Category Archives: War Criminality

সহিষ্ণুতা আর ভালোবাসা ছাড়া গণতন্ত্র ও শান্তি মেলে না!

Jahanaraimam-shahbagh

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বিশ্ব স্কি প্রতিযোগিতায় নরওয়ের দুই যুবক প্রথম ও তৃতীয় স্থান দখল করেছেন। তারজন‍্য তাঁদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে একটা ছোট্র স্টাটাস লিখেছি ফেইসবুকে। ভাষাটা নরওয়েজিয়ান। এজন‍্য ফেইসবুকের তিন বন্ধু  শুভাশীষ, চন্দন ও তারিক কী ভাষায় লিখেছি বলে জানতে চেয়ে জবাবদিহি করেছেন। অন‍্যদিকে হাতে গোনা ক’জন যুদ্ধাপরাধীর প্রতীকী নয় সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে অভিমত প্রকাশ করে ব্লগ লেখার কারণে একজন আওয়ামী সমর্থক ফেইসবুকার আমাকে বন্ধু তালিকা থেকে বরখাস্ত করেছেন। নিউইয়র্কপ্রবাসী এই বন্ধুর স্বউক্তি হলো, আমি নাকি উনার অন‍্যতম খুবই আপনজন!

ইন্টারনেটের জাদুকরী উৎকষর্তা বিশাল পৃথিবীকে ছোট্র একটা বাড়িতে পরিণত করেছে। কাজেই কোন ভাষায় কে লিখলো, কী লিখলো তা জানার জন‍্য কোন বইও পড়তে হয় না, গবেষণারও প্রয়োজন পড়ে না। গুগল সবকিছুর সমাধান দিয়ে দিয়েছে! আর আমি এখানে একটা নতুন ভাষা শেখার জন‍্য সংগ্রাম চালাচ্ছি। এই ভাষাটা শিখতে পারলে আমার স্বপ্নের সাংবাদিকতা পেশাটা এখানেও চালিয়ে যেতে পারবো। তাই এই নয়া ভাষাটাই বেশি ব‍্যবহার করছি এখন, তার মানে এই নয় যে মায়ের ভাষা ভুলে গেলাম।

মা, মাটি আর মাতৃভূমিকে স্মরণ করি আমার বাংলা ব্লগে। শুধুমাত্র অভিমত প্রকাশের জন‍্য পাড় আওয়ামী লীগ ও পাড় বিএনপি মার্কা লোকজন বন্ধুর তালিকা থেকে আমার বাদ দিচ্ছেন, এটা দু:খের কোন বিষয় নয়। বরং আমি নিজেকে চিনছি প্রতিমূহুতর্ে। আর ওরা ঘাতক জামাত-শিবির, যুদ্ধাপরাধীরাতো আমার আজন্ম শত্রু। তার প্রমাণ আমার ইংরেজী ভাষায় প্রকাশিত বই Pain বা দু:খ তে (http://www.amazon.ca/Pain-Jahangir-Alam-Akash/dp/1456858025) সব পাওয়া যাবে।

আমি নিজেই আমার বন্ধুর তালিকাটাকে সংকুচিত করার উদ‍্যোগ নিয়েছি, কারণ যাদেরকে ব‍্যক্তিগতভাবে চিনি না তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখাটা অনেকটা বিড়ম্বনারও বটে! তবে যখন শুধুমাত্র মতপ্রকাশের কারণে বহু পুরনো ও জানাশোনা মানুষ বন্ধুর তালিকা থেকে আমাকে বাদ দিচ্ছেন তখন বোঝা যায় আমাদের সহিষ্ণুতার মাত্রাটা কোন পর্যায়ে আছে? আর অসহিষ্ণুতাকে হৃদয়ে ধারণ করে মানুষ কী করে গণতান্ত্রিক বলে নিজেকে দাবি করতে পারে তা আমার বোধে ধরা পড়ে না!

এই লেখাটি যখন লিখছি তখন প্রথম আলোর একটি রিপোর্টে চোখ পড়লো। একটি রিপোর্টের শিরোনাম হলো: “ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নয় জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ চাই: শাহবাগের ঘোষণা”। বঙ্গবন্ধুর বাহাত্তরের সংবিধানে ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কোন সুযোগ নেই। দেশেতো কেবল জামাত-শিবিরই সাম্প্রদায়িক দল নয়, আরও বহু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল আছে। বাহাত্তরের মূল সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন বাংলাদেশে কোন ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বা রাজনৈতিক দল থাকতে পারে না।

এখানে অন‍্য একটি ভিন্ন প্রসঙ্গে সামান‍্য তথ‍্য তুলে ধরতে চাই। পুরো বিএনপি-জামাত জোট সরকার বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি বলে আবার বাংলা ভাই বাহিনীকে রসদ জুড়িয়েছিল মানুষ হত‍্যা নির্যাতন করার জন‍্য বিশেষ করে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদেরকে! আরেকটি কথা খালেদাই র‍্যাব সৃষ্টি করেছিল আর এখন খালেদা হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলে র‍্যাবের হত‍্যা-গুম ও বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড নিয়ে! অবশ‍্য হাসিনাও বিরোধীদলে থাকার সময় র‍্যাবের হত‍্যা-নির্যাতনের বিপক্ষে অবস্থান নেন। আর ক্ষমতায় এসে র‍্যাবের কর্মকান্ড অব‍্যাহত রাখলেন! সংঘাতপূর্ণ ও বিপরীতমুখী রাজনীতি দেশে অশান্তি আর অবিচারের মূল কারণ।

পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বরতম গণহত‍্যা সংঘঠিত হয় বাংলাদেশে। ১৯৭১ সালে  পাখির মতো মানুষকে মারা হয়েছে। আর নারীদের ধর্ষণ করা হয়েছে গণহারে। এই নৃশংসতা কী কেউ মেনে নিতে পারে, নাকি যায় ভোলা? সেই পাষন্ড, বর্বর, খুনি ও ধর্ষক সকলের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কী মনের জ্বালা মিটে?

স্বদেশের মাটি থেকে সকল আপদ, বিপদ আর সন্ত্রাসী, জঙ্গিপনা ও সাম্প্রদায়িকতা, ঘাতক, খুনিদের বিচারের মাধ‍্যমে শহীদের ও শহীদ স্বজনদের আত্মায় শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টাই হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন। হিংসা, সংঘাত, হানাহানি, প্রতিহিংসা কেবল অশান্তি বাড়ায়, সহিষ্ণুতা আর পরমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও ভালোবাসা ছাড়া শান্তি আসে না আর গণতন্ত্রও  চর্চা করা যায় না।

পরিশেষে বলবো, দেশের মাটিতে সতি‍্যকারের আলো পড়লে দূর প্রবাস থেকেও বুকটা গর্বে ভরে উঠবে। ছবি-গুগল থেকে সংগৃহীত।

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেয়াটাই কী জরুরি?

Bangladesh

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশ নামক ফুল ও বাগানটি যাদের হাত থেকে বাঁচানোর জন‍্য বাঙালি লড়েছিলেন সেইসব ঘাতকদের হাতেই পড়ছে বাগান ও ফুল পরিচচর্ার ভার। বিচার ছাড়া কিছু চাওয়ার নেই। তবে হাতেগোনা ক’জনের প্রতীকী বিচার নয় সব যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, ঘাতকের বিচার চাই যারা তিন মিলিয়ন বাঙালি হত‍্যা ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম লুট করেছিল এবং পাকিদের সহায়তা করেছিল তাদের বিচারের পাশাপাশি দেশ থেকে দুনীর্তি, দলীয়করণ ও পরিবারতন্ত্রের কবর রচিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলার আকাশে শান্তির পায়রা উড়বে না। সেইজন‍্য চাই চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের একটা স্বপ্ন জাগানিয়া জাগরণ শাহবাগে সূচিত হয়েছে। এই শুভ আলোয় যেন কেউ কালিমালেপনের সুযোগ না নেয় তারজন‍্য সরকারের দৃঢ়তা আশা করে জাতি। ইতোমধে‍্য ব্লগার শোভনকে হত‍্যা করেছে পুরনো শকুনরা। আমার, আমাদের বণর্মালায় আগুন দেয়া হয়েছে। অহংকারের পতাকার অবমাননা করছে ওরা।

ঘাতক যুদ্ধাপরাধীরা জগদ্দল পাথরের মতো মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও তাঁদের পরিবারের বুকে সবর্োপরি বাংলাদেশের বুকে চেপে বসে আছে দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে। একমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই পারে নির্যাতিত, নিগৃহীত মা-বোন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে। ফাঁসি বা মৃতু‍্যদন্ড (নৈতিকভাবে আমি মৃতু‍্যদন্ড সমর্থন করি না, সেটা গোলাম আজমের মৃতু‍্যদন্ড হোক, জিয়ার খুনিই হোক, বঙ্গবন্ধুর খুনিই হোক, একজন মানুষ হত‍্যার আসামিই হোক বা বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত রাষ্ট্রীয় কোন কর্মচারির মৃতু‍্যদন্ডই হোক না কেন)  প্রদান বড় কথা নয়, জরুরি হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। একইভাবে সমান জরুরি দেশ থেকে দুর্নীতি, দারিদ্র এবং রাজনৈতিক অসুস্থ‍্যতার অবসান। আশা করি জাগ্রত প্রজন্ম এসব বিষয়ও আন্দোলনের অন‍্যতম প্রধান ইসু‍্য হিসেবে সামনে নিয়ে আসবে।  ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

