাঁড়াবেন? সুবিধাবাদের স্রোতধারা এত প্রবল যে সেখানে আরাম-আয়েশ আর গদি-ক্ষমতার জাদুর পরশে মানুষের মৌলিক মানবতাবোধটুকু পর্যন্ত ভেসে যাচ্ছে!
কী নিলর্জ্জ বেহায়ার মতো পুলিশ কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ পেপার স্প্রের ক্ষে সাফাই গেয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন। তিনি বললেন, ‘পেপার স্প্রে লাঠিপেটার বিকল্প। সরকারের অনুমতি নিয়ে সাধারণ মানুষও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য এই স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।” প্রশ্ন হলো বাস্তবে সাধারণ মানুষ কী এই অনুমতি পাবে রাজনৈতিক তদবির বা শক্তি ছাড়া? আর যদি হরতালকারি, আন্দোলনকারি বা সাধারণ মানুষও যদি এমন স্প্রে পুলিশের ওপর ব‍্যবহার শুরু করে তখন বেনজিররা কোথায় পালাবেন? সতি‍্য সতি‍্য যদি সাধারণ মানুষের হাতে এই অমানবিক স্প্রে অস্ত্রটি চলে যায় গোটা দেশটা এক অরাজক নৈরাজ‍্যকর পরিস্থিতির দিকে চলে যাবে, এতে কী সরকারের নীতিনির্ধারকদের মাঝে কোন সংশয় আছে?
শিক্ষকরা নিজেদের রুটি-রুজির জন‍্য রাস্তায় নেমেছিলেন। বামরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল, সমাবেশ ও আন্দোলন সংগ্রাম করে-এটা দেশবাসি জানেন। তারা কখনও রাস্তায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে না, বাসে আগুন দিয়েও মানুষ হত‍্যা করে না কিংবা বোমাও মারে না কারও ওপর। বরং পুলিশই বামদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সবসময় বাধা দিয়ে থাকে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরাণ্বিত করা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সিপিবির নেতৃত্বে বামদলগুলির সাম্প্রতিক হরতালে দেশবাসির সমর্থন ছিল নজিরবিহীন এবং শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে দেশে। কিন্তু তাররও শিক্ষকদের ওপর ও বাম দলগুলির নেতা-কর্মীদের ওপর কেন স্প্রে করতে হলো সেটার জবাব হয়ত একমাত্র শেখ হাসিনা কিংবা তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিই জানেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি, তাঁর নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনী, র‍্যাব-চিতারা খুনি, অপহরণকারি, গুমকারি, ধর্ষকদের ওপর স্প্রে করতে পারে না কিন্তু জনগণের স্বার্থে ডাকা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর নতুন ধারার এক বর্বরতার প্রয়োগ ঘটালো! আন্দোলন যদি সহিংস রুপ নেয়, জ্বালাও-পোড়াওয়ের দিকে চলে যায় কিংবা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে সরকার বা সরকারি বাহিনী তারজন‍্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব‍্যবস্থা নিতে পারেন। সে অধিকার রকারের আছে। কিন্তু আন্দোলন দমনের নামে, সহিংসতা বন্ধের নামে কারও ওপর স্পে প্রয়োগ, নির্যাতন, লাঠিপেটা করার কোন অধিকার দেয়া হয়নি সংবিধানে। সংবিধানে সকল ধরণের নির্যাতনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও জ্ঞানপাপীর দল সংবিধান লংঘণ করেই চলেছে বিশেষ করে ক্ষমতাসীনরা পুলিশ-র‍্যাবকে নিজেদের ক‍্যাডার বাহিনীর ন‍্যায় ব‍্যবহার করছে জনগণের বিরুদ্ধে।
