Category Archives: Politics

পুরস্কারের গ্লোবাল রাজনীতি আর স্বদেশে সাংবাদিক নির্যাতন!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। স্বদেশে এবার বুঝি পরিবেশ-সুশাসন নিশ্চিত হলো! তাইতো এক আইনজীবীকে মেগসেসে পুরস্কার দেয়া হলো। দেশে এখন পরিবেশ রক্ষা একশ’ভাগ নিশ্চিত হয়ে গেলো! যেন আর কোন পরিবেশ দূষণ হবে না, বিনষ্ট হবে না পরিবেশ, কেউ পরিবেশ ধ্বংসও করবে না! একেবারে সবজাতে উঠে গেলো আর কী? স্বাভাবিক কোন সুশাসন যেখানে সুদূর পরাহত ব‍্যাপার, সোনার হরিণ সেখানে পরিবেশ-সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে, ভাবখানা এমনই! পুরস্কার পাওয়া মানে স্বীকৃতি নাকি পুরস্কার পাওয়া বা দেয়ার ক্ষেত্রেও ইদানিংকালে গ্লোবাল রাজনীতির নানান ফ‍্যাক্টর যুক্ত হয়ে গেছে?
বিদেশি যত সংগঠন, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কোন পুরস্কার দেয় তার জন‍্য তারা মাঠপর্যায়ে কোন অনুসন্ধান করে কী? আর এসব পুরস্কারের জন‍্য রীতিমতো আবেদন-নিবদেন ও কাগুজে তথ‍্য-প্রমাণ হাজির করতে হয় বা দাখিল করতে হয় নাকি? আর কি বাঙ্গিটাই ফাটিয়েছে বাস্তবে বা কী পরিবর্তনই করেছে ওরা যারা পুরস্কার পাচ্ছে? এসবকিছুরই চুলচেরা বিশ্লেষণ হলে দেখা যাবে সবই ফাঁপা! প্রকল্প আর ফান্ড নির্ভর কর্ম কোন মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে কি? আর প্রকল্প ও ফান্ড মানেই যে দুর্নীতি তা কী কেউ অস্বীকার করতে পারি? দেশে পরিবেশের কী অবস্থা তাতো বাংলার প্রতিটি মানুষই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন, সেখানে আবার বিচার! হাসি পাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই। আমাদের দেশে শিক্ষা, চিকিৎসার উন্নয়ন ও দারিদ্রমুক্তির লক্ষে‍্য বহু সাধারণ মানুষ যাঁদের হাতে কোন প্রকল্প বা ফান্ড কোনদিনও পড়ে না বা যায় না তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন আপন মনে কোন পুরস্কার পাবার নু‍্যনতম প্রত‍্যাশা ছাড়াই। ওসব মানুষের গল্প মাঝে মাঝে দেশের বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা তুলে ধরছেন। সেইসব মহান মানুষদেরকে কোন দেশ, সংস্থা বা সংগঠন পুরস্কার দেয় না। পুরস্কারের জন‍্য তাঁদের পক্ষে মনোনয়ন বা আবেদন করার মতো কেউ নেই বলে! আর যেখানে প্রকল্প, ফান্ড, সুবিধা আর মিডিয়ার অতিশয় মাতামাতি (মানুষ ও কল‍্যাণের জন‍্য নয় বরং স্ব-স্ব ব‍্যবসাপাতি, আদর্শ, পছন্দ আর রাজনীতির হয়ে) তারাই দরখাস্ত আর মনোনয়ন দিয়ে, করে বা জানিয়ে পুরস্কার পাচ্ছে! যারা পুরস্কার দিচ্ছে তাদের স্বার্থতো আছেই! পুরস্কারতো পায় তারাই যাদের প্রচার আছে যারা নয়-ছয় করে প্রকল্প আর ফান্ডের কাগজপত্রে তারাইতো কামিয়াব হবে, তারা নয়তো কী ছলিমুদ্দি কলিমুদ্দি বা সকিনারা পুরস্কার পাবে?
আমি জানি কেউ কেউ বলতে পারে যে এধরণের লেখা ভূমিদু‍্যদের পক্ষাবলম্বন! আমার সাফ কথা, এমন সরলীকরণ করাটা কতটা সমীচীন তা বুঝতে পারি না আমি। তবে একটা প্রশ্ন রাখাই যেতে পারে, দেশে কী ভূমিদসু‍্যতা, পরিবেশ ধ্বংস বন্ধ হয়েছে নাকি অদূর ভবিষ‍্যতে হবে? নাকি সেখানে পরিবেশ-সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে প্রকৃত অর্থে? আর মতপ্রকাশ কারও পক্ষে বা কারও বিপক্ষে যেতেই পারে এবং যাবে, এমনটাই স্বাভাবিক। এর মানে কী কোন ভূমিদসু‍্যর পক্ষাবলম্বন করা বোঝায়? আমাকে মাফ করবেন, আমি অজ্ঞানী মানুষ, আমি আমজনতার কাতারেরর একজন ক্ষুদ্র মানুষ! আমার চিন্তার স্তর অতটা পাকাপোক্ত নয়, ছোট জ্ঞান, বুঝি কম। যা ভাবি, মাথায় আসে তাই লিখি। কে খুশি হলো, কে দু:খ পেলো তার পরোয়া করিনা।
এই লেখাটি যখন লিখছি তখন হঠাৎ টিভিপর্দায় আবার সাংবাদিক নির্খযাতনের খবর ভেসে এলো। ঢাকা মেডক‍্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক নামধারি দুবর্ৃত্ত-সন্ত্রাসীরা ফের হামলে পড়েছে সাংবাদিকদের ওপর। দেশে যেন সেনা শাসন চলছে! স্বদেশে কী কোন সরকার, রাজনীতি আছে নাকি সেখানে সেনাশাসন চলছে? নইলে একের পর এক সাংবাদিকরা মার খাচ্ছেন, বন্ধ হবার কোন পদক্ষেপই নেই কারও তরফে! সবকিছুই যেন নিন্দা প্রকাশ, উদ্বেগ জানানো, তদন্ত কমিটি গঠন, ব‍্যবস্থা নেয়া হবে আর সুমধুর চটকদার ও কৌশলী কথামালার ভেতরেই হারিয়ে যাচ্ছে ন‍্যায়বিচার, আইনের শাসন। এতো অসহিষ্ণুতা, এতো নির্যাতন, এতো হত‍্যা-খুন-গুম আর এতো মিথ‍্যাচার, চারিদিকে কেবল অন্ধকার, হাহাকার আর গভীর শূণ‍্যতা! কোথাও থেকে কোন আশা বা আলোর দেখা মিলছে না। ঢাকা মেডিক‍্যাল কেলজ হাসপাতালে চিকিৎসক নামধারী দুবর্ৃত্তরা একের পর এক সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করে যাচ্ছে বীরদর্পে আর আমাদের রাষ্ট্রনায়করা তা উপভোগ করছে! আবার হাসপাতালের ইন্টার্ণিরা সাংবাদিকদের ওপর বেপরোয়া নির্যাতন, হামলা চালাচ্ছে, সাংবাদিকদের হাসপাতালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন‍্য কী হাসপাতাল পরিচালক দায়ি নন? তার কী কোন নৈতিক দায় নেই এসব দুবর্ৃত্ত হামলার ঘটনায়? অথচ সাংবাদিকরা সেই মাথাটাকে বাদ রেখেই মামলা করলেন!
