Category Archives: Society

লজ্জ্বাহীন কাপুরুষের দল ধর্মদর্শন বোঝে না!

03-07-2016

জাহাঙ্গীর আকাশ ॥ আমি ক্ষুব্ধ। আমার করার কিছুই নেই। এজন্য নিজেকে বড় অসহায় মনে করি। ওরা অস্ত্রধারী। ধর্মকে ওরা ভুল ব্যাখ্যা করে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের খুন করলে ওরা নাকি “বেহেস্ত” এ যাবে। ওরে বোকার দল, তোরা জানিস না যে, পৃথিবীতে কোন ধর্মই মানুষ হত্যা অনুমোদন করে না। তোরা কেবল ধর্মকে ভুল ব্যাখ্যা করে এবং সন্ত্রাসের মাধ্যমে সবাইকে অশান্তির আগুনে ফেলছিস। একবারও কী ভেবেছিস যে, তোদের জন্মদাতা পিতা-মাতা, এবং তোদের স্বজনরাও এই আগুনে জ্বলে-পুড়ে মরছে?

শংকা ছিল ওরা আঘাত হানতে পারে আমাদের সোনার বাংলায়! রাজনীতিকরা ক্ষমতার স্বার্থে স্বীকার করুক বা নাই করুক, মনে হতো ওরা আছে সর্বত্র। আমার আশংকাই আজ কাঁদালো আমাদের সবাইকে। ১৬ কোটি মানুষ আজ শোকাহত। আমি হতবাক হইনি। কিন্তু আমার হ্রদয় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। আমার আর সহ্য হচ্ছে না এমন নৃশংসতা, বর্বরতা আর এতো কান্না।

ওরা কিভাবে বেড়ে ওঠলো, কারা ওদেরকে জন্ম দিলো, কিভাবে এই কাপুরুষের দল ফ্রাংকেনস্টাইনে পরিণত হলো, কেন আজ গোটা বিশ্বজুড়ে ওরা ওদের অমানবিক নৃশংসতার ডাল-পালা ছড়িয়ে দিচ্ছে? বোধকরি, এসব প্রশ্নের উত্তর সবার জানা। আর এসবের উত্তর খোঁজার জন্য আজ আমার “ডিজিটাল কলম” কম্পিউটারে লিখতে শুরু করেনি। আমার ক্রোধ, আমার ব্যথা, আমার কষ্ট, আমার যন্ত্রণা আমাকে তাড়িত করে বেড়াচ্ছে। আমি আজ উন্মাদ, আমার মন আজ অশান্ত! এই তাড়না, হ্রদয়ের রক্তক্ষরণ কমানো আর অশান্ত মনকে শান্ত রাখার ব্যর্থ প্রচেষ্টা থেকেই আমার এই নড়ে ওঠা।

প্রধানমন্ত্রি বলছেন, অপরাধীদের শেকড় খুঁজে বের করা হবে! আমরা কী তবে জানি না যে অপরাধীদের শেকড়টা কোথায়, নাকি গেটা বিশ্বের কাছেই এটা দিবালোকের মতো পরস্কার “জঙ্গি”দের কে সৃষ্টি করেছে, কোন স্বার্থে? বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রসহ বহু রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত একাধিক জোট ও সংস্থা জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা বা দমন করতে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু কোন ইতিবাচক ফল কি বিশ্ববাসী দেখতে পাচ্ছে?, এককথায় না। কার্যত রাজনৈতিক ও সামরিক উভয় ব্যবস্থাই সন্ত্রাসবাদকে দমন করতে পারছে না। এর কারণ কি বিশ্ববাসী জানে না? নিশ্চয়ই এটা পরিস্কার যে, বৈশ্বিক এই যুগে সব রাষ্ট্র, সব দেশের একটা “ব্যবসায়িক স্বার্থ” জড়িয়ে যাচ্ছে এই সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদকে খতম করার সত্যিকারের একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাবার প্রশ্নে! এর ফল হিসেব নৃশংসভাবে মানুষ হত্যার কলেবরটা বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। বিশ্বের কোন দেশটি আজ নিরাপদ, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ এর বাইরে, সেটাই একটা বড় প্রশ্ন আজ?

প্রাকৃতিক তেল, গ্যাস আর জ্বালানি আজ বিশ্ব রাজনীতির এক বড় হাতিয়ার। আর এই হাতিয়ার বা সম্পদ যেসব দেশে আছে তার প্রায় সব ক´টি দেশেই আত্মঘাতি বোমা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও হানাহানি অবিরামভাবে চলছে। এর সাথে আছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এক উন্মত্ত নেশা। এই ক্মতার নেশাকে পাকাপোক্ত করতে গিয়ে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ তাদের অবস্থানকে সংহত করছে প্রতিনিয়ত।

কাজেই দেশে কোন “জঙ্গি” বা “আইএস” নেই এমনটা বলে দায় এড়ানোর কোন সুযোগই নেই। মানুষের আজ বদ্ধ ধারণা যে, সরকার যতই বলুক ওরা নেই, এদেশেরই মদদদাতারা এসব করাচ্ছে, এমনটা করে কেবল সন্ত্রাসীরাই আস্কারা পাবে তাদের জালটাকে বর্ধিত করার! গুলশানের পৈশাচিক বর্বরতার ঘটনার মধ্য দিয়ে একটা বিষয় এখন পরিস্কার যে, ওরা এখন আমাদের সোনার বাংলায় তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

দুই রাত ধরে ঘুমোতে পারছি না। স্বদেশের মাটি ছেড়ে আছি বহুদূরে। নিজের তাগিদে বা ইচ্ছায় দেশ ছাড়িনি। দেশের মাটিতে শরীরটা নেই বটে, তবে হ্রদয়টা আমার পড়ে আছে সেখানেই। আশা করেছিলাম, এবার বোধহয় রাজনীতির চোখ খুলবে স্বদেশে। ঘটনার পরপরই রাজনীতিকদের কথাবার্তা এবং ভাষণ-বক্তৃতায় তেমনই একটা আশা জন্ম নেয়। কিন্তু সময় যতই গড়াতে থাকলো, আমার আশাগুলিও নিরাশার অতল তলে হারিয়ে যেতে বসলো। কথায় বলে, “কুকুরের লেজকে যতই সোজা করে টেনে ধরি না কেন তা ছেড়ে দেয়ার সাথে সাথেই বাঁকা হয়ে যায়”! না, আমার দেশের রাজনীতিকরা কুকুর নন। কিন্তু এই রাজনীতিকরা (সবাই নন, অধিকাংশই…) সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটামাত্রই তার দায় একে অন্যের ওপর চাপানোর একটা প্রতিযোগিতায় নামেন।