দেশে ধর্ষণের মহাউৎসব চলছে। ধর্ষণ ধামাতে পারছে না সরকার। খুন-হত‍্যা ও বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার সেখানে নিত‍্য-নৈমিত্তিক ব‍্যাপার। বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলিতে চলছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের রাম-রাজত্ব। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিতে চ‍্যাম্পিয়ন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী, ক‍্যাডার ও মস্তানদের দৌরাত্ব বেড়েই চলেছে। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের দ্বারা। ব্লগার, সাংবাদিক যারাই লিখছেন পক্ষপাতমূলকভাবে অন‍্যায়-অবিচার আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তারাই হচ্ছেন সন্ত্রাসীদের টার্গেট। অতি সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় জনপ্রিয় ব্লগার আসিফ মহীউদ্দিন সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় মারাত্বক আহত হয়েছেন। হামলাকারিদের ধরতে পারেনি পুলিশ। ইডেন কলেজের অ্যাসিডদগ্ধ ছাত্রীটি এখনও হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। দেশে মুক্তমতের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জায়গা ক্রমশ:ই সংকুচিত হয়ে আসছে। সাংবাদিক, ফটো সাংবাদিকদের ওপর বহুমুখী আক্রমণের খবর মাধে-মধে‍্যই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে।
খুলনায় ক’দিন আগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জিয়াউদ্দিনকে গুলি করে হত‍্যাপ্রচেষ্টার সঙ্গেও সরকারি যুব সংগঠনের এক নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রলীগের বন্দুকযুদ্ধে এক শিশু নিহত হয়েছেন। এই যোদ্ধাদের চোখে পুলিশ পেপার স্প্রে করে না! রাজধানীর একটি বাণিজি‍্যক ভবনে এক শিশুর গলিত লাশ মিললো। ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত‍্যা করা হয়েছে। অভ‍্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গুলি করে হত‍্যা করা হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে দেশের মিডিয়ায়। নিহত ফারুক শুধু একজন রাজনীতিকই নন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধাও বটে। এছাড়া তিনি স্থানীয় একটি সাপ্তাহিকের সম্পাদকও ছিলেন। রাজধানীর উত্তর মুগদাপাড়া থেকে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ধর্ষক-খুনি ও বন্দুকযোদ্ধার ওপর স্প্রে করে না পুলিশ, তারা শুধু রাজপথে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারি বাম নেতা-কর্মী ও জাতির মেরুদন্ড রক্ষাকারি শিক্ষকদের ওপর স্প্রে করতে ভুলে না।
মহাজোট সরকারের হাতে এখনও সময় আছে মুক্তমত প্রকাশ ও মানবাধিকার রক্ষার পথে এগিয়ে যাবার। সকল প্রকারের হত‍্যা-নির্যাতন, গুম-খুন, বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড এবং সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথকে প্রশস্ত করে স্প্রে প্রয়োগের নামে আন্দোলনকারিদের ওপর বিষক্রিয়া নিক্ষেপ বন্ধ ও পুলিশি নিপীড়ন বন্ধ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত না করে সন্ত্রাসী, খুনি, ধর্ষক, চাঁদাবাজ, বন্দুকধারি ও বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাই হবে মহাজোট সরকারের সফলতার চাবিকাঠি। নইলে আমও যাবে ছালাও যাবে,পাশাপাশি খালেদা-নিজামিদের হাতে ফের ক্ষমতা ফিরে গেলে পেপার স্প্রের প্রয়োগ নিজেদের চোখেই ছিটাবে একই পুলিশ। এতে হাসিনা ও তাঁর মহাজোট সরকারের নেতা-কর্মী ও পরামর্শদাতাদের সন্দেহ থাকলেও ইতিহাস যে তারও সাক্ষ‍্য দেয় তা বিগত দুই দশকের তথাকথিত নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্রের শাসনামলই প্রমাণ দেয়। কাজেই সাধু সাবধান!!! ছবি বিডিনিউজ২৪

জামায়াত-শিবির: কয়লা ধুলে ময়লা যায় না!

