Category Archives: Society

কে ভারসাম‍্যহীন: সাংবাদিক এ বি এম মুসা নাকি মাহবুব উল আলম হানিফ?

abmmusa-hasina
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাংবাদিক এ বি এম মুসা। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কেউ কেউ হয়ত উনাকে চেনেন না। শুদ্ধ ও স্বচ্ছ চিন্তার প্রগতিশীল এই শ্রদ্ধেয় সাংবাদিকের ওপর মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। বাংলায় সাংবাদিকতার এই প্রাণ পুরুষকে আজ জীবন সায়াহ্নে এসে “স্বাধীনতাবিরোধী”র কু উপাধি দেয়া হচ্ছে। অথচ এই মানুষটির সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছিল ঘনিষ্ট হৃদ‍্যতা। ছি ছি ছি লজ্জায় মাথায় নূ‍্যয়ে পড়ছে এই কারণে যে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দলটির আজ কী অবস্থা!
১৯৯১ কী ১৯৯২ সালের কথা। সালটির কথা এখন আমার পুরো মনে নেই। এ বিএম মুসাকে পেয়েছিলাম সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কোর্সের শিক্ষক হিসেবে। ওই সময়ে আমি পঞ্চগড় থেকে দৈনিক বাংলা ও বাংলার বাণীতে কাজ করি। যাহোক তখন থেকেই উনাকে (এবিএম মুসা) আমি ব‍্যক্তিগতভাবে চিনি। নব্বইয়ের দশকে তিনি (এবিএম মুসা) “নিউজ ডে” নামে একটি ইংরেজী দৈনিকের সম্পাদকও হয়েছিলেন তিনি। সেই পত্রিকায় কিছুদিন পঞ্চগড় সংবাদদাতা হিসেবেও কাজ করি আমি। মেয়র লিটন, কতিপয় সংবাদকর্মীর্ ও র‍্যাবের যৌথ ষড়যন্ত্রের মাধ‍্যমে র‍্যাব ২০০৭ সালে বেআইনিভাবে আমাকে গ্রেফতার করে। প্রায় এক মাস পর নির্যাতন ও কারামুক্তির পর ঢাকায় চলে যাই। তখন এই প্রিয় সাংবাদিক শিক্ষক আমার ওপর নৃশংসতার ঘটনাটি শোনেন এবং খুব বিরক্ত প্রকাশ করেন যে শহীদ জাতীয় নেতা কামারুজ্জামানের ছেলে আমার ওপর অত‍্যাচার করার পেছনে মদদ দেয়ার কারণে। সেসময় উনি আমাকে ভয় না পাবার জন‍্য অনেক সাহস ও অনুপ্রেরণাও দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশে এখন একটা নতুন ট্রেন্ড চালু হয়েছে। সেটা হলো মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দলটির সমালোচনা করলেই মুক্তিযোদ্ধাও তাদের কাছে রাজাকার বনে যায়। সুতরাং আওয়ামী লীগ বা সরকারের বিপক্ষে কোন কথা বলা যাবে না যদিও বা সেইসব কথা সত‍্যও হয় তবুও না, নইলে আপনিও “রাজাকার” উপাধি পাবেন যেমনটি পেয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। অথচ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত‍্যার পর তিনিই প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা করেছিলেন।
সাংবাদিক এবিএম মুসাকে স্বাধীনতাবিরোধী বলার প্রসঙ্গে আসি এবার। বঙ্গবন্ধুর আমলে ১৯৭৩ সালে এবিএম মুসা আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে জাতীয় সংসদের সদস‍্য নির্বাচিত হন। তিনি সংসদ সদস‍্য হয়েছিলেন ফেনি থেকে। সরকার নিয়ন্ত্রিত টিভি ষ্টেশন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক পদেও তাঁকে নিযুক্ত করেছিলেন বঙ্গবন্ধুই। অভিজ্ঞ এই সাংবাদিককে আওয়ামী লীগ সরকারই একুশে পদকে ভূষিত করেছিল।
সাংবাদিক এবিএম মুসার সাম্প্রতিক এক বক্তব‍্যকে কেন্দ্র করে তাঁর ওপর প্রচন্ড নাখোশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে আওয়ামী লীগ। আর এই ক্ষুব্ধতার প্রকাশ ঘটেছে সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের মুখে। তিনি বলেন, “এবিএম মুসা মানসিক ভারসাম‍্যহীন এবং স্বাধীনতাবিরোধী”। হানিফ মাহেবের বক্তব‍্য প্রমাণ করে যে, এবিএম মুসা নন আওয়ামী লীগই সম্ভবত ভারসাম‍্য হারাচ্ছে! প্রশ্ন হলো, হানিফ কী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যে যাকে তাকে তিনি মানসিক ভারসাম‍্যহীন বলে দেবেন? আসলে এই হানিফমাকর্া আওয়ামী লীগারদের কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব‍্য আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তিকে পায়ের তলে পিশিয়ে দিচ্ছে!
ব‍্যক্তিগতভাবে যুদ্ধাপরাধী বা রাজাকারদের সমর্থন করি না! তবে সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলাই আমার ধর্ম। শ্রদ্ধেয় এবিএম মুসা কী মন্তব‍্য করেছিলেন তা আমি শুনিনি নিজ কানে। তবে আমার প্রচন্ড তাগিদ হচ্ছে এই জনে‍্য যে উনার পুরো বক্তব‍্যটি পড়া বা শোনা উচিত আমাদের সবার। কোন প্রেক্ষাপটে, কোন বিবেচনায় উনি কী মন্তব‍্য করেছেন? কারও কাছে যদি উনার বক্তব‍্য বা মন্তবে‍্যর কোন অনলাইন লিংক থাকে দয়া করে আমাকে দেবেন। আর দেশে যখন ছলিমুদ্দিন, কলিমুদ্দিন, জগাই, মঘা সকলেই টিভির লাইসেন্স পাচ্ছেন, মিডিয়ার মালিক বনে যাচ্ছেন সেখানে এবিএম মুসার মতো ব‍্যক্তিকে হাসিনার সরকার কোন যুক্তিতে টিভির লাইসেন্স পেলেন না বা পাবেন না সেটারও একটা পরিচ্ছন্ন ব‍্যাখ‍্যার প্রয়োজন। হানিফরা বঙ্গবন্ধু হত‍্যার পরে কী ধরণের প্রতিবাদ করেছিলেন নাকি মোশতাকদের তোষামদী করেছিলেন তাও আমি জানি না, তবে তোষামদি, জ্বিহুজুর বা জ্বি ম‍্যাডাম (হুজুর বা ম‍্যাডাম যা বলে করে তার সবই ১০০০০ গুণ সত‍্য!) করে যুগ্ম সম্পাদকের পদ লাভ করা যায় বটে (মনোনীত বা দলীয় প্রধানের পছন্দের তালিকাভুক্ত হিসেবে) কিন্তু গণতান্ত্রিক হওয়া যায় না! তারজন‍্য সহনশীলতা,কান্ডজ্ঞান, ধৈয‍্য আর সততা-স্বচ্ছতারও দরকার পড়ে। হানিফ সাহেবদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে জেলায় জেলায় নেতা বানিয়ে দেবারও অভিযোগ কানে আসে। আর এই হানিফদের তথাকথিত সাংগঠনিক রিপোর্টের কারণেই অনেক জেলায় নির্বাচিত নেতাদেরকেও বাদ দেয়া হয়েছে। এসব অভিযোগেরও চুলচেরা তদন্ত ও বিচার হওয়া দরকার।