এবারের ভয়ংকর বর্বরতার ঘটনাটির পরে রাজনীতিকরা দেশের স্বার্থে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় না দিয়ে দেশের মানুষের জন্য, দেশের স্বার্থকে মাথায় নিয়ে দেশের ভাবমূর্তিকে ধরে রাখে একযোগে কাজ করবেন, বলে মনে একটা স্বপ্ন বুনেছিলাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন ভেঙ্গে চুরমার তে চলেছে। রাজনীতিরা তাদের সেই পুরনে “বদঅভ্যাস” এ ফিরে যেতে বসেছেন। তারা এখন পরস্পরকে দোষারোপ করতে উঠে-পড়ে লেগেছেন।

এই যে “দোষারোপের রাজনৈতিক সংস্কৃতি” তা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে কী আমার আমাদের রাজনীতিকরা সোনার বাংলাকে বাঁচাতে পারবে? নাকি স্বদেশের ভুমিকেও সন্ত্রাস- জঙ্গিবাদের উর্বরমাটি বানানোতে এই “দোষারোপের সংস্কৃতি” সহায়কের ভূমিকা পালন করছে?

পুলিশের মহাপরিদর্শক বললেন, হামলাকারীরা (নিহত পাঁচজন) সবাই জেমএবি। আমরা জানি, এই জেমএবি যখন বাংলাদেশে তাদের জঙ্গি কার্যক্রম চালাতে শুরু করে বিএনপি-জামাতের শাসনামলে তখনই খবর বেরয়েছে যে এই জঙ্গিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক আছে। কিন্তু তারপরও সরকার দেশে জঙ্গি নেই বলে সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জঙ্গিরা যে এতোবড় একটা হামলার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেনি তার কি সার্টিফিকেট আছে সরকারের কাছে?

ঘটনার পর দেশের প্রধান তাঁর ভাষণে বলেছিলেন যে, এই হত্যাকান্ড ও সন্ত্রাসী হামলা ধারাবাহিক জঙ্গি হামলারই অংশ! সবমিলিয়ে এটা এখন আর বলার কোন অবকাশ আছে কি যে, আমাদের সোনার বাংলায় “আইএস” নেই! জঙ্গিরা, সন্ত্রাসীরা, হামলাকারীরা যেই হোক না কেন, দেশের মানুষের অধিকার আছে ওদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানার। শুধু আকাশ, বিকাশ, ডন, বাঁধন আর রিপন বলেই সব পরিচয় বলা হয় না। এমন নামে আরও অনেক মানুষ আছেন, তারাও কিন্তু সামাজিকভাবে হেয় হতে পারে, যদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী হামলাকারি দুর্বৃত্তদের পুরো পরিচয় প্রকাশ না করে।

একজন মন্ত্রি বললেন, জঙ্গিরা খালেদার পাশে বসে থাকে। জামা-শিবির, যুদ্ধাপরাধীদের বিএনপি আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পাশে আছে বটে, আইএস কিন্তু থালেদার পাশে বসে থাকে না। আর খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি সাফ জানিয়ে দিলেন যে, গুলশান হামলার সঙ্গে আইএস জড়িত নয়! খালেদা জিয়া যখন বললেন, সন্ত্রাস-জঙ্গি দমনে জাতীয় ঐক্যের কথা জানালেন, তখন আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ বললেন, খালেদাকে আগে মাফ চাইতে হবে!

ওদিকে মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছে যে, জীবীত যাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে তারা এখনো ছাড়া পাননি, আছেন জিজ্ঞাসাবাদের ভেতর। যেসব মানুষ জীবীত উদ্ধার হয়েছে তারা সবাই যে নৃশংসতা ও বর্বরতা স্বচোখে দেখেছে। এমন একটা নৃশংসতা যে চোখে অবলোকন করে অস্ত্রের মুখে জিম্ম অবস্থায় তার যে ট্রমা সৃষ্টি হয় তার থেকে বেরিয়ে আসাটা খুব সহজ নয়। এই অবস্থায় তারা এখন আবার জিজ্ঞাসাবাদের ঝক্কির মধ্যে পড়ে গেলো। এসব মানুষের এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি প্রয়োজন, সেই ট্রমা থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে সহায়তা করা। নইলে এসব মানুষ জীবনে এই ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। মানুষগুলিকে পরেও জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতো।

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ খালেদার জাতীয় ঐক্যের আহবানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। শুলশানের এতবড় বীভৎসতার ঘটনায় যেখানে আইএস তার সাইটে সরকারের ডেথসংখ্যার পরিস্যখ্যান প্রকাশের আগেই পরিস্কার করে জানিয়েছে কতজনকে তাদের “কমান্ডো” রা হত্যা করেছে, সেখানে হানিফ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন যে, বাংলাদেশ আইএস-আল-কায়দার কোন অস্তিত্ব নেই। যারা এসব সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা জামাত-শিবিরের সন্ত্রাসী এবং তারাই বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে সন্ত্রাস চালিয়ে সরকারকে বিবৃত করে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র করছে।

একজন প্রবীণ সাংবাদিক (আওয়ামী সমর্থক) মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছেন, জামাত-শিবিরের লোকেরা কৌশলে আওয়ামী লীগে ঢুকছে এবং আওয়ামী লীগের বদনাম করছে। মিডিয়ার খবরে দেখা যায়, যৌথবাহিনীর অভিযানে গুলশান জিম্মি অবসান ঘটে। এই অভিযানে ৬ জঙ্গি নিহত, ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ ৫ জন নিহত মানুষের ছবি ও সংক্ষিপ্ত নাম মিডিয়ায় পাঠায়, যাদেরকে চিহ্নিত করা হয় হামলাকারি হিসেবে। পুলিশ যাদের ছবি পাঠিয়েছে হামলাকারি হিসেবে তাদের মধ্যে একজনকে ক্যাফের পাচক যার নাম সাইফুল বলে দাবি করেছে তার পরিবার। আইএসের সাইটেও এই লাশের সঙ্গে মিলে এমন কোন ছবি দেখা যায়নি বলে অনেকেই বলছে। জিম্মিউদ্ধার অভিযানে ৬ জন নিহত হবার খবর জানানো হলেও পুলিশ ৫ টি লাশের ছবি প্রকাশ করলো কেন? এই প্রশ্নটি এখন নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে।