কেউ কেউ আবার নির্যাতকদের “জুতামারা” উচিত বলে মন্তব‍্য করছে। আমি বলবো, উনাদের মেরে লাভ কীরে ভাই? যত অনাচার-অনিয়ম, নির্যাতন, হত‍্যা-খুন বা গুম সবকিছুইতো আসছে দুবর্ৃত্ত রাজনীতি-শাসন আর দুনর্ীতি থেকে যেখানে নেই কোন আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার, সহনশীলতা আর গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায় প্রকৃতার্থে তার কোন চর্চা। সমাজের এই হ-য-ব-র-ল চেহারাটা বদলানোর জন‍্য চাই একটা আমূল পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের জন‍্য অনেকে কাজ করছেন। আশা ছাড়িনি আমরা, পরিবর্তন একদিন আসতেই হবে, হয়ত আমার বা আপনার প্রজন্ম দেখবে না, পরের প্রজন্ম নিশ্চয়ই তা দেখতে পাবে এবং দেশটাকে এগিয়ে নেবে স্বপ্নের বাংলাদেশ হিসেবে যেই স্বপ্নটা নিয়ে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিলো আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম হারালাম আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে! ছবি আমাদের সময় থেকে নেয়া।

“গণভবন থেকে গণতন্ত্র বিলি!”

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। “গণতন্ত্র যেন গণভবন আর হাসিনার কাছে আটকা পড়েছে! হাসিনা চাইলে নেতা হওয়া যায়। আবার উনি চাইলে নিবর্াচিত নেতাকেও বাদ দেয়াটা কোন ব‍্যাপারই না। গণভবন থেকে গণতন্ত্র বিলি হচ্ছে আজকাল!” আগে লিখেছি বাংলাদেশে গণতন্ত্র এক সোনার হরিণ! এখন মনে হচ্ছে না এটা ঠিক নয়। গণতন্ত্র পাওয়া যায় গণভবনেই! ক্ষমতাসিন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগের নেতৃত্ব নিবর্াচনে গণতন্ত্রের এই নতুন কাঠামোটির চর্চা করলেন “গণতন্ত্রের মানসকন‍্যা” বলে খ‍্যাত শেখ হাসিনা। নিবর্াচনের মাধ‍্যমে নয় গণভবন থেকে যুবলীগের নতুন নেতার নাম চূড়ান্ত করা হয়। পরে তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। হাসিনা মুখে গণতন্ত্র, গণতন্ত্র বলে চিৎকার করলেও বাস্তবে তার কতটুকু চর্চা করেন সেটা এবার পরিস্কার হলো!
দেশের শীষর্স্থানীয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলো লিখেছে, “১৪ জুলাই রাত পৌনে নয়টায় গণভবন থেকে নতুন কমিটির নেতা হিসেবে এঁদের নাম চূড়ান্ত করা হয় এবং তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হয়। এর আগে বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে যুবলীগের কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে চেয়ারম্যান পদে নেতা নির্বাচন নিয়ে হইচই, বিশৃঙ্খলা ও প্রচণ্ড হট্টগোল হয়। ফলে অধিবেশন মুলতবি করা হয়। পরে রাতে গণভবনে চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। যুগ্ম সম্পাদক হলেন মহিউদ্দিন আহমেদ। এ ক্ষেত্রে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের মতামত উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক উভয়ে ষাটোর্ধ্ব বলে সংগঠনের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ওমর ফারুক চৌধুরী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ভগ্নিপতি। একইভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি পদে ইসমাইল চৌধুরী ওরফে সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক পদে ওয়াহিদুল আলম ওরফে আরিফ এবং মহানগর উত্তরের সভাপতি পদে মাইনুল হোসেন খান ওরফে নিখিল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ইসমাইল হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।”
একদিকে হাসিনা “গণতন্ত্র বিলি” করছেন, অন‍্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধী ও সুবিধাবাদিরা ঢুকে পড়ছে তাঁর দল ও অঙ্গসংগঠনগুলিতে! বিডিনিউজ২৪ বলছে, রাজশাহী বিশ্বিদ‍্যালয়ে পদ্মা সেতুর টাকা উঠানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে। নিহত ছাত্রের গোটা পরিবার জামাতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দেশের বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলিতে চলমান অবস্থার প্রেক্ষিতে হতাশা ব‍্যক্ত করে একজন লেখক ফেইসবুকে লিখেছেন, “আজ সবাইকে এই নিশ্চয়তা দেওয়া যায়-আমাদের যাহান্নাম যাত্রা কেউ ঠেকাতে পারবে না” যাহোক, কোন কোন মেয়র বা এমপি আবার পছন্দের জনকে উপাচাযর্ বা উপ-উপাচাযর্ পদে বসানোর জন‍্য বতর্মানদের অযোগ‍্য প্রমাণ করাতে ছাত্রলীগকেই লেলিয়ে দিচ্ছে গোলাগুলির মাঠে। এভাবে কারও প্রাণও যাচ্ছে। কতিপয় ক্ষমতালোভী ও সুবিধাবাদি ড’রা আবার সেইসব মেয়র ও এমপিদের ব‍্যবহার করছে পদ পদবির জন‍্য উপরে ওঠার লক্ষ‍্য নিয়ে! নিয়োগবাণিজ‍্য, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ সবই চলবে অনিয়ম আর অবিচারের ভেতরে। মেধা নয় দলীয় পরিচয়ই মুখ‍্য‍ হয়ে যায় এসব কু-মানুষদের কাছে! আমি এদের দোষ দেই না। বলবো রাজনীতি না দুবর্ৃত্ত রাজনীতিই সব নষ্টের মূলে! রাজনীতি যখন পচে তখন সমাজের কোন প্রতিষ্ঠানই সোজাপথে চলতে পারে না!