বাংলাদেশনিউজ২৪x৭’র রিপোটর্ থেকে সাংবাদিক এবিএম মুসার সেদিনের বক্তব‍্য থেকে বোঝা যাবে আসলে তিনি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কী বলেছিলেন? জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ২৪ জানুয়ারি সাবেক ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান দিবসে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশে এবিএম মূসা বলেন, আপনারা প্রতিবাদ করুন। আপনারা বলুন- ছাত্রলীগের নামটাকে তোমরা কলঙ্কিত করো না। প্রয়োজনে তোমরা একে ‘হাসিনা লীগ’-‘বাম লীগ’ নাম দাও। শেখ মুজিবের সময়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এবিএম মূসা বলেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা ছাত্রদের সূচনা। আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ কর্তৃক সৃষ্টি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন তৃতীয় শ্রেণীর নেতা ছিলেন। নিজগুণে তিনি এগিয়ে এলেন এবং ছাত্রদের চেষ্টাতেই তিনি প্রথম শ্রেণীর নেতা হলেন। বঙ্গবন্ধু যতটা না উর্বর মস্তিষ্কের নেতা ছিলেন, তার চেয়েও বড় ছিল তার বিশাল আস্থা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের দিন ৭ মার্চই হচ্ছে- প্রকৃত স্বাধীনতা দিবস। সত্যিকারের স্বাধীনতা তিনি সে দিনই ঘোষণা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু জনগণের পালস (নাড়িস্পন্দন) বুঝতে পারতেন। পাঠ্যপুস্তক থেকে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাম বাদ দেয়ার কঠোর সমালোচনা করে এবিএম মূসা বলেন, ভাসানী আওয়ামী লীগের জন্মদাতা, তাকে বাদ দেয়া মানে জন্মদাতাকে অস্বীকার করা। আর যে জন্মদাতাকে অস্বীকার করে বা যার জন্মদাতা থাকেনা, তাকে আমরা কী বলি? জারজ বলি। ভাসানীকে বাদ দিলে আওয়ামী লীগ হয় জারজ। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এখনও এক বছর সময় আছে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশুন, তাদের কথা শুনুন।
আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীকেও ‘উন্মাদ’ বলে আখ‍্যা দিয়েছেন। হানিফের ভাষায়, নূরে আলম ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবনের ফ্লোরে গড়াগড়ি খেয়ে ছাত্রলীগের সভাপতির পদটি বাগিয়ে নিয়েছিলেন। সাংবাদিক মুসাকে ‘স্বঘোষিত বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগপ্রেমী’বলেও অভিহিত করেন হানিফ। সূত্র-বিডিনিউজ২৪।
ঢাকার রাজপথে বিশ্বজিৎকে নৃশংসভাবে হত‍্যা, ময়মনসিংহে শিশু রাব্বীকে গুলি করে হত‍্যাসহ প্রায় দেশজুড়েই ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, নির্যাতন, বন্দুকযুদ্ধে মানুষ অতিষ্ঠ। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রলীগের তান্ডবে শিক্ষার বারোটা বেজে যাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর দলের দ্বারা পরিচালিত সরকারের মঙ্গল চেয়ে যখন সরকারকে খারাপ দিকগুলি থেকে সরে আসার জন‍্য পরামর্শ দেন তখন সেটা হানিফদের মতো তোষামদকারি নেতারাই কেবল সাংবাদিক মুসাকে মানসিক ভারসাম‍্যহীন বা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নূরে আলমকে উন্মাদ বলতে পারেন!
ডাক্তারি কোন পরীক্ষা, নীরীক্ষা বা সনদপত্র ছাড়াই কাউকে উন্মাদ বা মানসিক ভারসাম‍্যহীন বলাটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্সও বটে। এধরণের বক্তব‍্য ব‍্যক্তি মানুষের মর্যাদার ওপর আঘাতও বটে। সেই বিচারে মাহবুব উল হানিফদের বিরুদ্ধে মামলাও হতে পারে। আর এ বিএম মুসাযদি স্বঘোষিত বঙ্গবন্ধুপ্রমিকই হতেন তবে তাঁকে বঙ্গবন্ধুই বা কেন তেহাত্তরের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিলেন? হানিফ সাহেবের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর আছে কী? জনাব হানিফের কথা অনুযায়ী নূরে আলম সিদ্দিকী নাকি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গড়াগড়ি করে ছাত্রলীগের সভাপতির পদটি বাগিয়ে নিয়েছিলেন! যদি হানিফের কথাই সত‍্য হয় তবে তো বলতেই হয় অগণতান্ত্রিক পন্থায় তোষামদি করে ছাত্রলীগের সভাপতি ও অন‍্যান‍্য পদে নেতা হওয়াটাও খুবই মামুলি ব‍্যাপার। আওয়ামী লীগ প্রধানও কী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বক্তবে‍্যর সঙ্গে একমত? হানিফের বক্তব‍্যতো কেবল ব‍্যক্তি হানিফের নয়, তাঁর বক্তব‍্য আওয়ামী লীগের, সরকারের এমনকি আওয়ামী লীগ ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনারও।
প্রিয় পাঠক এখন আপনারাই বলুন, কে ভারসাম‍্যহীন? আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ নাকি এই প্রবীন সাংবাদিক এ বি এম মুসা? ছবি গুগল থেকে নেয়া।

Advertisements

যুদ্ধাপরাধের বিচারও চলছে পাশাপাশি ঘটছে যুদ্ধাপরাধও!

women
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। স্বদেশে কেবল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই চলছে না, পাশাপাশি চলছে যুদ্ধাপরাধও। আর নব এই যুদ্ধাপরাধের শিকার হচ্ছেন মা-বোনেরা। নারকীয় নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না শিশুরাও। দলবাজ বুদ্ধিজীবী ও তথাকথিত সুবিধাবাদি সুশিলরা মুখে কুলুপ এঁটেছে! মানবতাবিরোধী অপরাধ ও কর্মকান্ডের বিপক্ষে কথা বললে যদি পদ-পদবি হারাতে হয় কিংবা হালুয়া-রুটির ভাগ না পাওয়া যায় অথবা যদি ক্ষমতাবানদের বিরাগভাজন হতে হয় এমন যোগ-বিয়োগের অংকের খেলায় এই জ্ঞানপাপী বিবেকবন্ধক রাখাওয়ালারা কোন কথা বলছে না। আরও সহজ ভাষায় বলা যায় যে, এই গোষ্ঠীটি এখন ক্ষমতাসীনদের তোষামদকারির দলভুক্ত হয়ে পড়েছে। বিচারহীনতা, আইনের শাসনহীনতাই অপরাধ ও অপরাধীর আশপর্দা বাড়িয়ে দিচ্ছে দিন দিন। আর সহিংসতার কঠিন রুপটি গিয়ে পড়ছে মা-বোনদের ওপরে গিয়ে। যদিও দেশে প্রধানমন্ত্রি, বিরোধীদলীয় নেত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রি, কৃষিমন্ত্রিসহ আরও অনেক নারী মন্ত্রি কার্যকর আছে স্বদেশে। আজকের লেখাটি মূলত: বিশ্ববিদ‍্যালয়ের একজন অধ‍্যাপকের একটি স্টাটাসের প্রতিক্রিয়া।
শ্রদ্ধেয় এবং প্রিয় কাবেরি গায়েন’র ফেইসবুকে একটা স্টাটাস পডি। তিনি দ্বিমত পোষণ করেছেন জবাব আলী রীয়াজ এর একটি লেখার। স্টাটাসের সঙ্গে কাবেরী আপা জনাব রীয়াজের লেখাটির একটি অনলাইন লিংক দিয়েছেন। আগ্রহী হয়ে লিংকটাতে গিয়ে ঢুকলাম এবং আলী রীয়াজ’ র লেখাটি পড়লাম। আমি জানি না আমি কোন যুক্তিতে লেখাটির প্রতি নেতিবাচক বা দ্বিমত পোষণ করলেন, কাবেরী ম‍্যাডাম? আমি উনার লেখাটি দুবার পড়েছি।