শাহবাগ জেগে আছে নিরন্তর, ঘুচে যাবে অন্ধকার!

rajib

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ। ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভনকেও খুন করলো ওরা। স্বদেশে মানুষ হত্যা এক মামুলি ব্যাপার। ওখানে সরকারি বাহিনী খুন করে অবলীলায়। কখনও কখনও গুম করে দেয়া হচ্ছে রাজনীতিক কিংবা সাধারণ মানুষকে। কিছুদিন আগে ব্লগার আসিফ মহউদ্দীনকেও হত্যাপ্রচেষ্টা চালিয়েছে শয়তানের দল। সেই হত্যাপ্রচেষ্টাকারিদের শনাক্ত করতে পারেনি সরকার। সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিরা ধরা পড়েনি আজও। কোন হত্যাকান্ডই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। সকল হত্যাই নির্মম ও নিষ্ঠুর। হয়ত খুনিদের জিঘাংশার মাত্রা কারও ওপর প্রকাশিত  হয় বেশি।  যেমনটি ঘটেছিল সাগর-রুনির বেলাতেও।  মানুষ কতটা নিষ্ঠুর, অমানবিক ও নৃশংস হলে কাউকে খুন করা হয় আঘাতের পর আঘাতে। কতটা র্ববর হত্যার পর আবার জবাই করা হয়।

দেশে একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটে আর আমাদের সচেতন নাগরিক সমাজ জেগে ওঠে মডিয়া, ব্লগ কিংবা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলিতে। ভাবখানা এমন যেন কাউকে খুন করার পর সবাই বিপ্লবে ঝাপিয়ে পড়ছে। শেষ পর্যন্ত সবাই নিরব হেয়ে যায়। স্বজন হারানোর বেদনা কেবল সংশ্লিষ্ট পরিবারই য়ে বেড়ায় অনন্তকাল।

প্রতিটি হত্যাকান্ডের পর একই কথা, একই হুংকার, একই বক্তব্য আসে সরকারে যারা থাকে তাদের কাছ থেকে। সহযোদ্ধারাও একেকজন বিপ্লবী হয়ে ওঠে। কিন্তু শেষমেষ সব চুপচাপের মধ্যে চলে যায়। নিহত বন্ধুটিরে প্রতি লালসালাম জানানোর ধুম পড়ে। পাশাপাশি নিহত বন্ধুটির রক্ত বৃথা যেতে দেবোনা বলে মাতম তোলে অনেকে। কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান আসে না কোনবারই কখনও না।

ঘাতক রাজাকার যুদ্ধাপরাধীর দল গুপ্ত হত্যা চালাতে পারে- এই বিষয়ে সরকারে গোয়েন্দাসংস্থাগুলি কী করে? প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা শোভনের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর প্রধানমন্ত্রি বললেন জামাতের রাজনীতি করার অধিকার নেই। কিন্তু সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বা জামাতের রাজনীতি বন্ধ করা হচ্ছে না কেন, বিগত চার বছরের শাসনকালেও এটা করা হলো না কেন তার জবাব কী শেখ হাসিনার কাছে আছে?

ঘাতকগোষ্ঠী ছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সকলেই চান। ফাঁসি নাকি যাবজ্জীন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিচার করার জন্যইতো আন্তজার্তিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এবার কিছু বাস্তব প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাই আজকের লেখায়। তার আগে একটু পেছন ফিরে দেখা যাক, কিভাবে জামাত-শিবির তথা যুদ্ধাপরাধীরা রাজনীতি-অর্থনীতি ও সমাজে যে শক্ত ভীত গড়ে তুলতে সক্ষম হলো তার জন্য কে দায়ী? শুধু কী সামরিক সেনা ছাউনিতে গড়ে ওঠা দলগুলিই দায়ী নাকি মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদানকারি রাজনৈতিক দলগুলিরও দায় আছে বা ছিল এক্ষেত্রে?

জাতির  পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশে ছিল স্বৈরশাসন। ১৯৯১ সাল থেকে অবসান হলো স্বৈরশাসনের। কিন্তু বিগত দুই দশকের অধিক সময় ধরে দেশের মানুষ কী দেখতে পেয়েছেন গণতন্ত্রের প্রকৃত রুপটিকে বাস্তবে? শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে হড়ে ওঠা গণজাগরণকে কী ১৯৯৬ সালের পরের আওয়ামীলীগ সরকার যথাযথ সম্মান দেখাতে পেরেছিল? ২০০৮ এর জাতীয় নির্বাচনের জাতীয় গণরায় আওয়ামী লীগের মহাজোটকে দিলেন দেশবাসি। কিন্তু কিসের মোহে তারা বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে পারলো না? এজন্যও কী যুদ্ধাপরাধীরাই দায়ী নাকি আমরাও অনেকাংশে দায়ী? বাহাত্তরের মূল সংবিধানে পুরোপুরি ফিরে গেলেইতো ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার কোন সুযোগই থাকে না কারও। সেই পথে হাসিনার মহাজোট সরকার হাটলো না কেন?

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়াটা যেমন খুবই জরুরি তেমনিভাবে জরুরি চলমান দুর্নীতি, নিযার্তন, ধর্ষণ, বিচার বহিভূর্ত হত্যাকান্ড, সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন বন্ধসহ রাজনৈতিক অসুস্থ্যতাকে সারিয়ে তোলা। রাজনীতিতে সহনশীলতার চর্চা এবং সকল মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ছাড়া কী গণতন্ত্রকে সামনের দিকে চালানো যায়? সমাজে দলবাজি ও ব্যক্তির নয়  আইনের শাসন না থাকলে কী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যাবে?

অনেকে হয়তো মনে করছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের একটা রায় বা ফাঁসির রায় এবং তা কাযর্কর করা গেলেই দেশে শান্তির সুবাতাস বইবে! সমাজ থেকে বৈষম্য, অনাচার, অবিচার, দুর্নীতি, হত্যা, গুম বন্ধ না হলে যুদ্ধাপরাধীদের হাজারবার ফাঁসি দিলেও মুক্তিযুদ্ধের যে আসল চেতনা, লক্ষ তার কাছে পৌছানো সম্ভব না।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাতো একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ যেখানে ক্ষুধা, দুর্নীতি, দারিদ্র, বৈষম্য, অবিচার, নারী অবমাননার কোন চিহ্ন থাকার কথা ছিল না। দেশটা একটা সোনার বাংলাদেশ হবে।স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের সম্ভ্রম হারানোর জন্য কী দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন মহান মুক্তিযোদ্ধারা? মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষা করবেন বা রিকশা চালিয়ে সংসার চালাবেন তার জন্যই কী মুক্তিযুদ্ধ? সাংবাদিক-ব্লগার হত্যা হবেন তার জন্যই ৩০ লাখ মানুষের আত্মদান? মা-বোনেরা রাস্তা-ঘাটে বা নিজ বাড়িতে নিজের সম্ভ্রম হারাবেন তারজন্যই কী ১৯৭১ এর যুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন বীর বাঙালি? পোশাক কারখানায় শতশত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করার জন্যই কী বঙ্গবন্ধু দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন?

ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদেরকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করবার জন্য কিংবা রাজনীতিকে পারিবারিকীকরণ করার জন্যই কী একাত্তরে দুই লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন? রাষ্ট্রই বিনাবিচারে মানুষকে হত্যা করবে তারজন্যই কী দেশের মানুষ লড়েছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে?

সবার শেষে বলতে চাই, প্রজন্ম যে বাংলার বুক থেকে সকল অনাচার, হত্যা-যুদ্ধাপরাধ, সাম্প্রদায়িকতা ও অবিচার বিরোধী জাগরণী গানের সুরের ঝংকার তুলেছেনে সারা বাংলায় তার মুর্ছনায় দেশ, দেশের রাজনীতি ফিরে পাবে এক নতুন পথের দিশা। জয় বাঙলা, জয় প্রজন্ম। যত আসবে আঘাত বিপ্লবী কন্যা লাকিদের ওপর কিংবা মানবতাবাদী রাজীবদের ওপর ততই শাহবাগের চেতনা ছড়িয়ে পড়বে দেশ থেকে দেশান্তরে। শাহবাগ জেগে আছে নিরন্তর, ঘুচে যাবে অন্ধকার, বাংলার আকাশে উদিত হবে শুভ সকাল।  ছবি গুগল থেকে নেয়া।

এগিয়ে যাও লাকি, প্রজন্ম তোমার সাথে!

bdmovementagainstwarcriminals
এগিয়ে যাও লাকি, প্রজন্ম তোমার সাথে!
-জাহাঙ্গীর আলম আকাশ

মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ তুমি আমার বাবার সম্পত্তি!
তাই তোমার চেতনা কেবল আমরাই ধারণ করি।
মুক্তযুদ্ধের চেতনায় শান দেবেন যারা
তারাই আমাদের র্টাগেট।
তাই বিপ্লবী কন্যা লাকির ওপর হামলা করি
পরক্ষণেই আবার বলি
আমারও মন যেতে চায় শাহবাগে।
শুধু কী তাই,
ঘাতক-যুদ্ধাপরাধীদের সাথে র্নিবাচনি আঁতাত করি
জামাতনেত্রীর সন্তানকে বানাই প্রতিমন্ত্রি,
র্নিবাচিত নেতাকে বাদ দিয়ে সুবিধাবাদিদের বানাই নেতা
নিজ কন্যাকে বধূ সাজে পাঠাই রাজাকারের বাড়ি
শহীদ জননীর কর্ষ্টাজিত আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলি
৩০ লাখ মানুষ হত্যা আর দু’লাখ নারীর সম্ভ্রমসহানির
চেয়েও বড় আমার পরিবার
তাইতো যুদ্ধাপরাধের আগে বাবা হত্যার বিচার করি।
যুদ্ধাপরাধের বিচার করবো প্রতিশ্রতির বিনিময়ে
প্রজন্মের ভোট ঘরে তুলি।
তাই বাধ্য হয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করি
কিন্তু ক্ষমতারোহণের চার বছরেও বিচার শেষ করিনি।
এখন সময় শেষ আসছে র্নিবাচন
যেতে হবে জনগণের কাছে আবার
চাইবো পুন:ক্ষমতারোহণের ভোট।
তাইতো চাই একটা রায়
সেটা হোক না কেন গুরু পাপে লঘু শাস্তি!
ঘাতক জামাত-শিবির ছাড়া
র্সবস্তরের মানুষ ও রাজনৈতিক দল যুদ্ধ করেছে বটে
কিন্তু নেতৃত্বটাতো এসেছে হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালি
জাতির পিতার কাছ থেকেই
আর উনিইতো আমার পিতা
সুতরাং মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে
আমার দলকেই বোঝায়
আর আমার দলের নেতাদেরই তোমরা বক্তব্য দিতে দেবে না
এটা কী মেনে নেয়া যায়?
সেজন্যইতো আমার সোনার ছেলেরা
ওকে আঘাত করেছে।
দেশে আর কেউ অগ্নিকন্যার খেতাব পাক
সেটাও মেনে নিতে পারবো না
স্বীকৃত অগ্নিকন্যাওতো আছেন আমারই দলে।
আবারও শ্বরণ করিয়ে দিই
আমার দল ছাড়লে রাজাকার
কিন্তু আমার দলে আসলে সবাই মুক্তিযোদ্ধা
এই হলো আমার মূলমন্ত্র।
কেউ আমার দলে সংস্কার চাইলে
তিনি যত বড় নেতাই হোন না কেন
তার কোন দাম নেই আমার কাছে।
সোনাতো তারাই যারা তোষামদি, চাটুকারিতা
আর সুবিধাবাদিতার জাদুবিদ্যায় বিমুগ্ধ করে আমায়
তাইতো ব্যবসায়ী, টাকাওয়ালারা পায়
আমার দলের মনোনয়ন।
আমি গণতন্ত্রের মানসকন্যা
তাই অর্নিবাচিত আর মনোনীতদের দিয়ে
চালাই দেশের র্সবোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি।
বুড়ো আর অছাত্রদের বানাই আমি
আমার দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা।
আমার সন্তান, বোন অন্য আত্মীয়
সবাই একে একে হবেন একেকজন নেতা
ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের
নেই কোন প্রয়োজন।
বাবাই আমার দেশটাকে করেছে স্বাধীন
তাইতো ছোট্র একটা ভবনের নামকরণ
বাবার নামেই করতে নেই কোন লজ্জা আমার
কারণ কোন ভবন বা সেতুর নামকরণতো
জাতির পিতার সম্মানের চেয়েও বড় মনে হয় আমার।
জনগণ চাইছে বাহাত্তরের সংবিধানের পুন:স্থাপন
সেই সংবিধানটাওতো আমার বাবাই করেছিলেন।
বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে গেলেতো
র্ধমভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে
সেটা করলে যদি সংখ্যাগরিষ্টের ভোট হারাই
তাইতো অর্ধসমাপ্ত করে রেখেছি
বাহাত্তরের সংবিধানে পুন:প্রর্বতনের উদ্যোগ।
যেখানে একটা সাধারণ খুনের ঘটনায়
র্সবোচ্চ শাস্তি মৃতু্যদন্ড দিতে র্কাপণ্য করে না আদালত
সেখানে এতগুলি খুন ও যুদ্ধাপরাধ করেও শুধু যাবজ্জীবন
তাইতো ফুঁসে উঠেছে প্রজন্ম ও জনতা
চেতনার আন্দোলন শুধু প্রজন্ম চত্বর শাহবাগেই থেমে নেই
মুক্তির মশাল জ্বলেছে জেলায় জেলায় দেশজুড়ে।
এটাইতো একটা মওকা জনতার আন্দোলন
প্রজন্মের আন্দোলনকে নিজের ঘরে তোলার।
তাই যেভাবেই হোক আন্দোলনের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব
আমার দলের হাতে আসা চাই, চাই-ই চাই।

বি.দ্র.: আমি কবি নই, এলোমেলো তথা নিজের মতো করে মনের ভাব প্রকাশ করি মাত্র। “এগিয়ে যাও লাকি, প্রজন্ম তোমার সাথে” লেখাটি (কবিতা কিনা জানি না) উতর্সগ করছি সময়ের সাহসী বিপ্লবী কন্যা লাকি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া প্রজন্মকে। ছবিটি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

যুদ্ধাপরাধের বিচারও চলছে পাশাপাশি ঘটছে যুদ্ধাপরাধও!

