সাংবাদিকতা, সহনশীলতা ও ক্রসফায়ারের নামে ডাইরেক্ট হত্যা!

Joy and Tarique

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। একজন সাংবাদিক গর্ব আর অহংকারের সাথে ফেইসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলেন “ক্রসফায়ার” র পক্ষাবলম্বন করে। ভাবখানা এমন যেন এই হত্যাকান্ডে উনি চরম খুশি! ক্ষমতাসীন দলের তল্পিবাহক এই সাংবাদিকের স্ট্যাটাসে একটা প্রতিক্রিয়া লিখেছি। সেটা এরকম- “একজন সাংবাদিকের মুখে এমন কথা মানায় না, কারণ যিনি সারাদিন, সারাক্ষণ অবিচারের বিপক্ষে কথা বলেন, সুন্দর সুন্দর গালভরা কথা লিখেন ফেইসবুকে, তিনি আবার মানুষ খুনকে সমর্থন করেন। এই হলো আমার স্বদেশ! সমাজে বিচার থাকলে, আইনের শাসন থাকলে, দুর্নীতি না থাকলে, দলবাজি না থাকলে, ক্ষমতার অবৈধ দাপট না থাকলে, আয়ের সাথে খরচের সমন্বয় থাকলে, রাজনীতিতে দুবর্ৃত্তায়ন ও পরিবারতন্ত্র না থাকলে, মিডিয়াগুলি তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে দুর্নীতির আশ্রয় না নিলে-এসব সন্ত্রাসী সন্ত্রাসী হয়ে উঠতে পারতো কী?” আমার এই প্রতিক্রিয়ার পর আরেক সাংবাদিক লিখলেন যে, ক্ষমতাসীন যুব সংগঠনের এক বড় নেতাকে বাঁচাতে এই ক্রসফায়ার ঘটানো হয়েছে! এরপর আমি আবার একটা ছোট্র প্রতিক্রিয়া লিখলাম সেই স্ট্যাটাসের ওপর। দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়াটি ছিল এমন-” হায়দার সাহেব, আপনাদের মতো সাংবাদিকদের কারণেই আজ দেশে আইনের শাসন মার খাচ্ছে। আর আপনি নাহয় এটার কথা বলছেন, কোন ক্রসফায়ারের বিপক্ষে আপনার কলম চলেছে, ফেইসবুকে কিংবা সংবাদপত্রে? শেখ মামুন সাহেবের মতামতের বিশ্লেষণ করুন! আর এটা করতে না পারলে বলবো আপনার মাঝেও গলদ আছে, কিংবা ভাগ পাচ্ছেন (সেটা বিদেশযাত্রার সুযোগ হোক আর আর্থিক কোন সেবা হোক যে নামেই যেভাবেই হোক না কেন)? দালালি ভালো তবে এতো বেশি না! খুনের পরিকল্পনাকারিকে বাঁচাতে যখন কাউকে খুন করে রাষ্ট্রীয় বাহিনী তাহলে বুঝতে হবে গলদটা কোথায়? আর ওই রিপোটর্টা করার পর মামুন সাহেবও “…” না হয়ে যায়! আরেকটি প্রশ্ন- সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিদের ওরা ক্রসফায়ার করে না কেন?”
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি আমাকে সেই “মহান” সাংবাদিক ব্লক করে দিয়েছেন! গতবাক বা অবাক হইনি, ব্লক হবার কারণে আমার মনে কোন দু:খবোধও জন্মেনি। কারণ আমি জানি আমার স্বদেশে সহনশীলতার চাষ হয় না, অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাও প্রদর্শনের কোন শিক্ষা কোথাও পাওয়া যায় না। এই সহনশীলতা বা অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকলে কী আর হাসিনা ও খালেদারা পরস্পরের বিপক্ষে সারাবেলা “যুদ্ধ” করতেন? না, উনারা দেশের মানুষের জন্য নয় ক্ষমতায় যাওয়া আর টিকে থাকার জন্যই এমন লড়াই চালাচ্ছেন!
কিছুক্ষণ পর স্বদেশের সংবাদমাধ্যমগুলির ওপর চোখ বুলালাম। দৈনিক মানবজমিনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠেছে। যুবলীগের দুই পক্ষের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও অর্থনৈতিক ভাগ বাটোয়ারার কারণেই যুবলীগ নেতা মিল্কি খুন হন। এ ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যুবলীগের আরেক নেতা তারেকসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে। ব্যস, আর যায় কোথায় শুরু হয়ে গেলো পুরনো কাহিনী। তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ! হত্যা হলো মিল্কীর সন্দেহভাজন “খুনি” তারেক। অভিযোগ উঠেছে, এলিট ফোর্স আরএবি যুবলীগের কোন বড় নেতাকে বাঁচানোর জন্যই তারেককে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে? এই প্যারামিলিটারি বাহিনীর কিছু লোক চাঁদাবাজি, মাজারের টাকা লুট থেকে শুরু করে ভাড়াটে ও ফরমায়েশি খুনের কাজও করছে বলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলিতে প্রায়শ:ই লেখালেখি হচ্ছে। কিন্তু তারপরও তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ থামছে না স্বদেশে! দেশে এখন চলছে দুই পুত্রের রাজনৈতিক চালবাজিতার লড়াই! যাদের একজন তারেক জিয়া অন্যজন সজীব ওয়াজেদ জয়। দেশবাসি জানেন, তারেকের মা ও নিজামির দল এই এলিট বাহিনীকে জন্ম দিয়েছিলেন। আর জয়ের মা সেই “সন্তান”কে পালন করে যাচ্ছেন। জয় নাকি “উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত”! তিনিও এই বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ নামীয় বর্বর হত্যাযজ্ঞ বন্ধের ব্যাপারে কোন কথা বলছেন না। তাহলে বুঝুন “অল্পশিক্ষিত” যুবরাজ আর “উচ্চশিক্ষিত” জয়ের মধ্যে ফারাকটা কোথায়? আসলে ক্ষমতার লিপ্সার কাছে উভয়ের মাঝে দৃশ্যত কোন পার্থক্য আছে বলে দেশবাসির চোখে পড়ছেন না! দেশের মানুষের মনে একটা ধারণা ও বিশ্বাস জন্মেছে যে এলিট ফোর্সের বা পুলিশের হাতে যতগুলি বন্দুকযুদ্ধের নাটক বা ক্রসফায়ারের গল্প শোনা গেছে তার সবগুলিই ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধ নয় ডাইরেক্ট হত্যাকান্ড! নিহত (তারেকের গুলিতে মিল্কি আর আএবির গুলিতে তারেক) দুই যুবলীগ নেতাই অন্য দল থেকে যুবলীগে আসা। এদের মধ্যে একজন আবার কর্ণেল ফারুক-রশীদের ফ্রিডম পার্টির লোক ছিলেন বলে মানবজমিন লিখেছে।  যাহোক যতই বন্দুকযুদ্ধের নামে “সন্ত্রাসী” কিংবা মানুষ হত্যা করা হোক না কেন স্বদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে এবং পরিবারতন্ত্র, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসও বন্ধ করা যাবে না দেশটাকে সভ্য বলেও আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় পরিচয় দেয়া যাবে না। আর দেশে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রবর্তন করতে চাইলে সহিষ্ণুতা ও পরমতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শনের মতো মানসিকতা গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। আমাকে ব্লক করে দেয়া সাংবাদিক বন্ধুটির মাঝে সহনশীলতা ও পরমতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে উঠতে শুরু করলে নিশ্চয়ই তারেক ও জয়ের মাঝেও তার চর্চা গড়ে উঠেব, তবেই দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা ও অন্যান্য সন্ত্রাসও বন্ধ হবে বলে আমার বিশ্বাস। ছবি গুগল থেকে সংগৃহীত।

সরকারের পিঠে রনির চাবুক!