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ‍্যমে কেবল গণতন্ত্র চর্চাই নয় হাসিনার সরকার সাংবাদিক হত‍্যারও কোন কিনারা করতে পারছে না। বিশেষ করে সাগর-রুনির খুনিদেরতো ধরছেনই না। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের গলা টিপে ধরা হচ্ছে নতুবা রাজপথে পেটানো হচ্ছে। আবার কারও মাথার খুলি উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বোমার আঘাতে, যেমনটি করা হয়েছিল সাংবাদিক মানিক সাহাকে হত‍্যার সময়। কখনও র‍্যাব পেটাচ্ছে সাংবাদিকদের। আদালত অবমাননার জুজুর ভয়তো সাংবাদিক ও গণমাধ‍্যমের মাথার ওপরে খাড়া হয়েই আছে! সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনের সঙ্গে জড়িতরা নাকি বিজনেজ ম‍্যাগনেট! তাই খুনিদের ধরতে এত বিলম্ব। সাংবাদিক হত‍্যা-খুনের তালিকাটা দিন দিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। গত বুধবারে হবিগঞ্জে এক তরুণ সাংবাদিক দৈনিক বিবিয়ানার স্টাফ রিপোর্টার জুনাঈদ আহমদ জুনাঈদ এর লাশের কুড়িটা টুকরো উদ্ধার করেছে পুলিশ। কিন্তু খুনি ধরতে পারেনি। ১৯৮৪ সাল থেকে আজ অবধি দেশে ৪৩ সাংবাদিক ও এক প্রথাবিরোধী লেখক নিহত হয়েছেন। যশোরে এক পুলিশ এবার এক সাংবাদিকের গলা টিপে ধরলো। সাংবাদিক সাগর-রুনির নৃশংস হত‍্যাকান্ডের ঘটনায় বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডের গোপন সুড়ঙ্গপথে বিকল্প পাইপলাইন ও কুইক রেন্টাল বিদু‍্যৎ এর যোগসূত্র আছে বলে কথা উঠেছে। যাহোক, তবুও মিডিয়াকর্মী নেওয়াজ ও মিডিয়ামালিক রহমান হয়ত বলবেন বাংলাদেশে মিডিয়া শতভাগ স্বাধীনতা ভোগ করছে! সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত কেউ আজও গ্রেফতার হয়নি। তবে রুনির চরিত্র হননকারি মাহফুজ অবশেষে দু:খপ্রকাশ করেছেন। এটিএন বাংলার চেয়ারম‍্যানকে ক্ষমা করা যায় কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জনাব মাহফুজ সাংবাদিক মেহেরুন রুনির চরিত্র হনন বিষয়ে ক্ষমা চেয়েছেন! ক্ষমাতো মহৎ গুণ। কিন্তু সাগর-রুনির আত্মা আর মেঘ ক্ষমা করবেন কিনা বলতে পারবো না। তবে মাহফুজুর রহমানকে পরিস্কার করতে হবে তিনি কেন রুনির চরিত্র হননের পথ বেছে নিয়েছিলেন? আরেকটি বিষয় সুরক্ষিত এটিএন বাংলার কাযর্ালয় থেকে বিবিয়ানা গ‍্যাসফিল্ড ও রুনির রিপোটর্িংয়ের তথ‍্য-ফাইল ও ভিজুয়াল ডকুমেন্টস চুরির সাথে কারা জড়িত তারও ব‍্যাখ‍্যা দেবেন মি. মাহফুজ-এমনটাই আশা করি। মামুন-মুন্নিরাই এখন কী বলবেন? দেখা যাক কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোয় কিনা!
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ‍্যমে চর্চিত গণতন্ত্র থেকে দেশ ও দেশের রাজনীতিকে প্রকৃত অর্থের যে গণতন্ত্র সেই ট্র‍্যাকে ফেরাতে না পারলে চলমান অরাজকতা, অনৈতিকতা, অধ:পতন বাড়বে বৈ কমবে না! ছবি-বিডিনিউজ২৪

স্বদেশ পরিস্থিতি: কে সত‍্য হাসিনা নাকি মিডিয়া?