women
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। স্বদেশে কেবল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই চলছে না, পাশাপাশি চলছে যুদ্ধাপরাধও। আর নব এই যুদ্ধাপরাধের শিকার হচ্ছেন মা-বোনেরা। নারকীয় নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না শিশুরাও। দলবাজ বুদ্ধিজীবী ও তথাকথিত সুবিধাবাদি সুশিলরা মুখে কুলুপ এঁটেছে! মানবতাবিরোধী অপরাধ ও কর্মকান্ডের বিপক্ষে কথা বললে যদি পদ-পদবি হারাতে হয় কিংবা হালুয়া-রুটির ভাগ না পাওয়া যায় অথবা যদি ক্ষমতাবানদের বিরাগভাজন হতে হয় এমন যোগ-বিয়োগের অংকের খেলায় এই জ্ঞানপাপী বিবেকবন্ধক রাখাওয়ালারা কোন কথা বলছে না। আরও সহজ ভাষায় বলা যায় যে, এই গোষ্ঠীটি এখন ক্ষমতাসীনদের তোষামদকারির দলভুক্ত হয়ে পড়েছে। বিচারহীনতা, আইনের শাসনহীনতাই অপরাধ ও অপরাধীর আশপর্দা বাড়িয়ে দিচ্ছে দিন দিন। আর সহিংসতার কঠিন রুপটি গিয়ে পড়ছে মা-বোনদের ওপরে গিয়ে। যদিও দেশে প্রধানমন্ত্রি, বিরোধীদলীয় নেত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রি, কৃষিমন্ত্রিসহ আরও অনেক নারী মন্ত্রি কার্যকর আছে স্বদেশে। আজকের লেখাটি মূলত: বিশ্ববিদ‍্যালয়ের একজন অধ‍্যাপকের একটি স্টাটাসের প্রতিক্রিয়া।
শ্রদ্ধেয় এবং প্রিয় কাবেরি গায়েন’র ফেইসবুকে একটা স্টাটাস পডি। তিনি দ্বিমত পোষণ করেছেন জবাব আলী রীয়াজ এর একটি লেখার। স্টাটাসের সঙ্গে কাবেরী আপা জনাব রীয়াজের লেখাটির একটি অনলাইন লিংক দিয়েছেন। আগ্রহী হয়ে লিংকটাতে গিয়ে ঢুকলাম এবং আলী রীয়াজ’ র লেখাটি পড়লাম। আমি জানি না আমি কোন যুক্তিতে লেখাটির প্রতি নেতিবাচক বা দ্বিমত পোষণ করলেন, কাবেরী ম‍্যাডাম? আমি উনার লেখাটি দুবার পড়েছি।
আমি কাবেরী আপার যুক্তির পক্ষে বিপক্ষে না দাঁড়িয়েই বলতে চাইছি, আমাদের সুশিল সমাজের কাজটা তাহলে কী? এই সমাজভুক্তরা কী তবে হয় হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং খালেদার নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত হয়েই নিজেদের জোটকে চেতানো ঠিক হবে না, হালুয়া-রুটি পাবো না কিংবা পদ হারাতে হতে পারে এসব চিন্তা নিয়েই মনুষ‍্যত্ববোধ, বিবেক বন্দি করে রাখবে অন্ধ দলবাজির কাছে? ওই ঘাতক জামাত-শিবির, আলবদর, আল শামস, যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী তাদের বিচার হতেই হবে (যদিও জাতি আশা করেছিল অন্তত: গো. আজম, নিজামী, কসাই কাদের, মুজাহিদ গংদের বিচারটা আগে জানতে পারবে, কিন্তু আজাদ বা বাচ্চু রাজাকারকে বিদেশে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার পর তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা স্রেফ ফাজলামু ছাড়া আর কিছু নয় বলেই মনে করি আমি)। দেশে যেভাবে মা-বোনদের ওপর নৃশংতা চালানো হচ্ছে, হত‍্যা করা হচ্ছে, তাঁদের মর্যাদাহানি ঘটানো হচ্ছে (শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউই বাদ যাচ্ছে না) তা কী যুদ্ধাপরাধের চেয়ে কোন অংশে কম? বিনা বিচারে মানুষ হত‍্যা, গুম, পুলিশের হাতকড়া পরা অবস্থায় মানুষের লাশ পড়ে থাকছে, একযোগে তিনজন, পাঁচজনকে হত‍্যা করা হচ্ছে, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় কাজী অফিসে বোনদের ওপর যেভাবে এসিড নিক্ষেপ করা হচ্ছে, বিশ্বজিৎ দাশকে যে বর্বর কায়দায় প্রকাশে‍্য হত‍্যা করা হলো, ময়মনসিংহে একটি শিশুকে (রাব্বী) যেভাবে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রযোদ্ধারা হত‍্যা করলো, সাংবাদিক সাগর-রুনিদের খুনিদেরকে ধরতে টালবাহানা করা হচ্ছে, ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনকে হত‍্যাপ্রচেষ্টা, সাংবাদিক ও ফটো সাংবাদিকদের পেটানো হচ্ছে, এসব কী মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়?
১১৪ জন পোশাক শ্রমিককে পুড়িয়ে হত‍্যা করা হলো, পোশাশ্রমিকরা হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও ন‍্যায‍্য মজুরি পাচ্ছেন না, অথচ মালিকরা আলীশান জীবন-যাপন করছে, দেশে বাড়ছে ধনী-গরিবের পার্থক‍্য। এমন জটিল অবস্থায় সাধারণ মানুষ রাস্তায় বের হবার মতো পরিবেশ আছে কী, আর থাকলেও একটা সমাজে যখন র‍্যাব বা পুলিশ যখন তখন যাকে তাকে ধরে হত‍্যা বা গুম করে দেয়ার আইনগত অধিকার ভোগ করে (সুশিল ও রাজনীতিকরা কার্যকর কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছেন না বা আগ্রহী নয়) তখন কী কেউ রাস্তায় বের হতে পারে? অপকর্ম, নৃশংসতা, নিষ্ঠুরতা এবং অবিচারের ঘটনাগুলিতো ঘটছে তাদের ওপর যারা সমাজে সুবিধাভোগি নন, কিন্তু এইসব নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষদের সংখ‍্যাতাত্ত্বিক পরিসংখ‍্যান তুলে ধরে দেশি-বিদেশি প্রকল্প আর তহবিল নিয়ে যারা দিনরাত ব‍্যস্ত আমাদের সুশিলরাতো (সবাই নন, বহু শত সহস্র ব‍্যতিক্রমও আছে…) সেইসব প্রকল্প আর তহবিলের অংশ নিজের পকেটে তুলেন প্রত‍্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে।
কাজেই স্বদেশে প্রতিনিয়ত যে যুদ্ধাপরাধ চলছে, ঘটানো হচ্ছে বিশেষত: নারী, মা-বোনদের ওপর তা থামানোর জন‍্য আমাদের সুশিলদের যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল তা কী আছে বলে আপনি মনে করেন কাবেরি আপা? সেই জায়গা থেকেতো আমী জনাব আলী রীয়াজ’র লেখাটিকে খুবই সুন্দর এবং বাস্তসম্মত মনে হয়েছে। আমারতো মনে হয় দেশে যদি আজ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট কষমতায় থাকতো তাহলে আমাদের দলবাজ বুদ্ধিজীবী, সুশিলরা ঠিক দেশ , রাজপথ কাপিয়ে ফেলতো, ঠিক যেমনটি আমরা দেখেছিলাম ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মেয়াদে! তাই নয় কী কাবেরী গায়েন আপা?
আমি অনেকগুলি মৌলিক প্রশ্ন তুলেছি আমার এই লেখার ভেতরে। এই প্রশ্নগুলির উত্তর কখনও পাওয়া যায় না আমাদের শিক্ষক, পথপ্রদর্শক, সুশিল সমাজের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে! এজন‍্য হতাশা বাসা বাধে বুকের ভেতরে। আর উপরোল্লিখিত কারণেই “আমাদের দেশের মানুষ- আমি, আমার ভূমিকা বা দায়িত্বটা” কাঁধে তুলে নিতে ভয় পাচ্ছেন! সমাজ ও দেশে আইনের শাসন না থাকলে এমন অবিচার চলতেই থাকবে, কেউ থামাতে পারবে না। ছবি গুগল থেকে নেয়া।

মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, সম্ভ্রমহারা মা-বোনের অশ্রু আমাদের কাউকে ক্ষমা করবে না যদি…!