GMRoni

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। একজন নিপীড়িত সংবাদকর্মী হিসেবে আমি দারুণ খুশি এই জন্যে যে সরকার একজন সাংবাদিক নির্যাতনকারিকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্ত নির্যাতনকারি আবার খোদ সরকারদলীয় সংসদ সদস্য। কিন্তু তারপরও কতগুলি প্রশ্নের উদয় হলো আমার মনে। তাই এই লেখাটা আমার  ছোট্র একটা প্রতিক্রিয়া।
দেখলেন তো টাকার কত জোর? বিশেষত: স্বদেশে সবার উপরে টাকা সত্য, তাহার উপরে এলিট ফোর্স। এক দরবেশের ক্ষমতার দাপটে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মাওলার জেলগমন! আহা, কী সুন্দর দেশ, মাগো জন্মেছিলাম তোমার কোলে! সব খুনি, সব নির্যাতনকারিই যদি এমনিভাবে হতো আটক, দেশে আইনের শাসন আছে বলা যেতো! সাগর-রুনির খুনিরা যদি দরবেশ বাবার অপোনেন্ড হতো, আহ! হয়ত সরকার এখন বলার সুযোগ পাবে এই বলে যে, দেখুন আমাদের সময়ে আমরা দলের সংসদ সদস্যকেও গ্রেফতার করছি! অনেক দলীয় মিডিয়াকর্মী এই প্রচারণা এখনই চালাতে শুরু করেছে স্যোশালমিডিয়ায়। আহ! কী দারুণ আইনের শাসন, অন্য খুনিরা, অন্য নির্যাতনকারিদের ধরা হয় না। মিডিয়া মালিক আর টাকাওয়ালার দাপট কত দেখছেন তো! সাগর-রুনির খুনি ধরা হলো না। পরিশেষে সরকার ও সরকার সমর্থকদের বলছি একটি কথা। সেটি হলো-সংসদ সদস্য রিনির ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি ভালো করে পড়ুন। সেই স্ট্যাটাসের মর্মার্থ বোঝার চেষ্টা করুন। যদি বুঝতে পারেন তবে দেখবেন সরকারের পিঠে কী কঠিন চাবুক ঠুকে দিয়েছেন রনি গ্রেফতার হতে যাবার ঠিক পূর্ব মুহুর্তে? সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনিসহ সব সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনকারিকে গ্রেফতার করে প্রমাণ করুন যে আপনারা কোন দরবেশের টাকা ও দাপটের কাছে নতজানু নন!!! ছবি-মানবজমিনের ওয়েবপাতা থকে নেয়া।

জয় এখন জ্যোতিষী!

SWJ

জাহাঙ্গীর আকাশ ।।মা প্রধানমন্ত্রি ও দলীয় প্রধান, নানা জাতির পিতা। আর এসুবাদেই তিনি আকস্মিকভাবেই আওয়ামী লীগের নেতা তথা মুথপাত্র বনে গেলেন! না উনি আর কেউ নন, সজিব ওয়াজেদ জয়। উনার কাছে নাকি তথ্য আছে, আওয়ামী লীগ আবারও দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে! এই তথ্যটা উনাকে কে দিলো, কিসের ভিত্তিতে উনি এমন আগাম বার্তা পেলেন, দেশে কী সাধারণ নির্বাচন হয়ে গেছে, যার ফলাফলের ভিত্তিতে তিনি এই তথ্যটা জাতিকে জানালেন? গায়েবি এই তথ্যতো কেবল দেশের মানুষেরই জানার কথা, অন্য কেউ না। জয় এখন জ্যোতিষীর ন্যায় আগাম সবকিছু বলে দিতে পারেন! অন্ত:ত উনার সাম্প্রতিক এক মন্তব্য তাই প্রমাণ করে!

হ‍্যাঁ, যদি ৫১ শতাংশ ভোটার উনাকে এমন দস্তখত লিখে দিয়ে থাকেন তাহলে কোন কথা নেই! তবে “নবীন ও তরুণ” এমপিদের কর্মতৎপরতা আর পুরনো ও দলে যাঁদের অবদান সেইসব তৃণমূল মানুষরা যেভাবে অভিমান করে আছেন আর সংগঠনগতভাবে দলের আজকের যে অবস্থা তাতে এমন আগবাড়িয়ে দম্ভ প্রকাশ করাকে সাধারণ ভোটাররা কিভাবে নেবেন তা বলতে পারছি না। তবে হেফাজতি ও যুদ্ধাপরাধীদের কোনপক্ষের সাথে কোনপ্রকারের নতি স্বীকার স্বাধীনতাকামি, অসাম্প্রদায়িক, মুক্তচিন্তার মানুষ বরদাশত করবে বলে আমার মনে হয় না।

সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হতে চললো আজ অবধি একি পাবলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপাচার্য নির্বাচন করার মতো সরকার সাহস দেখায়নি! আর সিটি নির্বাচনে যা ঘটলো তাতো আর পর্যালোচনা করে বলার দরকার আছে বলে মনে করি না। যদি আমাদের বঙ্গবন্ধুর মেয়ের ভাষণ অনুযায়ী “দুর্নীতিবাজ”রাই সিটি করপোরশেনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু পরাজিতরা যে ধুয়া তুলসিপাতা, অন্ত:ত দুর্নীতির ক্ষেত্রে তার প্রমাণ আমার কাছে নেই, হয়ত জনগণের কাছেই আছে। যে জাতির পিতা বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়ন করতে পারেন সেই পিতার মেয়ে ব্রুট মেজরিটির জনমত পেয়েও বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে ভয় করেন এবং নিজেদের “সাম্প্্রদায়িকতা”র মানসিকতাটুকুর প্রকাশ ঘটান!

খালেদা-নিজামির গর্ভে জন্ম হওয়া এলিটবাহিনীর তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ আজও থামালো না মহাজোট সরকার, উপরন্তু মানুষ, রাজনীতক গুম হয়ে যাচ্ছে, কোন হদিস মিলছে না! দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এমন কাউকে আজও বরখাস্ত করার মতো সৎ মানসিকতার পরিচয় দতে পারেনি মহাজোট সরকার, বিশেষত: বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, সরকারপ্রধান।

যত অভিযোগ, অনুরাগ, অভিমানই থাকুক, দূর থেকে সারাক্ষণের কামনা আমার স্বদেশে যেন আর কোন যুদ্ধাপরাধীর গাড়িতে জাতীয় পতাকা না উড়ায়, হেফাজতিরা যাতে দেশে শরিয়া আইনের মতো কোন অমানবিক আইন দেশের মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে না পারে। তবেই ৩০ লাখ শহীদের আত্মা, মর্যাদা হারানো দুই লাখ মা-বোনের সম্মান রক্ষা হবে।  ছবি গুগল থেকে নেয়া।

সংসদে আরও কত মাওলা রনি আছেন?