ics-ji

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। কয়লা ধুলে ময়লা যায় না। এই প্রবাদটি যেমন খাঁটি সত‍্য তেমনি জামাত ও শিবিরের চরিত্র বদল হবে না কোনদিনও। মহাজোট সরকার জামায়াত-শিবিরকে কিসের লোভে কোন স্বার্থে এখনও নিষিদ্ধ কেরনি সেটাই বড় আশ্চর্যের ব‍্যাপার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত বাহাত্তরের মূল সংবিধানে মহাজোট সরকারের নূ‍্যনতম বিশ্বাস থাকলে তারা এতদিনে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতো। কিন্তু তা না করে সরকার নির্বাচন কমিশনের মাধ‍্যমে এই যুদ্ধাপরাধী স্বাধীনতাবিরোধী দলটিকে রাজনৈতিকভাবে “জায়েজ” করার উদে‍্যাগ নিয়েছে।
যে দলটির প্রত‍্যক্ষ সহায়তায় ১৯৭১ সালে পাক সেনাবাহিনী ৩০ লাখ মানুষকে হত‍্যা করলো, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম নিলো সেই দলটির প্রতি নির্বাচন কমিশনের বা মহাজোট সরকারের এতো মায়া কেন সেটা বুঝতে কষ্ট হয়! শিবিরের গুন্ডারা স্বাধীনতার পর থেকে কেবলমাত্র রাজশাহী ও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ‍্যালয়েই শত শত ছাত্রের হাত-পায়ের রগ কেটেছে নয়তো হামলা করে পঙ্গু করে দিয়েছে। শিবিরের হামলায় নিহতের সংখ‍্যাও কম না।
যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার লক্ষে‍্য ৪ ডিসেম্বর, ২০১২ জামায়াত-শিবির গোটা বাংলাদেশজুড়ে এক তান্ডবলীলা চালালো। মুড়ি-মুরকির মতো যানবাহন ভাংচুর ও তাতে আগুন লাগালো। এর আগে থেকেই এই নরপশুর দল পুলিশবাহিনীর ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালালো। জামায়াতে ইসলামী দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ‘ইসলামী জীবনবিধান’ বাদ দিয়ে ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ’ প্রতিষ্ঠা শব্দটি লাগানোর সুযোগ করে দিলো নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, ‘ইসলামের সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েম’-এর পরিবর্তে ‘সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েম’ শব্দটিও এই ঘাতক রাজনৈতিক দলটির গঠনতন্ত্রে বসানোর ব‍্যবস্থাও করে দিলো সরকার। নির্বাচন কমিশন কেন এই যুদ্ধাপরাধী দলটিকে নানান কায়দা-কানুনের আশ্রয় নিয়ে জায়েজ করতে চাইছে? সংবিধান মতে কোন ধমর্ীয় ও সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত হবার কোন সুযোগই যেখানে নেই সেখানে নির্বাচন কমিশন জামায়াতকে তাদের গঠনতন্ত্রের গুটিকতক শব্দ বা বাক‍্য পরিবর্তন করার ব‍্যবস্থা করে দিলেই কী দলটির সাম্প্রদায়িক চরিত্র বা যুদ্ধাপরাধের গন্ধ দূর হয়ে যাবে?
জামায়াতের সঙ্গে মার্কিন সাম্রাজ‍্যবাদের সম্পকর্ তো আর নতুন কোন ঘটনা নয়। সেই একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তাদের দহরম মহরম দেখেছেন বাংলার মানুষ। আর ৪ ডিসেম্বরের হরতালকালে জামায়াত-শিবিরের গুন্ডারা “ভুলবশত” মার্কিন দুতাবাসের একটি গাড়ি ভাংচুর করে। এরই প্রেক্ষিতে ক্ষমতালোভী জামায়াত দ্রুত তাদের মুরুব্বি মার্কিন দুতাবাসের কাছে কড়জোড়ে ক্ষমা চেয়ে দু:খপ্রকাশ করেছে। এটাই শেষ নয় প্রয়োজনে জামায়াত মাকর্িন দুতাবাসকে ক্ষতিপূরণও দিতে প্রস্তুত আছে বলে বাংলাদেশের মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছে। কিন্তু যেদেশের মাটিতে বসে রাজনীতিকরছে এই কাপুরুষের দল সেই দেশের জনগণের কাছে তারা ক্ষমা চায়নি। জামায়াত ক্ষমা চায়নি তাদের একাত্তরের কৃতকর্মের জন‍্য কিংবা গণহারে যানবাহন ভাংচুর ও জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির জন‍্য। যেখানে এই মৌলবাদি দলটি দেশের মানুষের প্রতি নূ‍্যনতম ভালোবাসা নেই, দেশের প্রতি আনুগত‍্য নেই সেখানে কেন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করছে না সরকার সেটাই মহাবিস্ময়কর!কেন সরকার একটা ব্রুট মেজরিটি থাকা সত্ত্বেও বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরছে না? কেন তারা একদিকে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম এবং অন‍্যদিকে নিজেদেরকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করছে?