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন‍্যা শেখ হাসিনা আবারও মিডিয়া ও সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই মূলত: তিনি সাংবাদিক ও মিডিয়ার নামে নানানরকম বক্তব‍্য দিয়ে আসছেন। বিশেষত: মিডিয়া নাকি মিথ‍্যা ও ভুয়া কথা লিখছে। মিডিয়া ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হাসিনার এটি প্রধান অভিযোগ। এছাড়া সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা আন্দোলন-সংগ্রামে নামলেই তিনি স্মরণ করিয়ে দেন বিএনপি-জামায়াতের আমলে সংঘটিত সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের কথা। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন হয়নি, এমন কথা কিন্তু কোন সাংবাদিক বা মিডিয়া কখনই বলেননি। অথচ তারপরও সরকার প্রধান হয়ে একতরফা বক্তব‍্য দিয়ে চলেছেন। এর রহস‍্য কী, কিংবা কি ভেবে হাসিনা আগের সরকারের ওপর দয় চাপানোর কৌশল নিচ্ছেন তাও আমাদের বোধগম‍্য নয়! হাসিনার বক্তবে‍্যর সুরটা মূলত: “ঠাকুর ঘরে কে রে কলা আমি খাই না” বা “যতদোষ… ” এর মতোই।
সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের বিষয়ে হাসিনার বক্তবে‍্যর ভেতরেই আরকেটি সত‍্য নিহিত সেটা হলো হাসিনার মহাজোটের আমলেও সাংবাদকরা হত‍্যা হচ্ছেন, নির্যাতিত হচ্ছেন! কারণ উনি কেবল বলছেন যে বিগত বিএনপি জামাতের আমলে ১৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আর উনার (হাসিনার বর্তমান আমলে) আমলে সাংবাদিক হত‍্যা ও নির্যাতন হচ্ছেন কিনা সেব‍্যাপারে বরাবরের মতোই নিরব থাকছেন। প্রবাদ আছে নিরবতা সম্মতিরই লক্ষণ! নিজের দোষ অনে‍্যর ঘাড়ে চাপানোর কিংবা নিজেদের ব‍্যর্থতা অপরের ওপর দেয়ার “কূ-সংস্কৃতি” বাংলার রাজনীতিতে আছে এটা কারও অজানা নয়। কাজেই হাসিনা যতই নিজের সরকারের ব‍্যর্থতা আঁড়াল করতে চাক না কেন জনগণ বা দেশের মানুষ প্রকৃত সত‍্যটাই জানেন। মহাজোটের আমলে কী সাগর-রিনির মতো জনপ্রিয় দুই টিভি সাংবাদিক একযোগে নৃশংসভাবে হত‍্যা হলেন না? সিলেটে প্রবীণ সাংবাদিক ফতেহ ওসমানি, খোদ রাজধানীতে আরেক প্রবীণ সাংবাদিক ফরহাদ খাঁর হত‍্যাকান্ডটিও নিশ্চয়ই হাসিনার ভুলে যাবার কথা ন। সারাদেশে সাংবাদিকরা কিভাবে সরকারি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারি গুন্ডাপান্ডা ও “সন্ত্রাসী” এমপিদের হাতে নিপীড়িত-নিগৃহীত হচ্ছেন তাতো আর কারও অজানা নয়। আগের হাসিনার আমলে (১৯৯৬-২০০১) ও বিশিষ্ট সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবলসহ অনেক সাংবাদিক হত‍্যার ঘটনা ঘটেছিল।
হাসিনা বলেছেন, “মিডিয়া এখন লিখছে। প্রতিদিন সরকারের বিরুদ্ধে না লিখেলে, তাদের পেটের ভাত হজম হয় না। সত্য, না মিথ্যা তা যাচাই করার দরকার নেই। তাদের লিখতেই হবে। আমি প্রতিদিন পত্রিকাগুলো দেখি। কিছু দাগ দিয়ে রাখি। সম্পূর্ণ ভুয়া নিউজ। মিডিয়া টক’শোতে এক চিত্র, আর গ্রামে গেলে আরেক চিত্র।” সূত্র বিডিনিউজ২৪। হাসিনা যদি তাঁর দাগানো তথাকথিত ভুয়া নিউজ বা রিপোর্টগুলির একটা তালিকা দিতেন। তাহলে সাংবাদিক ও দেশবাসি বুঝতে পারতেন যে আসলে হাসিনার বক্তব‍্য সত‍্য নাকি সাংবাদিকদের লেখনি সত‍্য? প্রকৃতঅর্থে হাসিনা যা বলছেন গ্রাম-গঞ্জের চিত্র আর সাধারণ মানুষের বক্তব‍্য একবারেই উল্টো!
হাসিনা আরও বলেছেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তাদের পছন্দ নয়”। আসলে হাসিনা কী নিজেই গণতন্ত্র চর্চা করেন? যদি করতেন তবে কী তুণমূল নেতাদের মতামত ও ভোটকে পাশ কাটিয়ে তিনি বিগত নির্বাচনে কোটিপতি কালোটাকার মালিক ব‍্যবসায়িদের হাতে দলীয় মনোনয়ন তুলে দিতে পারতেন? তিনি যদি গণতন্ত্রই বিশ্বাস করবেন তবে কেন নির্বাচিত নেতাদের দল থেকে বিনা নোটিশে সরিয়ে দিচ্ছেন?
আর গণমাধ‍্যম যদি যাচাই-বাছাই না করে লিখতো তাহলে কী আপনার সোনার এমপি-মন্ত্রিরা সাংবাদিকদের আস্ত রাখতো? সত‍্য লিখলেই যা অবস্থা তাতে যদি কেউ ভুয়া খবর লিখতো তাহলে তাদের কী অবস্থা হতো তা প্রকৃতিও জানে না! হাসিনাকে বলবো চাটুকার ও তোষামদকারি নেতা বা মন্ত্রি এমপিদের কথা নয় গ্রামের আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারাই যদি আপনার কাছে নির্ভয়ে সব কথা বলতে পারতেন তবে আপনার ভ্রান্ত ধারণাগুলি সরে যেতো বলে আমার বিশ্বাস। আপনার তথাকথিত ডিজিটাল তরুণ মন্ত্রি-এমপিরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় একটা আতংকজনক পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছেন। প্রশাসন সেই মন্ত্রি ও এমপির কথার বাইরে একটি কাজও করে না। প্রধানমন্ত্রি হাসিনা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আপনাকে বলছি প্লিজ তৃণমূল নেতাদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন দেশের প্রকৃত অবস্থাটা কী? তাহলে আর সাংবাদিকদের প্রতি আপনার কোন ক্ষোভ প্রকাশ করতে হবে না।
প্রধানমন্ত্রি আপনার কাছে আমাদের অনুরোধ, প্লিজ মিথ‍্যা বলবেন না, অযথা সাংবাদিক ও গণমাধ‍্যমের ওপর চোটপাট নিবেন না। সত‍্যটাকে স্বীকার করার মতো সহনশীলতা অর্জন করুন, গণতন্ত্র চর্চা করুন, মনে-প্রাণে গণতান্ত্রিক হোন এবং দলে ও সরকারে সবর্ত্রই গণতান্ত্রিক আবহ গড়ে তুলুন। প্রধানমন্ত্রি হিসেবে আপনি শিশুসুলভ আচরণ ও মিথ‍্যা কথা বললে জাতি হিসেবে আমাদের মাথাটা বিশ্বদরবারে নিচু হয়ে যায়! নইলে সোনার বাংলার স্বপ্ন আমাদের দু:স্বপ্নে পরিণত হবে! ছবি গুগল থেকে নেয়া।

এএইচএম খা. লিটনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। রাজশাহীর মেয়োর এ এইচ এম খা. লিটনের বিরুদ্ধে এবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলো। তাও আবার আদালত অবমাননার অভিযোগ। কিন্তু পুলিশ ভয়ে গ্রেফতার করছে না। সূত্র দৈনিক কালের কণ্ঠ। কারণ উনি সরকারদলীয় মেয়োর। অবশ‍্য এমন আদালত অবমাননার অভিযোগ যদি একজন সাধারণ মানুষের নামে বা বিরোধীদলীয় নেতার নামে আসতো তবে এতোক্ষণে দলীয় ক‍্যাডারের ভূমিকায় অবতীণর্ হয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে ফলতো! এই হলো বাংলাদেশ, যেখানে আইন সকলের জন‍্য কখনোই সমানভাবে চচর্িত হয় না। সেখানে আইনের শাসন পদদলিত!