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশে একজন যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবু‍্যনাল। একাত্তরের কুখ‍্যাত রাজাকার আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার এখন পলাতক। অবশ‍্য এই তথাকথিত ইসলামী চিন্তাবিদটিকে বর্তমান মহাজোট সরকারের গোয়েন্দাজালে আটকা ছিল। সেই জাল ছিন্ন করে বাচ্চু রাজাকার ভারতে পালিয়ে যান ২০১২ সালের ৩০ মার্চ। ব‍্যর্থতার এই খবরটি আবার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীই গণমাধ‍্যমকে জানায়। কারা তাকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করলো তার সুরাহা এখনও হয়নি। র‍্যাব-পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোন যুদ্ধাপরাধীর নিরাপদে দেশত‍্যাগ করাটা সহজ কিনা তা নিয়েও রয়েছে নানান আলোচনা। সে যাইহোক এই রাজাকারের একাত্তরে গণহত‍্যা, ধর্ষণ লুটপাটের অভিযোগে ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত আজ ২১ জানুয়ারি। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন ও একাত্তরে ফরিদপুরের আলবদর বাহিনী প্রধান এই ঘাতক এখন কোথায় তা দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানে কিনা তাও স্পষ্ট নয়। বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আবদুল আলীমসহ আরো ১০ জনের বিচার চলছে বর্তমানে। একাত্তরে জামায়াত সাংগঠনিকভাবে যুদ্ধাপরাধ করে। জাতি আশা করেছিল গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদদের বিচারের রায় আগে দেয়া হবে, অন্ত:তপক্ষে পলাতক যুদ্ধাপরাধী বাচ্চুর বিচারের আগে। কিন্তু সেটা হয়নি। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ‍্যমগুলিতে নানান আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
এসব সমালোচনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের একজন সংবাদকর্মী সুলতানা রহমান ফেইসবুকে একটি স্টাটাস লিখেন। সুলতানার মন্তব‍্যটি ছিল এমন, “আমারা এমন এক জাতি যে সব কিছুতে-ই খালি সন্দেহ খুজি। বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় নিয়া কারো কারো ‘কপ-কপানি’ দেখে-শুনে রাগ উঠছে। এখন কয়, ‘হেতানের’ রায় আগে দিলো কেন? কেন গোলাম আযম এর রায় আগে হইলনা!! এর মধ্যে রাজনীতি আছে। সরকার মূলা ঝুলাইছে ‘যুদ্ধাপরাধীর বিচার করছি।‘ ভাইরে ভাই, যার বিচার প্রক্রিয়া আগে শেষ হবে তার রায় তো আগেই হবে। আর যদি বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় দিতে সরকারের সুবিধা হয়, তাতে আসুবিধার কি হইল? দেশে প্রতিদিন কত রায় হয়, তা নিয়ে তো কেউ কথা কয় না! যুদ্ধাপরাধিদের বিচার সঠিক হইল না বেঠিক হইল তা নিয়া যাদের অতিরিক্ত মাথা ব্যাথা তাদের মাথা ফেলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”
উৎসুক হয়ে আমি ছোট্র একটি মত দেই উনার স্টাটাসের মধে‍্য। আমি বলি, “একজন সচেতন নাগরিক বিশেষত: সচেতন নাগরিকটি যখন সংবাদকর্মী বা সাংবাদিক হন তাঁর কাছ থেকে “তাদের মাথা ফেলে দেয়ার ব‍্যবস্থা করা হোক” এমন অমানবিক, নৃশংস মন্তব‍্য আশা করি না। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সবসময় মাথার ওপরে রাখি তাই আপনার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও সমর্থন করি!”
এরপরে তিনি লিখলেন, “যুদ্ধাপরাধ ইসু‍্যতে আমি অমানবিক হতেও রাজি আছি”। পাল্টা জবাব দিতেই হয়। তবে পাল্টা জবাব লিখার আগে একটু পেছনের দিকে নিতে চাই আপনাদের। দেশের ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি একটি যুক্ত ঘোষণায় সই করেন। ওই ঘোষণার মধ‍্য দিয়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামাতসহ সকল ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের দাবিতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপরের ইতিহাস সবার জানান। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্ব দেশে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে ওঠে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে। গঠন করা হয় গণআদালত। একই বছরের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়াদর্ী উদ‍্যানে গণআদালত যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতীকি রায় ঘোষণা করে। এরই প্রেক্ষিতে তৎকালিন বিএনপি সরকার দেশের খ‍্যাতিমান বুদ্ধিজীবীদের (২৪ জনের নামে) নামে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাও করেছিল। যুদ্ধাপরাধ ও ঘাতকবিরোধী আন্দোলনের ফসল হিসেবে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করে। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেনি।
এবার সুলতানা রহমানের মন্তবে‍্যর জবাবে যা লিখেছিলাম তা এখানে হুবহু তুলে ধরছি।
“মানবতা সবসময় সর্বজনীন, এখানে দলপ্রীতি বা ব‍্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ’র বিচার করলে চলে না! যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না কেবল যুদ্ধাপরাধী-জামায়াত-শিবির আর তাদের ভোটের অংক কষে যারা ক্ষমতায় যেতে চায় তারা। এমনকি বিএনপির তরুণ একটা অংশও যুদ্ধাপরাধী গো. আজম, মইত‍্যা রাজাকার নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদী গংদের বিচার চায় (প্রকাশে‍্য না চাক মনে মনে ঠিকই চায়)। কিন্তু যে কুখ‍্যাত লোকটি (যারা তাকে তথাকথিত ইসলামী চিন্তাবিদ নামধারণের সুযোগ করে দিয়েছিল সেইসব মিডিয়া মালিকদের অনেকেই সরকারের কাছের মানুষও বটে) গোয়েন্দাজালের ভেতরে থাকল সে কী করে র‍্যাব, পুলিশের চোখে ধূলো দিয়ে বিদেশে চলে গেলো— এই প্রশ্নটি করা কী অসমীচিন? আর আগে ধৃত ও আগে শুরু হওয়া মামলাগুলির রায় দেয়ার আগে একজন পলাতকের বিরুদ্ধে বিচারের রায় প্রকাশ করা হলে কেউ যদি তাতে প্রশ্ন তোলে তারজন‍্য তার মাথাটাই কেটে ফেলার দাবি কতটুকু যৌক্তিক। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে বাংলা ভাইদের হত‍্যা-নির্যাতনের সময়কার দুবর্িষহ দিনগুলির কথা, রাজশাহী ও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ‍্যালয়ে জামায়াত-শিবিরের ভয়ানক সব তান্ডবলীলা ও ধ্বংসযজ্ঞের ইতিহাস। আজ অনেকে যারা সুবর্ণ সময়ের সুযোগ নিয়ে হালুয়া-রুটি ও চাওয়া পাওয়ার হিসাব-নিকেশ কষে যুদ্ধাপরাধবিরোধী জিহাদী মনোভাব দেখাচ্ছে তাদের টিকিটিও দেখা যায়নি সেই দু:সময়গুলিতে। তখন রাস্তায় দেখিনি অনেককে যাদের মুখে এখন যুদ্ধাপরাধীবিরোধী কথাবার্তার ফেনা উড়তে দেখছি! ঘটনার এখানেই শেষ নয়, জামাতের এক নেত্রীর ছেলেকে (সদ‍্য আওয়ামী লীগার, ২০০১ সালের মে মাসে যোগদানকারী) প্রতিমন্ত্রী বানানো হয়েছে! জাতির মা, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যে বীর মহান মানুষগুলি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনকে গণ আন্দোলনে রুপ দিলেন সেই আন্দোলনের ফসলও ঘরে তুলেছি আমরা অনেকেই কিন্তু উনাদের সংগ্রামের সাথে বেঈমানি কী করি নি? মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম,ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংস কমিটি, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মুল সমন্বয় কমিটি (বর্তমানের কমিটিসহ), কবি সুফিয়া কামাল, কবি শামসুর রাহমান, কাজী আরেফ আহমেদ, শওকত ওসমান, মাওলানা আবদুল আউয়াল, ব‍্যারিষ্টার শওকত আলী খান, জাতীয় অধ‍্যাপক কবীর চৌধুরী, বিচারপতি কে এম সোবহান, এ‍্যাডভোকেট গাজীউল হক, সৈয়দ হাসান ইমাম, শ‍্যামলী নাসরিন চৌধুরী, অধ‍্যাপক মুনতাসির মামুন, আবদুর রাজ্জাক, প্রখ‍্যাত সাংবাদিক-লেখক শাহরিয়ার কবিরদের (আরও অসংখ‍্য মানুষের নিরলস আন্দোলন) মতো মানুষদের হার না মানা আন্দোলনের ফসলটাকে জাতি পুরোপুরি ঘরে তুলতে চায়। তাই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক যখন একজন পলাতক রাজাকারের বিচার হয় ধৃত গোলাম আজম, নিজামী, সাঈদীদের বিচারের আগেই। এটা দোষের কিছু নয়, কিন্তু প্রশ্ন জাগাটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে কী? মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, সম্ভ্রমহারা মা-বোনের অশ্রু আমাদের কাউকে ক্ষমা করবে না যদি আমরা এই একাত্তরের সেই ঘাতক, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে ব‍্যর্থ হই।”
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এর নেতৃত্বে ১২ সদসে‍্যর গণ আদালত গোলাম আজমের মৃতু‍্যদন্ডাদেশ দিয়েছিল। একইসঙ্গে মতিউর রহমান নিজামী, মো. কামারুজ্জামান, আবদুল আলীম, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আনোয়ার জাহিদ, আবদুল কাদের মোল্লা, আব্বাস আলী খান ও মাওলানা আবদুল মান্নান এর নাম যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ঘোষণা করেছিল গণ আদালত। এইসব বাদ রেখে (যারা মারা গেছে তাদের মরণোত্তর বিচার হতে পারে বা শাস্তি হতে পারে) পলাতক কুখ‍্যাত বাচ্চু রাজাকারকে (তাকে পালাতে কারা সহায়তা করলো সেটাও একটা প্রশ্ন) আগে ফাঁসি দেয়ার ভেতরে কারো তরফে কোন হীন উদ্দেশ‍্য নেইতো? নির্বাচনের আগে নতুন করে কোন মূলা ঝূলবে নাতো? ছবি গুগল থেকে সংগ্রহীত।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, মৃত্যুদন্ড এবং আমার অবস্থান

