‘যদি আর তবে’র মধে‍্যই সীমাবদ্ধ সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতারের দাবি!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ফাঁসি নয়, বিচার চাই, সঠিক ও কার্যকর তদন্ত এবং খুনিদের মুখোশ সমাজে খুলে দেওয়া হোক। কোন ছলচাতুরি নয় খুনি যেই হোক তাকে ধরা হচ্ছে না কেন? কেন এত বিলম্ব হত‍্যাকান্ডের মোটিভ উদ্ধার ও খুনিদের শনাক্ত করতে? নাকি খুনিদের রক্ষায় এই কালক্ষেপণ? সাংবাদিকরা এখনও ‘যদি’র মধে‍্যই ঘুরপাক খাচ্ছেন! মনে হচ্ছে অতীতে কোন সাংবাদিক খুন হননি? ভাবটা এমন যেন অতীতের সব সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের বিচার পেয়েছেন তাঁরা, সুবিচার ও ন‍্যায‍্য বিচার! আজ ঢাকাসহ সারাদশে সাংবাদিকরা সাগর-রুনি হত‍্যাকারিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন। ঢাকায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ প্রতিকী আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন। ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী ২৭ ফেব্রুয়ারি এক ঘন্টার কর্মবিরতি আর ১ মার্চ ছয় ঘন্টার গণঅনশন করা হবে। তবে এই কর্মসূচীর মধে‍্যও একটি ‘যদি’র ব‍্যবহার করা হয়েছে। যদি খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা না হয় তাহলে এই কর্মসূচী পালন করা হবে।
বিগত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকেই আমাদের সন্তানের দিকে তাকালেই অন্তরে ভেসে ওঠে ফুটফুটে মেঘের মুখচ্ছবিটুকু। সবকিছুই এলোমেলো হয়ে যায় ছোট্র মেঘের মানসিক অবস্থার কথা ভাবলে। ধারণা ছিল, আর যাই হোক সাংবাদিকরা হয়ত এবার আমরণ অনশনে যাবেন! সহকর্মী দুই সাংবাদিকের খুনিদের গ্রেফতার এবং বিচার দাবির পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশা ও সাংবাদিকদের তথা মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে সাংবাদিকরা রাস্তায় নেমে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আর ঘরে বা কর্মস্থলে ফিরবেন না। কিন্তু সেই প্রত‍্যাশায় আবৃত করে নিলো অন্ধকারের কালোকাপড়। খুনিরা যে সরকারের কোন মহলের সাথে ঘনিষ্ঠ তা নিয়ে এখনও কী সাংবাদিক বন্ধুদের সন্দেহ আছে? সাংবাদিক বন্ধুরা আর কতো যদি আর তবে’র মধে‍্য নিজেদেরকে সমপর্ণ করবেন? এই যদি ও তবে’র ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে রাজনৈতিক পছন্দ অপছন্দের বাইরে পেশাগত পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে পরবর্তী খুনের তালিকায় কোন সাংবাদিক বন্ধুটির নাম লিখা আছে তা হয়ত কেউই আমরা জানি না! সরকার যে খুনিদের ধরতে পরিকল্পিতভাবে বিলম্ব করছে তা নিয়ে কিন্তু জনগণের মধে‍্য কোনই সংশয় নেই। সরকার হয়ত ক’দিন পর খুনি গ্রেফতারে একটি নাটকের মঞ্চায়ন করবে, অন্ধকারে তারই রিহার্সেল দিচ্ছে এখন। পরে হয়ত তারা বলবে খুনি বিদেশে পালিয়ে গেছে! কিন্তু কিভাবে পালালো তার হয়ত সঠিক ব‍্যাখ‍্যা তারা দেবে না জাতিকে। সাগর/রুনি হত‍্যাকারিদের গ্রেফতার ও মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত বিষয়ে জনমনে যে সন্দেহ ও প্রশ্ন তৈরী হয়েছে তা সরাতে কেবল পুলিশ প্রশাসন বা সরকারই পারে। সেটা কী সরকার করতে চায় নাকি খুনিদের সতি‍্য সতি‍্য রক্ষা করতে চায়, তা দেশবাসি জানতে চান। কার্টুন এই ছবিটি ফেইসবুক থেকে নেয়া

সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের ১০ দিনেও খুনি গ্রেফতার হয়নি: গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাব রাখার দরকার কী?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। দেশে কোন সাংবাদিক নৃশংসভাবে খুন হওয়ামাত্র ডান বাম, মধ‍্যমপন্থি সব মতের সাংবাদিকরা একাট্রা হন। হত‍্যার বিচার ও খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে সোচ্চার হন সাংবাদিকরা। রাজধানী ঢাকায় দুই টিভি সাংবাদিক একযোগে নিজ বাসায় বর্বরভাবে খুন হয়েছেন গত ১১ ফেব্রুয়ারি। নিহতরা জনপ্রিয় সাংবাদিক এবং দম্পত্তি। এই জোড়া সাংবাদিক খুনের পরও সাংবাদিক সমাজ একজোট হয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি তারা সমাবেশ করবে ঢাকায়। একইসঙ্গে সারাদেশে সাংবাদিকরা সমাবেশ করবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এমন একতাবদ্ধ হবার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও আমরা মানিক সাহা, বালু, কেবল কিংবা বেলাল হত‍্যাকান্ডের পরও সাংবাদিকরা একজোট হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জোট বেশিদূর এগোয়নি। এক পর্যায়ে এসে সাংবাদিকদের আন্দোলন থেমে যায়। তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। প্রকৃত হত‍্যাকারি খুনিরা কেউই ধরা পড়েনা, পড়েনি। যে কারণেই ঘটুক, পেশাগত কারণ বা ব‍্যক্তিগত কারণ যাই ঘটুক না কেন এতবড় ঘটনা, দু দুজন খ‍্যাতিমান সাংবাদিক নিজ ঘরে খুন হলেন। কিন্তু তারপরও ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদপত্র ও মিডিয়া বন্ধ রাখা হয়নি এক সেকেন্ডের জন‍্যও। এবারের জোট ও আন্দোলনও যে মাঝপথে থেমে যাবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়?
সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের ঘটনায়তো এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। যেখানে হত‍্যাকান্ডের পরদিন পুলিশ প্রশাসন ও সরকার পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল খুনিদের সম্পর্কে সেখানে হত‍্যাকান্ডের ১০ দিন পার হলেও খুনের রহস‍্যও উন্মোচিত হলো না, কেউ গ্রেফতারও করেনি পুলিশ। কারণে অকারণে গ্রেফতার, নির্যাতন আর বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ডে পটু রাষ্ট্রীয় এলিট ফোর্সও যেন কোন এক অজানা বাঘের গর্জনে ভড়কে গেছে! গোয়ন্দাজালে খুনিরা ঢুকে পড়লো, আবার সেই জাল থেকে বেরিয়ে গেলো। বাহ্ চমৎকার কৌশল। পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, র‍্যাব, আইজি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবাই যখন ব‍্যর্থ সাগর-রুনির খুনিদের শনাক্ত করতে তখন আনস্মাট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন সাংবাদিক দম্পত্তি খুনের মামলাটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীই তদারকি করছেন। খুনিদের বাঁচাবে কে, চাঞ্চল‍্যকর এই মামলা ধামাচাপা দেবার কোন সম্ভাবনা নেই! কিন্তু নানান ছলাকলায় যে সাগর রুনির খুনিদের রক্ষার একটা কৌশল অবলম্বন করেছে প্রশাসন তা দেশবাসির কাছে চাউর হয়ে গেছে ইতোমধে‍্য।
কিন্তু তারপরও পুলিশ ও সরকারের কর্তাব‍্যক্তিরা দিন দিন নতুন নতুন তত্ত্ব হাজির করছে দেশবাসির সামনে। কবে না জানি আবার কোন জজমিয়া নাটক মঞ্ছস্থ হয়! সব সম্ভবের এই দেশে সাধারণ মানুষ কোন আশ্বাসেই আর ভরসা রাখতে পারছেন না। ঢাকা মেট্রাপলিটন পুলিশের কমিশনার বেনজির আহমেদ সাংবাদিকদেরকে পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে বললেন। তারা নাকি সাংবাদিক ও সাগর-রুনির পরিবারেরর চেয়েও দরদ দিয়ে ঘটনার তদন্ত করছেন! খুনিদের শনাক্ত করতে পেরেছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর অবশ‍্য এই পুলিশ কর্মকর্তা এড়িয়ে গেছেন।
সাগর-রুনির ঘাতকদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করার কথা ইতোমধে‍্য ঘোষণা করেছেন সাংবাদিক মেহেরুন রুনির মা নুরুন্নাহার মির্জা। তবে এই কর্মসূচী কবে করবেন তিনি তা এখনও প্রকাশ করেননি। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত শেষ করে খুনি গ্রেফতারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সাগর-রুনি হত‍্যা রহস‍্য উৎঘাটনে শেষ পর্যন্ত হয়ত সরকার আরেকটি নাটক করতে পারে! সেটা হলো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও যুক্তরাজে‍্যর গোয়েন্দা সংস্থা স্কডল‍্যান্ড ইয়ার্ডেরও সহায়তা চাওয়া হতে পারে।