Jahangir Akash

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। সাংবাদিক একের পর এক মার খাবে। এতে কার কী আসে যায়? সাংবাদিক মারলে কী হয়? কিচ্ছু না! সাংবাদিক নির্যাতন আর হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটবে। একের পর এক এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে এবং তা অব্যাহত রবে। অতীতে এমন অমানিবক নির্যাতন হত্যাকান্ড ঘটেছে। আজও ঘটছে। আগামিতেও ঘটবে। সাংবাদিকরা কী শুধু “সন্ত্রাসী” এমপি কিংবা অনৈতিক “ক্ষমতাবান” রাজনীতিকদের হাতে মার খাচ্ছে? নাকি সাংবাদিকদের পুলিশও মারে, প্যারামিলিটারি ফোর্সের সদস্যরাও মারে। সন্ত্রাসী, গুন্ডা, মাদক ব্যবসায়ি, কে মারে না মিডিয়াকর্মীদের? উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম সব দিক থেকেই আঘাত আসছে সংবাদকর্মীদের ওপর। সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যাকান্ড ঘটবে, সাংবাদিক নেতারা গলাবাজি করবে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী বলবে তদন্ত হচ্ছে, রাজনীতিকরা বা মন্ত্রি-এমপিরা বলবে অপরাধি যেই হোক তার শাস্তি হবেই হবে! সরকারি পক্ষকে সমর্থন করে এমন সংবাদকর্মী যদি সরকারিপক্ষের কারও দ্বারা আক্রান্ত হয় তবে সরকার সমর্থক সাংবাদিক নেতা, ইউনিয়ন ব্যাপারটি আপোষ করার চেষ্টা করবে। আর আঘাত যদি সরকারবিরোধিদের কাছ থেকে আসে তবে সরকার সমর্থক সংবাদকর্মী ও নেতৃত্ব জোর গলায় কথা বলবে, রাজপথে নেমে হামলাকারির তুলোধুনো করবে এবং বিচার ও শাস্তি চাইবে। আবার কিছুদিন যেতে না যেতেই সব ফিঁকে হয়ে যাবে। সবকিছু আবার আগের জায়গায় আসবে। সরকারসমর্থক মিডিয়াকর্মী সরকার সমর্থকদের হাতে আক্রান্ত হলে সরকারবিরোধী মিডিয়াপল্লী ডুগডুগি বাজাতে শুরু করবে। আর সরকারবিরোধী মিডিয়াকর্মী সরকার সমর্থকদের হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হলে ঠিক একইভাবে ডুগডুগি বাজাবে সরকার সমর্থনকারি মিডিয়াপরিবার। এইতো পাল্টাপাল্টি খেলা আর আঙুল চুষার মধ্যেই হামলাকারি, আঘাতকারির পার পেয়ে যাওয়ার পথ সহজতর হওয়া। আবার যদি প্যারামিলিটারি ফোর্সের দ্বারা কোন সাংবাদিক নিযাতিত হয় তবে মিডিয়াপল্লীর সবপক্ষ তথা ডান কিংবা বাম সকলেই চুপসে পড়বে। কেউ কেউ আবার নির্যানকারিদের পক্ষ নিয়ে দালালিতেও নেমে পড়বে। কারণ বাঘের খাঁচায় পড়েও বাঁচার পথ খোঁজা যায়। কিন্তু এই এলিটফোর্সের ছোঁয়া পড়া মানে জীবন বরবাদ। কারণ অবশ্য একটা আছে সেটা হলো ওরা যে কাউকে যে কোন অজুহাতে প্রকাশ্যে খুন, গুম এমনকি লাশটিকেও গায়েব করে দিতে পারে। জীবনের এই রিস্ক মোকাবেলা করতে কে ওতো ঝুঁকি নেবে, আর নেবেই বা কেন? যেখানে খোদ হাসিনা এবং খালেদাও এই ফোর্সকে এগিয়ে নিতে চাইছেন, নিচ্ছেন সেখানে সুবিধাবাদ ও তোষামোদির এই বাংলায় কে অন্যায়-অবিচার আর নির্যাতনের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে একটা খুনি বাহিনীর বিপরীতে পেশা, পেশার মর্যাদা ও সহকর্মীদের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস দেখাতে পারে? এমন আশা করাটাও এক ধরণের বাড়াবাড়িই বটে! সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাংবাদিক নির্যাতনের সর্বশেষ ঘটনায় সরকার দলের এক সংসদ সদস্য সরাসরি জড়িত। আমরা জানি বর্তমান সংসদে এমন বহু রনি আছেন যারা সাংবাদিক নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। কোন নির্যাতনেরই বিচার হয়নি। তবে হামলাকালে ক্ষতি হওয়া ক্যামেরা, মানিব্যাগ কিংবা মোটরসাইকেল ভাঙচুর বাবদ ক্ষতিপূরণের টাকার পরিমাণ নিয়ে দরকষাকষিতে পারঙ্গম কতিপয় সাংবাদিক নেতা ও ক্ষতিগ্রস্ত মিডিয়াকর্মী ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েই যেন বেজায় খুশি! ঘটনা ঘটলেই শালিশ বা সমঝোতার নামে ক্ষতিগ্রস্তপক্ষ ও হামলাকারি পক্ষকে এক টেবিলে বসনো হবে। সেই টেবিলে উভয়পক্ষের মুরুব্বিরাও থাকবে। এরপর অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের রাগ-অভিমানি বক্তব্য শেষে সববাই মিলে চা-চক্র কখনও কখনও “ভূড়িভোজ” চলে। আর ১০০ টাকার ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণের অংকটা ১০০০ টাকায় গিয়ে পৌঁছে। ব্যস, হামলাকারিও বাঁচে, নির্যাতনভোগকারিও খুশি মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ পেয়ে। ফলে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বারংবার। স্বাধীনতার ৪২ বছরেও দেশে সাংবাদিকতার একটা কার্যকর নীতিমালা গড়ে তোলা যায়নি। আমি যে দেশে এখন থাকি সেই দেশে সাংবাদিকতার নীতিমালা মেনেই মিডিয়া তার দায়িত্ব পালন করে। সাংবাদিক, মিডিয়া সকলেই স্বাধীন। নীতিমালা অনুসরণ করে স্বাধীনভাবে সবাই যার যার দায়িত্ব পালন করে। পেশা, পেশাগত মর্যাদা ও পেশার স্বাধীনতার প্রশ্নে সাংবাদিক ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলি দলমতের উর্দ্ধে ওঠে ঔক্যবদ্ধভাবে কাজ করে। ফলে গণতন্ত্র শাণিত হয়, জনসমস্যা-সংকট ও আকাঙ্খারও প্রতিফলন ওঠে আসে মিডিয়ায়। কিন্তু আমার স্বদেশ।  কী হয় সেখানে? কুড়ি বছরের সাংবাদিকতা জীবনে সেখানে দেখে এলাম শুধু ল্যাং মারামারি আর রাজনৈতিক দলবাজির সাংবাদিকতা! হয় আওয়ামীলিগ বা তার মহাজোটের হয়ে সাংবাদিকতা করা নতুবা বিএনপি বা তার ১৮ দলীয় জোটের পক্ষে নতজানু সাংবাদিকতা! সেখানে তৃতীয় ধারার কথা বলা হয় মাঝেমধ্যেই। এই তৃতীয় ধারাও কখনও কখনও বিলীন হয়ে যায় উপরোল্লিখিত জোট বা মহাজোটের আঁচলে। স্বাধীন ও সৎ সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয় পেশার রাজনীতিকীকরণের মধ্য দিয়ে। কাজেই এমন মার খাওয়া আর সমঝোতার আলোচনা ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের খেলা চলতেই থাকবে আমার স্বদেশে। তাইতো সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের বিপরীতেও সাংবাদিক সমাজ এক হতে পারে না, পারবেও না কেয়ামতের পরেও না! সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিদের আজও ধরা হলো না, বিচারতো প্রশ্নই ওঠে না! ক্ষমা চাইলে আর বয়কট কললেই কী সমাধান মিলে? দূর প্রবাসে থেকে দেশমাতার জন্য মন কাঁদে, কষ্ট জাগে। হতাশ হবো না, আমি আশাবাদি এসব  মুখে বললেই কী হতাশাকে জালে পুরে রাখা যায় নাকি আশার আলো দেখা যায় দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির অবসান না হওয়া পর্যন্ত???

পুরোপুরি শত্রুমুক্ত ও গ্লানিমুক্ত হোক স্বদেশ!