War Criminals campaign
জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ফারজানা কবির খান স্নিগ্ধা থাকেন জার্মানিতে। আমার সঙ্গে উনার পরিচয়ের সূত্র সোশাল মাধ‍্যম ফেইসবুক। একইসূত্রে তিনি ফেইসবুকের একজন বন্ধু। ফেইসবুকে তিন হাজারেরও অনেক বেশি বন্ধু আমার তালিকায় আছেন যাদের অনেককেই আমি ব‍্যক্তিগতভাবে চিনি না। কে কিভাবে বন্ধু হলেন (হয়ত আমিই বন্ধুত্বের অনুমোদন করেছি নতুবা তালিকায় আসলো কিভাবে) তার আলোচনায় না গিয়েই বলি বন্ধু তালিকাটি আমি ছোট করে আনতে চাই। যার ক্রিয়া শুরু করেছি পুরনো বছরেই। বন্ধু তালিকা ছোট করার যুক্তি হলো বন্ধুদের অনেকেই যুদ্ধাপরাধির দল জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট (বুঝতে পারি তাদের লেখা, লিংক ও স্টাটাস থেকে) এবং অনেকেই আবার আওয়ামীপন্থি কিন্তু অন্ধ রাজনৈতিক বিবেবচনাসম্পন্ন। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি তালিকাটাকে ছোট করে চিন্তা চেতনায় এক কিংবা এক না হলেও অন্ত:ত যারা উগ্র নন তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা রাখবো। বিশষত: জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্টদের বাদ দেয়াটা অতিব জরুরি। সেই কাজ পুরো দমে চালিয়ে যাচ্ছি।
মূল আলোচনায় এবং আসল বিষয়ে আসা যাক। গত ৬ জানুয়ারি ফারজানা কবির খান স্নিগ্ধা একটা স্টাটাস লিখেছেন ফেইসবুকে। স্টাটাসটা হলো “রাজাকারদের ফাঁসি চায় না এমন লোকজন আমার লিষ্টে থাকলে, আপনাদের দোহাই লাগে আমাকে আপনাদের বন্ধুলিষ্ট থেকে বাদ দেন। আপনার ঘরের মা, বোনেদের ধর্ষণ করলে আর মুক্তিযুদ্ধে কেউ শহীদ হলে তখন বুঝতেন, রাজাকার আর ফেকস্তান কতটা ঘৃণিত।আর দয়া করে তত্ত্ব কথা বলতে আসবেন না যে, মৃত্যুদন্ড ছাড়া কি আর কোন শাস্তি নাই !! ৭১’এ আপনাদের রাজাকার ভাই-চাচারা এসব তত্ত্ব কথা বলে নাই। লক্ষ লক্ষ মানুষকে নির্দ্বিধায় হত্যাই করেছে। কার আত্মীয় আর কার শত্রু শুনতে চাই না। শুধু জানি, রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ চাই।” এরই প্রেক্ষিতে আমি ছোট্র একটা মত লিখি সেই স্টাটাসের ওপর। সেটা ছিল এমন, “একজন মানবাধিকার কমীর্ হিসেবে মৃতু‍্যদন্ডকে কখনও সমর্থন করি না, এটা আমার পরিস্কার অবস্থান। খুনি, ঘাতক, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, ধর্ষক, দখলদার, দুর্নীতিবাজ, জালিয়াত সবার বিচার চাই সমানভাবে। এরপরও যদি আপনার আপত্তি থাকে আপনার তালিকা থেকে আপনি নিজেই আমার নামটি কেটে দিন, কোন মন:কষ্ট থাকবে না! কিন্তু যারা যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের বিচার নানান অজুহাতে শেষ করতে চায় না বা ছুতো খুঁজছে বিচারটা যাতে ঝুলিয়ে দেয়া যায় তাদেরও ঘৃণা করি সমানভাবে। আর যারা বা যে দল যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের লালন করে আশ্রয় দেয় তারাতো বাঙালি জাতিরই শত্রু, যতই মুক্তিযোদ্ধা বা অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করুক, স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করুক না কেন?”
মেহেদী সাত্তার নামে আরেকজনের একটি মত আসে আমার মতের প্রেক্ষিতে। উনার মতটা হলো, “মানবাধিকার সংস্থাগুলো দুঃখ জনক ভাবে সোচ্চার হয় যখন সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসির হুকুম হয়, কিন্তু সাদ্দাম যখন কুর্দিদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যাবহার করে মেরে ফেলে তখন তাদের সোচ্চার হওয়া নিরবতার মত মনে হয়। এরকম অজস্র উদাহরন আছে। ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যার সময় কোন আইন মানা হয়নি, আত্মপক্ষ রক্ষার কোন সুযোগ দেয়া হয়নি, কারো কোন পার্থনা ভগবান, আল্লাহ শুনে নি, আর শুনে নি ঘাতকেরা। অথচ এই ঘাতকদের ন্যায় বিচার চাওয়ার নামে প্রতক্ষ্য আর পরোক্ষ্য ভাবে তাদের বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়ছে বিভিন্ন রকম সংস্থা। মানবাধিকার সংস্থা গুলোর মানবাধিকারের সংজ্ঞা স্থান, কাল, পাত্র ভেদে কেমন যেন ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়ে যায়। জাহাংগির আলম আকাশ, আপনি মানবাধিকার কর্মী জেনে ভাল লাগলো। আমি জানি আপনি মানবাধিকার সমন্ধে ভাল জ্ঞান রাখেন। আমার যুক্তিকে আপনি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারবেন। কিন্তু আপনার মন্তব্য পড়ে বুঝতে পারলাম না আপনি আসলে কি চান। সব কুল রক্ষা করা যায় না। একটা লাইন আপনাকে টানতে হবে; পক্ষে অথবা বিপক্ষে। বিচার বিলম্বিত করার কুপ্রচেষ্টার আগাম অভিযোগে আপনি যুদ্ধাপরাধিদের পক্ষে যেতে পারেন না। এটা আমার একান্ত ভাবনা। ভুল মনে করলে ক্ষমা করে দিবেন। ধন্যবাদ! ভাল থাকবেন।”
ফের লিখি আমার মত, “ভাই মেহেদী সাত্তার, আমার ব‍্যক্তিগত কোন লাইন নেই, আদর্শ আছে বিশ্বাসও আছে আমি অরাজনৈতিক নই। তবে আমি আমার পেশা আর ব‍্যক্তিগত আদর্শকে কখনই একভাবে দেখি না। খুনি, ধর্ষক, রাজাকার, আলবদর, নিজামী (গং), যুদ্ধাপরাধী কারা কে কী করেছে একাত্তরে তার আর ঢোল বাজানোর কোন দরকার আছে বলে মনে করি না। কারণ সারাদেশ, বিশ্ব, দেশের মানুষ সবাই জানেন সবার কাছেই সেই খুনি-ঘাতকদের জবানি, লিখিত কথাবার্তা এমনকি রাজাকারদের নিজস্ব প্রকাশনাতেও তার প্রমাণ আছে। কাজেই বিচার বানচালের কোন অজুহাত কারওপক্ষে বিশষত মহাজোট সরকারের মুখে মানায় না। কারণ দেশের মানুষ সর্বোচ্চ এবং অভাবনীয় ম‍্যান্ডেট দিয়েছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিলম্বিত করানো বা স্কাইপি নামের তথাকথিত আলোচনার মাধ‍্যমে এবং ঘাতক ও তাদের আইনবিদদের সাক্ষাৎকার প্রচারের নামে জামাতিদেরই প্রগাগান্ডা তুলে ধরার নামে যেভাবেই হোক না কেন বিচার বন্ধ হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। আমি বলবো জামাত বা যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের আশ্রয়দাতারা বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে নানাভাবে বহু কৌশলে। কিন্তু সেই ফাঁদে সরকার পড়বে কেন, বা বিচারটাকে চার বছর পর্যন্ত টেনে আনা হলোই বা কেন, কার স্বার্থে বিলম্ব। যাহোক আপনি আমার মত জানিয়েছেন, সব মতকেই শ্রদ্ধা করি। আমি আমার মত লিখছি মাত্র। আমার কোন দল নেই, আমি কাউকে তেলও মারি না, কারও কাছ থেকে সুবিধাও নিতে চাই না। তবে তোষামদকারি, সুবিধাবাদি ও চাটার দলভুক্তরা হাসিনার পাশাপাশি আছে, থাকছে হয়ত থাকবে তারাই ভুলপথে নেয়ার চেষ্টা করবে। পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে যেভাবে মোশতাকরা হত‍্যা করিয়ে ক্ষমতা জিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিলেন! আমার অনুরোধ, কারও কাছে ক্ষমা চাইবেন না। মতপ্রকাশ করাটা সেটা যার পক্ষে বা যার বিরুদ্ধেই যাক না কেন তা আপনার অধিকার। ভালো থাকুন।”
এবার উনি লিখলেন এভাবে, “অনেক কথা বলেছেন। এত কথার পরিপেক্ষিতে আমার তেমন কিছুর বলার যোগ্যতা নাই। বিচার করতে চার বছর লেগে যাচ্ছে বলে প্রশ্ন তুলছেন, কিন্তু বিচারটা দু বছরে করলে তখন বিচারের মানদন্ড, সচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এরকম হাজার রকম অভিযোগ পৃথিবীর আকাশে বাতাসে উচ্চারিত হতো। আপনার ব্যক্তি চরিত্রের ব্যাপারে আমি কোন প্রশ্ন তুলিনি। নিজের সম্পর্কে এতকিছু না বললেও চলতো।”
কাজেই আমাকেও একটা জবাব লিখতে হয়েছিল। আমি এবার লিখলাম যে, “ওটা নতুন কিছু নয়। সেটা ১০ বছর ধরে করলেও ওঠবে যারা করার তারা সেরকম করেই যাবে। আসলে নিজের সম্পর্কে নয় আমার অবস্থানটা পরিস্কার করার চেষ্টা করছি মাত্র। জানি না পেরেছি কিনা। তবে আবারও বলি বিচার চাই আমরা সবাই। সেটা করতে না পারলে কী ভয়ানক দিন আসতে পারে সেকু‍্যলারমানসিকতাসম্পন্ন মানুষদের বা যাঁরা এই বিচার আন্দোলন চালিয় যাচ্ছেন তাঁদের জন‍্য কী ভয়ংকর দিন আসবে তা আমরা কল্পনা করছি কিনা তাও আমার জানা নেই!”