দৈনিক ভোরের কাগজের এক রিপোর্টে এমন একটি আভাষ দেয়া হয়েছে। সরকার হয়ত এই নাটক করেও ঘটনার কালক্ষেপণ করতে পারে বলে জনমনে জল্পনা কল্পনা বাড়ছে। ঘটনার ১০ দিন পর পুলিশ এখন নিহত সাংবাদিক সাগর সরওয়ারের শার্ট প‍্যান্টের খোঁজ করে বেড়াচ্ছে! ভোরের কাগজের রিপোর্টে র‍্যাবের ইনটেলিজেন্স উইংয়ের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের শেকড় নাকি অনেক গভীরে! তারা এতকিছু বলতে পারছে আর কারা খুন করেছে তাদরেক শনাক্ত করতে পারছে না। এটা কী বিশ্বাসযোগ‍্য? সংবাদপত্রগুলিতে সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ডের বিষয়ে রিপোর্টের পরিসরও ছোট হয়ে আসছে।
যে ঘটনার তদারকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী করেন সেই ঘটনায় খুনিরা ১০ দিনেও গ্রেফতার হয় না। তাহলে এত বিপুল অর্থ ব‍্যয় করে পুলিশ, র‍্যাব আর গোয়েন্দা লালনের দরকার কী? ছোট খাটো ব‍্যক্তিগত দ্বন্দ্ব-বিরোধ আর মারামারির ঘটনায় র‍্যাব বা পুলিশকে যত করিৎকর্মা মনে হয় সাগর-রুনির মতো ভয়াবহ হত‍্যাকান্ডের ঘটনায় তেমনটা পরীলক্ষিত হচ্ছে না। হত‍্যাকান্ডের ঘটনায় সবকিছু জেনে যাবার পরও কোন ইশারা আর কারণে প্রশাসন একেবারে ইউটার্ণ নিলো তার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আছে কী আমাদের এই বাংলায়? ছবি-ফেইসবুক থেকে নেয়া।

শেখ হাসিনাকে তা বোঝাবেন কে?

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি রাজনৈতিক দল। বাঙালি, বাংলা আর স্বাধীনতা এই তিন নক্ষত্রের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে মিশে আছে এই পুরনো রাজনৈতিক দলটি। কিন্তু ক্রমশ: গণতন্ত্র চর্চার পথ দলের ভেতরে সংকুচিত হয়ে পড়ছে! দলটি এখন মূলত: এমপিতন্ত্র আর ক্ষমতাতন্ত্রের কাছে জিম্মি। ত‍্যাগী নেতা-কর্মীরা দলের এমপিতন্ত্র আর ক্ষমতাতন্ত্রের রাজাদের কাছে অপাংক্তেয়। দলের সর্বোচ্চ পর্যায় খুশিতো সব অগণতান্ত্রিকতা, অবহেলা জায়েজ। ‘টাকা যার নেতা তার’ এই হলো আওয়ামী লীগের আজকের রাজনীতি। বিগত জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়াতেও তার প্রমাণ মিলবে। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ‍্য করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ‍্য হয়েছে মনোনয়ন ক্ষেত্রে। এসব অভিযোগ এখন আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে। ফলে মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা বেশ নাজুক।
“মন্ত্রী-এমপি-নেতারা মাঠের নেতাকর্মীদের খবর রাখেন না। ত্যাগী নেতাকর্মীর কোথাও মূল্যায়ন নেই। সংগঠন নয়, অন্যদিকেই মনোযোগ বেশি বড় নেতাদের। সর্বত্রই বিরোধ আর গ্রুপিং। মাঠের কর্মীরাও দ্বিধাবিভক্ত। দলকে সংগঠিত করতে না পারলে এবং ত্যাগী নেতাকর্মীরা মূল্যায়ন না পেলে আগামীতে আমাদের ক্ষমতায় যাওয়াই কঠিন হবে।” আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সম্মুখে এসব কথা বলেন দেশের সবর্উত্তরেরর ছোট্র জেলাশহর পঞ্চপড়ের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। সূত্র-দৈনিক জনকণ্ঠ, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১২। সূত্রমতে, শেখ হাসিনা তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কথা শোনার পর এভাবে জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “জেলার মানুষ পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগকে দুটো আসনই উপহার দিয়েছেন। কোথায় এমপিরা নেতাকর্মীদের জন্য কাজ করবেন, মূল্যায়ন করবেন, তা না করে দুর্ব্যবহার করছেন। একচেটিয়া এমন রাজত্ব চলবে না। দলে এমনও লোক আছেন যারা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। এসব সহ্য করা হবে না। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের পাশাপাশি জনগণের জন্য ভাল কাজ না করলে আগামীতে সংশ্লিষ্টদের চরম মাসুল দিতে হবে।”