আমি কাবেরী আপার যুক্তির পক্ষে বিপক্ষে না দাঁড়িয়েই বলতে চাইছি, আমাদের সুশিল সমাজের কাজটা তাহলে কী? এই সমাজভুক্তরা কী তবে হয় হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং খালেদার নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত হয়েই নিজেদের জোটকে চেতানো ঠিক হবে না, হালুয়া-রুটি পাবো না কিংবা পদ হারাতে হতে পারে এসব চিন্তা নিয়েই মনুষ‍্যত্ববোধ, বিবেক বন্দি করে রাখবে অন্ধ দলবাজির কাছে? ওই ঘাতক জামাত-শিবির, আলবদর, আল শামস, যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী তাদের বিচার হতেই হবে (যদিও জাতি আশা করেছিল অন্তত: গো. আজম, নিজামী, কসাই কাদের, মুজাহিদ গংদের বিচারটা আগে জানতে পারবে, কিন্তু আজাদ বা বাচ্চু রাজাকারকে বিদেশে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার পর তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা স্রেফ ফাজলামু ছাড়া আর কিছু নয় বলেই মনে করি আমি)। দেশে যেভাবে মা-বোনদের ওপর নৃশংতা চালানো হচ্ছে, হত‍্যা করা হচ্ছে, তাঁদের মর্যাদাহানি ঘটানো হচ্ছে (শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউই বাদ যাচ্ছে না) তা কী যুদ্ধাপরাধের চেয়ে কোন অংশে কম? বিনা বিচারে মানুষ হত‍্যা, গুম, পুলিশের হাতকড়া পরা অবস্থায় মানুষের লাশ পড়ে থাকছে, একযোগে তিনজন, পাঁচজনকে হত‍্যা করা হচ্ছে, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় কাজী অফিসে বোনদের ওপর যেভাবে এসিড নিক্ষেপ করা হচ্ছে, বিশ্বজিৎ দাশকে যে বর্বর কায়দায় প্রকাশে‍্য হত‍্যা করা হলো, ময়মনসিংহে একটি শিশুকে (রাব্বী) যেভাবে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রযোদ্ধারা হত‍্যা করলো, সাংবাদিক সাগর-রুনিদের খুনিদেরকে ধরতে টালবাহানা করা হচ্ছে, ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনকে হত‍্যাপ্রচেষ্টা, সাংবাদিক ও ফটো সাংবাদিকদের পেটানো হচ্ছে, এসব কী মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়?
১১৪ জন পোশাক শ্রমিককে পুড়িয়ে হত‍্যা করা হলো, পোশাশ্রমিকরা হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও ন‍্যায‍্য মজুরি পাচ্ছেন না, অথচ মালিকরা আলীশান জীবন-যাপন করছে, দেশে বাড়ছে ধনী-গরিবের পার্থক‍্য। এমন জটিল অবস্থায় সাধারণ মানুষ রাস্তায় বের হবার মতো পরিবেশ আছে কী, আর থাকলেও একটা সমাজে যখন র‍্যাব বা পুলিশ যখন তখন যাকে তাকে ধরে হত‍্যা বা গুম করে দেয়ার আইনগত অধিকার ভোগ করে (সুশিল ও রাজনীতিকরা কার্যকর কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছেন না বা আগ্রহী নয়) তখন কী কেউ রাস্তায় বের হতে পারে? অপকর্ম, নৃশংসতা, নিষ্ঠুরতা এবং অবিচারের ঘটনাগুলিতো ঘটছে তাদের ওপর যারা সমাজে সুবিধাভোগি নন, কিন্তু এইসব নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষদের সংখ‍্যাতাত্ত্বিক পরিসংখ‍্যান তুলে ধরে দেশি-বিদেশি প্রকল্প আর তহবিল নিয়ে যারা দিনরাত ব‍্যস্ত আমাদের সুশিলরাতো (সবাই নন, বহু শত সহস্র ব‍্যতিক্রমও আছে…) সেইসব প্রকল্প আর তহবিলের অংশ নিজের পকেটে তুলেন প্রত‍্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে।
কাজেই স্বদেশে প্রতিনিয়ত যে যুদ্ধাপরাধ চলছে, ঘটানো হচ্ছে বিশেষত: নারী, মা-বোনদের ওপর তা থামানোর জন‍্য আমাদের সুশিলদের যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল তা কী আছে বলে আপনি মনে করেন কাবেরি আপা? সেই জায়গা থেকেতো আমী জনাব আলী রীয়াজ’র লেখাটিকে খুবই সুন্দর এবং বাস্তসম্মত মনে হয়েছে। আমারতো মনে হয় দেশে যদি আজ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট কষমতায় থাকতো তাহলে আমাদের দলবাজ বুদ্ধিজীবী, সুশিলরা ঠিক দেশ , রাজপথ কাপিয়ে ফেলতো, ঠিক যেমনটি আমরা দেখেছিলাম ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মেয়াদে! তাই নয় কী কাবেরী গায়েন আপা?
আমি অনেকগুলি মৌলিক প্রশ্ন তুলেছি আমার এই লেখার ভেতরে। এই প্রশ্নগুলির উত্তর কখনও পাওয়া যায় না আমাদের শিক্ষক, পথপ্রদর্শক, সুশিল সমাজের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে! এজন‍্য হতাশা বাসা বাধে বুকের ভেতরে। আর উপরোল্লিখিত কারণেই “আমাদের দেশের মানুষ- আমি, আমার ভূমিকা বা দায়িত্বটা” কাঁধে তুলে নিতে ভয় পাচ্ছেন! সমাজ ও দেশে আইনের শাসন না থাকলে এমন অবিচার চলতেই থাকবে, কেউ থামাতে পারবে না। ছবি গুগল থেকে নেয়া।

“পেপার স্প্রে”র প্রয়োগ আপনাদের ওপরও হতে পারে ।। ব্লগার আসিফের ওপর হামলাকারিদের ধরুন

paperspray
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। মানবাধিকার লংঘণের হাতিয়ার হিসেবে হাসিনার মহাজোট সরকার একের পর এক নতুন স্টাইলের প্রবর্তন করছে। আর আমাদের দলীয় স্তাবক বুদ্ধিজীবীরা বসে বসে আঙুল চুষছেন! খালেদা-নিজামির আমলে গণহারে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, এনকাউন্টার নামক ঘাতক বাহিনীর নৃশংসতা দেখেছেন দেশবাসি। ক্ষমতায় আরোহনের আগে হাসিনা বারংবার এই বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছিলেন। মানুষ আশ্বস্ত হয়েছিলেন এই ভেবে যে হয়ত হাসিনা ও তার ক্ষমতায় গেলে নারকীয় এই রাষ্ট্রীয় হত‍্যাযজ্ঞ বন্ধ হবে। কিন্তু ক্রসফায়ারতো বন্ধ হয়ইনি উল্টো এখন মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে, মানুষকে গুম করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় হ‍্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় মানুষ রাস্তাঘাটে লাশ হয়ে পড়ে থাকছেন। আর বাকপটু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিরা মানবাধিকার লংঘণের ঘটনাগুলিকে ধামাচাপা দেবার জন‍্য একের পর এক খোঁড়া যুক্তি দেখাচ্ছেন দেশবাসির সামনে।
হাসিনা ও মহাজোট সরকারের সর্বশেষ আবিস্কার হলো “পেপার স্প্রে”। সরকারবিরোধী কিংবা জনকল‍্যাণে আহৃত আন্দোলন দমনের এই নতুন হাতিয়ার ইতোমধে‍্য এক শিক্ষকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে স্বদেশের মিডিয়ায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রি সরকারের শেষ সময়ে দেশের মানুষকে নিয়ে যে খেলা শুরু করলেন তা বন্ধ করুন। নইলে আখেরে আপনার ও আপনার দলের পুন:ক্ষমতায় যাবার স্বপ্নটা দু:স্বপ্ন হয়ে যাবে! আর হাওয়া তারেক-ও ঘাতক নিজামিরা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে কী পরিণতি অপেক্ষা করছে তা কী আঁচ করতে পারছেন না মোটেও, নাকি ভাবছেন যেকোনপ্রকারেই হোক ক্ষমতায় আসবেনই!