এই মেযর শুধু সাংবাদিককে হত‍্যার পরিকল্পনাই করেন না আদালত অবমাননাও করেন! আবার একজন কমর্চারিকে তাঁর প্রাপ‍্য পারিতোষিকও দিতে চান না। এই মেয়রই রাজশাহীর বোডর্ চেয়ারম‍্যান প্রফেসর দীপককে হত‍্যার হুমকি দিয়েছিলেন তাঁর মেয়ের পরীক্ষার ফলাফল ভালো করে নেবার জন‍্য। (সূত্র ইংরেজী দৈনিক ডেইলি স্টার)। ছি, ছি, ধিক্কার এইসব রাজনীতিকদের যারা কেবল নিজেদের স্বাথর্ ছাড়া জনকল‍্যাণ বলতে কিছু বোঝেন না। জাতীয় নেতার ছেলে লিটন আবার বঙ্গবন্ধু কন‍্যা শেখ হাসিনার খুবই প্রিয়!
জানি না বা বলতে পারি না যে, সাহসী সাংবাদিক আনু মোস্তফাকেও আবার হুমকি না দিয়ে বসেন এই মেয়োর। শুনেছি মেযর লিটন নাকি যা ইচ্ছে তাই করছেন এখন সেখানে!!! আবার বিচারকের যে কী হয় সেটা হয়ত সৃষ্টিকর্তাও জানেন না? মেয়োর বলে কথা! কী দরকার ছিল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার? উনি কী জানেন না যে দেশে আইনের শাসনের চেয়েও বেশি ক্ষমতাবান হলো অন‍্যায় করা আর ক্ষমতার অপব‍্যবহার করে নিজের স্বাথর্ পূণর্ করা? এখন দেখার বিষয় বিচারকের ভাগে‍্য কী ঘটান লিটন, নাকি আবার হুমকি ও বদলি করে দেন অধ‍্যাপক দীপকের ন‍্যায়, সেটা সময়ই বলে দেবে? ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

শাবাশ সোহেল তাজ!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। কালো টাকার মালিক, লুটেরা, দুর্বৃত্ত আর বণিকদের পাল্লা ভারি হচ্ছে বাংলার রাজনীতিতে। সৎ ও ভালো মানুষরা জায়গা হারাচ্ছেন রাজনীতির মাঠে। টাকা আর তোষামদি রাজনীতিকে গ্রাস করে ফেলেছে। বিশেষ করে বড় দুইটি দলে (যারা ভাগাভাগি করে ক্ষমতায় আসা-যাওয়া করছে) এই রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে! তাইতো সৎ ও স্বচ্ছ রাজনীতি কঠিন থেকে কঠীনতর হয়ে পড়ছে। সোহেল তাজের সরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে যার সর্বশেষ উদাহরণের দেখা পেলেন দেশবাসি।
সোহেল তাজ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রির পদ ছেড়েছিলেন ২০০৯ সালেই। এবার তিনি সংসদ সদস্য পদও ত্যাগ করলেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজকের জামানায় এমন নির্লোভ মানুষ খুব কমই আছেন। “সবকিছু বলঅ যাবে না” বলে সোহেল তাজ মূলত: পদত্যাগের সব কারণই পরোক্ষভাবে বলে দিয়েছেন।
সোহেল তাজের মতো মানুষরা রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন, দুর্নীতিবাজরা, কালো টাকার মালিক ব্যবসায়িদের কদর বাড়ছে বড় দুই নেতা ও দলের মাঝে। লজ্জা ও আত্মসম্মানবোধ একজন মানুষ সব অন্যায়-অবিচার মেনে নিতে পারেন না। সোহেল তাজ সেই এক মানুষ যিনি তাজউদ্দীন আহমদ’র সন্তান।
হয়ত ক্রসফায়ার বা বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ করতে চেয়েছিলেন সোহেল তাজ। কিন্তু হাসিনা-সাহারারা বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চালিয়ে যাবার পক্ষে দাঁড়ান! আর এই নিয়েই শেষঅবধি তিনি সরে গিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রকের দায়িত্ব থেকে। শাবাশ সোহেল তাজ! দেশবাসি আপনাকে মনে রাখবেন, দুর্বৃত্তদের নয়!
