Monthly Archives: জুন 2013

হাসিনার সরকার কী আমেরিকার প্রতি নতজানু নাকি ইউনুসের কথায় চলে ওবামার সরকার?

Hasina-Yunus

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। ড. মুহাম্মদ ইউনুস নাকি দারিদ্র বিমোচনে কাজ করছেন! নোবেল জয় করছেন। অবশ্য নোবেল প্রদান নাকি এখন একটা রাজনৈতিক খেলা! এমন আলোচনা প্রায়ই চলছে সামাজিক মিডিয়ায়। প্রসঙ্গ এটা নয়। কথা বলতে চাই অন্য বিষয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা বাতিল করেছে আমেরিকার সরকার।

২০০৯ সালে জার্মানিতে আসার পর থেকেই আমি বাংলাদেশের তৈরী পোশাক বিশেষত: শার্ট ও প্যান্ট এবং গেঞ্জি কেনার চেষ্টা করছি। আর রানা প্লাজার ঘটনার পর এই প্রচেষ্টা আরও বেড়েছে। নরওয়েতে ব্যাপক আলোচনা বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নিয়ে। অনেকে এমনও মন্তব্য করেছেন যে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক দেখলেই শত শত শ্রমিকের লাশ, কান্না ও তাদের দূরবস্থার কথা মনে পড়ে যায়! তাই তারা বাংলাদেশের পোশাক এখন থেকে কিনবেন কি কিনবেন না সে বিষয়ে ব্যাপক ভাবনা তাদের। এমন অনেক মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। আমি তাদের বলার চেষ্টা করেছি যে এখন আপনাদের উচি‌ত হবে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক আরও বেশি বেশি করে কেনা। পাশাপাশি সেখানে পোশাক শিল্পের অবস্থার সামগ্রিক পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের সরকারের ওপর একটা চাপ অব্যাহত রাখা। তাহলে বাংলাদেশের শ্রমিক বাঁচবে, অর্থনীতির উন্নতি হবে এবং আপনারাও (যারা কমদানে সস্তায় পোশাক কিনে পরতে পারেন) কম দামে ভালো মানের পোশাক কিনতে পারবেন। সামাজিক গণমাধ্যম ফেইসবুকেও আমি এসব নিয়ে লেখালেখি করেছি। কিন্তু আজ আকস্মিকভাবে একটা খবর মিডিয়ায় এলো যে আমেরিকা বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করেছে। এই খবরে আর কেউ না হোক বাংলাদেশের দুই ক্ষমতালোভী খুশি হবেন! আর সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সেই দুইজনের ওপর দোষ চাপিয়ে গোটা দেশের মানুষের সহানুভুতি পাবার চেষ্টা করবে আগামি নির্বাচনি যুদ্ধে!
ওবামা সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্বদেশের অর্থনীতি ও পোশাক শিল্পের ওপর এক দারুণ আঘাত বলে সংশ্লিষ্ট অনেকেই মত দিয়েছে। আমেরিকা কেন এমন শক্ত সিদ্ধান্ত নিলো তা কী বাংলাদেশের সরকার বিবেচনায় নিয়েছে? এমন একটা সিদ্ধান্ত আসতে পারে বা আসবে বলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। মহাজোট সরকারের একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রি আছেন যিনি বিদেশ ভ্রমণে বেশ স্বাচ্ছন্দবোধ করেন, কিন্তু তাঁর এই ভ্রমণে দেশের ও দেশের মানুষের কী কল্যাণ বয়ে আসে তার কোন ইতিবাচক প্রতিচ্ছবি কী কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে?

 

বাংলাদেশে শ্রমিক হত্যা ও তার বিচার না হওয়া, পোশাক কারখানাগুলিতে নিরাপত্তার অব্যবস্থা, শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা তথা মজুরি না দেয়া ছাড়াও কারখানাগুলিতে একের পর এক আগুন আর ভবন ধ্বসের কারণে শ্রমিক গণহত্যার ঘটনাগুলিতে আমেরিকা ছাড়া সারা ইউরোপজুড়ে বাংলাদেশ থেকে পোশাক নেয়া নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থে এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলেন নোবেলজয়ী ও আমেরিকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ড. ইউনুস এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া।

হাসিনার মহাজোট সরকার টিকফা চুক্তি করেও ওবাসা সরকারের সমর্থন আদায় করতে পারলো না। এক্ষেত্রে বলা যায় ইউনুসই জয়ী হলেন, দীপুমণিদের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মতো গুরুত্বর্পূণ পদে বসিয়ে রেখে লাভ কী তবে?