মহাজোট সরকার যে সতি‍্য সতি‍্য ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে তার প্রমাণ দিতে হবে বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে গিয়ে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার মধ‍্য দিয়েই। পাশাপাশি দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর উদে‍্যাগ ও দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই কেবল দেশ থেকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব। সরকার সেই পথে হাটবে নাকি জামায়াত-শিবির-যুদ্ধাপরাধীদের হাতে দেশটাকে তুলে দেবে তা সময়ই বলে দেবে? ছবি ডেইলি স্টার, গুগল থেকে নেয়া।

জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ঠেকাতে নাকি গদি রক্ষার আহবান?

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। স্বদেশের চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে পড়ে চারজনের করুণ মুতু‍্য হয়েছে। নয়জন নিহত হয়েছেন রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় আগুনে পুড়ে। নিহতদের মধে‍্য সাতজন নারী। এসব অমানবিক হত‍্যাকান্ডের ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে কোন আহবান এখনও মিডিয়ায় আসেনি। তবে জামায়াত-শিবির ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসির প্রতি ঐকে‍্যর ডাক দেয়া হয়েছে।
শুধু জামায়াত ঠেকাতে নয় ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করা এবং গণতন্ত্রের চর্চা ও দেশ রক্ষার ঐক‍্য জরুরি। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর জামায়াত ঠেকাতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও একতার আহবান জানিয়েছেন। অন‍্যদিকে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও আগ্রাসী কর্মকান্ড প্রতিরোধে চোরাগোপ্তা হামলার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ। ফুলবাড়ি, মানুষ ও পরিবেশ রক্ষার হরতালকে দেশে “অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির” হরতাল বলেও অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি। বিডিনিউজ২৪ আরও একটি খবর দিয়েছে। সেটি হলো আওয়ামী আইনজীবীদের মাঝে বিভেদ। হানিফ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি যখন দেশবাসিকে ঐক‍্যবদ্ধ হবার আহবান জানাচ্ছেন তখন নিজেদের ঘরের আইনজীবীরাই দুই শিবিরে বিভক্ত। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একদিকে মৌলবাদিদের সন্ত্রাস মোকাবেলায় ঐকে‍্যর আহবান অন‍্যদিকে মানুষ, পরিবেশ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার হরতাল তথা গণতান্ত্রিক অধিকারকে অস্থিতিশীল বলে ধামকি দিয়ে স্ববিরোধী অবস্থান নিয়েছে।
প্রশ্ন জাগে, আওয়ামী লীগ জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ঠেকাতে ঐকে‍্যর ডাক দিয়েছে নাকি গদি রক্ষার জন‍্য সরকারের শেষ সময়ে মানুষকে পাশে চাইছে? বলা চলে নব্বইয়ের দশক থেকেই আওয়ামী লীগ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলিকে পাশে নেবার চেষ্টা করেছে যখনই তারা সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী ঘাতক জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও আক্রমণের শিকার হয়েছে। আবার ক্ষমতায় গিয়ে সতার্থ বন্ধুদের ভুলে গেছে! শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও অন‍্যান‍্য প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সুশিল সমাজের ঐক‍্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হয়। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়েই সব ইতিহাস পেছনে ফেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নটি এড়িয়ে গিয়েছিল। অবশ‍্য জাতির জনক ও জাতীয় চার নেতার পৃথিবীর সবচাইতে বর্বরতম নৃশংস হত‍্যাকান্ডের বিচারের সব বাধা দূর করে খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করে।