এই মহাজোট সরকারের ভেতরে এবং বাইরে এতো মানুষ আছেন যারা দেশে-বিদেশে মানবাধিকার নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন সেইসব মুর্খ জ্ঞানপাপীরা একেবারেই ভেজাবেড়ালের ন‍্যায় চুপচাপ করে হালুয়া-রুটি খাবার বা পাবার আশায় লেজ গুটিয়ে সরিয়ে রাখছে নিজেদের, কিন্তু কেন? মনুষ‍্যত্ব, বিবেক বলে কী এসব মানুষের হৃদয়ে কিচ্ছু নেই? আর সরকারের অংশীদার অনেক বাম, প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতারা সরকারের ভেতরে থাকার পরও কারও মুখে শোনা গেলো না যে এসব মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড থেকে সরকার সরে না আসলে তারা সরকার থেকে সরে দাঁড়াবেন? সুবিধাবাদের স্রোতধারা এত প্রবল যে সেখানে আরাম-আয়েশ আর গদি-ক্ষমতার জাদুর পরশে মানুষের মৌলিক মানবতাবোধটুকু পর্যন্ত ভেসে যাচ্ছে!
কী নিলর্জ্জ বেহায়ার মতো পুলিশ কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ পেপার স্প্রের ক্ষে সাফাই গেয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন। তিনি বললেন, ‘পেপার স্প্রে লাঠিপেটার বিকল্প। সরকারের অনুমতি নিয়ে সাধারণ মানুষও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য এই স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।” প্রশ্ন হলো বাস্তবে সাধারণ মানুষ কী এই অনুমতি পাবে রাজনৈতিক তদবির বা শক্তি ছাড়া? আর যদি হরতালকারি, আন্দোলনকারি বা সাধারণ মানুষও যদি এমন স্প্রে পুলিশের ওপর ব‍্যবহার শুরু করে তখন বেনজিররা কোথায় পালাবেন? সতি‍্য সতি‍্য যদি সাধারণ মানুষের হাতে এই অমানবিক স্প্রে অস্ত্রটি চলে যায় গোটা দেশটা এক অরাজক নৈরাজ‍্যকর পরিস্থিতির দিকে চলে যাবে, এতে কী সরকারের নীতিনির্ধারকদের মাঝে কোন সংশয় আছে?
শিক্ষকরা নিজেদের রুটি-রুজির জন‍্য রাস্তায় নেমেছিলেন। বামরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল, সমাবেশ ও আন্দোলন সংগ্রাম করে-এটা দেশবাসি জানেন। তারা কখনও রাস্তায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে না, বাসে আগুন দিয়েও মানুষ হত‍্যা করে না কিংবা বোমাও মারে না কারও ওপর। বরং পুলিশই বামদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সবসময় বাধা দিয়ে থাকে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরাণ্বিত করা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সিপিবির নেতৃত্বে বামদলগুলির সাম্প্রতিক হরতালে দেশবাসির সমর্থন ছিল নজিরবিহীন এবং শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে দেশে। কিন্তু তাররও শিক্ষকদের ওপর ও বাম দলগুলির নেতা-কর্মীদের ওপর কেন স্প্রে করতে হলো সেটার জবাব হয়ত একমাত্র শেখ হাসিনা কিংবা তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিই জানেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি, তাঁর নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনী, র‍্যাব-চিতারা খুনি, অপহরণকারি, গুমকারি, ধর্ষকদের ওপর স্প্রে করতে পারে না কিন্তু জনগণের স্বার্থে ডাকা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর নতুন ধারার এক বর্বরতার প্রয়োগ ঘটালো! আন্দোলন যদি সহিংস রুপ নেয়, জ্বালাও-পোড়াওয়ের দিকে চলে যায় কিংবা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে সরকার বা সরকারি বাহিনী তারজন‍্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব‍্যবস্থা নিতে পারেন। সে অধিকার রকারের আছে। কিন্তু আন্দোলন দমনের নামে, সহিংসতা বন্ধের নামে কারও ওপর স্পে প্রয়োগ, নির্যাতন, লাঠিপেটা করার কোন অধিকার দেয়া হয়নি সংবিধানে। সংবিধানে সকল ধরণের নির্যাতনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও জ্ঞানপাপীর দল সংবিধান লংঘণ করেই চলেছে বিশেষ করে ক্ষমতাসীনরা পুলিশ-র‍্যাবকে নিজেদের ক‍্যাডার বাহিনীর ন‍্যায় ব‍্যবহার করছে জনগণের বিরুদ্ধে।
দেশে ধর্ষণের মহাউৎসব চলছে। ধর্ষণ ধামাতে পারছে না সরকার। খুন-হত‍্যা ও বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার সেখানে নিত‍্য-নৈমিত্তিক ব‍্যাপার। বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলিতে চলছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের রাম-রাজত্ব। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিতে চ‍্যাম্পিয়ন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী, ক‍্যাডার ও মস্তানদের দৌরাত্ব বেড়েই চলেছে। ঠিক যেমনটি ঘটেছিল চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের দ্বারা। ব্লগার, সাংবাদিক যারাই লিখছেন পক্ষপাতমূলকভাবে অন‍্যায়-অবিচার আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তারাই হচ্ছেন সন্ত্রাসীদের টার্গেট। অতি সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় জনপ্রিয় ব্লগার আসিফ মহীউদ্দিন সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় মারাত্বক আহত হয়েছেন। হামলাকারিদের ধরতে পারেনি পুলিশ। ইডেন কলেজের অ্যাসিডদগ্ধ ছাত্রীটি এখনও হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। দেশে মুক্তমতের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জায়গা ক্রমশ:ই সংকুচিত হয়ে আসছে। সাংবাদিক, ফটো সাংবাদিকদের ওপর বহুমুখী আক্রমণের খবর মাধে-মধে‍্যই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে।
খুলনায় ক’দিন আগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জিয়াউদ্দিনকে গুলি করে হত‍্যাপ্রচেষ্টার সঙ্গেও সরকারি যুব সংগঠনের এক নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রলীগের বন্দুকযুদ্ধে এক শিশু নিহত হয়েছেন। এই যোদ্ধাদের চোখে পুলিশ পেপার স্প্রে করে না! রাজধানীর একটি বাণিজি‍্যক ভবনে এক শিশুর গলিত লাশ মিললো। ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত‍্যা করা হয়েছে। অভ‍্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গুলি করে হত‍্যা করা হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে দেশের মিডিয়ায়। নিহত ফারুক শুধু একজন রাজনীতিকই নন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধাও বটে। এছাড়া তিনি স্থানীয় একটি সাপ্তাহিকের সম্পাদকও ছিলেন। রাজধানীর উত্তর মুগদাপাড়া থেকে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ধর্ষক-খুনি ও বন্দুকযোদ্ধার ওপর স্প্রে করে না পুলিশ, তারা শুধু রাজপথে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারি বাম নেতা-কর্মী ও জাতির মেরুদন্ড রক্ষাকারি শিক্ষকদের ওপর স্প্রে করতে ভুলে না।
মহাজোট সরকারের হাতে এখনও সময় আছে মুক্তমত প্রকাশ ও মানবাধিকার রক্ষার পথে এগিয়ে যাবার। সকল প্রকারের হত‍্যা-নির্যাতন, গুম-খুন, বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড এবং সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথকে প্রশস্ত করে স্প্রে প্রয়োগের নামে আন্দোলনকারিদের ওপর বিষক্রিয়া নিক্ষেপ বন্ধ ও পুলিশি নিপীড়ন বন্ধ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত না করে সন্ত্রাসী, খুনি, ধর্ষক, চাঁদাবাজ, বন্দুকধারি ও বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাই হবে মহাজোট সরকারের সফলতার চাবিকাঠি। নইলে আমও যাবে ছালাও যাবে,পাশাপাশি খালেদা-নিজামিদের হাতে ফের ক্ষমতা ফিরে গেলে পেপার স্প্রের প্রয়োগ নিজেদের চোখেই ছিটাবে একই পুলিশ। এতে হাসিনা ও তাঁর মহাজোট সরকারের নেতা-কর্মী ও পরামর্শদাতাদের সন্দেহ থাকলেও ইতিহাস যে তারও সাক্ষ‍্য দেয় তা বিগত দুই দশকের তথাকথিত নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্রের শাসনামলই প্রমাণ দেয়। কাজেই সাধু সাবধান!!! ছবি বিডিনিউজ২৪

সেই নেতৃত্ব কী আজকের বাংলায় আছে?