মুনাফালোভী মানুষটি বলে বেড়াচ্ছেন যে অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের দারিদ্রতাকে জাদুঘরে দেখা যাবে, বাস্তবে কেবল শান্তি আর দুধের নহর বইয়ে যাবে! বোকার স্বর্গে বাস আর কী? বরং গরীব মানুষ ঋণের জালে আটকা পড়ছে। এক সংস্থার ঋণ শোধ করতে আরেক সংস্থার কাছে ঋণ করতে হচ্ছে। অনেকে ঋণ পরিশোধ করতে ভিটেমাটি বিক্রি করছেন। দারিদ্রতা জাদুঘরে নয় ঘরে ঘরে মিলবে। ৪০ থেকে ১২৫ শতাংশ সুদ নজিরবিহীন! অথচ দরিদ্র নারীরা যে সঞ্চয় করেন প্রতি সপ্তাহে নোবেলজয়ীর প্রতিষ্ঠানে তার ক্ষেত্রে কত শতাংশ সুদ দেয়া হয় তার হিসাব আজও কোন মিডিয়ায় এলো না।

জিএসপি স্থগিত একধরণের মানবাধিকার লংঘণ, আমরা স্থগিত নয় চাই অবস্থার পরিবর্তন। শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও ভাত-কাপড়ের নিরাপত্তা এবং কারখানার পরিবেশের উন্নয়ন জরুরি। জিএসপি সুবিধা বন্ধ/স্থগিত বা কাপড় কেনা বন্ধ করে দেয়াতে দারিদ্রতা বাড়বে, ড. ইউনুসরা কী সেটাই চাইছেন নাকি?

ড. ইউনুসের জন্মদিনে তিনি আমেরিকার সরকারের কাছ থেকে পুরস্কার পেলেন তাও আবার বাংলাদেশের অর্থনীতির বারো বাজানোর মতো পুরস্কার, ৪০ লাখ পোশাক শ্রমিকের পেটে লাথি মারার পুরস্কার! আর উনি নাকি দারিদ্র বিমোচন করছেন, নাকি দারিদ্রতাকে বাঁচিয়ে রেখে নিজের তথাকথিত সুদখোরি সামাজিক ব্যবসা জিইয়ে রাখা ও   জনসমর্থন ছাড়াই দেশের প্রধান হবার রাজনৈতিক খায়েশকে পূরণ করার এক সাম্রাজ্যবাদি দর্শন প্রচার করে চলেছেন?

হাসিনার সরকার যদি আমেরিকার প্রতি নতজানু না হয়ে থাকেতো পাল্টা ক্ষমতা দেখিয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশ এখন টিকফা চুক্তি বাতিল করে দিলে বুঝবো হাসিনার সরকার নতজানু সরকার নয়, এই সরকার জনগণের সরকার এবং দেশের মাটি, মানুষ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শক্ত অবস্থানও নিতে পারে! ছবি-গুগল থেকে নেয়া।

Advertisements

“চ” এর পরে এলো পরিবার ও ব্যক্তিগত বিষয়ে বাড়াবাড়ি।। কোথায় যাচ্ছে স্বদেশ?