শ্রদ্ধেয় সোহেল তাজ আপনাকে বলছি, অভিমান দুর্বৃত্তদের প্রতি থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে গেলে চলবে না। সততা, স্বচ্ছতা আর মেধা ও যোগ্যতার বলে জনগণের ভালবাসা নিয়ে রাজনীতিতদে গুগণগত পরিবর্তনের সূচনা করার দায় কিন্তু আপনি এড়াতে পারবেন না। আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন মানুষ তোষামদি করতে পারেন না। আপনার বয়স আছে, সাহস আছে, সততা আপনার পুঁজি। জনগণ আপনার পাশে দাঁড়াবে। দুর্বৃত্তায়নমুক্ত রাজনীতির পথ রচনার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দেশে ফিরে আসুন। দেশের মানুষ, দেশ ও বাবার আত্মত্যাগ নিশ্চয়ই আপনি কোনদিনও ভুলতে পারবেন না। এটা আমার নয় বহু মানুষের বিশ্বাস। ছবি গুগল থেকে নেয়া।

বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড: দেশ গোল্লায় যাক তাতে কী, একই পথে দুই বেগম?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।।আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড সম্ভবত: সিরাজ শিকদার হত্যাকান্ড দিয়েই শুরু হয়েছিল। রক্ষীবাহিনীতো ছিল সরকারি দলের ক্যাডারদের দ্বারা গঠিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার একটি বাহিনী। মোটাদাগে এরপরে আসলো বেগম জিয়ার অপারেশন ক্লিনহার্ট পরে এলিট কিলার। যার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছেন বেগম হাসিনা! মানুষের বাঁচার উপায় বোধহয় সেখানে আর কল্পনা করা যাবে না কোনদিনও যদি না বড় ধরণের কোন আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বৈপ্লবিক পরিবর্তন না ঘটে! এইতো হলো আমাদের স্বাধীন মাতৃভূমিতে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের ইতিহাস।
স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে আজ অবধি কত মানুষ বিনাবিচারে নিহত হয়েছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান দেয়া কঠিন। তবে বিশেষ মর্যাদাশীল বাহিনী গঠন হবার পর তথা খালেদা-নিজামীর আমল ২০০৪ থেকে আজ র্পযন্ত সাত হাজারের অধিক মানুষ নিহত (গুপ্তহত্যা-অপহরণ, গুমসহ)হয়েছে বলে অসমর্থিতস সূত্রের খবর।
সন্ত্রাস দমনের নামে গণহারে বিনাবিচারে মানুষ মারার পরও দেশের প্রধানমন্ত্রিরই জীবনের নিরাপত্তা নেই। খোদ প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার জীবন এখন অনিরাপদ। কাজেই সাধারণ মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তার প্রত্যাশা করাও পাপ। তাঁর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রি অনিরাপদ মানেই দেশের ১৫ কোটি বা ১৬ কোটি মানুষই নিরাপত্তাহীন!
ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকা আর যেকোন উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দুই বেগমের এই মানসিকতার কারণে দেশ আজ আবার এক অনিশ্চয়তার অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে।
এই দুই বেগম স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও ক্ষমতার স্বার্থে উভয়ই সেই স্বৈরাচারকেই রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন পুনরায়। আর আজকে একজন যুদ্ধাপরাধীদের বন্ধু অন্যজন স্বৈরাচারের রাজনৈতিক পার্টনার। দেশবাসি অসহায় ক্ষমতাকে নিয়ে দুইয়ের কামড়াকামড়িতে। বিশ্বসভায় রসাতলে যাচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি, শূণ্যের কোঠায় নেমে গেছে দেশের মানবাধিকার। বাড়ছে জনগণের কষ্ট আর দুর্ভোগ। জনগণকে দেখার যেন কেউ নেই!
সোনার বাংলাকে আবার তৃতীয় শক্তির হাতে তুলে দেয়ার নামে অরাজনীতিকরণ করা হচ্ছে। না অন্য কেউ নয় হাসিনা খালেদা হাত ধরাধরি করে সেই পথেই হাঁটছেন! এই দুইয়ের বিপরীতে জনজাগরণ ছাড়া দেশকে বাঁচানো যাবে কী? ছবি গুগল থেকে নেয়া।

জয় কিংবা তারেক নয় চাই জনগণের নেতা, যিনি সাগর-রুনির খুনিদের আশ্রয় দেবে না!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। কে বাংলাদেশের যোগ‍্য নেতা, তারেক নাকি জয়? এমন একটি প্রশ্ন করে জনৈক এক ব‍্যক্তি তারেক জিয়া ওবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি আপলোড করেছেন ফেইসবুকে। দু’জনকে একই পাল্লায় মাপা যাবে না। আবার দু’জনের একজনও মাঠের রাজনীতি করে নেতা হয়ে ওঠে আসেননি। তারা কিভাবে “নেতা” তা দেশের মানুষ সবাই জানেন, বাঝেন।
আমি বলবো উভয়ই পরিবারতন্ত্রের প্রতিভূ, জনগণের নয়! কেউ এক টাকার দুনর্ীতি করুক আবার কেউ কোটি টাকার দুর্নীতি করুক! দুর্নীতি দুর্নীতিই। কেউ কমশিক্ষিত আবার কেউ অনেক বেশি, জনগণের সুখে:দুখে পাশে থাকার সংগ্রামী জীবন উনাদের কারোই নেই। আমরা চাই দুর্নীতিমুক্ত এবং জনগণের প্রকৃত নেতা। যারা জনগণের শাসন, আইনের শাসন, সংবিধানকে সবার উপরে রেখে দেশ চালাতে পারবেন।
আমি বলবো ভেঙ্গে দাও পরিবারতন্ত্র, গুঁড়িয়ে দাও জনগণের শত্রুদেরকে, যারা ধাপে ধাপে রাজনীতি না করে পরিবারতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় সুযোগ নিচ্ছে! জনগণ এমন দেশনেতা চান যারা সাগর-রুনির খুনি কিবা অন‍্য কোন খুনিকেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না। যে নেতা দেশে বিনাবিচারে মানুষ হত‍্যা বন্ধ করবে। বিলাসবহুল জীবন-যাপন নয় সাধারণ জীবন যাপন করবে এমন মানুষেরই দরকার বাংলাদেশে।
এমন নেতা কবে পাবো বা আসবে স্বদেশের মাটিতে? তা আমরা জানি না। তবে একদিন আসতেই হবে জনগণের প্রকৃত নেতাদেরকে। সেইদিন আর বেশিদূরে নেই। কারণ জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে! ছবি গুগল থেকে নেয়া।

দীপু মণির স্বীকারোক্তি ।। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সম্পদের কী হবে?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। পররাষ্ট্রমন্ত্রি দীপু মণি এবার স্বীকার করলেন যে বাংলাদেশে মার্কিন বাহিনীর ছয়/সাতজন আছেন। মার্কিনীরা কী কারও বন্ধু হয় (কোন ব‍্যক্তি নাগরিক নন, রাষ্ট্রগতভাবে)? ওরা শুধু নিজের স্বার্থ ও ব‍্যবসাটা ভালো বোঝে! ওদের স্বার্থে ওরা যে কোন দেশে আক্রমণ, অর্থনৈতিক অবরোধসহ নানা পদক্ষেপ নিতে পারে।
মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রি, দেশটা কী তবে ওদের হাতে তুলে দেবেন আপনারা, নাকি উনারা আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আবার ক্ষমতায় বসানোর? যারজন‍্য আপনারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বিষয়ে কোন কিছু না ভেবেই মার্কিনীদের দেশে ঢোকালেন। মনে নেই ওরা সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল। সেদিন সোভিয়েত ইউনিয়ন পাশে না থাকলে কিংবা পাল্টা হুমকি না দিলে কী স্বাধীনতা পাওয়া অতো সহজ হতো?