অনেকে মনে করছে, জঙ্গিরা বাংলাদেশে একটা আতংক ও ভীতিকর অবস্থা তৈরী এবং তাদের উপস্থিতি জানান দিতেই দেশের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গাটিকেই তারা তাদের হামলার টার্গেটে নেয়। জঙ্গিরা তাদের টার্গট পুর্ণ করতে সাময়িক হলেও সফল হয়েছে বলেও অনেক বিশ্লষক মনে করছে।
শুধু অস্তিত্ব নেই, ওরা করেনি, এটা দেশীয় ষড়যন্ত্রকারীদের কাজ বলে সবকিছু চালিয়ে দেয়াটা ববোধহয় কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা এখন ভাবার সময়। আর যা বলছেন তার একটা সুস্পষ্ট প্রমাণ ও তথ্য থাকা চাই, নইলে মানুষ এমন গতানুগতিক কথায় আস্থা পাবে না। এই দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মানুষ আশা করে সরকার এই বীভিষীকাময় হামলার ব্যাপারে প্রতিপক্ষ ঘায়েল নয় বরং প্রকৃত সত্য উৎঘাটন করে এমন জঘন্য ঘটনা যাতে আর না ঘটতে পারে সেদিকটাতেই গুরুত্ব দেবে।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে, এবং বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। যে সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে এবং চলছে তারা সকলেই স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য। বাহাত্তরের মূল সংবিধান অনুযায়ী এসব যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দল দেশে রাজনীতি করার কোন অধিকারই পাওয়ার কথা না। কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের গণহত্যা এবং জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশে রাজনীতি করার সুযোগ পায়। মানুষের প্রত্যাশা ছিল মুক্তিযুদ্ধের নের্তৃত্বদানকারি রাজনৈতিক দলটি দেশে বাহাত্তরের মূল সংবিধানকে পুনর্বহাল করে দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ ও সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম প্রথা বিলোপ করে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে সামনে এগিয়ে নেবে। কিন্তু এই দলটি ও তাদের জোট দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকলেও সেটি করেনি। অনেকে মনে করে, বাহাত্তরের মূল সংবিধানকে পুনর্বহালের ক্ষেত্রে এই রাজনৈতিক দোদুল্যমানতা দেশে জঙ্গিবাদকে বিকশিত হতে খানিকটা হলেও সহায়তা করেছে। বাহাত্তরের মূল সংবিধান প্রশ্নে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের অবস্থান এখনও পরিস্কার নয় বলে অনেকে দাবি।

পরিশেষে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১৭ বিদেশী ও তিন বাংলাদেশী এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তার আত্মার শান্তি প্রত্যাশা করছি। একই সাথে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আমরা আশা করি তদন্তকারি দলগুলি গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন এক জঙ্গি এবং জিম্মি অবস্থা থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে ঘটনার পেছনের প্রকৃত ইতিহাসটাকে জানতে পারবে এবং দেশ ও বিশ্ববাসির সামনে সেটা পরিস্কার করবে।

সবশেষে আমি বলবো যেসব মানুষ ধর্মকে অবমাননা করে, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গিবাদের দীক্ষা নিয়ে মানুষ হত্যা করে তথাকথিত “খিলাফত” প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা আসলে “ইসলাম” এবং অন্য যেকোন ধর্মেরই শত্রু। এরা অমানবিক, মুর্খ এবং কাপুরুষ। এদের অবস্থান হবে নিশ্চিত “দোজখ” এ (যদি বেহেস্ত-দোজখ বলে কিছু থাকে আসলে!!!

 

দুর্ভাগা স্বদেশ, কাপুরুষদের ঔদ্ধত্ত আর সংসদে প্লটরাজনীতি!

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। প্রতিজ্ঞ করেছিলাম জন্মভূমির রাজনীতি নিয়ে আর কখনও লিখবো না। আমি সাধারণত শপথ ভাঙতে অভ্যস্ত নই। কিন্তু এবার আমি নেহায়তই নিরুপায় হয়ে ওয়াদার বরখেলাপ করতে বাধ্য হচ্ছি। আমি জানি আমার এই লেখা কারও একটি পশমও নাড়াতে পারবে না। তবুও মনকে প্রবোধ দেবার জন্যই লিখছি। আমার মায়ের ভূমিতে একের পর এক নিষ্ঠুর ও র্ববরতম ঘটনাগুলি ঘটেই চলেছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু শিক্ষককে দুর্বৃত্তরা কান ধরে ওঠবস ও নির্যাতন করা হলো। অনেক ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে নির্যাতন সইতে হচ্ছে, কাউকে কাউকে প্রাণেও মারা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে র্নিমমভাবে হত্যা করছে ওরা।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে সংঘটিত কয়েকজন বিদেশী হত্যা, লেখক-প্রকাশক ও উন্নয়নকর্মী হত্যা, একের পর এক ব্লগার হত্যাসহ নির্বিচারে ঘটে যাওয়া বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডগুলি নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনা, তর্ক চলছে। দেশব্যাপি পুলিশের সাড়াঁশি অভিযানের মধ্যেই খুন-খারাবি, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। সরকার যখন যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতার ও বিচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এটা ভাবার কোন কারণ নেই যে ওরা (একাত্তরের ঘাতক শক্তি) বসে থাকবে! ওরা পাল্টা মরণ ছোবল দেয়ার প্রচেষ্টা চালাবে, এটাই স্বাভাবিক নয় কী?

ধর্মীয় পুরোহিত, আউল-বাউল, আদিবাসী কেউ বাদ পড়ছে না, সব শ্রেণীর মানুষই খুন হচ্ছে। বেছে বেছে এমন সব হত্যাকান্ড ঘটানো হচ্ছে, যেগুলি স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে উঠে আন্তর্জাতিকমহলে।  “ধরি মাছ না ছুঁই পানি” এমন আচরণ কল্যাণ নয়, বরং সর্বনাশ ডেকে আনবে। বরং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান পরিস্কার থাকলেই সরকার জনগণের সমর্থন পাবে। কিন্ত সন্ত্রাস দমনের নামে যাকে তাকে ধরে গুলি করে হত্যা, তথাকথিত “বন্দুকযুদ্ধ” এসব ওষুধে সত্যিকারের সন্ত্রাস দমন হবে না। বরং সমালোচনার লাইনটাকেই বর্ধিত করতে সহায়তা করা হবে, যা নিজের পায়ে কুড়াল মারার শামিল।

বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের সমালোচনা ইতোমধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান, স্বৈরশাসক, তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেস্টা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছ থেকে এসেছে। খোদ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানও এসব “আইন বহির্ভূত হত্যাকান্ডের সমালোচনায় মুখর।

সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিদের ধরা হলো না আজও। খুনিদের ধরার ব্যাপারে দ্বিধাবিভক্ত সাংবাদিক সমাজও আর নড়ে-চড়ে না। আসলে সবইতো হয় ব্যবসা নয় রাজনীতি, কোথায় পেশাদারিত্ব, কোথায় স্বচ্ছতা আর সততা, ঐক্য? রাজনীতির এমন ভয়াবহ দুর্বৃত্তায়ন ঘটেছে যে, স্বার্থের বেলায় সবাই চুপ। মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছে যে, প্লট এবং অ্যাপার্টমেন্ট পাবার আশ্বাসের পর সংসদ সদস্যগণ শান্ত হলেন সংসদে। কী দারুণ রাজনীতি আমাদের! দেশের মানুষের মাথায় ছাদ থাকুক আর নাই থাকুক সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি এবং সরকারি প্লট চাই-ই চাই।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি যদি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ থাকে আমাদের রাজনীতিকদের তাহলে তারা নিজের আরাম-আয়েশের কথা নয়, জনগণের নিরাপত্তা এবং সুখ-শান্তির চিন্তাটাকে আগে অগ্রাধিকার দিতো। কী দুর্ভাগা স্বদেশ আমার! আমি মহান সংসদের কাছে জনগণের পক্ষ নিয়ে জোর গলায় বলছি, অনুগ্রহ করে সংসদ সদস্যদেরকে প্লট বা অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দেবার আগে নিশ্চিত করুন যে, ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যেকেই একটি করে প্লট পাবে। নইলে দুনিয়াতেই আপনাদের বিচার হবে একদিন, আর এই বিচার করবে প্রকৃতি!

লজ্জায় আমার মাথা নত হয়ে গেলো এই বিদেশভুমে থেকেও। কেন? বিডিনিউজ২৪ লিখেছে, “তনুর বাবা নজরবন্দি”। আর কত অমানবিকতা, নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা, জালিমতা, জাহেলিপনা চলবে আমার স্বদেশে! হে প্রকৃতি, দেখাও তুমি তোমার শক্তি, যাতে ওই ঘাতক, কাপুরুষের দল, খুনি-মদমায়েশ, দুর্বৃত্তদল পরাভূত হয়। সাগর-রুনির খুনের ঘটনায় যে নাটক তার ধারাবাহিকতায় আজ মঞ্চস্থ হচ্ছে আমার বোন তনুর খুনিদের রক্ষার নতুন নাটক। হে প্রকৃতি, ওঠাও তোমার মানবতার, ন্যায়বিচারের “তলোয়ার”, কেটে কুচি কুচি কর ওই জালেমদের শয়তানির প্রাসাদ! নইলে যে আমার স্বদেশ কাঁদবে চিরকাল!
আমি বিখ্যাত কোন মানুষ নই, একজন অতি নগন্য সাধারণ মানুষ। স্বদেশের জন্য মন কাঁদে, হ্রদয়জুড়ে বেদনা আর কষ্ট। তবুও আশা করি, স্বদেশ আমার একদিন মাথা তুলে দাঁড়াবে সব অপরাধ, অপরাধী, দুর্বৃত্ত, দুর্নীতিবাজ আর কলংকটে পায়ের নিচে দলিত করে! আমি জানি এ এক কঠিন লড়াই, তবুও আশা নিয়ে বাঁচি আমি সারাক্ষণ। জয় হবে মানুষেরই।

 

“চ” এর পরে এলো পরিবার ও ব্যক্তিগত বিষয়ে বাড়াবাড়ি।। কোথায় যাচ্ছে স্বদেশ?

Cartoon-fra google

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। স্বদেশে এখন শুরু হয়েছে নতুন খেলা। সংসদে “চ” অক্ষরের ব্যবহার নিয়ে তুলকালাম, মনে হয় যেন সিডর উঠেছে বাংলার ব্লগার, ফেসবুকারদের মাঝে! হেলাল হাফজ, ইমদাদুল হক মিলনসহ অনেক লেখকের রচনাতেও ওই “চ” শব্দ নিয়ে বহু শব্দ যেগুলিকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখা হয়, যদিও গ্রাম-বাংলার ঘরে ঘরে এমনকি তথাকথিত অনেক শিক্ষিত ভদ্রলোকের মুখেও এমন শব্দ শোনা যায়। এই “চ”ফোবিয়া শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে গেলো কে কোন ধর্মের মেয়েকে বা ছেলেকে বিয়ে করেছে, কার মা কোথা থেকে এসেছে-এমনসব বাজে আলোচনা, কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা চলছে পরস্পরের বিরুদ্ধে।

আমার প্রশ্ন হলো পরস্পরবিরোধী গালিগালাজ, দোষারোপের পালা আর অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি ছাড়া আমাদের ক্ষমতাপিপাসু দলগুলি বা তাদের সমর্থকেরা কী আর কোন ভালো ও মুক্ত, সাদা চিন্তা করতে পারে না, নাকি এরা সবাই জ্ঞানপাপী হয়ে গেছে? ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাস একেবারেই মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়। পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, পরোপকার আর দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার চেয়ে জয় কাকে কোন ধর্মের মানুষকে বিয়ে করলেন, কিংবা খালেদার মা কোন পারিবারিক ইতাহাস থেকে উঠে এসেছেন সেগুলি বড়! আসলে দেশের মানুষের নূ্যনতম মঙ্গল চাইলে কেউ এভাবে মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন-যাপন নিয়ে এভাবে নগ্ন আলোচনা বা সমালোচনার পথে অগ্রসর হতো বলে আমার মনে হয় না। আসলে এরাতো দেশকে, দেশের মানুষকে কেউ ভালো বাসে কিনা সেটা নিয়েই সন্দেহ আমার!