শেখ হাসিনা সহ‍্য করা হবে না বলে কিন্তু তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বক্তব‍্যকে অবজ্ঞা করলেন। বরং তিনি যে এসব সহ‍্য করবেন তা আর বলার অপেক্ষাই রাখে না। কারণ অতীতে তিনি হাজারোবার এমন বক্তবক‍্য দিয়েছেন। তবে তা কার্যকর হয়নি। তিনি যদি তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বক্তব‍্যকে আমলে নিয়ে দায়িদের বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা নিয়ে তার নজির স্থাপন করতেন তবেই আমরা বিশ্বাস করতে পারতাম শেখ হাসিনাকে।
শেখ হাসিনা হয়ত ক্ষমতার মোহে এখনও বুঝতে পারছেন না তার ডিজিটাল প্রজন্মের নব‍্য এমপিরা (ব‍্যতিক্রম অবশ‍্যই আছে) সারাদেশে আওয়ামী লীগকে কোন পর্যায়ে নিয়ে গেছে? তা হয়ত তিনি টের পাবেন আগামি নির্বাচনে। তখন হয়ত আর কিছুই করার থাকবে না। কাজেই দাঁত থাকতে দাঁতের মযর্াদা দেয়াই ভালো। শেখ তা হাসিনাকে বোঝাবেন কে?

সাগর-রুনির খুনের রহস‍্য উন্মোচনে রহস‍্যময় চুরির মহড়া কিসের আলামত!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাগর-রুনির ফাঁকা ফ্ল‍্যাটে ডাকাতি নয় চুরির মহড়া দিল পুলিশ! সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির বর্বরোচিত হত‍্যাকান্ডের পর পুলিশ বলেছিল জানালার সেই ছোট্র ফাঁকা জায়গা দিয়ে কারও বের হওয়া সম্ভব নয়। অথচ এখন নাকি তারা আবার মত পাল্টিয়েছে! হায়রে স্বদেশ! দীর্ঘ কুড়ি বছরের সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে একটা চ‍্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে চাই প্রশাসনের প্রতি। সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ডের ঘটনার সঙ্গে চুরি বা ডাকাতির ঘটনার কোনই সম্পর্ক নেই, বা থাকতে পারে না। পারিপাশ্বর্িক অবস্থা সেটাই নির্দেশ করছে। দোহাই লাগে খুনিদের ধরতে না চাইলে, হত‍্যাকান্ডের বিচার করতে না চাইলেও কোন আপত্তি নেই। কিন্তু ঘটনাটাকে উল্টো দেবার চেষ্টা করবেন না। গত চল্লিশ বছরে শত শত হাজার হাজার মানুষ হত‍্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন এই বাংলায়। কেবলমাত্র একাত্তরের মুক্তিসংগ্রামে ত্রিশ লাখ মানুষ হত‍্যা করে পাক বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর জামায়াত, ছাত্রসংঘ, আলবদর, আলশামস রাজাকার বাহিনী। কোনটারই বিচার হয়নি।
দেশের প্রাচীন বাংলা দৈনিক ইত্তেফাক এর ১৯ ফেব্রুয়ারির এক রিপোর্টের শিরোনাম হল “গ্রিলকাটা চোরের দিকে যাচ্ছে পুলিশের তদন্ত”। রিপোর্টে বলা হয়, সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখন গ্রিলকাটা চোরের দিকে এগোচ্ছে। একজন মাদকসেবী গ্রিলকাটা চোরকে ধরে কাটা অংশ দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে আর বের করে পুলিশ আশ্বস্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। অবশ্য এর স্বপক্ষে এখনও তেমন যুক্তি দাঁড় করাতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তারা। আরেক বাংলা দৈনিক জনকণ্ঠ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সেটি হলো পুলিশ সাগর-রুনির ভিসেরা পরীক্ষা করায়নি। ফলে এটা জানার উপায় নেই যে খুনিরা হত‍্যার আগে সাগর-রুনিকে কৌশলে বিষ প্রয়োগ বা অন‍্য কোন অজ্ঞানকারক বস্তু প্রয়োগ করেছিল কিনা। সিআইডি ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিপোর্টে অস্পষ্ট হাতের ছাপের কথা বলেছে। সবমিলিয়ে কেন জানি মনে হচ্ছে খুনের সব আলামতও ইতোমধে‍্য বিনষ্ট করে দেয়া হয়েছে! খুনি, খুনের আলামত সবকিছুই রহস‍্যাবৃত। সাগর-রুনির খুনের রহস‍্য উন্মোচনে রহস‍্যময় চুরির মহড়া কিসের আলামত, তাও আজ একটি বড় প্রশ্ন? ছবি-ফেইসবুক থেকে নেয়া।