Bangladesh

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। হাসিনার মহাজোট সরকার কী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে “তামাশা” মনে করে? নাকি এই ইসু্যকে জিইয়ে রেখে আগামি র্নিবাচনে ভোটের রাজনীতি করতে চায়? যে পথেই যাক মহাজোট সরকার, আগামি র্নিবাচনে জয়লাভ করাটা কতটা সহজ তা কেবল সময়ই বলে দেবে! কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের নিয়ে কোন ছিনিমিনি, ছলচাতুরি দেশের মানুষ (জামাত-শিবির, হেফাজত, যুদ্ধাপরাধী ও পাকিস্তানপন্থিরা ছাড়া) মেনে নেবেন না। হেফাজতকে ছাড় দিয়ে, যুদ্ধাপরাধীদের আইনজীবী ও সাম্রাজ্যবাদি প্রভুদের নিয়ে গোপন বৈঠক করে কিংবা সাপকে যতই দুধ-কলা দিয়ে পোষ মানানোর চেষ্টা করা হোক না কেন, সাপ তার নিজ ধর্ম অনুযায়ী ফণা তুলবেই, তুলবে।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা কিছুদিন আগে বলেছেন যে, তাঁর সরকারের মেয়াদেই যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের রায় কার্যকর করা হবে! আর এখন জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন মুনসুর আলীর সন্তান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে জয়ী করার মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় আনলে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর হবে।’ (সূত্র-ইত্তেফাক)। কিছু মন্ত্রি-এমপির লাগামহীন দুর্নীতি, সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের বাড়াবাড়ি, “নবীন ও নতুন” এমপিদের এলাকায় এমপিতন্ত্র আর দলীয় ত্যাগি নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ণসহ শাসন ব্যবস্থার নানান ত্রুটির কারণে ফ্লোটিং নেগেটিভ ভোটের সমর্থন কিন্তু মহাজোটের ঘরে আসবে না! বিএনপি-জামাতের আমলেও তাদের বিশেষ ভবন, দুর্নীতি, দলীয়করণ, জঙ্গিবাদ ও দু:শাসনের কারণে নেগেটিভ ভোটবিপ্লবের জোয়ারে মহাজোট বিজয়ী হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। ঠিক একই অবস্থা হয়তো আগামি নির্বাচনে বিরোধীপক্ষের ঘরে বিজয় এনে দেবে। এঅবস্থাই যুদ্ধাপরাধ ইসু্যর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসু্যতে সরকার প্রধান ও সরকারের ক্ষমতাবান নেতাদের পরস্পরবিরোধী মন্তব্য বা বক্তব্য আখেরে সরকারি দলেরই ক্ষতি বৈ লাভ হবে না।
যাহোক এতোদিন জেনে এসেছি যে, অপরাধ, অপরাধের ধরণ ও মাত্রা দেখে অপরাধীর সাজা বা শাস্তি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু এখন নতুন ধারণা দিলো আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইবু্যনাল নাকি রাজাকার শিরোমণি, যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগেরই প্রতিটিই প্রমাণিত হবার পরও বয়স ও শারীরীক অবস্থা বিবেবচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি না দিয়ে ৯০ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে এবং নীতিগত কারণে আমি সর্বোচ্চ শাস্তি তথা মৃতু্যদন্ডকে কখনই সমর্থন করি না। গোলাম আজমইতো মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানিদের পক্ষে তথা গণহত্যার বেসামরিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এটা সর্বজন স্বীকৃত একটা সত্য। যে গোলাম আজম মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে, গণহত্যার সঙ্গে জড়িত সেই কুখ্যাত ব্যক্তির বয়স ও শারীরীক অবস্থা বিবেবচনায় নেয়া হলো কোন আইনের বলে? এই প্রশ্নটি করা কী আদালত অবমাননার মধ্যে পড়ে? যদি পড়েও তবুও সেই অবমাননাটুকু করতে কোন দ্বিধা নেই এই কারণে যে, একাত্তরের শহীদ ৩০ লাখ আত্মা, দুই লাখ মা বোনের আত্ম মর্যাদার ওপর আঘাত এবং এসব মানুষের স্বজনদের মনোবেদনার চেয়েও কী একজন গনহত্যাকারির বয়স ও শারীরীক অবস্থা বড় হয়ে দেখা দিতে পারে? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কী শুধু আওয়ামী লীগ বা হাসিনার সরকারের অভিলাষ নাকি এটা গোটা জাতির (হ্যাঁ, জামাত-শিবির-ঘাতক-যুদ্ধাপরাধী ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রাজনৈতিক দল ছাড়া সকলেই) দাবি?
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোন খেলা নয়, এটা জাতির জন্য একটা দায়। ৪২ বছর ধরে বাঙালি জাতি কলংক বয়ে বেড়াচ্ছে। সেই কলংক মোচনের একটা উদ্যোগ হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। জাতি সেদিনই কলংকমুক্ত হবে, জাতির দায় সেদিনই ঘুচবে যেদিন দেশে জীবীত সব রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে (সেটা যাবজ্জীবনই হোক, ৯০ বছরই হোক আর সর্বোচ্চ শাস্তিই হোক)। আর তখনই কেবল শহীদের আত্মা শাস্তি পাবে। শহীদদের স্বজনেরা যেদিন বলতে পারবেন যে আমরা বিচার পেয়েছি সেদিনই জাতি কলংকমুক্ত ও দায়মুক্ত হতে পারবে।
ট্রাইবু্যনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, “জামাত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।” বাংলাদেশের সংবিধান মতে কোন সন্ত্রাসী সংগঠন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারে না। এখন দেখার বিষয় সরকার এই সন্ত্রাসী সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ কের কিনা? এই জামাত-শিবিরের সন্ত্রাস, তান্ডব এখনও চলছে।
বিএনপি যদি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায় তাহলে জামাত-শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে, নইলে এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি একদিন পুরো বিএনপিকে গিলে খাবে- এতে কোন সন্দেহ নেই!
মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই (ঘাতক-যুদ্ধাপরাধী-জামাত-শিবির ছাড়া) পরিস্কার পথ বেছে নিতে হবে, যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে, নইলে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ রক্ষা করা যাবে কিনা-সেই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই! সরকারকে বলবো জামাত-শিবিরকে এখনই নিষিদ্ধ করো, নইলে ওদের তান্ডবলীলা থামানো যাবে না। ওরা আরও মরিয়া হয়ে উঠবে!!! পুরোপুরি শত্রুমুক্ত ও গ্লানিমুক্ত হোক স্বদেশ-এটাই তো আমার প্রত্যাশা। ছবি-গুগল থেকে নেয়া।

স্বদেশে সততা, অসাম্প্রদায়িকতা আর প্রগতিশীলতা এখন মুখের ও লেখনির অলংকার!