ছবি ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আইনের শাসন থাকলে, সমাজ থেকে বৈষম‍্য, ক্ষুধা, নিপীড়ন ও দুর্নীতি দূর করা গেলেই কেবল অপরাধের রাজনীতিকরণ বন্ধ করা সম্ভব, নতুবা অপরাধ চলবে, যুদ্ধাপরাধীরাও সুযোগ নেবে। গণতন্ত্র, ন‍্যায়বিচার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে পারলে বা চর্চা করা গেলে কোন অপরাধীআ পার পেতো না। কিন্ত্র বাংলার মানুষের দুর্ভাগ‍্য যে রাজনীতিই পচা, দুর্ঘন্ধে ভরা। মানুষ বাঁচবে কোত্থেকে, আশা-ভরসা আসবে কোনখান থেকে?
আর মৃতু‍্যদন্ডই অপরাধ দমনের একমাত্র পন্থা এটাও মানতে রাজি না। মৃতু‍্যদন্ড অর্থ মানবাধিকার লংঘণ, জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদেরও সুস্পষ্ট লংঘণ। সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চা করতে পারলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যাবে। দলবাজি, পরিবারতন্ত্রও ন‍্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা। এসব বাধা দূর করতে চাই সুস্থ‍্য রাজনীতি, মানবতাবাদি নেতৃত্ব। সেই নেতৃত্ব কী আজকের বাংলায় আছে? আর এজন‍্য পাগাড়ে, সমতলে কোথাও নারীর নিরাপত্তা নেই। লংঘিত হচ্ছে মানবতা ও মৌলিক মানবাধিকার। তাই সবকিছুর আগে রাজনীতির সুস্থ‍্যতা আনার আন্দোলন করা চাই। যে রাজনীতি ন‍্যায়ের পক্ষে, মানুষের জয়গান গাইবে। ছবি ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত।

শ্রমিক বাঁচলে পোশাক কারখানা চলবে

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। চাই আরও দুর্নীতি, অনেক-অগণিত লাশ ও আগুন, হাজার তদন্ত কমিটি, প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে আসল সত‍্যটাকে ধামাচাপা দেয়ার অঙ্গিকার, দেশি-বিদেশি বিপুল অর্থের লুটপাট সর্বোপরি চাই আরও অনৈতিকতা, অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও গণতন্ত্রহীনতা! তাই পোশাক কারখানার মালিক ভাইয়েরা আপনারা শিল্পকারখানায় দুর্ঘটনা এড়াতে আরও বেশি সাবধান ও সতর্ক থাকুন।
প্রচন্ড মানসিক দহন ও পীড়ার প্রকাশ হিসেবে লেখার শুরুতেই হতাশামূলক কথাগুলি লিখেছি। কারণ সহজ-সরল কোমলমতি সোনার মানুষগুলির ঘামঝড়া শ্রমে যে হীরার ন‍্যায় বিবেচিত বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসেন যে সেক্টরটির মাধ‍্যমে সেই মণিমুক্তার মতো ক্ষেত্রটিকে শুধুমাত্র অবিচারে পূর্ণ দুবর্ৃত্ত শাসন ব‍্যবস্থা ও মুনাফালোভীদের অবহেলা-দায়িত্বহীনতার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই পোড়া মানুষগুলির কল্পিত ছবি মনের আয়নায় আঁকছি আর চোখের জল গড়ছে আমার অজান্তেই। ইন্টারনেটের বদৌলতে টিভিপর্দার মাধ‍্যমে স্বদেশ থেকে স্বজনহারা মা-বোন, ভাই-বাবাদের আহাজারিতে প্রচন্ড শীতের এই দেশটিতে যেখানে থেকে লিখছি তার বাতাসও যেন গরম হয়ে উঠছে। সবকিছুতেই “ষড়যন্ত্র” র ধোয়া তুলে রাষ্ট্রীয় ব‍্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা নতুন কিছু নয় আমার সোনার বাংলায়।
প্রিয় পাঠক উপরের প‍্যারাটির শেষ বাক‍্যটি বাংলাদেশের তথাকথিত গণতন্ত্রের সবচেয়ে ক্ষমতাধর “গণতান্ত্রিক” প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা পোশাক শিল্প মালিকদের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেছেন। সূত্র> এনটিভির দুপুর ১২টার সংবাদ (২৭ নভেম্বর ২০১২)। এটিএন বাংলার ২৭ নভেম্বরের এক রিপোটর্ মতে, ১৯৯০ সাল থেকে দেশের পোশাক কারখানায় বিভিন্ন সময়ে অগ্নিকান্ডে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন অগনিত। প্রতে‍্যকটি ২৮ নভেম্বরের আমাদের সময় লিখেছে, দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার পোশাক কারখানা। হাসিনা এবং তাঁর সরকার ও সরকার সমর্থকদের ভাবখানা এমন যেন পোশাক কারখানায় এইবারই প্রথম আগুন লাগলো, আগে শ্রমিক মারা যায়নি একইভাবে! উনারা যেন অন্ধ, কিছুই দেখেন না, তাদের যেন জ্ঞান-বুদ্ধি কিছুই নেই। আসলে এরা জ্ঞানপাপী, মিথু‍্যক, ক্ষমতালোভী।
বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ। পোশাক কারখানাগুলিতে ৪০ লাখ মানুষ কাজ করেন। বৃহৎ এই পোশাক খাতই বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। আর এই সেক্টর আজ হুমকির মুখে। পোশাক শ্রমিকদের নেই জীবনের নিরাপত্তা, নেই কোন আর্থিক নিরাপত্তাও। কারখানাগুলিতে (অধিকাংশ) নেই কোন আগুন নেভানোর সুব‍্যবস্থা এমনকি জরুরি প্রয়োজনে নিরাপদ বহির্গমন ব‍্যবস্থাও। ফলে প্রতিবছরই আগুন লাগছে এবং কর্মজীবী মানুষ মারা যাচ্ছেন। মানুষ মারা গেলেই মাথাগুনে নামমাত্র ক্ষতিপূরণ প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু ক্ষতিপূরণ প্রদানের সেই প্রতিশ্রুতি পূরণও করা হয় না পুরোপুরি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেছেন যে, “আমাদের হাতে সব তথ‍্য উপাত্ত আছে কী করে এবং কারা পোশাক কারখানায় আগুন লাগিয়েছে”? উনি দেশে কোন ঘটনা ঘটলেই বিশেষত: আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট কোন ঘটনা ঘটামাত্রই এই “মখাআ” প্রায় একই বক্তব‍্য দিয়ে থাকেন মিডিয়ার সামনে। কিন্তু তাঁর বক্তবে‍্যর বাস্তবতা, সত‍্যতা কতটুকু, সাধারণ মানুষই বা কত শতাংশ বিশ্বাস করেন তাঁর বক্তব‍্য তা প্রশ্নসাপেক্ষ। সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যাকারিদের আজও জাতির সামনে তিনি হাজির করতে পারেননি। শ্রমিক নেতা আমিনুল হত‍্যাকান্ডেরও কোন কিনারা করতে পারেননি এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি। কিন্তু তারপরও তারা বলে চলেছেন, “সবকিছু বের করা হবে, অপরাধি শাস্তি পাবে, তদন্ত চলছে”। কিন্তু শেষতক খুনিদের নাগাল কখনই পায় না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি ও প্রশাসন!