দেশে এখন কে কতবড় আস্তিক কিংবা নাস্তিক কিংবা কে কতবড় মুসলমান আর ইসলামিক তাই নিয়ে চলছে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ! কিন্তু দেশের মানুষের জন্য কে কত বেশি কল্যাণ করতে পেরেছে বা পারবে বা পারছে কিংবা কে কত বেশি দুর্নীতি করেছে, মানুষের টাকা লুটপাট করে নিজেদের স্বর্গ গড়ে তুলেছে তা নিয়ে কেউ উচ্চবাচ্য করে না আমাদের দলবাজ  তথাকথিত শিক্ষিতরা। কেউ কেউ আবার বিশেষ বছর ও রেজিমের হত্যা-নির্যাতনের খতিয়ানতুলে ধরে লেখালেখি করছে। কিন্তু দেশে র্মীয় সংখ্যালঘুরা যে সবসময় সব আমলেই মার খাচ্ছেন নির্বিচারে, অন্যায়ভাবে তার কোন সর্বজনীন চিত্র কারও লেখায় পাওয়া যায় না। শত্রুসম্পত্তি বা অর্পিত সম্পত্তি বলে বা দেখিয়ে শত্রুরা যখন তা দখল করে থাকে সেই শত্রু সম্পত্তি আসল মানুষ বা মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে “চ” (“চ” দিয়ে সংসদে প্রথম পর্যায়ে যে শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের মুখে তার মানে হলো, টালবাহানা) করছে সরকার তাদের মেয়াদের প্রায় পুরোটা সময়জুড়েই তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। আবার তিন ধর্মের নাম দিয়ে গড়ে তোলা একটা ঐক্যবদ্ধ সংগঠন আছে তারাও এখন মুখে কুলুপ এঁটেছে! বিশ্বজিতকেই মারা হোক, বা পুলিশের মাথাই থেতলে দেয়া হোক কিংবা জামাত-শিবিরই কারও হাত-পায়ের রগ কাটুক অথবা হেফাজতের কৌশলী কোন ষড়যন্ত্রের কারণে মাদ্রাসায় পড়ুয়া গরীবঘরের বা এতিম কোন সন্তানই নিহত হোক বা এলিটফোর্সের মিথ্যা ক্রসফায়ারে পড়ে নিহত হোক, হত্যা-নির্যাতনকে কোনভাবেই বরদাশত করা মানেই তা মানবতার বিপক্ষেই যায়। সেটা যে অজুহাতেই করা হোক না কেন হত্যা হত্যাই। এটাকে সমর্থন করা মানে সেটা বুঝতে আর কোন সমস্যা নেই যে যে বা যিনি সমর্থন করছেন সে বা তিনি আসলে খুনি বা নির্যাতনকারির পক্ষেই সাফাই গাইছেন। হত্যা-নির্যাতনের পক্ষাবলম্বন করামানেই অসভ্যতা, বর্বরতা।

সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিদের ধরা হচ্ছে না সেটা নিয়েও কেউ কথা বলে না (ব্যতিক্রম আছে, সেটা উদাহরণ হিসেবে দিতে পারবো না)। মানুষ গুম হয়ে যাবার পর আর কোন হদিস পাওয়া যায় না এমনকি লাশটারও সন্ধান পাবে না তার পরিবার তা নিয়ে কথা বলছে না কেউ, না হেফাজত, না আওয়ামী লীগ, না ব্লগার, না গণজাগরণ মঞ্চ এমনকি বিএনপিও না! কেউ খুনি বা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই কী তাকে মেরে ফেলতে হবে বা গুম করে দিতে পারে রাষ্ট্র? এটা একমাত্র জংলি সমাজেই করা সম্ভব। নরওয়েতে আনডেয়ার্স বে্রইভিক নামে এক যুবক ৭৭ জন নরওয়েজিয়ানকে হত্যা করেছে, কিন্তু তাকে খুন করেনি নরওয়ের পুলিশ, তার পরিবারের ওপরও কোন আক্রমণ করেনি কেউ, তার বাড়িঢ়রেও কেউ আগুন দেয়নি। তবে সরকার তার বিচার করেছে, তাও মৃত্যুদন্ড নয় (মৃতু্যদন্ড অমানবিক তাই এই সমাজে এটা চলবে না), ব্রেইভিক এখন কারাগারে। কারও মুখে ব্রেইভিক বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোন কথা শুনতে পারবেন না। কিন্তু এমনটা যদি আমার স্বদেশে কেউ ঘটাতে, ভাবুনতো একবার কী ম্যাসাকারটাই না ঘটে যেতো তার পরিবারের ওপর, বাড়িঘরের ওপর যে এমন হত্যাকান্ড ঘটাতো! আসলে আইনের শাসনের কার্যকারিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারা, মিডিয়া তার স্বাধীনতা নিয়ে জেগে আছে এমনটা যে সমাজ ও রাষ্ট্র দেখা যায় না সেই সমাজ ও রাষ্ট্র কে কী সভ্য, গণতান্ত্রিক বলা যায় কখনও?

মানুষ, মানবতা আর মানবসেবার চেয়ে ইহুদি, খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান, আদিবাসির পরিচয় কী কখনও বড় হতে পারে? আসলে যারা এই ধর্ম, পরিবার আর ব্যক্তিগত বিষয়গুলি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে পছন্দ করি তারা আসলে মানুষের কোন পর্যায়ে পড়ি কিনা সেই প্রশ্নটা আমার নিজেকেই করতে ইচ্ছে হচ্ছে? কাটর্ুন এই ছবিটি গুগল থেকে সংগৃহীত।

কার স্বার্থে ধর্মান্ধদের কাছে পূর্ণ নতি স্বীকার?