indeginous-boraigram

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। সততা, অসাম্প্রদায়িকতা আর প্রগতিশীলতা এখন মুখের ও লেখনির অলংকার! সোশাল মিডিয়া, ব্লগ, টকশো, হার্ডশো, সম্পাদকীয়-উপসম্পাদকীয় আর কলামপাড়ায় ধুম পড়ে যায় এসব নিয়ে অকাজের চেচামেচিতে, যেন মনে হয় ফাঁপা বাঁশ!!! আমার স্বদেশে বাস্তবে এসবের প্রাকটিস দুরবীণ দিয়ে বা মাইক্রোসকোপ দিয়েও দেখা যাবে না বলেই আমার বিশ্বাস! তবে ব‍্যতিক্রম তো আছেই, সেটা উদাহরণ দেয়াটাও একধরণের বোকামি। শয়তানরা নিজের মা, খালা, চাচি, বোন, মেয়ে আর স্ত্রীকেও “তেঁতুল” বলতে দ্বিধা করে না! যারা বলে এসব বাজে কথা তারা কী কোন মায়ের গর্ভে ছিল না নাকি? আমি এসব ভন্ডদের বলবো, নিজের নফছ যদি ঠিক থাকে, ঈমানে যদি জোর থাকে তবে কেউ কাপড় ছাড়াই ঘুরে বেড়ালেও কোন কামনা-বাসনা জাগার কথা নয়, জাগলেও তা দমন করাই তো মনুষত্ব। সরকার মেয়াদের পুরোটা নিয়েও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে পারে না! বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে কষ্ট হয় ওদের! শত্রু সম্পত্তি বা অর্পিত সম্পত্তিগুলিও আসল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে চায় না ওরা! একটা সমাজ ও রাষ্ট্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচারের প্রাকটিস না থাকলে, দুর্নীতি ও বৈষম্য যদি সমাজ ও রাষ্ট্রকে কুরে কুরে খায়, তখন সেই সমাজকে বা রাষ্ট্রকে সভ্য, গণতান্ত্রিক বলা যায় কী? প্রগতিশীল, দেশদরদী, গণতান্ত্রিক, ক্ষমতাকেন্দ্রিক বুর্জোয়াবাম সকলেই স্বৈরাচারের ইফতার পার্টিতে গিয়ে “ছওয়াব” কামাই করছে! আসল কতথা হলো ক্ষমতা, ক্ষমতা আর ক্ষমতা। এক্ষেত্রে মহাজোট বলি আর ১৮/১৯ দলীয় জোট বলি কেউ কম কিসে? যাহোক ওরা আমার ভাষা, সংস্কৃতি, শিল্পকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে, ভেঙ্গে ফেলছে তবুও ব্রুট মেজরিটির মহাজোট সরকার ওদের দমনে শক্ত হতে ভয় পায়, এটাই বড় আশ্চযর্ের ব‍্যাপার! শক্ত হওয়া মানে কিন্তু গুলি করা নয়, সমাজে আইনের শাসনের একটা কাঠামো দাঁড় করানোর কথা বলছি আমি!

হাসিনার সরকার কী আমেরিকার প্রতি নতজানু নাকি ইউনুসের কথায় চলে ওবামার সরকার?

Hasina-Yunus

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। ড. মুহাম্মদ ইউনুস নাকি দারিদ্র বিমোচনে কাজ করছেন! নোবেল জয় করছেন। অবশ্য নোবেল প্রদান নাকি এখন একটা রাজনৈতিক খেলা! এমন আলোচনা প্রায়ই চলছে সামাজিক মিডিয়ায়। প্রসঙ্গ এটা নয়। কথা বলতে চাই অন্য বিষয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা বাতিল করেছে আমেরিকার সরকার।

২০০৯ সালে জার্মানিতে আসার পর থেকেই আমি বাংলাদেশের তৈরী পোশাক বিশেষত: শার্ট ও প্যান্ট এবং গেঞ্জি কেনার চেষ্টা করছি। আর রানা প্লাজার ঘটনার পর এই প্রচেষ্টা আরও বেড়েছে। নরওয়েতে ব্যাপক আলোচনা বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নিয়ে। অনেকে এমনও মন্তব্য করেছেন যে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক দেখলেই শত শত শ্রমিকের লাশ, কান্না ও তাদের দূরবস্থার কথা মনে পড়ে যায়! তাই তারা বাংলাদেশের পোশাক এখন থেকে কিনবেন কি কিনবেন না সে বিষয়ে ব্যাপক ভাবনা তাদের। এমন অনেক মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। আমি তাদের বলার চেষ্টা করেছি যে এখন আপনাদের উচি‌ত হবে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক আরও বেশি বেশি করে কেনা। পাশাপাশি সেখানে পোশাক শিল্পের অবস্থার সামগ্রিক পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের সরকারের ওপর একটা চাপ অব্যাহত রাখা। তাহলে বাংলাদেশের শ্রমিক বাঁচবে, অর্থনীতির উন্নতি হবে এবং আপনারাও (যারা কমদানে সস্তায় পোশাক কিনে পরতে পারেন) কম দামে ভালো মানের পোশাক কিনতে পারবেন। সামাজিক গণমাধ্যম ফেইসবুকেও আমি এসব নিয়ে লেখালেখি করেছি। কিন্তু আজ আকস্মিকভাবে একটা খবর মিডিয়ায় এলো যে আমেরিকা বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করেছে। এই খবরে আর কেউ না হোক বাংলাদেশের দুই ক্ষমতালোভী খুশি হবেন! আর সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সেই দুইজনের ওপর দোষ চাপিয়ে গোটা দেশের মানুষের সহানুভুতি পাবার চেষ্টা করবে আগামি নির্বাচনি যুদ্ধে!
ওবামা সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্বদেশের অর্থনীতি ও পোশাক শিল্পের ওপর এক দারুণ আঘাত বলে সংশ্লিষ্ট অনেকেই মত দিয়েছে। আমেরিকা কেন এমন শক্ত সিদ্ধান্ত নিলো তা কী বাংলাদেশের সরকার বিবেচনায় নিয়েছে? এমন একটা সিদ্ধান্ত আসতে পারে বা আসবে বলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। মহাজোট সরকারের একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রি আছেন যিনি বিদেশ ভ্রমণে বেশ স্বাচ্ছন্দবোধ করেন, কিন্তু তাঁর এই ভ্রমণে দেশের ও দেশের মানুষের কী কল্যাণ বয়ে আসে তার কোন ইতিবাচক প্রতিচ্ছবি কী কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে?

 

বাংলাদেশে শ্রমিক হত্যা ও তার বিচার না হওয়া, পোশাক কারখানাগুলিতে নিরাপত্তার অব্যবস্থা, শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা তথা মজুরি না দেয়া ছাড়াও কারখানাগুলিতে একের পর এক আগুন আর ভবন ধ্বসের কারণে শ্রমিক গণহত্যার ঘটনাগুলিতে আমেরিকা ছাড়া সারা ইউরোপজুড়ে বাংলাদেশ থেকে পোশাক নেয়া নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থে এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলেন নোবেলজয়ী ও আমেরিকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ড. ইউনুস এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া।

হাসিনার মহাজোট সরকার টিকফা চুক্তি করেও ওবাসা সরকারের সমর্থন আদায় করতে পারলো না। এক্ষেত্রে বলা যায় ইউনুসই জয়ী হলেন, দীপুমণিদের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মতো গুরুত্বর্পূণ পদে বসিয়ে রেখে লাভ কী তবে?

মুনাফালোভী মানুষটি বলে বেড়াচ্ছেন যে অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের দারিদ্রতাকে জাদুঘরে দেখা যাবে, বাস্তবে কেবল শান্তি আর দুধের নহর বইয়ে যাবে! বোকার স্বর্গে বাস আর কী? বরং গরীব মানুষ ঋণের জালে আটকা পড়ছে। এক সংস্থার ঋণ শোধ করতে আরেক সংস্থার কাছে ঋণ করতে হচ্ছে। অনেকে ঋণ পরিশোধ করতে ভিটেমাটি বিক্রি করছেন। দারিদ্রতা জাদুঘরে নয় ঘরে ঘরে মিলবে। ৪০ থেকে ১২৫ শতাংশ সুদ নজিরবিহীন! অথচ দরিদ্র নারীরা যে সঞ্চয় করেন প্রতি সপ্তাহে নোবেলজয়ীর প্রতিষ্ঠানে তার ক্ষেত্রে কত শতাংশ সুদ দেয়া হয় তার হিসাব আজও কোন মিডিয়ায় এলো না।

জিএসপি স্থগিত একধরণের মানবাধিকার লংঘণ, আমরা স্থগিত নয় চাই অবস্থার পরিবর্তন। শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও ভাত-কাপড়ের নিরাপত্তা এবং কারখানার পরিবেশের উন্নয়ন জরুরি। জিএসপি সুবিধা বন্ধ/স্থগিত বা কাপড় কেনা বন্ধ করে দেয়াতে দারিদ্রতা বাড়বে, ড. ইউনুসরা কী সেটাই চাইছেন নাকি?