নিশ্চিন্তপুরের পোশাক কারখানার গণহত‍্যার নায়কদের বাঁচাতে সুমি ও জাকির নামের দু’জনকে বলির পাঠা বানানোর নাটক মঞ্চায়ন ইতোমধে‍্য হয়ে গেছে। একশ্রেণীর মিডিয়া আবার সেটাকে ফলাও করে প্রচারও করছে। হায় সাংবাদিকতা! এই সাধারণ বিচারবুদ্ধি নেই যে সুমি এখানে ব‍্যবহৃত হয়েছে আগুন লাগানোর জন‍্য এবং ১১০ বা ১২৪ জন পোশাক শ্রমিকের গণহত‍্যার নায়কদের বাঁচাতে ও প্রকৃত ধামাচাপা দেবার জন‍্য। চাই অনুসন্ধানী ও এডভোকেসি সাংবাদিকতা মানুষের জন‍্য, সমাজে ন‍্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন‍্য এবং ঘাতকদের মুখোশ উন্মোচনের জন‍্য। সেই সাংবাদিকতা কোথায় পাবো? সব মিডিয়া মালিকও যে খালেদা নয়তো হাসিনা বা তাঁদের জোটভুক্তদের কট্রর সমর্থক কিংবা মিডিয়ামালিকদের আছে নিজ নিজ ব‍্যবসাপাতি ও স্বার্থ এবং কর ফাঁকির চেষ্টা, সাথে আরও আছে রাজনৈতিক দর্শন।
মিথ‍্যাবাদি, দুবৃত্ত শাসক, শোষক রাজনীতিক ও মিডিয়া নিপাত যাক, মানুষ জেগে ওঠুন নিজের মান-মর্যাদা, জীবন ও দেশ বাঁচাতে। দেশের মানুষ একদিন না একদিন জেগে ওঠবেনই, তখন কেউ কোন দিশা পাবে না পালানোর। সেই দিনটি না আসা পর্যন্ত নিশ্চিন্তপুরের মতো গণহত‍্যা ঘটতেই থাকবে! আমরা আমজনতা, হাসিনা-খালেদা বুঝি না। বুঝি দেশের স্বার্থ। শ্রমিক বাঁচলে, পোশাক কারখানা সচল থাকবে, বৈদেশিক মুদ্রা পাবে দেশ, সরকার। আর ঘুরবে অর্থনীতির চাকা। আর যাই হোক হাসিনা-খালেদারা অন্ত:ত এই সত‍্যটা বোঝার মতো বিবেক আছে। আর যদি নাই থাকে তবে দেশ শাসন করারও কোন অধিকার নেই তাঁদের।
কথা নয় কাজ দেখতে চাই আমরা। পোশাক কারখানাগুলিতে কাজের পরিবেশ, আট ঘন্টার বেশি সময়ের জন‍্য ওভারটাইম ভাতা প্রদান শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব‍্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ন‍্যায‍্য মজুরি-ভাতা ও ছুটির ব‍্যবস্থাও করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে শ্রমিক যেন নিরাপদে কারখানার বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে তার ব‍্যবস্থা করাও অত‍্যন্ত জরুরি।
কাজেই ক্ষমতা, স্বার্থ ও পরিবারচিন্তা ভুলে মানুষ ও দেশকে বাঁচাতে এই দই নেত্রী সত‍্যচর্চা, গণতন্ত্রকে জিইয়ে রাখা ও বাস্তবে তার চর্চা এবং দেশে ন‍্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাবেন সেই প্রত‍্যাশাই করি সুদূর প্রবাস থেকে। জয় হোক মানুষ ও মানবতার, নিপাত যাক ষড়যন্ত্র, মিথ‍্যাচার আর স্বার্থপরতার সংস্কৃতি। ছবি গুগল থেকে নেয়া।

জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ঠেকাতে নাকি গদি রক্ষার আহবান?

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। স্বদেশের চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে পড়ে চারজনের করুণ মুতু‍্য হয়েছে। নয়জন নিহত হয়েছেন রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় আগুনে পুড়ে। নিহতদের মধে‍্য সাতজন নারী। এসব অমানবিক হত‍্যাকান্ডের ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে কোন আহবান এখনও মিডিয়ায় আসেনি। তবে জামায়াত-শিবির ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসির প্রতি ঐকে‍্যর ডাক দেয়া হয়েছে।
শুধু জামায়াত ঠেকাতে নয় ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করা এবং গণতন্ত্রের চর্চা ও দেশ রক্ষার ঐক‍্য জরুরি। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর জামায়াত ঠেকাতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও একতার আহবান জানিয়েছেন। অন‍্যদিকে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও আগ্রাসী কর্মকান্ড প্রতিরোধে চোরাগোপ্তা হামলার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ। ফুলবাড়ি, মানুষ ও পরিবেশ রক্ষার হরতালকে দেশে “অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির” হরতাল বলেও অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি। বিডিনিউজ২৪ আরও একটি খবর দিয়েছে। সেটি হলো আওয়ামী আইনজীবীদের মাঝে বিভেদ। হানিফ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি যখন দেশবাসিকে ঐক‍্যবদ্ধ হবার আহবান জানাচ্ছেন তখন নিজেদের ঘরের আইনজীবীরাই দুই শিবিরে বিভক্ত। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একদিকে মৌলবাদিদের সন্ত্রাস মোকাবেলায় ঐকে‍্যর আহবান অন‍্যদিকে মানুষ, পরিবেশ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার হরতাল তথা গণতান্ত্রিক অধিকারকে অস্থিতিশীল বলে ধামকি দিয়ে স্ববিরোধী অবস্থান নিয়েছে।
প্রশ্ন জাগে, আওয়ামী লীগ জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ঠেকাতে ঐকে‍্যর ডাক দিয়েছে নাকি গদি রক্ষার জন‍্য সরকারের শেষ সময়ে মানুষকে পাশে চাইছে? বলা চলে নব্বইয়ের দশক থেকেই আওয়ামী লীগ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলিকে পাশে নেবার চেষ্টা করেছে যখনই তারা সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী ঘাতক জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও আক্রমণের শিকার হয়েছে। আবার ক্ষমতায় গিয়ে সতার্থ বন্ধুদের ভুলে গেছে! শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও অন‍্যান‍্য প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সুশিল সমাজের ঐক‍্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হয়। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়েই সব ইতিহাস পেছনে ফেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নটি এড়িয়ে গিয়েছিল। অবশ‍্য জাতির জনক ও জাতীয় চার নেতার পৃথিবীর সবচাইতে বর্বরতম নৃশংস হত‍্যাকান্ডের বিচারের সব বাধা দূর করে খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করে।