মার্কিনীরা একবার যেদেশে ঢোকে সেই দেশের বারোটা বাজিয়েই ছাড়ে। এটা কী আপনাদের অজানা? আসলে ওদের নজর অন‍্য জায়গায়। ওরা চায় তেল-গ‍্যাসসহ এদেশের জাতীয় সম্পদ লুণ্ঠন করতে! ওরা চায় বাংলাদেশকে ব‍্যবহার করে পরাশক্তি হয়ে ওঠা আমাদের প্রতিবেশি দেশসহ এশিয়ার আরেকটি বৃহৎ দেশকে সাইজ করতে! কারণ এই দু’টি দেশকে সাইজ করতে না পারলে ওদের বিপদ!
ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ ওদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। কাজেই সাধু সাবধান! এখনও সময় আছে, দেশটাকে ওদের ঘাঁটি বানানোর আগেই দেশ থেকে মার্কিন সৈন‍্যদের তাড়ানোর ব‍্যবস্থা করুন। নইলে আখেরে আমও যাবে, ছালাও হারাবেন! ছবি গুগল থেকে নেয়া।

সাগর-রুনির খুনিরা ধরা পড়ে না, বিভক্ত ও বিচ্ছিন্ন হয় ঢাকা!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। হাসিনার মহাজোট সরকার প্রাচীন ঢাকাকে বিভক্ত করার পর এবার বিচ্ছিন্ন করে দিল! ঐতিহ‍্যবাহী ঢাকা মহানগরীকে বিভক্ত করে দুই ভাগ করা হয়েছে। অনেকে মনে করে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের পদটি বিএনপির হাত থেকে নিজেদের দখলে নিতেই আওয়ামী লীগ এই কাজটি করেছে। আওয়ামী লীগ জনমত যাচাই না করেই ঢাকাকে ভাগ করে। আর এখন তারা বিরোধীদলের একটি সমাবেশকে ঘিরে পুরো ঢাকাকেই বিচ্ছন্ন করে রেখেছে গোটা দেশ থেকে। ঢাকায় কী শুধু বিএনপির নেতা-কর্মীরাই আসতো এই কয়েকদিনে। নাকি হাজারো সাধারণ মানুষ ঢাকায় আসতেন নানান জরুরি কাজে। কিংবা অনেকেই ইতোমধে‍্য ঢাকায় এসেছেন, যাদেরকে আরও কয়েকদিন ঢাকায় থাকতে হবে। সরকার হোটেলে মানুষ থাকতে পারবে না, লঞ্চে উঠতে পারবে না, বাস চালাতে দেবে না এমন নানান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এই প্রতিবন্ধকতা কী শুধু বিএনপির সমাবেশের বিরুদ্ধে নাকি এমন অনৈতিক বিধিনিষেধ জনগণের বিরুদ্ধেও যায়? সরকার, সরকারের বিচক্ষণ উপদেস্টারা কী এই সামান‍্য বিবেবচনাবোধটুকুও হারিয়ে ফেলেছে? হাসিনা কী মনে করছেন এসব করে তাদের ভোট বাড়ছে, জনসমর্থন বাড়ছে? নাকি সরকার নিজেই দেশটাকে আবার তারেকজামানায় ফিরিয়ে নিতে চাইছে? সরকার বিএনপির মহাসমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে যেভাবে হোটেল, বাস, লঞ্চ বন্ধ করে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করছে, সেভাবে যদি সাগর-রুনি ও খালাফ হত‍্যাকারিদের ধরার জন‍্য তৎপর হতো কিংবা আইনের শাসন ও সাংবিধানিক শাসন বাস্তবায়নে তৎপর হতো অথবা গণতন্ত্র ও সহিষ্ণুতার চর্চা করতো তাহলে দেশের মানুষকে একটা চরম অস্বস্তিকর শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ‍্য দিয়ে কাটাতে হতো না! সরকার সাগর-রুনি ও খালাফের খুনিদের ধরতে পারে না বা ধরে না, কিন্তু বিএনপির মহাসমাবেশকে পন্ড করতে গণগ্রেফতার করে মানুষের অধিকার ও মর্যাদাকে পর্যুদস্ত করতে এতটুকুও দ্বিধা করছে না। কিন্তু কেন, সরকার কী বুঝতে পারছে না যে এসবে সরকারের নয় বিরোধীদেরই উপকার হচ্ছে, লাভবান হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীরাই? ছবিটি গুগল থেকে নেয়া।

সাগর-রুনির নৃশংস হত‍্যাকান্ড ও আদালত অবমাননার জুজু!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। “দুই সাংবাদিকের (সাগর-রুনি) হত্যার ঘটনায় সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। এই তদন্তে কোন ধরনের ভুল বা অবহেলা আমরা দেখিনি। একাধিক তদন্ত সংস্থা এই ঘটনার পুরো সত্য বের করে আনতে কাজ করছে।” বাংলাদেশের স‍র্বোচ্চ আদালত হাইকোর্ট একথা বলেছে। সাগর-রুনিকে সরকারই খুন করেছে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার এমন অভিযোগ বিষয়েও আদালত মন্তব‍্য করেছে। আদালতের মন্তব‍্য, “এধরণের মন্তব‍্য আদালত অবমাননার শামিল। আইনের শাসন ও সাংবিধানিক শাসনের জন্য এটা হুমকিস্বরূপ। যারা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে, নিহত সাংবাদিক দম্পতির প্রতি তাদের কোনো সহানুভূতি নেই।”