Cartoon-fra google

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। স্বদেশে এখন শুরু হয়েছে নতুন খেলা। সংসদে “চ” অক্ষরের ব্যবহার নিয়ে তুলকালাম, মনে হয় যেন সিডর উঠেছে বাংলার ব্লগার, ফেসবুকারদের মাঝে! হেলাল হাফজ, ইমদাদুল হক মিলনসহ অনেক লেখকের রচনাতেও ওই “চ” শব্দ নিয়ে বহু শব্দ যেগুলিকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখা হয়, যদিও গ্রাম-বাংলার ঘরে ঘরে এমনকি তথাকথিত অনেক শিক্ষিত ভদ্রলোকের মুখেও এমন শব্দ শোনা যায়। এই “চ”ফোবিয়া শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে গেলো কে কোন ধর্মের মেয়েকে বা ছেলেকে বিয়ে করেছে, কার মা কোথা থেকে এসেছে-এমনসব বাজে আলোচনা, কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা চলছে পরস্পরের বিরুদ্ধে।

আমার প্রশ্ন হলো পরস্পরবিরোধী গালিগালাজ, দোষারোপের পালা আর অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি ছাড়া আমাদের ক্ষমতাপিপাসু দলগুলি বা তাদের সমর্থকেরা কী আর কোন ভালো ও মুক্ত, সাদা চিন্তা করতে পারে না, নাকি এরা সবাই জ্ঞানপাপী হয়ে গেছে? ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাস একেবারেই মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়। পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, পরোপকার আর দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার চেয়ে জয় কাকে কোন ধর্মের মানুষকে বিয়ে করলেন, কিংবা খালেদার মা কোন পারিবারিক ইতাহাস থেকে উঠে এসেছেন সেগুলি বড়! আসলে দেশের মানুষের নূ্যনতম মঙ্গল চাইলে কেউ এভাবে মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন-যাপন নিয়ে এভাবে নগ্ন আলোচনা বা সমালোচনার পথে অগ্রসর হতো বলে আমার মনে হয় না। আসলে এরাতো দেশকে, দেশের মানুষকে কেউ ভালো বাসে কিনা সেটা নিয়েই সন্দেহ আমার!

দেশে এখন কে কতবড় আস্তিক কিংবা নাস্তিক কিংবা কে কতবড় মুসলমান আর ইসলামিক তাই নিয়ে চলছে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ! কিন্তু দেশের মানুষের জন্য কে কত বেশি কল্যাণ করতে পেরেছে বা পারবে বা পারছে কিংবা কে কত বেশি দুর্নীতি করেছে, মানুষের টাকা লুটপাট করে নিজেদের স্বর্গ গড়ে তুলেছে তা নিয়ে কেউ উচ্চবাচ্য করে না আমাদের দলবাজ  তথাকথিত শিক্ষিতরা। কেউ কেউ আবার বিশেষ বছর ও রেজিমের হত্যা-নির্যাতনের খতিয়ানতুলে ধরে লেখালেখি করছে। কিন্তু দেশে র্মীয় সংখ্যালঘুরা যে সবসময় সব আমলেই মার খাচ্ছেন নির্বিচারে, অন্যায়ভাবে তার কোন সর্বজনীন চিত্র কারও লেখায় পাওয়া যায় না। শত্রুসম্পত্তি বা অর্পিত সম্পত্তি বলে বা দেখিয়ে শত্রুরা যখন তা দখল করে থাকে সেই শত্রু সম্পত্তি আসল মানুষ বা মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে “চ” (“চ” দিয়ে সংসদে প্রথম পর্যায়ে যে শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের মুখে তার মানে হলো, টালবাহানা) করছে সরকার তাদের মেয়াদের প্রায় পুরোটা সময়জুড়েই তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। আবার তিন ধর্মের নাম দিয়ে গড়ে তোলা একটা ঐক্যবদ্ধ সংগঠন আছে তারাও এখন মুখে কুলুপ এঁটেছে! বিশ্বজিতকেই মারা হোক, বা পুলিশের মাথাই থেতলে দেয়া হোক কিংবা জামাত-শিবিরই কারও হাত-পায়ের রগ কাটুক অথবা হেফাজতের কৌশলী কোন ষড়যন্ত্রের কারণে মাদ্রাসায় পড়ুয়া গরীবঘরের বা এতিম কোন সন্তানই নিহত হোক বা এলিটফোর্সের মিথ্যা ক্রসফায়ারে পড়ে নিহত হোক, হত্যা-নির্যাতনকে কোনভাবেই বরদাশত করা মানেই তা মানবতার বিপক্ষেই যায়। সেটা যে অজুহাতেই করা হোক না কেন হত্যা হত্যাই। এটাকে সমর্থন করা মানে সেটা বুঝতে আর কোন সমস্যা নেই যে যে বা যিনি সমর্থন করছেন সে বা তিনি আসলে খুনি বা নির্যাতনকারির পক্ষেই সাফাই গাইছেন। হত্যা-নির্যাতনের পক্ষাবলম্বন করামানেই অসভ্যতা, বর্বরতা।

সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিদের ধরা হচ্ছে না সেটা নিয়েও কেউ কথা বলে না (ব্যতিক্রম আছে, সেটা উদাহরণ হিসেবে দিতে পারবো না)। মানুষ গুম হয়ে যাবার পর আর কোন হদিস পাওয়া যায় না এমনকি লাশটারও সন্ধান পাবে না তার পরিবার তা নিয়ে কথা বলছে না কেউ, না হেফাজত, না আওয়ামী লীগ, না ব্লগার, না গণজাগরণ মঞ্চ এমনকি বিএনপিও না! কেউ খুনি বা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই কী তাকে মেরে ফেলতে হবে বা গুম করে দিতে পারে রাষ্ট্র? এটা একমাত্র জংলি সমাজেই করা সম্ভব। নরওয়েতে আনডেয়ার্স বে্রইভিক নামে এক যুবক ৭৭ জন নরওয়েজিয়ানকে হত্যা করেছে, কিন্তু তাকে খুন করেনি নরওয়ের পুলিশ, তার পরিবারের ওপরও কোন আক্রমণ করেনি কেউ, তার বাড়িঢ়রেও কেউ আগুন দেয়নি। তবে সরকার তার বিচার করেছে, তাও মৃত্যুদন্ড নয় (মৃতু্যদন্ড অমানবিক তাই এই সমাজে এটা চলবে না), ব্রেইভিক এখন কারাগারে। কারও মুখে ব্রেইভিক বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোন কথা শুনতে পারবেন না। কিন্তু এমনটা যদি আমার স্বদেশে কেউ ঘটাতে, ভাবুনতো একবার কী ম্যাসাকারটাই না ঘটে যেতো তার পরিবারের ওপর, বাড়িঘরের ওপর যে এমন হত্যাকান্ড ঘটাতো! আসলে আইনের শাসনের কার্যকারিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারা, মিডিয়া তার স্বাধীনতা নিয়ে জেগে আছে এমনটা যে সমাজ ও রাষ্ট্র দেখা যায় না সেই সমাজ ও রাষ্ট্র কে কী সভ্য, গণতান্ত্রিক বলা যায় কখনও?

মানুষ, মানবতা আর মানবসেবার চেয়ে ইহুদি, খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান, আদিবাসির পরিচয় কী কখনও বড় হতে পারে? আসলে যারা এই ধর্ম, পরিবার আর ব্যক্তিগত বিষয়গুলি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে পছন্দ করি তারা আসলে মানুষের কোন পর্যায়ে পড়ি কিনা সেই প্রশ্নটা আমার নিজেকেই করতে ইচ্ছে হচ্ছে? কাটর্ুন এই ছবিটি গুগল থেকে সংগৃহীত।

ওরা কেন সকলেই হারলো?