সরকারি দল একদিকে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস মোকাবেলায় জনগণের সহযোগিতা চাইছে আরেকদিকে জামায়াত নেত্রীর পুত্রকে প্রতিমন্ত্রী বানাচ্ছে! আবার রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকেও বহাল রাখছে। বাহ্ চমৎকার নীতি! এই দলটি নির্বাচিত নেতাকে কোনরকমের কারণ ছাড়াই পদচু‍্যৎ করে জ্বি-হুজুরমার্কা ব‍্যক্তিদের রাতারাতি নেতার পদ দিয়ে পুরস্কৃত করছে। আওয়ামী লীগের কতিপয় মন্ত্রি-মেয়র ও এমপি নাকি টাকার বিনিময়ে জামায়াত-শিবিরের ক‍্যাডারদের পুলিশের চাকরিতেও বসিয়েছে। এধরণের অভিযোগ হরহামেশাই প্রকাশিত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ‍্যমগুলিতে। গল্পের এখানেই শেষ নয়, জামায়াত-শিবিরের ক‍্যাডার ও কর্মীরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ও ছাত্রলীগেও ঢুকে পড়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। আবার ছাত্র ইউনিয়ন বা প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন করা সরকারি কর্মকর্তা বা পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্ষমতাসীন কারও অনৈতিক কাজে সায় না দেবার কারণে শাস্তিমূলক বদলি এমনকি ওইসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ‍্যা রটনাও ছড়ানোর খবর বেরিয়েছে ফেইসবুকে।
শেখ হাসিনা, তাঁর দল আওয়ামী লীগের কাছে আমার প্রশ্ন-সংসদে ব্রুট মেজরিটি থাকার পরও জামায়াত-শিবির তথা ধমর্ীয়-মৌলবাদি রাজনীতি নিষিদ্ধ করছেন না কেন? কেন দলের ভেতরে (মাঠ পর্যায়ে বা তৃণমূল পর্যায়ে) সংহতি ও ঐক‍্য গড়ে তুলতে পারছেন না? কেন দেশজুড়ে এমপিতন্ত্র কায়েম করা হয়েছে? কেন ত‍্যাগি ও দীর্ঘদিনের পুরনো নেতাদের বাদ দিয়ে (প্রায় ১৬০ টি আসনে) নব‍্য ও কালো টাকার মালিকদের বিগত নির্বাচনে নমিনেশন দিয়ে দলের ভেতরের সংহতি ও একতাকে বিনষ্ট করা হয়েছে, এবং কে এরজন‍্য দায়ি? আওয়ামী লীগের ভাগ‍্য সুপ্রসন্ন এই জনে‍্য যে দেশে জনগণের কথা ভাবে (তবে ক্ষমতার কথা ভাবে তারা) এমন শক্ত বিরোধীদল নেই! দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সুবিধাবাদি-তোষামদকারিরা কেন বেশি প্রিয় দলীয় ত‍্যাগী নেতা-কর্মীদের চেয়ে?
বাহাত্তরের মূল সংবিধান মতে দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার সুযোগ ছিল না। শেখ হাসিনার দল কেন সেই মূল সংবিধানে ফেরার সাহস করছেন না? এখনও সময় ফুরোয়নি। নিজের ঘর সামলাতে পারলে, সুবিধাবাদী চক্রকে বিতাড়ন, দুর্নীতি ও বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করে, দেশে গণতন্ত্রের (প্রকৃতার্থে) চর্চা ও ন‍্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে পারলেই কেবল সাধারণ মানুষসহ সমমনা সকল রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সমর্থন মিলবে পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড মোকাবেলা করা সম্ভব। নইলে সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদি শক্তিকে মোকাবেলা করাটা অত সহজ হবে বলে মনে করি না। কাজেই অন‍্যদের ঐকে‍্যর পথে ডাকার আগে নিজের ঘর ঠিক করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে আওয়ামী লীগের জন‍্য! ছবি গুগল থেকে নেয়া।

হুমায়ূনকে নিয়ে তসলিমার লেখা: আপন সন্তানদের নদীতে ফেলছে অভাব।। সাগর-রুনি হত‍্যা মামলার অগ্রগতি জানে র‍্যাব!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। পুলিশ ব‍্যর্থ হলো,তার স্বীকারোক্তি আদালতে গিয়ে দিলো। আদালত বললো মামলাটির তদন্ত করতে পারবে প‍্যারামিলিটারি ফোর্স বা র‍্যাপিড একশান ব‍্যাটালিয়ান (র‍্যাব)। তাই তারা মামলাটিকে র‍্যাবের হাতে তুলে দিলো। এখন দেখা যাচ্ছে র‍্যাবও মামলার কোন কিনারা করতে পারছে না। তবে র‍্যাব এখনও বলেনি যে তারাও ব‍্যর্থ! টিভি সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির নৃশংস হত‍্যা মামলা নিয়ে বলছি। যাহোক হয়ত র‍্যাব কোনদিন এমনটা মানে তারা ব‍্যর্থ তা বলবে না। বরং তারা বলবে তারা সবসময় সব অপারেশনেই সফল! এই যেমন ধরুন,দরিদ্র পরিবারের সন্তান কলেজছাত্র লিমনের পা পঙ্গু করে দেয়া, সাংবাদিক এফএম মাসুম তার বাড়িতে গিয়ে পেটানো, দরগা শরীফের দুই কোটি টাকা মেরে দেয়া, কিংবা বিরোধী দলের নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করে ফেলা বা অমুককে ক্রস দিয়ে দাও ইত‍্যাদি আরও শত সহস্র উদাহরণ আছে।
সাগর-রুনির মামলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ‍্যম ফেইসবুকে একজন সাগর-রুনি হত‍্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন‍্যায়বিচারের নিশ্চয়তা চেয়ে স্টাটাস লিখেছেন। এমনসব স্টাটাস ও প্রত‍্যাশায় হাসবো নাকি কাঁদবো কিছু বোঝার উপায় নেই। আসলে আমাদের প্রত‍্যাশা আর প্রাপ্তি এই দুইয়ের মাঝেতো আকাশ-পাতাল ফারাক! যেখানে আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক মৃতু‍্যর নিশ্চয়তা নেই সেখানে আবার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার পাবার প্রত‍্যাশা?
বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থা ও কাঠামোয় মেঘেরা এমন নিশ্চয়তা কেয়ামতের পরেও পাবে না! এমন কথা এখানে লেখার জন্য মেঘের কাছেই ক্ষমা চাইছি। সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির নৃশংস হত্যাকান্ড নিয়ে ফেইসবুকে আর ব্লগে যত মাতামাতি, কান্নাকাটি আর মেঘের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতির ছড়াছড়ি দেখলাম আমরা তার চুল পরিমাণ করেও যদি প্রত‌্যেকে নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের নেতা-পছন্দের নেত্রী কিংবা সাংবাদিক বন্ধুদের সবার ওপরে যদি চাপ সৃষ্টি করতে পারতাম একজোট হয়ে তাহলেও হয়ত সেটা আশা করা যেতো। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা কবরে যাবার আগেও এক হতে পারবো না। শুধু সবাই আমরা (আমিও বাদ নেই) ফাল পাড়ছি মিছেমিছি সহানুভুতির জোয়ার ভাসায়ে! কেউ কেউ পুরস্কার পাচ্ছি, আর সেই পুরস্কার পাবার জন্য নামকাওয়াস্তে ছবি আঁকছি, কিংবা রাস্তার ধারে বুকে একটা কাগজ ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছি কয়েক মিনিট, অথবা বড় বড় জোরগলায় সাংবাদিক ও মিডিয়ার কাছে বাণী, সাক্ষাৎকার দিচ্ছি, ব্যস সব পেয়ে গেলাম! কিন্তু কাজের কাজ কিচ্ছু হচ্ছে না। ওখানেতো কোন ন্যায়বিচার-আইনের শাসনই নেই। সেখানে আবার নিশ্চয়তা!