সরকারি দল একদিকে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস মোকাবেলায় জনগণের সহযোগিতা চাইছে আরেকদিকে জামায়াত নেত্রীর পুত্রকে প্রতিমন্ত্রী বানাচ্ছে! আবার রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকেও বহাল রাখছে। বাহ্ চমৎকার নীতি! এই দলটি নির্বাচিত নেতাকে কোনরকমের কারণ ছাড়াই পদচু‍্যৎ করে জ্বি-হুজুরমার্কা ব‍্যক্তিদের রাতারাতি নেতার পদ দিয়ে পুরস্কৃত করছে। আওয়ামী লীগের কতিপয় মন্ত্রি-মেয়র ও এমপি নাকি টাকার বিনিময়ে জামায়াত-শিবিরের ক‍্যাডারদের পুলিশের চাকরিতেও বসিয়েছে। এধরণের অভিযোগ হরহামেশাই প্রকাশিত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ‍্যমগুলিতে। গল্পের এখানেই শেষ নয়, জামায়াত-শিবিরের ক‍্যাডার ও কর্মীরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ও ছাত্রলীগেও ঢুকে পড়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। আবার ছাত্র ইউনিয়ন বা প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন করা সরকারি কর্মকর্তা বা পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্ষমতাসীন কারও অনৈতিক কাজে সায় না দেবার কারণে শাস্তিমূলক বদলি এমনকি ওইসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ‍্যা রটনাও ছড়ানোর খবর বেরিয়েছে ফেইসবুকে।
শেখ হাসিনা, তাঁর দল আওয়ামী লীগের কাছে আমার প্রশ্ন-সংসদে ব্রুট মেজরিটি থাকার পরও জামায়াত-শিবির তথা ধমর্ীয়-মৌলবাদি রাজনীতি নিষিদ্ধ করছেন না কেন? কেন দলের ভেতরে (মাঠ পর্যায়ে বা তৃণমূল পর্যায়ে) সংহতি ও ঐক‍্য গড়ে তুলতে পারছেন না? কেন দেশজুড়ে এমপিতন্ত্র কায়েম করা হয়েছে? কেন ত‍্যাগি ও দীর্ঘদিনের পুরনো নেতাদের বাদ দিয়ে (প্রায় ১৬০ টি আসনে) নব‍্য ও কালো টাকার মালিকদের বিগত নির্বাচনে নমিনেশন দিয়ে দলের ভেতরের সংহতি ও একতাকে বিনষ্ট করা হয়েছে, এবং কে এরজন‍্য দায়ি? আওয়ামী লীগের ভাগ‍্য সুপ্রসন্ন এই জনে‍্য যে দেশে জনগণের কথা ভাবে (তবে ক্ষমতার কথা ভাবে তারা) এমন শক্ত বিরোধীদল নেই! দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সুবিধাবাদি-তোষামদকারিরা কেন বেশি প্রিয় দলীয় ত‍্যাগী নেতা-কর্মীদের চেয়ে?
বাহাত্তরের মূল সংবিধান মতে দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার সুযোগ ছিল না। শেখ হাসিনার দল কেন সেই মূল সংবিধানে ফেরার সাহস করছেন না? এখনও সময় ফুরোয়নি। নিজের ঘর সামলাতে পারলে, সুবিধাবাদী চক্রকে বিতাড়ন, দুর্নীতি ও বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করে, দেশে গণতন্ত্রের (প্রকৃতার্থে) চর্চা ও ন‍্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে পারলেই কেবল সাধারণ মানুষসহ সমমনা সকল রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সমর্থন মিলবে পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড মোকাবেলা করা সম্ভব। নইলে সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদি শক্তিকে মোকাবেলা করাটা অত সহজ হবে বলে মনে করি না। কাজেই অন‍্যদের ঐকে‍্যর পথে ডাকার আগে নিজের ঘর ঠিক করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে আওয়ামী লীগের জন‍্য! ছবি গুগল থেকে নেয়া।