KH

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সামগ্রিক নির্বাচনি ফলাফলে হতাশ হওয়ার কোন বিকল্প নেই। ব‍্যক্তিগতভাবে চারজনের ভেতরে একজনের কারণে আমি আজ দেশান্তরিত, যেটা কখনই চাইনি, শতকষ্টেও দেশের মাটিতে স্বদেশের মানুষের পক্ষে কিছু করার অনবরত প্রচেষ্টা ছিল আমার। সেটাতো নিতান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। নির্বাচন বিষয়ে আমি জানি না বাস্তবে কী ঘটেছে? কিন্তু একটা বিষয় পরিস্কার আমার কাছে। সেটা হলো আমার দেশের সিংহভাগ সাধারণ মানুষ সাম্প্রদায়িক নন, যুদ্ধাপরাধী, হেফাজতি বা বিএনপি যতই সেটা প্রচার করার চেষ্টা করুক না কেন তা কাজে লাগবে না। আমাদের আওয়ামী  দলীয় বুদ্ধিজীবী, মিডিয়া একটা বিষয় স্বীকার করতে চাননা সম্ভবত:। আর তা হলো উনাদের পছন্দের দল বা জোট যা করে তা সবসময় ভালো করে!  উনারা হারলে বলে সাম্প্রদায়িকতার সুড়সুড়ি তুলেছে ওরা তাই প্রগতিশীল জোট তথা আওয়ামী লীগের প্রাথর্ি হেরেছে! এবারের নির্বাচনে পরাজিত এবং বহু কেলেংকারির হোতা এক মেয়রতো আবার মিডিয়া কু্যয়ের মতো একটা হাস্যকর কৌতুকের জন্ম দিয়েছেন ইতোমধ্যে! কৌতুক বললাম একারণে যে দেশের সিংহভাগ মিডিয়াই এখন বলতে গেলে সরকারের তল্পিবাহক (ব্যতিক্রম দু´চারটি ছাড়া), সেখানে কী করে মিডিয়া কু্য সম্ভব তা জানা নেই। প্রগতিশীল জোট বা মহাজোটের সংগঠনগত অবস্থাটা কোন পর্যায়ে আছে বা সংগঠনের কী দুরবস্থা সাংগঠনিকভাবে সেটার বিশ্লেষণ আমরা কখনই পাইনা প্রগতিশীল জোট বা মহাজোটপন্থি বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে। মহাজোট বিশেষত: আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক হযবরল অবস্থার পেছনের কারণগুলি কী, কেন এমন হলো কারা দায়ি তার চুলচেরা বিচার আমাদের দলঅনুরাগি মিডিয়া বা বুদ্ধিজীবী মহলের কাছ থেকে কোনদিনই পাওয়া যাবে না।

তবে আমার এখন ভীষণভাবে স্বরণে পড়ছে শ্রদ্ধেয় আনু মোস্তফার একটা ছোট্র ফেইসবুক স্টাটাস। উনার সেই স্টাটাসে আজকের পরাজয়ের কারণগুলি বলা আছে। আমি সে প্রসঙ্গে যেতে চাই না, শুধু বলবো আমরা যেন কাকে কান নিয়ে গেছে এই শোরগোল তুলে কাকের পেছনে না দৌঁড়িয়ে কানটার দিকে ভালোভাবে নেড়ে দেখার চেষ্টা করি! নইলে যাকিছু খারাপ তার সবকিছুই ওই বিরোধীরাই করেছে, করছে বলে নিজেদের ভেতরের বাস্তব অবস্থাটাকে আঁড়াল করার চেষ্টার ফল চার সিটি করপোরশনের নির্বাচনি ফলাফলের মতোই নতুন ফলাফলই এনে দেবে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করা হবে না, ক্ষমতায় চিরস্থায়ীভাবে থাকার মানসিকতাও ভুলে যেতে হবে, আর মার খাবেন শুধু মাঠ পর্যায়ের সাচ্ছা লড়াকু মুক্তমনা মানুষগুলি।

দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নারী ধর্ষণ-নির্যাতন, দুর্নীতি, তত্ত্বাবধায়ক ইসু্য এসব বিষয় কী নির্বাচনে কাজ করেনি। নিশ্চয়ই করেছে। সাংবাদিক ও মিডিয়া দলন-পীড়ন এবং সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিদের ধরতে সরকারি টালবাহানাসহ নানান বিষয় মাথায় রেখেই জনগণ সিটি নির্বাচনে মহাজোটের ওপর থেকে ভালোবাসা তুলে নিয়েছেন। আরেকটা বিষয় এখানে উল্লেখ করতে চাই, সেটা হলো আমাদের কিছু ব্লগার, বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়াম্যান আছেন যারা সবসময় জনগণকে “অশিক্ষিত” বলে তাঁদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আমি এমন গাজাখুরি তত্ত্বে কখনই বিশ্বাস করি না। আমাদের দেশের আমজনতা শিক্ষিত তবে তাঁরা তথাকথিত শাট-প্যান্ট টাই পরা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত নন, তাঁরা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত, তাঁরা কখনও বিবেককে বিকোয় না। তবে তাঁরা বাধ্য হন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজিদেরকে মিলিয়ে নেয়ার জন্য। কার ণ জনগণ জানেন রাজনীতিকদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা ও পাওয়া কোনটাই যাবে না, সব রাজনীতিবিদদের কথা বলছি না ব্যতিক্রমতো আছেই। কিন্তু সেই ব্যতিক্রমী রাজনীতিবিদদের অংশটুকুও কোন কিছুই করতে পারে না দুর্বৃত্তপনা রাজনীতির কারণে। দেশের মানুষের হাতে একটাই অস্ত্র আছে সেটা তাঁরা প্রয়োগ করেন যথাসময়ে। দেশের মানুষ নির্ভয়ে নির্বাচনে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারলে আর নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়ম না হলে জনগণের রায়টা সঠিকভাবেই প্রতিফলিত হয়। জনগণ দেখেন তাঁরা শান্তিতে ঘুমোতে পারছেন কিনা, দ্রব্যমূল্যের দাম সহনশীল আছে কিনা, রাজনীতিকরা বিশেষ করে সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রিরা দুর্নীতি করছেন কিনা, তাদের কথাবার্তায় সংযমী ভাবটা আছে কিনা, মানুষের মানবাধিকার রক্ষা হচ্ছে কিনা, যোগ্য ও মেধাবিরা চাকরি পাচ্ছেন কিনা, কেউ চাঁদাবাজি করছে কিনা, দেশে আইনের শাসন চলছে কিনা, বিনা কারণে কেউ র্নিযাতিত  হচ্ছেন কিনা, কেউ গুম হয়ে গেলে তাকে উদ্ধারের পরিবর্তে সরকার ও সরকারি দলের লোকেরা কোন ফালতু তত্ত্ব ও কথাবার্তা বলছে কিনা, কেউ নিহত হলে খুনিকে ধরার চেয়ে খুনিকে রক্ষার জন্য নানান কায়দা-কৌশলে বহুরুপি তত্ত্ব হাজির করছে কিনা এমন আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জনগণ ঠিকই বিবেচনায় রাখেন সবসময়। কাজেই সময় থাকতে কেউ নিজেকে সংশোধন করতে ব্যর্থ হলে জনগণ ঠিকই ভোট নামক শক্ত অস্ত্রের ব্যবহার করতে কখনই ভুল করেন না তাদের বিরুদ্ধে যারা জনগণের অর্থ নিয়ে নিজেদের আরাম-আয়েশের স্বর্গ গড়ে তুলে!!!

কালো টাকার প্রভাব, দলীয় গ্রুপিং ও ষড়যন্ত্রের মুখে দল থেকে বহুদিনের ত্যাগি ও পরীক্ষীত কোন নির্বাচিত নেতাকে বাদ দিয়ে টাকাওয়ালা, ব্যবসায়ী কাউকে দলে এনে কিংবা অনির্বাচিত কাউকে সেই পদে বসানো হচ্ছে কিনা-এসব বিষয়ও জনগণ বিবেচনায় রাখেন যখন কাউকে ভোট দিতে যান । সুতরাং জনগণকে বোকা ভাবা মানেই নিজেই বোকামিটা করা। অহংকার পতনের মূল-এই সর্বজনীন সত্যটা ভুলে গেলে তার মাশুল বা খেসারতও দিতে হবে! সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আঞ্চলিক নির্বাচন হলেও বাস্তবতাটা জাতীয় নির্বাচনের আদলেই ধরা পড়ে, সেটার ব্যতিক্রম এবারও ঘটেনি।