sangbad-21-8-2009-democracy-peace1

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। মৌলবাদিদের কাছে হাসিনা এবং তাঁর মহাজোট সরকার আজকে যে নতজানু ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে তারজন্য বহুলাংশে আওয়ামীপন্থি বুদ্ধিজীবী ও সুশিলদের ভূমিকাও আছে। কারণ এই গোষ্ঠীটি (সবাই নয়) সামান্য কিছু পদ-পদবি বা সুবিধার আশায় কারণে অকারণে স্তুতি করে সরকারকে আকের র্পযায়ে নিয়ে গেছে। হাসিনা ও মহাজোট সরকারপন্থি মিডিয়াসহ এই গোষ্ঠীটি দেশে কিছু ঘটলেই প্রথমে হোঁচট খায় বিরোধীদের প্রতি অভিযোগের তীরটা খড়া করে দিয়ে। তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বিচারের আগেই রায় ঘোষণা করে দেয় এই সুবিধাবাদি-স্বার্থান্ধচক্র। আর যার কারণে হাসিনা ও তার মহাজোট সরকার আজ ধর্মান্ধদের (যারা প্রকৃত অর্থে ধার্মিকও নন, ইসলামিও নন, মূলত: ধর্ম ব্যবসায়ি এরা) কাছে পূর্ণ নতি স্বীকার করে ফেলেছে। তারা মনে করছে ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করার মধ্য দিয়েই পনরায় ক্ষমতারোহণ করা সহজ হবে! কিন্তু এমন ফালতু ধারণা যে হাসিনা ও মহাজোট সরকারের জন্য বুমেরাং হবে তা সময়ই বলে দেবে! হাসিনা ও মহাজোট সরকারের নতজানুতার কারণে আজ রাজপথে জামাত-শিবিরের হাতে পুলিশের কবজি উড়ছে, মাধা থেতলে যাচ্ছে, পুড়ছে গাড়ি-বাড়ি, জনসম্পদ, মরছে মানুষ (জামাত-শিবির, বিএনপি, আওয়ামী লীগ, বাম, সাধারণ মানুষ, সবাই) সর্বোপরি বিনষ্ট হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। আর গণতন্ত্র নামে যেটুকু ছিল তার নিশানাটুকুও বোধহয় এবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকার রাজনীতিতে যেভাবে ধর্মকে ব্যবহার করার পথে হাটতে শুরু করেছে তার মধ্য দিয়ে।
আর যারা নিজেকে নাস্তিক বলে দাবি করে এবং কোন ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করে তারাও কিন্তু আস্তিকই বটে। কারণ তারা একটা কিছুকে তো বিশ্বাস করছেই সেটা প্রকৃতিবাদি হোক আর অন্য যে নামেই হোক না কেন। কেউ যদি বস্তুকে, বাস্তববাদকে বিশ্বাস করে সেটাওতো একধরণের আস্তিক্যবাদ! আর মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে আক্রমণ করার কোন মানে হয় না। বরং মানুষের কর্মের সমালোচনা করাটাই হলো জ্ঞানী বা বুদ্ধিমানের কাজ। কে আস্তিক, কে নাস্তিক সেটার চেয়ে কে কী করছে তার মূল্যায়ণটাই মুখ্য বলে মনে করি আমি।
যাহোক মতপ্রকাশের কারণে আর শাহবাগ আন্দোলনে যুক্ততার কারণেই তিন ব্লগারকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে বলেই প্রতিভাত হচ্ছে। অথচ সরকার সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার করে না, নারায়ণগঞ্জে ত্বকীর খুনিদের আশ্রয় দেয়, বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করে। আর রাজপথে সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়াও ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে সরকার দৃঢ় হতে ভয় পায়। কিন্তু কেন? কারণ সরকার হয়তো তলে তলে সেই স্বাধীনতা-বিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের সাথে নির্বাচনি আঁতাত করে রেখেছে? আর বাইরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিচার খেলা খেলছে তাদের সরকারের মেয়াদের শেষ কিনারায় এসে। পরে হয়ত ধোয়া তুলবে এই বলে যে আমরা তো চেষ্টা করেছি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার, কিন্তু তারা দেশটাকে জাহান্নাম বানিয়ে দিয়েছিল, তাই পারিনি। আমাদের আরেকবার ক্ষমতায় বসান, এবার বিচার করেই ছাড়বো! সতি্য যদি এমন কোন ষড়যন্ত্র বা গোপন সমঝোতা হয়ে থকে তবে তা জাতির জন্য একটা কলংকময় অধ্যায় রচিত হবার পথে স্বদেশ!
বাংলাদেশকে বাঁচাতে পারে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, সাম্প্রদায়িকতা হৃদয়ে লালন করে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে “রুখে দাঁড়াও” বললেই তাদের রোখা যায় না। এই বিষাক্ত শক্তিকে দমন বা প্রতিহত করতে চাইলে চাই রাজনৈতিক কমিটমেন্ট, যেখানে ভোটের অংক মাথায় রাখলে চলবে না। আর একটা কথা বলা দরকার, সেটা হলো বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। আর সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প ছড়ায় গুটিকতক জ্ঞানপাপী বা ধর্ম নিয়ে যাদের কোন জ্ঞান নেই তারাই, যাদের নৃশংসতা, বর্বরতা, হত্যা-খুন আর জ্বালাও-পোড়াওয়ের কারণে দেশের মানুষ আজ দিশেহারা।
মতপ্রকাশকারি ব্লগারদের নয় যারা হত্যা, খুন, জ্বালাও-পোড়াও ও দেশকে নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে তাদের গ্রেফতার করে বিরুদ্ধে এবং সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচার ও শাস্তি প্রদানই পারে বাংলাদেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে! ব্লগারদের ছেড়ে দিন, যে উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর কাছে আত্মসমর্পণ করে দেশটাকে পাকিস্তান বা আফগানিস্তান বানানোর এক জঘন্য কৌশলের পথে সরকার হাঁটছে সেই পথ থেকে সরকারকে সরে দাঁড়াতে হবে, যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারলেই কেবল আওয়ামী লীগ আগামিতে পুননির্বাচিত হতে পারবে অবলীলায়। কিন্তু জঙ্গিদের সঙ্গে কোন আঁতাত আর যাইহোক আওয়ামী লীগের জন্য কোন সুফল বয়ে আনতে পারবে না কোনদিনও। এই সত্যটা হাসিনা ও তাঁর সরকার এবং এই সরকারের সুবিধাভোগী সুশিল, মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীগং যত দ্রুত অনুধাবন করতে সক্ষম হবে ততই দেশের মঙ্গল।
যারা দেশটাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়ি ছাড়া করছে, মানূষ হত্যা করছে, পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিচ্ছে, পুলিশের হাতের কবজি উড়িয়ে দিচ্ছে কিংবা মাথা থেতলিয়ে দিচ্ছে তাদের গ্রেফতার করার চেয়ে কী যারা ব্লগ লিখছে তাদের গ্রেফতার করাটাই জরুরি?
এমন এক অরাজক পরিস্থিতিতে কে বাঁচাবে আমার স্বদেশভূমি, মাতৃভূমি বাংলাদেশকে?

অসহিষ্ণু গণতন্ত্র: সংলাপ ও সামরিক হস্তক্ষেপ ভাবনা!

sangbad-31-7-2009-hrc-politics

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। যেখানে গণতন্ত্র থাকে সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপে তার ক্ষতি হয়। আর যেখানে গণতন্ত্রের নামে ব‍‍্যক্তি, দল বা বিশেষ পরিবারের শাসন চলে সেখানে সামরিক কিংবা সাম্রাজ‍্যবাদি কিংবা জঙ্গি হস্তক্ষেপ তাতে  জনগণের কী আসে যায়? সাধারণ মানুষ খালেদা-নিজামীর গণতন্ত্রের সময়ে যেমন নির্যাতিত ঠিক তেমনিভাবে হাসিনা-ইনু-মেনন-বড়ুয়াদের গণতন্ত্রের আমলেও মার খায়!