ড. ইউনুসের জন্মদিনে তিনি আমেরিকার সরকারের কাছ থেকে পুরস্কার পেলেন তাও আবার বাংলাদেশের অর্থনীতির বারো বাজানোর মতো পুরস্কার, ৪০ লাখ পোশাক শ্রমিকের পেটে লাথি মারার পুরস্কার! আর উনি নাকি দারিদ্র বিমোচন করছেন, নাকি দারিদ্রতাকে বাঁচিয়ে রেখে নিজের তথাকথিত সুদখোরি সামাজিক ব্যবসা জিইয়ে রাখা ও   জনসমর্থন ছাড়াই দেশের প্রধান হবার রাজনৈতিক খায়েশকে পূরণ করার এক সাম্রাজ্যবাদি দর্শন প্রচার করে চলেছেন?

হাসিনার সরকার যদি আমেরিকার প্রতি নতজানু না হয়ে থাকেতো পাল্টা ক্ষমতা দেখিয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশ এখন টিকফা চুক্তি বাতিল করে দিলে বুঝবো হাসিনার সরকার নতজানু সরকার নয়, এই সরকার জনগণের সরকার এবং দেশের মাটি, মানুষ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শক্ত অবস্থানও নিতে পারে! ছবি-গুগল থেকে নেয়া।

“চ” এর পরে এলো পরিবার ও ব্যক্তিগত বিষয়ে বাড়াবাড়ি।। কোথায় যাচ্ছে স্বদেশ?

Cartoon-fra google

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। স্বদেশে এখন শুরু হয়েছে নতুন খেলা। সংসদে “চ” অক্ষরের ব্যবহার নিয়ে তুলকালাম, মনে হয় যেন সিডর উঠেছে বাংলার ব্লগার, ফেসবুকারদের মাঝে! হেলাল হাফজ, ইমদাদুল হক মিলনসহ অনেক লেখকের রচনাতেও ওই “চ” শব্দ নিয়ে বহু শব্দ যেগুলিকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখা হয়, যদিও গ্রাম-বাংলার ঘরে ঘরে এমনকি তথাকথিত অনেক শিক্ষিত ভদ্রলোকের মুখেও এমন শব্দ শোনা যায়। এই “চ”ফোবিয়া শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে গেলো কে কোন ধর্মের মেয়েকে বা ছেলেকে বিয়ে করেছে, কার মা কোথা থেকে এসেছে-এমনসব বাজে আলোচনা, কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা চলছে পরস্পরের বিরুদ্ধে।

আমার প্রশ্ন হলো পরস্পরবিরোধী গালিগালাজ, দোষারোপের পালা আর অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি ছাড়া আমাদের ক্ষমতাপিপাসু দলগুলি বা তাদের সমর্থকেরা কী আর কোন ভালো ও মুক্ত, সাদা চিন্তা করতে পারে না, নাকি এরা সবাই জ্ঞানপাপী হয়ে গেছে? ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাস একেবারেই মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়। পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, পরোপকার আর দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার চেয়ে জয় কাকে কোন ধর্মের মানুষকে বিয়ে করলেন, কিংবা খালেদার মা কোন পারিবারিক ইতাহাস থেকে উঠে এসেছেন সেগুলি বড়! আসলে দেশের মানুষের নূ্যনতম মঙ্গল চাইলে কেউ এভাবে মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন-যাপন নিয়ে এভাবে নগ্ন আলোচনা বা সমালোচনার পথে অগ্রসর হতো বলে আমার মনে হয় না। আসলে এরাতো দেশকে, দেশের মানুষকে কেউ ভালো বাসে কিনা সেটা নিয়েই সন্দেহ আমার!

দেশে এখন কে কতবড় আস্তিক কিংবা নাস্তিক কিংবা কে কতবড় মুসলমান আর ইসলামিক তাই নিয়ে চলছে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ! কিন্তু দেশের মানুষের জন্য কে কত বেশি কল্যাণ করতে পেরেছে বা পারবে বা পারছে কিংবা কে কত বেশি দুর্নীতি করেছে, মানুষের টাকা লুটপাট করে নিজেদের স্বর্গ গড়ে তুলেছে তা নিয়ে কেউ উচ্চবাচ্য করে না আমাদের দলবাজ  তথাকথিত শিক্ষিতরা। কেউ কেউ আবার বিশেষ বছর ও রেজিমের হত্যা-নির্যাতনের খতিয়ানতুলে ধরে লেখালেখি করছে। কিন্তু দেশে র্মীয় সংখ্যালঘুরা যে সবসময় সব আমলেই মার খাচ্ছেন নির্বিচারে, অন্যায়ভাবে তার কোন সর্বজনীন চিত্র কারও লেখায় পাওয়া যায় না। শত্রুসম্পত্তি বা অর্পিত সম্পত্তি বলে বা দেখিয়ে শত্রুরা যখন তা দখল করে থাকে সেই শত্রু সম্পত্তি আসল মানুষ বা মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে “চ” (“চ” দিয়ে সংসদে প্রথম পর্যায়ে যে শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের মুখে তার মানে হলো, টালবাহানা) করছে সরকার তাদের মেয়াদের প্রায় পুরোটা সময়জুড়েই তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। আবার তিন ধর্মের নাম দিয়ে গড়ে তোলা একটা ঐক্যবদ্ধ সংগঠন আছে তারাও এখন মুখে কুলুপ এঁটেছে! বিশ্বজিতকেই মারা হোক, বা পুলিশের মাথাই থেতলে দেয়া হোক কিংবা জামাত-শিবিরই কারও হাত-পায়ের রগ কাটুক অথবা হেফাজতের কৌশলী কোন ষড়যন্ত্রের কারণে মাদ্রাসায় পড়ুয়া গরীবঘরের বা এতিম কোন সন্তানই নিহত হোক বা এলিটফোর্সের মিথ্যা ক্রসফায়ারে পড়ে নিহত হোক, হত্যা-নির্যাতনকে কোনভাবেই বরদাশত করা মানেই তা মানবতার বিপক্ষেই যায়। সেটা যে অজুহাতেই করা হোক না কেন হত্যা হত্যাই। এটাকে সমর্থন করা মানে সেটা বুঝতে আর কোন সমস্যা নেই যে যে বা যিনি সমর্থন করছেন সে বা তিনি আসলে খুনি বা নির্যাতনকারির পক্ষেই সাফাই গাইছেন। হত্যা-নির্যাতনের পক্ষাবলম্বন করামানেই অসভ্যতা, বর্বরতা।

সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিদের ধরা হচ্ছে না সেটা নিয়েও কেউ কথা বলে না (ব্যতিক্রম আছে, সেটা উদাহরণ হিসেবে দিতে পারবো না)। মানুষ গুম হয়ে যাবার পর আর কোন হদিস পাওয়া যায় না এমনকি লাশটারও সন্ধান পাবে না তার পরিবার তা নিয়ে কথা বলছে না কেউ, না হেফাজত, না আওয়ামী লীগ, না ব্লগার, না গণজাগরণ মঞ্চ এমনকি বিএনপিও না! কেউ খুনি বা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই কী তাকে মেরে ফেলতে হবে বা গুম করে দিতে পারে রাষ্ট্র? এটা একমাত্র জংলি সমাজেই করা সম্ভব। নরওয়েতে আনডেয়ার্স বে্রইভিক নামে এক যুবক ৭৭ জন নরওয়েজিয়ানকে হত্যা করেছে, কিন্তু তাকে খুন করেনি নরওয়ের পুলিশ, তার পরিবারের ওপরও কোন আক্রমণ করেনি কেউ, তার বাড়িঢ়রেও কেউ আগুন দেয়নি। তবে সরকার তার বিচার করেছে, তাও মৃত্যুদন্ড নয় (মৃতু্যদন্ড অমানবিক তাই এই সমাজে এটা চলবে না), ব্রেইভিক এখন কারাগারে। কারও মুখে ব্রেইভিক বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোন কথা শুনতে পারবেন না। কিন্তু এমনটা যদি আমার স্বদেশে কেউ ঘটাতে, ভাবুনতো একবার কী ম্যাসাকারটাই না ঘটে যেতো তার পরিবারের ওপর, বাড়িঘরের ওপর যে এমন হত্যাকান্ড ঘটাতো! আসলে আইনের শাসনের কার্যকারিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারা, মিডিয়া তার স্বাধীনতা নিয়ে জেগে আছে এমনটা যে সমাজ ও রাষ্ট্র দেখা যায় না সেই সমাজ ও রাষ্ট্র কে কী সভ্য, গণতান্ত্রিক বলা যায় কখনও?

মানুষ, মানবতা আর মানবসেবার চেয়ে ইহুদি, খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান, আদিবাসির পরিচয় কী কখনও বড় হতে পারে? আসলে যারা এই ধর্ম, পরিবার আর ব্যক্তিগত বিষয়গুলি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে পছন্দ করি তারা আসলে মানুষের কোন পর্যায়ে পড়ি কিনা সেই প্রশ্নটা আমার নিজেকেই করতে ইচ্ছে হচ্ছে? কাটর্ুন এই ছবিটি গুগল থেকে সংগৃহীত।

ওরা কেন সকলেই হারলো?

KH

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সামগ্রিক নির্বাচনি ফলাফলে হতাশ হওয়ার কোন বিকল্প নেই। ব‍্যক্তিগতভাবে চারজনের ভেতরে একজনের কারণে আমি আজ দেশান্তরিত, যেটা কখনই চাইনি, শতকষ্টেও দেশের মাটিতে স্বদেশের মানুষের পক্ষে কিছু করার অনবরত প্রচেষ্টা ছিল আমার। সেটাতো নিতান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। নির্বাচন বিষয়ে আমি জানি না বাস্তবে কী ঘটেছে? কিন্তু একটা বিষয় পরিস্কার আমার কাছে। সেটা হলো আমার দেশের সিংহভাগ সাধারণ মানুষ সাম্প্রদায়িক নন, যুদ্ধাপরাধী, হেফাজতি বা বিএনপি যতই সেটা প্রচার করার চেষ্টা করুক না কেন তা কাজে লাগবে না। আমাদের আওয়ামী  দলীয় বুদ্ধিজীবী, মিডিয়া একটা বিষয় স্বীকার করতে চাননা সম্ভবত:। আর তা হলো উনাদের পছন্দের দল বা জোট যা করে তা সবসময় ভালো করে!  উনারা হারলে বলে সাম্প্রদায়িকতার সুড়সুড়ি তুলেছে ওরা তাই প্রগতিশীল জোট তথা আওয়ামী লীগের প্রাথর্ি হেরেছে! এবারের নির্বাচনে পরাজিত এবং বহু কেলেংকারির হোতা এক মেয়রতো আবার মিডিয়া কু্যয়ের মতো একটা হাস্যকর কৌতুকের জন্ম দিয়েছেন ইতোমধ্যে! কৌতুক বললাম একারণে যে দেশের সিংহভাগ মিডিয়াই এখন বলতে গেলে সরকারের তল্পিবাহক (ব্যতিক্রম দু´চারটি ছাড়া), সেখানে কী করে মিডিয়া কু্য সম্ভব তা জানা নেই। প্রগতিশীল জোট বা মহাজোটের সংগঠনগত অবস্থাটা কোন পর্যায়ে আছে বা সংগঠনের কী দুরবস্থা সাংগঠনিকভাবে সেটার বিশ্লেষণ আমরা কখনই পাইনা প্রগতিশীল জোট বা মহাজোটপন্থি বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে। মহাজোট বিশেষত: আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক হযবরল অবস্থার পেছনের কারণগুলি কী, কেন এমন হলো কারা দায়ি তার চুলচেরা বিচার আমাদের দলঅনুরাগি মিডিয়া বা বুদ্ধিজীবী মহলের কাছ থেকে কোনদিনই পাওয়া যাবে না।

তবে আমার এখন ভীষণভাবে স্বরণে পড়ছে শ্রদ্ধেয় আনু মোস্তফার একটা ছোট্র ফেইসবুক স্টাটাস। উনার সেই স্টাটাসে আজকের পরাজয়ের কারণগুলি বলা আছে। আমি সে প্রসঙ্গে যেতে চাই না, শুধু বলবো আমরা যেন কাকে কান নিয়ে গেছে এই শোরগোল তুলে কাকের পেছনে না দৌঁড়িয়ে কানটার দিকে ভালোভাবে নেড়ে দেখার চেষ্টা করি! নইলে যাকিছু খারাপ তার সবকিছুই ওই বিরোধীরাই করেছে, করছে বলে নিজেদের ভেতরের বাস্তব অবস্থাটাকে আঁড়াল করার চেষ্টার ফল চার সিটি করপোরশনের নির্বাচনি ফলাফলের মতোই নতুন ফলাফলই এনে দেবে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করা হবে না, ক্ষমতায় চিরস্থায়ীভাবে থাকার মানসিকতাও ভুলে যেতে হবে, আর মার খাবেন শুধু মাঠ পর্যায়ের সাচ্ছা লড়াকু মুক্তমনা মানুষগুলি।

দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নারী ধর্ষণ-নির্যাতন, দুর্নীতি, তত্ত্বাবধায়ক ইসু্য এসব বিষয় কী নির্বাচনে কাজ করেনি। নিশ্চয়ই করেছে। সাংবাদিক ও মিডিয়া দলন-পীড়ন এবং সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিদের ধরতে সরকারি টালবাহানাসহ নানান বিষয় মাথায় রেখেই জনগণ সিটি নির্বাচনে মহাজোটের ওপর থেকে ভালোবাসা তুলে নিয়েছেন। আরেকটা বিষয় এখানে উল্লেখ করতে চাই, সেটা হলো আমাদের কিছু ব্লগার, বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়াম্যান আছেন যারা সবসময় জনগণকে “অশিক্ষিত” বলে তাঁদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আমি এমন গাজাখুরি তত্ত্বে কখনই বিশ্বাস করি না। আমাদের দেশের আমজনতা শিক্ষিত তবে তাঁরা তথাকথিত শাট-প্যান্ট টাই পরা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত নন, তাঁরা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত, তাঁরা কখনও বিবেককে বিকোয় না। তবে তাঁরা বাধ্য হন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজিদেরকে মিলিয়ে নেয়ার জন্য। কার ণ জনগণ জানেন রাজনীতিকদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা ও পাওয়া কোনটাই যাবে না, সব রাজনীতিবিদদের কথা বলছি না ব্যতিক্রমতো আছেই। কিন্তু সেই ব্যতিক্রমী রাজনীতিবিদদের অংশটুকুও কোন কিছুই করতে পারে না দুর্বৃত্তপনা রাজনীতির কারণে। দেশের মানুষের হাতে একটাই অস্ত্র আছে সেটা তাঁরা প্রয়োগ করেন যথাসময়ে। দেশের মানুষ নির্ভয়ে নির্বাচনে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারলে আর নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়ম না হলে জনগণের রায়টা সঠিকভাবেই প্রতিফলিত হয়। জনগণ দেখেন তাঁরা শান্তিতে ঘুমোতে পারছেন কিনা, দ্রব্যমূল্যের দাম সহনশীল আছে কিনা, রাজনীতিকরা বিশেষ করে সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রিরা দুর্নীতি করছেন কিনা, তাদের কথাবার্তায় সংযমী ভাবটা আছে কিনা, মানুষের মানবাধিকার রক্ষা হচ্ছে কিনা, যোগ্য ও মেধাবিরা চাকরি পাচ্ছেন কিনা, কেউ চাঁদাবাজি করছে কিনা, দেশে আইনের শাসন চলছে কিনা, বিনা কারণে কেউ র্নিযাতিত  হচ্ছেন কিনা, কেউ গুম হয়ে গেলে তাকে উদ্ধারের পরিবর্তে সরকার ও সরকারি দলের লোকেরা কোন ফালতু তত্ত্ব ও কথাবার্তা বলছে কিনা, কেউ নিহত হলে খুনিকে ধরার চেয়ে খুনিকে রক্ষার জন্য নানান কায়দা-কৌশলে বহুরুপি তত্ত্ব হাজির করছে কিনা এমন আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জনগণ ঠিকই বিবেচনায় রাখেন সবসময়। কাজেই সময় থাকতে কেউ নিজেকে সংশোধন করতে ব্যর্থ হলে জনগণ ঠিকই ভোট নামক শক্ত অস্ত্রের ব্যবহার করতে কখনই ভুল করেন না তাদের বিরুদ্ধে যারা জনগণের অর্থ নিয়ে নিজেদের আরাম-আয়েশের স্বর্গ গড়ে তুলে!!!

কালো টাকার প্রভাব, দলীয় গ্রুপিং ও ষড়যন্ত্রের মুখে দল থেকে বহুদিনের ত্যাগি ও পরীক্ষীত কোন নির্বাচিত নেতাকে বাদ দিয়ে টাকাওয়ালা, ব্যবসায়ী কাউকে দলে এনে কিংবা অনির্বাচিত কাউকে সেই পদে বসানো হচ্ছে কিনা-এসব বিষয়ও জনগণ বিবেচনায় রাখেন যখন কাউকে ভোট দিতে যান । সুতরাং জনগণকে বোকা ভাবা মানেই নিজেই বোকামিটা করা। অহংকার পতনের মূল-এই সর্বজনীন সত্যটা ভুলে গেলে তার মাশুল বা খেসারতও দিতে হবে! সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আঞ্চলিক নির্বাচন হলেও বাস্তবতাটা জাতীয় নির্বাচনের আদলেই ধরা পড়ে, সেটার ব্যতিক্রম এবারও ঘটেনি।

আমরা সবাই জানি বিগত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কাদেরকে নমিনেশন দিয়েছিল, কেন দিয়েছিল? আওয়ামী লীগ জানতো দেশের মানুষও জানতেন যে এবারে আওয়ামী লীগ যাকেই নমিনেশন দেবে সেই বিজয়ী হবে। কারণ বিএনপি-জামাতের দুর্নীতি, দু:শাসন, সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদকে মদদদান এসবের নেগেটিভ প্রভাব পড়বে নির্বাচনে যার প্রমাণ মিলেছে নির্বাচনি ফলাফলে। কাজেই যার কাছেই মোটা বড় অংকের টাকা পেয়েছে তাকেই নমিনেশন দিয়েছে দীর্ঘদিনের দলীয় ত্যাগি নেতাদের বাদ দিয়ে। এমনও ঘটেছে জামাত পরিবারের অনেকেই নমিনেশন পেয়েছে। নবাগত, ব্যবসায়ী তরুণ যারা নমিনেশন পেয়েছিলেন তাদের সঙ্গে মাঠর্পযায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কোন যোগাযোগ নেই, তাদের অধিকাংশই নিজস্ব ব্যবসাপাতি ও আখের গোছাতেই ব্যস্ত। ফলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা একেবারেই তথৈবচ অবস্থায় নিপতিত। এসব নিয়ে পরে কোন লেখায়  আলাদা করে তুলে ধরার আশা রইলো। আওয়ামী বুদ্ধিজীবী, মিডিয়া এসব নিয়ে মাথা ঘামায়না। তারা শুধু পদপদবি আর স্বার্থ রক্ষা ও সুবিধা আদায় নিয়েই ব্যস্ত, তাই সত্য বিশ্লেষণ চাপা পড়ে যাচ্ছে। এখন আমাদের বঙ্গবন্ধু কন্যার এবং উনার নীতিনিধর্ারকবৃন্দের ঘুম ভাঙলেই ভালো, দেশের মঙ্গল!

পরিশেষে বলবো, বড় বড় রাঘব-বোয়াল রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের কারো কিছুই হবে না সরকারে আওয়ামী লীগ থাক আর বিএনপি থাক। আমি বলবো ওদের এই বিজয় তাদের নিজের বিজয়, সাম্প্রদায়িকতা বা যুদ্ধাপরাধীদের বিজয় নয়; এই বিজয় প্রগতিশীল শিবির তথা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দূর্বলতার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি-জামাত জোটের নেগেটিভ বিজয়! এই বাস্তবতাটুকু আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড, নীতিনির্ধারকমহল, বুদ্ধিজীবী, সুবিধাবাদি ও চাটুকারের দল বুঝতে পারলেই হয়ত আগামি জাতীয় নির্বাচনে আশা বেঁচে থাকবে, নইলে ফের যুদ্ধাপরাধীরাই বাংলাদেশের স্বাধীন পতাকা উড়াবে তাদের গাড়িতে!!!! ছবিটি গুগল থেকে নেয়া।

কোন দলে গণতন্ত্র?

sangbad-21-8-2009-democracy-peace5

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আমার এক শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় মানুষ ফেইসবুকে একটা স্টাটাস লিখেছেন। স্টাটাস পড়ে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে যেন একমাত্র আওয়ামী লীগই গণতান্ত্রিক দল? তাই ছোট্র একটা প্রতিক্রিয়া লিখতে বসলাম।
কোন দলে গণতন্ত্র চর্চা আছে সেটা বুঝতে পারি না! বিএনপির জন্ম সেনাছাউনিতে আর দলছুট সুবিধাভোগীদের নিয়ে গড়ে ওঠা দল এটি। সেখানে গণতন্ত্র র্চচা আশা করাটাও একধরণের বাড়াবাড়ি। আর জামাত-শিবির, হেফাজত, যুদ্ধাপরাধী ওরাতো কোন মাপকাঠিতেই পড়ে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বা জাতির পিতার দল আওয়ামী লীগেই কী গণতন্ত্র র্চচা আছে?

শেখ হাসিনার পছন্দ আর অপছন্দ এর মধ্যেই কী গণতন্ত্র র্চচা সীমিত হয়ে যায়নি এই দলের অভ্যন্তরে? আর গণতন্ত্র মানেতো টাকার খেলা, ব্যবসায়িদের মিলনমেলা, সন্ত্রাসীদের লালন-পালন কিংবা পছন্দ না হলেই র্নিবাচিত নেতাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া বোঝায় না।
গণতন্ত্র মানেতো সহনশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাপ্রদর্শন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা, এসব কী সোনার হরিণ নয় আমার স্বদেশে? আমি অবশ্য দাদার মতো রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র বা গবেষক নই, আমি একটা আগাছা বা শ্যাওলার ন্যায় নাগরিকমাত্র তাও এখন পরবাসে!