আমরা সবাই জানি বিগত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কাদেরকে নমিনেশন দিয়েছিল, কেন দিয়েছিল? আওয়ামী লীগ জানতো দেশের মানুষও জানতেন যে এবারে আওয়ামী লীগ যাকেই নমিনেশন দেবে সেই বিজয়ী হবে। কারণ বিএনপি-জামাতের দুর্নীতি, দু:শাসন, সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদকে মদদদান এসবের নেগেটিভ প্রভাব পড়বে নির্বাচনে যার প্রমাণ মিলেছে নির্বাচনি ফলাফলে। কাজেই যার কাছেই মোটা বড় অংকের টাকা পেয়েছে তাকেই নমিনেশন দিয়েছে দীর্ঘদিনের দলীয় ত্যাগি নেতাদের বাদ দিয়ে। এমনও ঘটেছে জামাত পরিবারের অনেকেই নমিনেশন পেয়েছে। নবাগত, ব্যবসায়ী তরুণ যারা নমিনেশন পেয়েছিলেন তাদের সঙ্গে মাঠর্পযায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কোন যোগাযোগ নেই, তাদের অধিকাংশই নিজস্ব ব্যবসাপাতি ও আখের গোছাতেই ব্যস্ত। ফলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা একেবারেই তথৈবচ অবস্থায় নিপতিত। এসব নিয়ে পরে কোন লেখায়  আলাদা করে তুলে ধরার আশা রইলো। আওয়ামী বুদ্ধিজীবী, মিডিয়া এসব নিয়ে মাথা ঘামায়না। তারা শুধু পদপদবি আর স্বার্থ রক্ষা ও সুবিধা আদায় নিয়েই ব্যস্ত, তাই সত্য বিশ্লেষণ চাপা পড়ে যাচ্ছে। এখন আমাদের বঙ্গবন্ধু কন্যার এবং উনার নীতিনিধর্ারকবৃন্দের ঘুম ভাঙলেই ভালো, দেশের মঙ্গল!

পরিশেষে বলবো, বড় বড় রাঘব-বোয়াল রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের কারো কিছুই হবে না সরকারে আওয়ামী লীগ থাক আর বিএনপি থাক। আমি বলবো ওদের এই বিজয় তাদের নিজের বিজয়, সাম্প্রদায়িকতা বা যুদ্ধাপরাধীদের বিজয় নয়; এই বিজয় প্রগতিশীল শিবির তথা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দূর্বলতার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি-জামাত জোটের নেগেটিভ বিজয়! এই বাস্তবতাটুকু আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড, নীতিনির্ধারকমহল, বুদ্ধিজীবী, সুবিধাবাদি ও চাটুকারের দল বুঝতে পারলেই হয়ত আগামি জাতীয় নির্বাচনে আশা বেঁচে থাকবে, নইলে ফের যুদ্ধাপরাধীরাই বাংলাদেশের স্বাধীন পতাকা উড়াবে তাদের গাড়িতে!!!! ছবিটি গুগল থেকে নেয়া।

কোন দলে গণতন্ত্র?

sangbad-21-8-2009-democracy-peace5

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আমার এক শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় মানুষ ফেইসবুকে একটা স্টাটাস লিখেছেন। স্টাটাস পড়ে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে যেন একমাত্র আওয়ামী লীগই গণতান্ত্রিক দল? তাই ছোট্র একটা প্রতিক্রিয়া লিখতে বসলাম।
কোন দলে গণতন্ত্র চর্চা আছে সেটা বুঝতে পারি না! বিএনপির জন্ম সেনাছাউনিতে আর দলছুট সুবিধাভোগীদের নিয়ে গড়ে ওঠা দল এটি। সেখানে গণতন্ত্র র্চচা আশা করাটাও একধরণের বাড়াবাড়ি। আর জামাত-শিবির, হেফাজত, যুদ্ধাপরাধী ওরাতো কোন মাপকাঠিতেই পড়ে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বা জাতির পিতার দল আওয়ামী লীগেই কী গণতন্ত্র র্চচা আছে?

শেখ হাসিনার পছন্দ আর অপছন্দ এর মধ্যেই কী গণতন্ত্র র্চচা সীমিত হয়ে যায়নি এই দলের অভ্যন্তরে? আর গণতন্ত্র মানেতো টাকার খেলা, ব্যবসায়িদের মিলনমেলা, সন্ত্রাসীদের লালন-পালন কিংবা পছন্দ না হলেই র্নিবাচিত নেতাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া বোঝায় না।
গণতন্ত্র মানেতো সহনশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাপ্রদর্শন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা, এসব কী সোনার হরিণ নয় আমার স্বদেশে? আমি অবশ্য দাদার মতো রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র বা গবেষক নই, আমি একটা আগাছা বা শ্যাওলার ন্যায় নাগরিকমাত্র তাও এখন পরবাসে!