আমি জানিনা আমার বক্তব‍্যও আদালতের চোখে আদালত অবমাননার শামিল কিনা! আদালত একটি যৌক্তিক প্রশ্ন তুলেছে বলে আমার বিশ্বাস। সেটা হলো আইনের শাসন ও সাংবিধানিক শাসনের কথা। কিন্তু দেশে সাংবিধানিক শাসন বা আইনের শাসন বলতে বাস্তবে কিছু আছে তা কী আদালত হলফ করে বলতে পারবে? দেশের প্রধান বিচারপতি কী রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পায় না। দেশে যদি সাংবিধানিক ও আইনের শাসনই থাকে তাহলে রাষ্ট্রীয় বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই দেশে বিনা বিচারে মানুষ হত‍্যা করছে কেন? আমাদের মনে পড়ে আদালত বিচার বহির্ূভত হত‍্যাকান্ড বন্ধে একটি রুল জারি করেছিল তারতো বাস্তবায়ন আজও হয়নি। কই আদালততো সেব‍্যাপারে নিরব! আজ সুন্দরবন ও বগুড়ায় পাঁচজন মানুষকে বিনাবিচারে হত‍্যা করেছে রাষ্ট্রীয় বাহিনী। তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ যে কোন যুদ্ধই নয় সরাসরি হত‍্যা তা কী আদালত অস্বীকার করতে পারবে? সরকারের পক্ষে কারও বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব নয় প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব‍্য কী সংবিধানের বরখেলাপ নয়, মাননীয় আদালত? আপনাদের ভাষা এবং মন্তব‍্য যদি সত‍্য বলে ধরে নেয়া হয় তাহলেতো বিএনপি-জামাত জোট আমলেও আজকের প্রধানমন্ত্রী একইভাবে বহু আদালত অবমাননা করেছেন! তারজন‍্য আপনারা, আদালত কী ব‍্যবস্থা নিয়েছেন তখন। আদালত, বিচারক হিসেবে আপনারা সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন, কোন দল বা সরকারের তাবেদারি করার জন‍্য নয়। আজ যদি আপনাদের (বিচারকদের) কারও কন‍্যা ও জামাতা কিংবা ছেলে ও পুত্রবধূ একইভাবে সাগর-রুনির মতো খুন হতো আর দেশের সরকারপ্রধান কারও বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব নয় বলে নিজের ব‍্যর্থতাকে ঢাকতে চাইতো তখন আপনারা একজন পিতা হিসেবে কী করতেন? এই প্রশ্নের সদৃত্তর আছে কী আপনাদের কাছে?
সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ডের পরবর্তী ঘটনায় প্রশাসন তথা সরকার কী ধূম্রজাল সৃষ্টি করেনি? সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ বা সরকার কী কোন নাটক করছে না? সরকার যে নাটক করছে তার পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি কী প্রমাণ করে না, মাননীয় আদালত? আপনাদের চোখ কী অন্ধ না বন্ধ? আপনারা কী দেখতে পাচ্ছেন না যে ২০০৪ সাল থেকে বাংলাদেশে ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার বা বন্দুকযুদ্ধের নামে বিনা বিচারে মানুষ হত‍্যা করার উৎসব চলছে? আপনারা কী এই বিচার বহির্ূভত হত‍্যাকান্ডকে দেশে বৈধ হিসেকে মেনে নিয়েছেন? যদি মেনেই নেন তবে দেশে আর কোন বিচারক, আইন, আদালত, সংবিধান, সরকার থাকার দরকারটাই বা কিসের? “আইনের শাসন আর সাংবিধানিক শাসন” বলে চিৎকার চেচামেচি সববাই করতে পারি, কিন্তু সেটাকে রক্ষার মহান দায়িত্ব নেয়ার শপথ নিয়েও যারা তা রক্ষা করি না তার বিচার কে করবে?
আজকাল বাংলাদেশে আদালত অবমাননা জুজুর ভয় দেখিয়ে মানুষের মত, আবেগ ও বাস্তবতাকে হত‍্যা করার একটা প্রবণতা লক্ষ‍্য করা যাচ্ছে! এভাবে হয়ত কোন বিশেষ সরকারের তাবেদারী, তোষামদী করা যায় কিন্তু সংবিধান ও আইনের শাসন রক্ষা করা যায় না! দেশের মানুষ চান শান্তি, আইনের শাসন চান তারা। আজকের দুনিয়ায় কোন মানুষ জংলি, অসভ‍্য, বর্বর ও হত‍্যা-খুনের মধ‍্যযুগীয় বর্বরযুগে ফিরে যেতে চান কী। আর আইনের শাসনহীন একটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে কখনো সভ‍্য সমাজ বা রাষ্ট্র বলা যায় না। সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের তদন্ত নিয়ে জনমনে যে সন্দেহ, সংশয় দেখা দিয়েছে তার জন‍্য সরকারই দায়ি। এটা দায়িত্ব নিয়ে আমরা বলতে পারি।
সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ড তদন্ত নিয়ে সরকারের পদক্ষেপে আদালত যতই সন্তুষ্ট থাকুক না কেন দেশের সিংহভাগ মানুষ এনিয়ে যে সন্তুষ্ট নয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। একথা বিশ্বাস না হলে সরকার বা আদালত দেশে একটি জরিপ চালাতে পারে। মাননীয় আদালত, সাগর-রুনির ছোট্র সন্তান মেঘের দিকে তাকিয়ে দেখুন অথবা মেঘের অবস্থানে নিজের সন্তানকে বসিয়ে দেখুন মনে কোন কষ্ট বা দাগ কাটে কিনা? শুধু সাগর-রুনি নয় সব হত‍্যা-নির্যাতনের ঘটনার রহস‍্য উন্মোচন, ন‍্যাবিচার প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই। সেটা কেউ যথাযথভাবে পালন করতে না পারলেতো আমাদের আদালত কোন রুল জারি করে না কোন সরকারের ওপর, কিন্তু কেন? ছবি-গুগল থেকে নেয়া।