“শতভাগনিশ্চিততত্ত্বের আঁড়ালেই সাগর-রুনির খুনিরা”


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। “প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে প্রভাবশালী আর কে আছেন? তিনি নিজেই মামলার বিষয়টি তদারকি করছেন, নির্দেশনা দিচ্ছেন।” বলেছেন সাহারা খাতুন। তিনি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সাম্প্রতিকসময়ের সবচেয়ে আলোচিত নৃশংস হত‍্যাকান্ড সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত‍্যাকান্ড। এই বর্বরতার বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সাহারা উপরোক্ত কথা বলেন। সূত্র বিডিনিউজ২৪।
সাহারা শিশুর মতো কথা বলছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বড় কেউ নেই। এই সত‍্য তত্ত্বটা বাংলার মানুষ জানেন। গণতান্ত্রিক ও সভ‍্য দেশে প্রধানমন্ত্রীরা হন সেবক, ক্ষমতার অধিকারী হলেও তার অপব‍্যবহার করেন না। প্রকৃতঅর্থে সভ‍্য সমাজে, গণতান্ত্রিক সমাজে জনগণই সবচেয়ে প্রভাবশালী। এর একটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ জার্মানীনর রাষ্ট্রপতি খ্রিস্টিয়ান ভুল্ফ। তাঁর বিরুদ্ধে সামান‍্য একটি অভিযোগ ওঠায় তিনি পদত‍্যাগ করেছেন। আর আমার স্বদেশে জনগণ কী এমন উদাহরণ দেখেছেন স্বাধীনতার ৪০ বছরে। কতটা নির্লজ্জ, বেহায়া আর বেশরম বা ব‍্যক্তিত্বহীন হলে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের পর অভিযোগ বা ব‍্যর্থতার পর ব‍্যর্থতা আমাদের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা পদত‍্যাগ না করে উল্টো পদ আঁকড়ে থাকার প্রচেষ্টা করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কখনও আবার বাচাল মনে হয়। অনেক সময় সাহারা মিথ‍্যাভাষণও দেন। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১১ জন মানুষ খুন হলেও তিনি জোর গলায় বলবেন না আইন-শৃঙ্খলা ‘উনাদের আমলের চেয়ে এখন অনেক ভালো’।
বাংলার মানুষ সেখানকার রাজনীতি, দুনর্ীতি, দলীয়করণ আর অবিচারের সঙ্গে অপরিচিত নন। রাজনীতিবিদরা (সবাই নন), সরকারি দল কিভাবে সব প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের স্বার্থে ব‍্যবহার করে তা খোলাসা করে লেখার কোন প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমরা মনে করি না। সমস‍্যাটাতো আর সাধারণ মানুষের মধে‍্য নয়। গলদ সাহারাদের ভেতরেই থাকে। সেটা দেশবাসি ভালো করেই জানেন। অসহায়, নিরুপায় মানুষ সাহারা, আলতাফ কিংবা বাবরদের কাছে কার্যত: জিম্মি! এরা কখনও ‘লুকিং ফর শত্রুজ’, কখনও ‘আল্লাহর মাল আল্লায় নিয়ে গেছে’ আবার কখনও’আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের চেয়ে অনেক ভালো’ (যদিও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র) ইত‍্যাদি বলে নিজ সরকারের ব‍্যর্থতাগুলিকে আঁড়াল করতে চায়। সবই জনগণ বুঝতে পারেন। কিন্তু আর্থিক দৈন‍্যতা, অন‍্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন, নিপীড়ন, বিকল্প শক্তি-সমাবেশের অভাব আর নানান বাস্তবতার কারণে জনগণ ফুটবলের ন‍্যায় বারবার ফিরে যেতে বাধ‍্য হন খালেদা হাসিনার কাছে। এই পাঁচ বছর হাসিনার কোর্টে পরের পাঁচ বছর খালেদার কোর্টে। হয়ত জনগণকে স্বামী কিংবা বাবার সম্পদ মনে করেন তারা। এই সম্পদকে তারা যেমন খুশি তেমন করে ব‍্যবহার করার অধিকার রাখেন! তাই নয় কী? হায়রে অন্ধ-স্বার্থপর রাজনীতি!