নির্বাসিত বাঙালি লেখক তসলিমা নাসরিন সদ‍্যপ্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে একটি কলাম লিখেছেন। লেখাটি দারুণভাবে আলোড়িত হয়েছে বাঙালি সচতেন সমাজে। অসাধারণ সেই লেখা সম্পর্কে আমার শিক্ষক (সরাসরি আমি উনার ছাত্র ছিলাম না কিন্তু আমি যখন রাজশাহী বিশ্বিবদ‍্যালয়ে দর্শন বিভাগের ছাত্র তখন তিনি একই বিশ্বিবদ‍্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক) কাবেরী গায়েন ফেইসবুকে একটা স্টাটাস দিয়েছেন। সেটি এরকম, “তসলিমা ‘কোদাল’-কে কোদাল বলতে জানেন বলেই তিনি তসলিমা। তাকে অভিবাদন।” তারই প্রতিক্রিয়া জানাতে চাই স্বল্প পরিসরে।
কাবেরী ম‍্যাডাম ক্ষমা করবেন এই জন‍্য যে আপনার স্টাটাস নিয়ে মন্তব‍্য করছি বলে! আসলে নিজ ঘরে থেকে যা বলা যায় না অনে‍্যর ঘরে থেকে তা বলা যায়! কারণ পার্থক‍্যটা সমাজ ও রাষ্ট্রের অভ‍্যন্তরে গণতন্ত্র ও সহনশীলতা চর্চার। আর তসলিমা নাসরিন সেটা ঘরেও করেছেন, বাইরেও করছেন সমানতালে। এজন‍্যইতো উনাকে আমাদের রাষ্ট্র (আসলে রাষ্ট্র নয় সরকার এবং গুটিকতক ধর্মান্ধ ও বিবেকঅন্ধ উগ্র মানুষ) স্বভূমে ফিরতে দেয় না! এই যেমন ধরুন, বিচার বহির্ভূত হত‍্যা-নির্যাতন নিয়ে আমাদের বুদ্ধিজীবীরা খুব একটা মাথা ঘামান না, কারণ ওটা চালিয়ে নিতে চাইছেন আমাদের দুই পরম নির্ভরতম! নেতা খালেদা ও হাসিনা! আমরা বিভক্ত হয়ে গেছি এই দুই শিবিরে, হয় “খ” নয়তো “হ” এর তলে। তাই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাই বলি আর গণমাধ‍্যমের স্বাধীনতাই বলি কিংবা মানবাধিকারের কথাই বলি সবকিছুই হারিয়ে যাচ্ছে “অন্ধভক্তিবাদমূলক (সবকিছুতে জ্বি ম‍্যাডাম/আপা নয়তো জ্বি নেত্রী)” রাজনীতির কবলে পড়ে। তাও বাঁচা যে আমাদের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম‍্যান ‘হতভাগ‍্য’ কলেজছাত্র লিমনের পা হারানোর পর নিজের চোখ থেকে জল মুছেছেন রুমাল দিয়ে, অনেক বড্ড বড্ড গালগল্প দিয়েছিলেন। অথচ এখন লিমনের পাতো গেছেই, তাঁর মায়ের করা মামলাটিরও ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে পুলিশ। অন‍্যদিকে লিমনের নামে ঠিকই ঝুলছে র‍্যাবের করা হযরাণিমূলক মামলাটি। তসলিমা নাসরিন অবশ‍্য এসব নিয়ে কিছু লিখেন বলে আমার জানা নেই। তবুও ধন‍্যবাদ তসলিমা নাসরিনদেরকে, সত‍্যটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে নয় সোজাসুজি করে লিখে দেবার জন‍্য।
কুষ্টিয়ায় এক দরিদ্র পরিবারের দুই শিশু ঈদ উপলক্ষে বাবার কাছে নতুন জামা-কাপড় কিনে চাওয়ায় তাদের বাবা শিশু দুইটিকে পদ্মা নদীতে ফেলে দিয়ে হত‍্যা করেছে। লাশ এখনো মিলেনি। সেই পিতার বিরুদ্ধে শিশুদের মা হত‍্যা মামলা করেছেন। সেই মা অনে‍্যর বাসা-বাড়িতে কাজ করে কোনরকমে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন যোগাতেন। সূত্র প্রথম আলো।
ড. ইউনুস দারিদ্র‍্য বিমোচনের নামে নোবেল পুরস্কার পান। দারিদ্র‍্য দূর হচ্ছে এবং হ্রাস পাচ্ছে বলে সরকারপ্রধান হাসিনা প্রায়ই দেশে-বিদেশে গালগপ্প মারেন! খালেদাও ঠিক তাই বলতেন তাঁর সময়ে। আসলে দারিদ্র‍্যতা কতটুকু কমছে বা কমেছে বাস্তবে তা বলা কঠিন। হয়ত দলীয় বুদ্ধিজীবী ও গবেষকরা হাসিনা কিংবা খালেদাকে খুশি করাবার জন‍্য নতুন নতুন লেখা ও গবেষণা রিপোর্ট তৈরি করে দেন! কিন্তু গ্রাম-গঞ্জে তার ঠিক উল্টো চিত্রটাই ধরা পড়ে। যার প্রমাণ মিললো কুষ্টিয়ার সেই নির্মম ঘটনায়। আসলে ধনী-দরিদ্রের ফারাকটা ক্রমশ: উপরের দিকেই ধাবিত হচ্ছে। একদল জৌলুসপূর্ণ জীবন-ডাপনের পাশাপাশি অপচয় করছে, আরকেদল সেখানে খাবারই পাচ্ছে না। দুর্নীতি, দলীয়করণ, হিংসা, বিদ্বেষ, অবিশ্বাস, অসহিষ্ণুতা আর ক্ষমতাপ্রিয়তার কাছে হারছে মানবতা!
আবার সোশ‍্যাল মিডিয়ায় ছোট্র সোনামণি “মেঘ”কে নিয়ে অনেকেই সহানুভুতি আর ভালোবাসার ছড়াছড়ি করবেন-এতে কোন সন্দেহ নেই আমার! গত ঈদে কতই না আনন্দ আর মজা করেছে মেঘ তার প্রিয় বাবা-মার সাথে। আর এবার সবই যেন শূণ‍্য তার! কবে সাগর-রুনির খুনি ধরা পড়বে কে জানে, বিচারতো অনেক দূরের পথ? আগে খুনিরা ধরাতো পড়ুক?
মায়ের ভূমিতে এমন হাজারো মেঘের ঈদআনন্দ কাটবে নিরানন্দে! অনেকের বাবা-মাকে সাগর-রুনির মতো হত‍্যা করা হয়েছে, কারও পিতা-মাতা স্বাভাবিক মুতৃ‍্যবরণ করেছেন আবার কারও বাবা বা সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। মিডিয়া মেঘের কথা বলবে, লিখবে কিন্তু অন‍্য মেঘদের খবর কে রাখে বলুন?
এমন এক অমানবিক অবস্থায় আমরা একদল মানুষ ঈদ শুভেচ্ছা জানানোর উৎসবে মেতেছি। নিশীথসূযর্ে‍্যর দেশে থেকে ঈদআমেজ বোঝার কোন উপায় নেই। দেশে-বিদেশে থাকা সব বাঙালি শ্রদ্ধেয়-সুপ্রিয় বন্ধু আপনাদের সকলকে বলছি, ঈদ হোক সবার জন‍্য আনন্দের আর সুখের। দারিদ্র‍্যতার কারণে যেন কোন বাবা তার সন্তানদের পদ্মায় ফেলে হত‍্যা করতে না পারে, সেইরকম একটা পরিস্থিতি যেদিন স্বদেশে ফিরবে সেদিনই কেবল ঈদ হবে আনন্দময়, সর্বজনীন!!! সবাই ভালো থাকুন, শুভেচ্ছা। ছবি গুগল থেকে নেয়া।