 

ফারাকতো একটা আছেই, আর তা হলো খালেদা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চান, হাসিনা স্বৈরাচারকে সাথে নিয়ে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করেন। সবার উপরে ক্ষমতা সত্য তাহার উপরে নাই! দুর্নীতি, দলীয়করণ, সংখ‍্যালঘু নির্যাতন কার আমলে ছিল না বা নেই? গণতন্ত্রটা কেবল হাসিনা খালেদা এই দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে তাদের স্তুতি গাওয়া নয়, গণতন্ত্র কিন্তু পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা, সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষার কী কোন চিহ্ন দেখা যায় বাংলাদেশের গণতন্ত্রে?

রেডিও র্জামান ডয়েচেভেলের এক রিপের্াটে সামরিক হস্তক্ষেপ বিষয়ে একটি রিপের্াট নিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল ফেইসবুকে। তারই প্রতিক্রিয়ায় উপরোল্লিখিত প্রতিক্রিয়া আমার। আজ আবার তারা লিখেছে যে,  বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংলাপ ছাড়া সমাধান নেই৷ আপনার কি মত?

আমার মত পরিস্কার। আমি বলবো-এই সংলাপ জিনিসটা আসলে কী? বাংলাদেশে কী সংলাপ কোন শান্তি আনে, অতীতে তার কদযর্ রুপটিই বারবার ধরা পড়েছে মানুষের চোখে। ওখানে যতক্ষণ পর্যন্ত ব‍্যক্তি হাসিনা ও খালেদার মনোজগত পরিচ্ছন্ন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই দুই “মহামানবী”র পক্ষে অথবা বিপক্ষে সুশিল-কুশিল সবাই বিভক্ত হয়ে থাকবে! আর যেখানে অন্ধ দলপ্রীতি, ব‍্যক্তিতন্ত্র সেখানে আর যাই হোক সংলাপে কোন সমাধান মিলবে না। সহনশীলতা ছাড়া সংলাপ সফলতায় আসে না।

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেয়াটাই কী জরুরি?

Bangladesh

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশ নামক ফুল ও বাগানটি যাদের হাত থেকে বাঁচানোর জন‍্য বাঙালি লড়েছিলেন সেইসব ঘাতকদের হাতেই পড়ছে বাগান ও ফুল পরিচচর্ার ভার। বিচার ছাড়া কিছু চাওয়ার নেই। তবে হাতেগোনা ক’জনের প্রতীকী বিচার নয় সব যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, ঘাতকের বিচার চাই যারা তিন মিলিয়ন বাঙালি হত‍্যা ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম লুট করেছিল এবং পাকিদের সহায়তা করেছিল তাদের বিচারের পাশাপাশি দেশ থেকে দুনীর্তি, দলীয়করণ ও পরিবারতন্ত্রের কবর রচিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলার আকাশে শান্তির পায়রা উড়বে না। সেইজন‍্য চাই চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের একটা স্বপ্ন জাগানিয়া জাগরণ শাহবাগে সূচিত হয়েছে। এই শুভ আলোয় যেন কেউ কালিমালেপনের সুযোগ না নেয় তারজন‍্য সরকারের দৃঢ়তা আশা করে জাতি। ইতোমধে‍্য ব্লগার শোভনকে হত‍্যা করেছে পুরনো শকুনরা। আমার, আমাদের বণর্মালায় আগুন দেয়া হয়েছে। অহংকারের পতাকার অবমাননা করছে ওরা।

ঘাতক যুদ্ধাপরাধীরা জগদ্দল পাথরের মতো মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও তাঁদের পরিবারের বুকে সবর্োপরি বাংলাদেশের বুকে চেপে বসে আছে দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে। একমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই পারে নির্যাতিত, নিগৃহীত মা-বোন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে। ফাঁসি বা মৃতু‍্যদন্ড (নৈতিকভাবে আমি মৃতু‍্যদন্ড সমর্থন করি না, সেটা গোলাম আজমের মৃতু‍্যদন্ড হোক, জিয়ার খুনিই হোক, বঙ্গবন্ধুর খুনিই হোক, একজন মানুষ হত‍্যার আসামিই হোক বা বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত রাষ্ট্রীয় কোন কর্মচারির মৃতু‍্যদন্ডই হোক না কেন)  প্রদান বড় কথা নয়, জরুরি হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। একইভাবে সমান জরুরি দেশ থেকে দুর্নীতি, দারিদ্র এবং রাজনৈতিক অসুস্থ‍্যতার অবসান। আশা করি জাগ্রত প্রজন্ম এসব বিষয়ও আন্দোলনের অন‍্যতম প্রধান ইসু‍্য হিসেবে সামনে নিয়ে আসবে।  ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

শাহবাগ জেগে আছে নিরন্তর, ঘুচে যাবে অন্ধকার!

rajib

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ। ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভনকেও খুন করলো ওরা। স্বদেশে মানুষ হত্যা এক মামুলি ব্যাপার। ওখানে সরকারি বাহিনী খুন করে অবলীলায়। কখনও কখনও গুম করে দেয়া হচ্ছে রাজনীতিক কিংবা সাধারণ মানুষকে। কিছুদিন আগে ব্লগার আসিফ মহউদ্দীনকেও হত্যাপ্রচেষ্টা চালিয়েছে শয়তানের দল। সেই হত্যাপ্রচেষ্টাকারিদের শনাক্ত করতে পারেনি সরকার। সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিরা ধরা পড়েনি আজও। কোন হত্যাকান্ডই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। সকল হত্যাই নির্মম ও নিষ্ঠুর। হয়ত খুনিদের জিঘাংশার মাত্রা কারও ওপর প্রকাশিত  হয় বেশি।  যেমনটি ঘটেছিল সাগর-রুনির বেলাতেও।  মানুষ কতটা নিষ্ঠুর, অমানবিক ও নৃশংস হলে কাউকে খুন করা হয় আঘাতের পর আঘাতে। কতটা র্ববর হত্যার পর আবার জবাই করা হয়।

দেশে একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটে আর আমাদের সচেতন নাগরিক সমাজ জেগে ওঠে মডিয়া, ব্লগ কিংবা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলিতে। ভাবখানা এমন যেন কাউকে খুন করার পর সবাই বিপ্লবে ঝাপিয়ে পড়ছে। শেষ পর্যন্ত সবাই নিরব হেয়ে যায়। স্বজন হারানোর বেদনা কেবল সংশ্লিষ্ট পরিবারই য়ে বেড়ায় অনন্তকাল।