সম্ভবত আমি প্রসঙ্গ ছেড়ে অন‍্যদিকে চলে যাচ্ছি। আসল কথায় আসি। সাহারা সাংবাদিকদের আরও বলেন, “পুলিশ এ মামলা (সাগর-রুনির হত‍্যামামলা) ‘ধামাচাপা’ দেবে- এমন আশঙ্কা অমূলক”। ফালতু প‍্যাচাল পাড়ার সময় পাননা সাহারা। সাহারার কথায়ই বলতে হয় পুলিশ তাহলে অন‍্য মামলা ধামাচাপা দিয়ে থাকে! আসলে পুলিশতো কোন মামলা ধামাচাপা দেবার সাহস পেতো না, যদি ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন ব‍্যক্তি বা মহলের স্বার্থ বা যোগসূত্র বা চাপ না থাকে খুনিদের রক্ষায়। পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব‍্যবহার করার সংস্কৃতি থেকে আমাদের ক্ষমতাসীনরা বেরিয়ে আসছে না বলেই যত সমস‍্যা। সব সমস‍্যার মূলেই রাজনৈতিক দুবর্ৃত্তায়নই দায়ি। রাজনীতি পরিশীলীত হলে সমস‍্যা থাকলেও সমাধানে কোন বেগ পেতে হতো না। সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ড পরবর্তীকালে খুনিরা রাজনৈতিক আশ্রয়ে চলে যাওয়ায় পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বিপাকে পড়েছে বলে অবস্থাদৃষ্টে স্পষ্টত:ই মনে হচ্ছে! পুলিশ হত‍্যাকারিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হতো যদি রাজনৈতিক নিদর্েশনা না থাকতো!
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের ছোটকর্তা টুকু বলেছেন, সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডে নাকি জামায়াত-শিবির জড়িত! জামায়াত শিবির স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী এবং বাংলাদেশ নামক আদর্শের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তারমানে এই নয় যে তারাই সব হত‍্যা-খুনের জন‍্য দায়ি। আসলে একটা সত‍্যকে ঢাকতে এবং খুনিকে রক্ষা করতে চাইলে আরও অনেক ফর্মূলা বের করতে হবে, মিথ‍্যা বলতে হবে, হয়ত জজমিয়া নাটকও সাজাতে হতে পারে! নইলে ধলের বেড়ালটা বেরিয়ে আসতে পারে। অতীতে ১০ ট্রাক অস্ত্রচালানের ঘটনার সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর জড়িত থাকার খবর বের হচ্ছে এখন। সব হত‍্যা-খুনের সঙ্গে জামাত-শিবির জড়িত বলে খুনিদের রক্ষার কৌশল সরকারের জন‍্য বুমেরাং হয়ে যেতে পারে। এখনও সময় আছে, সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের খুনিদের মুখোশ জাতির সামনে খুলে দেয়ার, খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার। শুধু সাগর-রুনি কেন সবহত‍্যা খুন, গুপ্ত গত‍্যা,ধর্ষণ ও বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করার উদে‍্যাগ না নিলে আখেরে হাসিনা সরকারকেই তার মাশুল দিতে হবে।
সাহারা ম‍্যাডামের বক্তবে‍্যর উদ্ধৃতি দিয়ে আজকের লেখার ইতি টানবো। তিনি বলেছেন, “আমি মামলাটি মনিটরিং করছি। কারো চাপ বা প্রভাবে এ মামলা ধামাচাপা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।” একটা প্রশ্ন উঠেছে যে, খুনিদের কেউ একজন নাকি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ মিডিয়াব‍্যক্তি? সেই মিডিয়াতারকা নাকি আবার প্রধানমন্ত্রীরও প্রিয়পাত্র। এই গুজব যদি সতি‍্য হয় তবে প্রধানমন্ত্রী কী তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করবেন না? দেশের মানুষের মনে কিন্তু ইতোমধে‍্য একটা সন্দেহ দানা বেঁধেছে, সেটা হলো সরকার খুনিদের ধরতে আন্তরিক নয়। তাই তারা এখন বলছে, “শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে আমরা কাউকে গ্রেফতার করবো না”। সাগর-রুনি না হয়ে যদি কোন আওয়ামী লীগ নেতা (দম্পত্তি) এমন নৃশংসতার শিকার হতেন তাহলেও কী সরকার এই তথাকথিত শতভাগনিশ্চিতহওয়ার নীতি গ্রহণ করতো? গণতন্ত্রকে সামনে এগিয়ে নিতে এবং সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সাগর-রুনিসহ সকল হত‍্যাকান্ডের সাথে জড়িত (বিচার বহিভর্ূতহত‍্যাকান্ডসহ) হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার জরুরি। ‘শতভাগনিশ্চিত’ তত্ত্বের ভেতরেই খুনিদের আঁড়াল করা হচ্ছেনাতো? সরকারকেই এই সন্দেহ ও প্রশ্নের জবাব দিতে হবে প্রকৃত খুনিদের মুখোশ উন্মোচন ও বিচার করার মধ‍্য দিয়ে। আমরা জনগণ সেই অপেক্ষায় রইলাম। ছবি-ফেইসবুক। http://www.eurobangla.org/, editor.eurobangla@yahoo.de,

“খুনিদের বাঁচানোর কৌশল”


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। প্রশ্ন উঠেছে হরেকরকম! সরকার খুনের রহস্য ও খুনীদের সর্ম্পকে জানাবে না কিছুই। তারা নাকি কৌশল নিয়েছিল! এটা খুনি বা খুনিদের বাঁচানোর একটা কৌশল নয়তো! এতবড় একটা নৃশংসতা, বর্বর হত‍্যাকান্ডকে নিয়ে হাসিনার মহাজোট সরকার “লুকোচুরি” খেলছে কেন? ঘটনার এতদিন পরও খুনি গ্রেফতারে সম্পূর্ণ ব‍্যর্থ প্রশাসন ও সরকার। হত‍্যাকান্ডের মোটিভও রহস‍্যাবৃত। হত‍্যাকান্ডের ঘটনায় তদন্ত কাজে নিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্তদের নানামুখী বক্তব্যে হত‍্যাকান্ড রহসে‍্যর কিনারাতো হচ্ছেই না উল্টো রহস‍্য আরও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বেঁধে দেয়া সময়ে যথন খুনিরা ধরা পড়লো না বা খুনের রহস‍্য উন্মোচিত করতে পারলো না প্রশাসন তখন সাহারা বললেন ভিন্ন কথা। তিনি নাকি কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন! কিন্তু কেন?
সরকার কী খুনিকে বা খুনিদের রক্ষার চেষ্টা করছে? খুনি বা খুনির দল কী বিশেষ কোন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় মিডিয়াকর্মী? খুনিরা কী হাসিনার মহাজোট সরকারের চেয়েও ক্ষমতাবান? প্রতিভাবান ও চৌকোস সাংবাদিক দম্পত্তি হত‍্যাকান্ডে কী কোন বিশেষ ক্ষমতাধর ব‍্যক্তি (এক বা একাধিক) জড়িত? যিনি বা যারা হাসিনা কিংবা তাঁর সরকারের কোন তরফের ‘বোয়াল মাছ’? সাংবাদিক সমাজ কী বুঝতে পারছেন না যে সরকার খুনিদের রক্ষার চেষ্টা করছে? তাঁরা কী মনে করেন দু’একটি মানববন্ধন, সভা, সমাবেশ আর বক্তৃতা দিয়ে, টিভিতে টকশো করে আর বাহবা পাওয়া যাবে এমন সুন্দর সুন্দর কলাম লিখলে, ফিচার বা রিপোর্ট করলেই খুনিদের ধরবে সরকার? যদি তাই না হবে তবে কেন তাঁরা চুপচাপ বসে আছেন? তাঁরা কী নিজ পেশার স্বাধীনতা, নিরাপত্তা আর মর্যাদাকে রক্ষার জন‍্য এককাতারে শামিল হয়ে রাস্তায় নেমে না এসে পরোক্ষভাবে খুনিদেরই পক্ষাবলম্বন করবেন? অন‍্যভাবেও স্বদেশ নিয়ে বলা যায় যে, বাংলাদেশে কী কোন সরকার, প্রশাসন আছে? নাকি সেখানে কোন সাংবিধানিক ও আইনের শাসন আছে? প্রতিদিন হত‍্যা, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, পুপ্ত হত‍্যা, বন্দুকযুদ্ধের নামে রাষ্ট্রীয় হত‍্যাসহ নানান অপরাধ, অপকর্ম ঘটেই চলেছে? তবুও নাকি সেখানে আইন-শৃঙ্খলার নজিরবিহীন সুবাতাস বইছে! যা অতীতে কোন সরকারের আমলেই ছিল না। এমনকি হয়ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আমলেও নয়!