মুকুল কবিরাজের মন্তব‍্যটা এমন, ” চমৎকারভাবে আমার কথা গুলোই বলেছেন। তবু আমি লিখছি এ জন্য যে অনুরূপ একটি পোস্ট Farzana Kabir Khan Snigdha আমার পাতাতেও রেখেছেন। আপনার জ্ঞাতার্থে ফারজানা, ৭১ এর মার্চে পাকিস্থান আর্মি আমার ভাই, মামা, চাচা, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রিয় শিক্ষককে হত্যা করেছিল। আমি তখন ১৪ বছরের তরুন। আমি দেশের ভেতরেই ছিলাম। এবং সহজেই ৩০ লক্ষের পরিসংখ্যনে পরে যেতে পারতাম। সে সময়ে দেশের ভেতরে যারা ছিল তাদের প্রতিদিন বেঁচে থাকা অথবা নিহত হবার সম্ভাবনা ছিল ৫০%… অতএব, ‘মুক্তিযুদ্ধে কেউ শহীদ হলে তখন বুঝতেন’ এ কথাটা আমার জন্য অর্থবহ তেমন কিছু নয়। আমি কোন মানুষের জীবন জোর করে কেড়ে নেওয়ার বিপক্ষে। আমার এই ব্যক্তগত আদর্শ যদি আপনার বন্ধু লিস্টে থাকবার অন্তরায় হয়, তাহলে আপনি নিজেই ‘খরচা’ করবার কাজটি করুন না! ভালো থাকবেন।”
এরপর আরও অনেকে মন্তব‍্য করেন সেই স্টাটাসে।
দীর্ঘ বিরতির পর ফের জবাব মিললো ফারজানার কাছ থেকে। এবার তিনি বললেন, “সরি, ইন্টারনেটে ছিলাম না এবং কাজে ছিলাম বলে উত্তর দিতে দেরী হয়ে গেল। আমরা কি এখানে ইউরোপ আমেরিকা নিয়ে কথা বলছি নাকি বাংলাদেশ নিয়ে ঠিক বুঝতে পারলাম না। বাংলাদেশে যখন ৭১’এ নিরীহ মানুষদের খুন করেছিল তখন কোথায় ছিলো মানবাধিকার আইন।
পৃথিবীর সব দেশ থেকে মৃত্যুদন্ড উঠে যাক আমিও চাই। কিন্তু রাজাকারদের প্রশ্নে আমি বলি যেহুতু এখনও বাংলাদেশে মৃত্যুদন্ড বহাল আছে সেহুতু হত্যা, ধর্ষণের সাঁজা ফাঁসি ছাড়া আমি আর কোন কিছুই দেখি না। আর শেখ হাসিনা বা খালেদা রাজনীতি আমি করি না। আর তেল মারা বা চাটুকারী আমার দ্বারা হয় না। যা বলি খুব স্পষ্ট বলি। এই জন্য ডয়েচে ভেলে বাংলা ডিপার্টমেন্টে আমার চাকরী পার্মানেন্ট হয়নি। কিন্তু আমি ওদের একাডেমীতে জব করে আমার নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছি। আর আকাশ সাহেব আমার লেখার মাঝে আপনার ব্লগের লিংক আমাকে না জিজ্ঞাসা করে দিলেন কেন? আপনি কী প্রমাণ করতে চাইছেন। কয়েকদিন আগেও বললেন আপনি সাঈদীর অডিওগুলো আসলে কি উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে কে জানে? আপনি আপনার মতামত আপনার স্ট্যাটাসে দিবেন। যদি বলেন, আমি গোড়া। হ্যা, এসব রাজাকারদের বেলায় আমি সত্যি গোড়া। আপনাদের চৈনিক পন্থীদের কথা আমার মাথায় ঢুকেনা। বাংলাদেশের কিছু মানুষ আছে যারা বলে, কার স্বার্থে ফেকস্তান থেকে বিভক্তি। শেখ মুজিব নিজে ক্ষমতা দখলের জন্য বাংলাদেশের মানুষকে ভাইদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামিয়েছিলেন। ইদানিং শুনছি, রাজাকার আসল মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো। আর যেসব কথা বলছেন, কার স্বার্থে রাজাকারদের বিচার। বাংলাদেশের স্বার্থে। আর রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কখনোই হবে না। তাই মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের মত বলবো না, যে যুদ্ধাপরাধীদের প্রসঙ্গে সরকারের সংগে থাকতে হবে। বলতে হবে, সরকারকে বাধ্য করতে হবে এই বিচারের জন্য। সোজা নিয়ে রাজাকারদের ঝুলিয়ে দিলে আপনারাই বলতেন, এই সরকার একটি পশু সরকার। এই সরকারের মানবতা বলতে কিছুই নাই। উই হেট শেখ হাসিনা। বিচারপতির স্কাইপি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অথচ রাজাকারদের বেলায় মানবাধিকার আইন। সত্যি খুবই হাস্যকর।
আমরা অনেক মানবতাবাদী কথা বলি, কিন্তু বিশ্বাস থেকে বলি না। প্রথমে কিছু লোক বলছিল, আন্তর্জাতিক মান বহাল রাখা হবে না। আর এখন বলছে মানবাধিকার আইন অনুযায়ী ফাঁসি উঠে যাক। সত্যি, যুক্তির বলিহারি। আমার তালিকা থেকে আপনি বা আপনারা যারা যুদ্ধাপরাধীদের জন্য ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে তাদের পক্ষে কথা বলেন তাদের প্রতি আমার বন্ধুত্ব সংকীর্ণ হয়ে যায়। আমি আপনাকে অনুরোধ করছি, আপনি আমার এসব কথা নিয়ে আরো একটা ব্লগ লিখে আমাকে আপনার বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দেন। আমার কোন আফসোস থাকবে না।
আর জাহাঙ্গীর আকাশ, আপনি নিজে বাংলাদেশে নাই। বাংলাদেশে যে মানবাধিকার আইন সম্ভব না তার প্রমাণ আপনি নিজে। নরওয়েতে অনেক পাকিস্তানী আছে যারা, মুক্তিযুদ্ধের সময় নরওয়েতে গিয়ে বলেছে, পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধ বেধেছে? আমাদের নিরাপত্তা দরকার। এসব কথা বলে, আমাদের দেশের মানুষকে হত্যা করে, নিজেরা রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছে। কই কোনদিনতো এইসব মিথ্যাবাদীদের নিয়ে ব্লগ লেখেন নি।”
ভাবলাম একটা জবাব লিখা দরকার। অনেক ধৈয‍্য পুড়িয়ে কম্পোজ করলাম দীর্ঘ মন্তব‍্য। বিপত্তি দেখা দিলো আপলোড করাতে। ভাবলাম আমার ভুল। কিন্তু না শতবার চেষ্টা করেও আমার মন্তবে‍্যর জায়গা হলো না ফারজানার পাতায়। কোন কারণে এটা সেখানে উঠছে না সেটা আমি আমার ছোট্র জ্ঞানে বুঝতে পারছি না। তাই তাগিদ ও দায় থেকে একটা জবাব লেখার চেষ্টাটাকেতো আর মেরে ফেলতে পারি না। তবে প্রিয় পাঠক আপনারাই বিবেবচনা করুন আমাদের গণতন্ত্র, আমাদের পরমতের প্রতি সহিষ্ণুতা, সহনশীলতার মাত্রাটা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। ফারজানার মতো মানুষগুলি কিন্তু আমাদের ছলিমুদ্দি, কলিমুদ্দি বা আইজুদ্দিন (আমার বিবেবচনায় এরাই প্রকৃত মানুষ যাঁদের কোন স্বার্থ নেই আছে কেবল মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এবং পরোপকারের মানসিকতা) নন। উনারা প্রাতিষ্ঠানিক শক্ষায় শিক্ষিত, থাকেন বিশ্বের অন‍্যতম উন্নত একটি দেশে।
আমি ফারজানার জবাবের পাল্টা জবাবটা লিখেছিলাম সেটা আপনাদের সামনে হুবহু তুলে দিলাম।
রাজাকারদের পক্ষে আর কে রাজাকারদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে করছে কিংবা কে কতটুকু কী করেছে তা এখানে বলতে বা লিখতে চাই না। সেটা লিখবো নিজের ব্লগে। তবে একটা কথা পরিস্কার করে আবারও বলতে চাই সেটা হলো, ব‍্যক্তিগতভাবে আমি কোন মৃতু‍্যদন্ডকে সমর্থন করি না। এবং আমি এও বিশ্বাস করে মানবাধিকার সনদের প্রতি সহানভুতি আছে যারা মানবতায় বিশ্বাস করে তারা কী কারও মৃতু‍্যদন্ড সমর্থন করতে পারেন? কতগুলি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করাতে চাই। মাওলানা মান্নান যে ডা. আলীম চৌধুরীকে হত‍্যা করিয়েছে সেতো পরে এরশাদের মন্ত্রি ছিল, ইনকিলাব বের করেছে। বেচারা মরে বেঁচেছে ২০০৬ সালে। শ্রদ্ধেয় শামলী নাসরিন চৌধুরী শত সহস্র হাজারোবার হৃদয়ের ক্ষরণের কথা বলেছেন। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণআদালতের যে রায় সেই রায়তো ১৯৯৬-২০০১ সালের হাসিনা সরকার বাস্তবায়ন করেনি। রাজশাহী বিশ্বিবদ‍্যালয়ের অধ‍্যাপক সুখরঞ্জন সমাদ্দারের স্ত্রী চম্পা সমাদ্দার (আমাদের মাসীমা) এর চোখের জলতো কেউ মুছে দেয়নি। গণকবর থেকে বেঁচে ফিরে আসা রাজশাহীর রুপচাঁন মন্ডলের সন্তান, নাতি-নাতনীরা কী করে বেঁচে আছেন কতজন মুক্তিযোদ্ধা দেশে রিকশা চালিয়ে বা ভিক্ষা করে জীবন সংসারের যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তারতো খোঁজ রাখছি কী আমরা বা রাষ্ট্র সোজা কথায় সরকার? একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমর্ূল কমিটি, সাহসী বিবেবকবান সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, প্রয়াত কবীর চৌধুরী, শ‍্যামলী নাসরিন চৌধুরী, বিচারপতি কে এম সোবহান, প্রয়াত আইনবিদ গাজীউল হকসহ যেসব মহান মানুষ যুদ্ধাপরাধীর বিচারের আন্দোলনটাকে জীবন বাজি রেখে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তাঁদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়ে বলছি, একটা মানুষের নৈতিক অবস্থান, আদর্শ, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অর্থ এই নয় যে সেই মানুষটি একাত্তরের জানোয়ারদের বিচার চায় না। হয়তো অনেকেই বলবেন নিজের ঢোল নিজেই পেটাচ্ছি তাই বেশি কিছু না লিখেই জানাচ্ছি কেবল অনুগ্রহ করে আমার PAIN বইটি পড়বেন (যদি সম্ভব হয়)। অবিবেচকের মতো কাউকে হেনস্থা করা বা কারও অবস্থানকে কলংকিত করার হীনমানসিকতা কোনভাবেই সমর্থনযোগ‍্য হতে পারে না। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটকে ব্রুট মেজরিটি প্রদান করেছেন। এই ভালোবাসার সমর্থন কী জামাত-শিবিরের কোটি কোটি টাকার ব‍্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন‍্য? কার কোন দলের নেতা ছেলেমেয়েরা শিবিরের কোচিং সেন্টারে, হাসপাতালে, ব‍্যাংকে এনজিওতে যায়, সহযোগিতা করে দয়া করে একটু খোঁজ করুন। হাসিনা কেন একজন জামায়াতরোকনের সন্তানকে প্রতিমন্ত্রী বানান, তিনি কেন নির্বাচিত নেতাদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদিদের (যাদের অনেকই কোনদিন আওয়ামী লীগ করেনি, আন্দোলন-সংগ্রামে কোন ত‍্যাগ নেই) হঠাৎ করে নেতা বানিয়ে দিচ্ছেন? যারা বাংলা ভাইয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন তারা বাদ পড়ে আর বাংলা ভাইকে সহায়তাকারীদের অনেকেই কেন বড় বড় পদ পায়? প্রসঙ্গ অন‍্যদিকে নিতে চাই না। Farzana Kabir Khan Snigdha আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ছোট্র একটা কথা। সেটা হলো মানবাধিকার, ন‍্যায়বিচার কোন পক্ষাবলম্বন করে হয় না। পক্ষটা হতে হবে মানবাধিকারের, ন‍্যায়বিচারের। অপরাধ, অপরাধী যেই হোক অপরাধ ও অপরাধীর শাস্তিটা বা বিচারটাই হলো আসল কথা। কী ধরণের বা কী পরিমাণ শাস্তি দেয়া হলো বা পেলো সেটা অন‍্য কথা। ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, হত‍্যা, গুম ইত‍্যাদি অপরাধের সবর্োচ্চ শাস্তি বাংলাদেশে বলবৎ বা বিদ‍্যমান আইনে কী তা আমরা সবাই জানি। কাজেই জানা বিষয় নিয়ে চিৎকার করার মতো সময় আমার নেই। যেটা জরুরি সেটা হলো যুদ্ধাপরাধের বিচার। “মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক আমিও চাই…ইত‍্যাদি কিন্তু ওদের জন‍্য নয়” এ ধরণের কথাবার্তার সারমর্ম আর যাইহোক মানবতার পক্ষে নয়। দেশ-বিদেশে বা বিশ্বসভায় শান্তির মডেল বিলি করে একটা দেশ ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না যদি না সেই সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে প্রকৃতঅর্থের গণতন্ত্র চর্চা না থাকে যদি ন‍্যায়বিচার না পায় মানুষ, যদি সমাজে দুর্নীতি, বৈষম‍্য ও দলবাজি, দখলদারিত্ব বজায় থাকে, যদি রাস্তায় প্রকাশে‍্য বিশ্বজিৎদের পিটিয়ে হত‍্যা করা হয়, যদি ঘরের বিছানায় সাংবাদিক দম্পত্ত সাগর-রুনিদের শিশু সন্তানের সামনে নৃশংসভাবে হত‍্যা হতে হয় (আর সেই হত‍্যাকারিদের বাঁচাতে নানানরকমের টালবাহানা, কথাবার্তা ও ফন্দি-ফিকির, কৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়), যদি বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত‍্যা করা হয়, যদি ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে মেজরিটির সুবাদে অন‍্য ধর্মাবলম্বিদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে ও উপাসনালয় ভাংচুর করা হয়, যদি দলীয় নেতা নির্বাচন না করে মনোনীত করা হয়, যদি কোটি কোটি টাকা ব‍্যয় করে একজন ব‍্যবসায়ীকে সংসদ সদস‍্য নির্বাচিত হতে হয়, যদি সংসদ সদস‍্য নির্বাচিত হবার পর রাতারাতি ভাগে‍্যর বদল ঘটে আলাদিনের চেরাগ পাবার ন‍্যায়, যদি টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার রেজাল্ট বদলানো যায়, যদি টাকার বিনিময়ে পুলিশের কর্তা পদে চাকরি পাওয়া যায়, যদি দলীয় বিবেচনায় দেশের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হতে পারেন (….আরও লক্ষ কোটি উদাহরণ দেয়ার মতো লেখা যাবে সেই পথে পা বাড়ালাম না আজ) তবে কী শান্তি ধরা দেবে? আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সামান‍্য স্পর্শ করে পাল্টা মতের যবনিকাপাত ঘটাবো। রাজনৈতিক আশ্রয়ের কথা বলছেন ওটাতো একধরণের ব‍্যবসায় রুপ নিয়েছে। এখনও অনেকে সেটা করছেন ইউরোপ আমেরিকায়। আর তৎকালিন পশ্চিম পাকিস্তানীদের কেউ কেউ সেটা নরওয়েতে শুরু করেছে ১৯৭০-৭১ সালে। ওটা নতুন কিছু না আমার কাছে। মিথ‍্যা তথ‍্য, মিথ‍্যা ঘটনা সাজিয়ে (জার্মানি, অষ্ট্রিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ইটালি, লন্ডন, অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, গ্রীস, সুইজারল‍্যান্সডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়া বা পাওয়া অসংখ‍্য বাঙালি/বাংলাদেশি ব‍্যক্তির ইতিহাস জানি। বাঙালিরা (কতিপয়) ৭৫ পরবর্তী সময়ে এটা শুরু করেছে, যার ধারাবাহিকতা এখনও চলছে (এটা আপনিও জানেন বোধ করি) আর পশ্চিম পাকিস্তানীরা (কতিপয়) আমাদের ওপর আক্রমণ করে উল্টো তারা জীবনহানির মুখে আছে বলে নরওয়েতে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিল এবং তা মঞ্জুর হয়েছে। তাদের এখন তৃতীয় জেনারেশন চলছে এসব দেশে। মিথ‍্যা মিথ‍্যাই, তাই বলে মিথ‍্যা দিয়ে সত‍্য ঢাকা দেয়া যায় না। Farzana Kabir Khan Snigdha আপনি কী তাদের বিরুদ্ধে কলম ধরার পরামর্শ দিচ্ছেন আমাকে? যদি আ্প্নআ্র্ উত্তর হ‍্যাঁ হয় তবে বলবো সেটা আমার কাজ না। উত্তরে বলবো আপনি লিখছেন না কেন? বাংলা ভাইয়ের পক্ষে রিপোর্ট করেছে এমন ব‍্যক্তিওতো আপনি যেখানে আছেন সেখানকার সরকার নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় চাকরি পেয়েছে, কিভাবে কারা তাকে মনোনয়ন দিলো-লিখেন না কেন এসব নিয়ে? পরিশেষে আমি আপনাদের সকলের মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে ক্ষান্ত দিলাম। আপনাদের সকলের মতামতের প্রেক্ষিতে পাল্টা মত বা যুক্তি দাঁ করানোর মতো আমার সময় নেই। জীবন, সমাজ, সংসারের দায় যথাযথভাবে পালন করাটাই যেখানে একটা বড় চ‍্যালেঞ্জ সেখানে সময় নষ্ট করার মতো বাড়তি সময় নেই আমার। আমার আবেগ আছে কিন্তু আবেগের বশবর্তী হয়ে কিছু লিখি না, সত‍্যটা জানার এবং জানানোর চেষ্টা করি। তারজন‍্য আমার ব্লগ আছে, ইউটিউব আছে সেসব জায়গায় আমি কী কী আমার উদ্দশ‍্য কাদের জন‍্য লিখি তার বিস্তারিত পাওয়া যাবে। আর Farzana Kabir Khan Snigdha আপনার স্টাটাসে আমার লিংক দিয়েছি সেটা রিলেটেড তাই। অমন কাজ আপনিও করেছেন অতীতে আমার স্টাটাসে। তবে এখন থেকে সাবধান হলাম, আপনাকে বুঝলাম! আমি এটাও মনে করি যে, কোন অপরাধীকে মৃতু‍্যদন্ড দেয়ার অর্থ সেই অপরাধীকে বাঁচিয়ে দেয়া। বরং যদি একজন অপরাধী যাবজ্জীবন কারাভোগ করে, সেটা মৃতু‍্যদন্ডের চেয়েও কঠোর এবং কঠিন শাস্তি। তখনই কেবল একজন অপরাধী বা যুদ্ধাপরাধী টের পাবে যে যন্ত্রণাটা কী? কারণ শুধুমাত্র সাংবাদিকতার কারণে রাজশাহীর মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন এবং র‍্যাবের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমিও ২৮ দিনের অন্ধকার কারাজীবন (ওই সময়ে রাজশাহী বিশ্বিবদ‍্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ‍্যাপক সাইদুর রহমান খান, রাবির বর্তমান উপাচার্য আবদুস সোবহান খান, গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু, সরোয়ার জাহান, মলয় ভৌমিক (নাট‍্যকার), বর্তমানে পিআইবির মহাপরিচালক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, রাবির শিক্ষক সেলিম রেজা নিউটন, আ. আ-মামুন, জনসংযোগ কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম, রাজশাহীর তৎকালিন মেয়র মিজানুর রহমান মিনুসহ আরও অনেকে…ছিলেন একই কারাগারে) এর অনুভূতি থেকেই বলতে চাই, মৃতু‍্যদন্ডের যেয়েও যাবজ্জীবনের কারাদন্ড যন্ত্রণা ঢের বেশি! প্রত‍্যাশা করি নতুন বছরটি বাংলাদেশের জন‍্য যুদ্ধাপরাধীমুক্ত সমাজ পাবে বাংলার মানুষ। দেশে আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার ও সতি‍্যকারের গণতন্ত্র আসুক, মানুষ শান্তিতে থাকুক, যুদ্ধাপরাধী-খুনির শাস্তি হোক, বন্ধ হোক বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড, নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন। স্বদেশ ভালো থাকলে বিদেশের মাটিতে থেকেও মন আনন্দে ভরে ওঠবে। ছবি গুগল থেকে সংগ্রৃহীত।