প্রতিটি হত্যাকান্ডের পর একই কথা, একই হুংকার, একই বক্তব্য আসে সরকারে যারা থাকে তাদের কাছ থেকে। সহযোদ্ধারাও একেকজন বিপ্লবী হয়ে ওঠে। কিন্তু শেষমেষ সব চুপচাপের মধ্যে চলে যায়। নিহত বন্ধুটিরে প্রতি লালসালাম জানানোর ধুম পড়ে। পাশাপাশি নিহত বন্ধুটির রক্ত বৃথা যেতে দেবোনা বলে মাতম তোলে অনেকে। কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান আসে না কোনবারই কখনও না।

ঘাতক রাজাকার যুদ্ধাপরাধীর দল গুপ্ত হত্যা চালাতে পারে- এই বিষয়ে সরকারে গোয়েন্দাসংস্থাগুলি কী করে? প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা শোভনের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর প্রধানমন্ত্রি বললেন জামাতের রাজনীতি করার অধিকার নেই। কিন্তু সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বা জামাতের রাজনীতি বন্ধ করা হচ্ছে না কেন, বিগত চার বছরের শাসনকালেও এটা করা হলো না কেন তার জবাব কী শেখ হাসিনার কাছে আছে?

ঘাতকগোষ্ঠী ছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সকলেই চান। ফাঁসি নাকি যাবজ্জীন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিচার করার জন্যইতো আন্তজার্তিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এবার কিছু বাস্তব প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাই আজকের লেখায়। তার আগে একটু পেছন ফিরে দেখা যাক, কিভাবে জামাত-শিবির তথা যুদ্ধাপরাধীরা রাজনীতি-অর্থনীতি ও সমাজে যে শক্ত ভীত গড়ে তুলতে সক্ষম হলো তার জন্য কে দায়ী? শুধু কী সামরিক সেনা ছাউনিতে গড়ে ওঠা দলগুলিই দায়ী নাকি মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদানকারি রাজনৈতিক দলগুলিরও দায় আছে বা ছিল এক্ষেত্রে?

জাতির  পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশে ছিল স্বৈরশাসন। ১৯৯১ সাল থেকে অবসান হলো স্বৈরশাসনের। কিন্তু বিগত দুই দশকের অধিক সময় ধরে দেশের মানুষ কী দেখতে পেয়েছেন গণতন্ত্রের প্রকৃত রুপটিকে বাস্তবে? শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে হড়ে ওঠা গণজাগরণকে কী ১৯৯৬ সালের পরের আওয়ামীলীগ সরকার যথাযথ সম্মান দেখাতে পেরেছিল? ২০০৮ এর জাতীয় নির্বাচনের জাতীয় গণরায় আওয়ামী লীগের মহাজোটকে দিলেন দেশবাসি। কিন্তু কিসের মোহে তারা বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে পারলো না? এজন্যও কী যুদ্ধাপরাধীরাই দায়ী নাকি আমরাও অনেকাংশে দায়ী? বাহাত্তরের মূল সংবিধানে পুরোপুরি ফিরে গেলেইতো ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার কোন সুযোগই থাকে না কারও। সেই পথে হাসিনার মহাজোট সরকার হাটলো না কেন?

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়াটা যেমন খুবই জরুরি তেমনিভাবে জরুরি চলমান দুর্নীতি, নিযার্তন, ধর্ষণ, বিচার বহিভূর্ত হত্যাকান্ড, সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন বন্ধসহ রাজনৈতিক অসুস্থ্যতাকে সারিয়ে তোলা। রাজনীতিতে সহনশীলতার চর্চা এবং সকল মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ছাড়া কী গণতন্ত্রকে সামনের দিকে চালানো যায়? সমাজে দলবাজি ও ব্যক্তির নয়  আইনের শাসন না থাকলে কী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যাবে?

অনেকে হয়তো মনে করছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের একটা রায় বা ফাঁসির রায় এবং তা কাযর্কর করা গেলেই দেশে শান্তির সুবাতাস বইবে! সমাজ থেকে বৈষম্য, অনাচার, অবিচার, দুর্নীতি, হত্যা, গুম বন্ধ না হলে যুদ্ধাপরাধীদের হাজারবার ফাঁসি দিলেও মুক্তিযুদ্ধের যে আসল চেতনা, লক্ষ তার কাছে পৌছানো সম্ভব না।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাতো একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ যেখানে ক্ষুধা, দুর্নীতি, দারিদ্র, বৈষম্য, অবিচার, নারী অবমাননার কোন চিহ্ন থাকার কথা ছিল না। দেশটা একটা সোনার বাংলাদেশ হবে।স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের সম্ভ্রম হারানোর জন্য কী দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন মহান মুক্তিযোদ্ধারা? মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষা করবেন বা রিকশা চালিয়ে সংসার চালাবেন তার জন্যই কী মুক্তিযুদ্ধ? সাংবাদিক-ব্লগার হত্যা হবেন তার জন্যই ৩০ লাখ মানুষের আত্মদান? মা-বোনেরা রাস্তা-ঘাটে বা নিজ বাড়িতে নিজের সম্ভ্রম হারাবেন তারজন্যই কী ১৯৭১ এর যুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন বীর বাঙালি? পোশাক কারখানায় শতশত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করার জন্যই কী বঙ্গবন্ধু দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন?

ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদেরকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করবার জন্য কিংবা রাজনীতিকে পারিবারিকীকরণ করার জন্যই কী একাত্তরে দুই লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন? রাষ্ট্রই বিনাবিচারে মানুষকে হত্যা করবে তারজন্যই কী দেশের মানুষ লড়েছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে?

সবার শেষে বলতে চাই, প্রজন্ম যে বাংলার বুক থেকে সকল অনাচার, হত্যা-যুদ্ধাপরাধ, সাম্প্রদায়িকতা ও অবিচার বিরোধী জাগরণী গানের সুরের ঝংকার তুলেছেনে সারা বাংলায় তার মুর্ছনায় দেশ, দেশের রাজনীতি ফিরে পাবে এক নতুন পথের দিশা। জয় বাঙলা, জয় প্রজন্ম। যত আসবে আঘাত বিপ্লবী কন্যা লাকিদের ওপর কিংবা মানবতাবাদী রাজীবদের ওপর ততই শাহবাগের চেতনা ছড়িয়ে পড়বে দেশ থেকে দেশান্তরে। শাহবাগ জেগে আছে নিরন্তর, ঘুচে যাবে অন্ধকার, বাংলার আকাশে উদিত হবে শুভ সকাল।  ছবি গুগল থেকে নেয়া।