তাহলে বাস্তবে দেশে যা ঘটছে সেগুলি কী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের পরিচায়ক? ঢাকার সংবাদপত্রগুলিতে প্রকাশিত তথ‍্য মতে, ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকায় এক নারী খুন এবং নিহত হালিমার বাসায় দুধর্ষ ডাকাতি, দুই নারীর লাশ উদ্ধার এবং এক ব‍্যাংক কর্মকর্তাকে গুলি করে হত‍্যার চেষ্টা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। একইদিনে ক্রসফায়ারের নামে চট্রগ্রামে পুলিশ হত‍্যা করেছে এক যুবককে। ইসলামী বিশ্ববিদ‍্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে র‍্যাব ও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আটক করা হয়েছিল ৪ ফেব্রুয়ারি। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানা যায়নি। এখনো তাদের সন্ধান পায়নি পরিবারের সদস‍্যরা। হাইকোর্ট এই গুম হওয়া দুই ছাত্রকে সশরীরে আদালতে হাজির করানোর জন‍্য সরকারের প্রতি রুল জারি করেছে। এর আগেও বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করার ব‍্যাপারে হাইকোর্ট রুল আদেশ দিয়েছিল। কিন্তু তাতে অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি অদ‍্যাবধি। হাইকোর্টও কেবল রুল জারির মধ্যেই দায়িত্ব সারছে! ফলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে বিনাবিচারে মানুষ হত‍্যা বন্ধ হচ্ছে না।
সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের ঘটনায় সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঢাকঢোল পিটিয়ে বারবার বলা হয় যে, “হত‍্যাকান্ডের তদন্তে প্রণিধানযোগ‍্য অগ্রগতি হয়েছে। খুব শিগগিরই খুনি ও খুনের মোটিভ সম্পর্কে জানানো হবে। খুনির হাত যত বড়ই হোক না কেন তাদের ধরা হবে। সম্ভাব‍্য খুনিরা গোয়েন্দা জালে। র‍্যাব, ডিবি, সিআইডি ও পুলিশের অনেকগুলি ঝানু টিম মাঠে তৎপর। খুনিদের রক্ষা নেই। ধরা তাদের পড়তেই হবে।” ইত‍্যাদি কত কথা, বিশেষ করে পুলশ প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তদন্তকারি অন‍্য আরও দু’একজন কর্মকর্তা এসব কথা বলেছেন, এখনও বলে যাচ্ছেন। কিন্তু কী অগ্রগতি, কারা জড়িত, কেন খুন হলেন সাংবাদিকদ্বয় তার কোন তথ‍্য প্রশাসন বা সরকার জনগণকে এখনও জানায়নি। তারা কী জানাতে চায় না নাকি তারা খুনিকে/খুনিদের বাঁচাতে চায়, সেটা আমরা জানি না? তবে সরকার এই অমানবিক হত‍্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও হত‍্যাকান্ডের মোটিভ দেশবাসির কাছে জানানোর ব‍্যাপারে যে টালবাহানা শুরু করেছে তাতে দেশবাসির কোন সন্দেহ নেই।
গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি মনিরুল ইসলাম বলেছেন, “শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করবে না।” আমরাও এর বিপক্ষে নই। এটা সত‍্য যে খুনের মতো স্পর্শকাতর কোন ঘটনায় সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কাউকে গ্রেফতার করা আইনসম্মত নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো পুলিশ কী এই অনুশীলন অন‍্যক্ষেত্রে করে? এই কাজটা যদি পুলিশ অন‍্য সব হত‍্যাকান্ড বা ঘটনার সময় করতো! সেটাতো তারা করে না। তাহলে সাগর-রুনির মতো সাড়াজাগানো হত‍্যাকান্ডের বেলায় তারা কেন খুনিকে গ্রেফতার করছে না? দেশবাসি এই সাংবাদিক দম্পত্তির খুনি এবং খুনের কারণ জানতে চায়। জনগণ কোন নাটক দেখতে চান না। কিংবা পুলিশ কোন “জজমিয়া”কে সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডে আবিস্কার করুক তাও দেশবাসি চাইবেন না কখনও। পুলিশ, প্রশাসন বা সরকার কেন সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের বিষয়টিতে খুনীদের ব‍্যাপারটা এড়িয়ে যেতে চাইছে তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তাহলে কী খুনিদের রক্ষা বা আঁড়াল করতেই সরকার কোন নাটক মঞ্চায়নের পরিকল্পনা আঁটছে? এমন প্রশ্ন ও সন্দেহ জাগানোর ক্ষেত্রটা কিন্তু সাহারা খাতুন, হাসান মাহমুদ খন্দকার আর তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তাব‍্যক্তিরাই তৈরী করে দিয়েছেন বা দিচ্ছেন! সরকার সমর্থিত একটি জাতীয় দৈনিকে প্রশাসনের কাছে নাকি এই বর্বরতার সবকিছুই পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল, তাহলে কেন তারা এখন নয়া নাটক সাজানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে? এই সরকারের পছন্দের কোন মিডিয়াকর্মীকে (যদি সেই আলোচিত ব‍্যক্তি সতি‍্য সতি‍্যই খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে তারপরও কী তাকে বাঁচাতে হবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের সুবাদে) বাঁচানোর চেষ্টা নয়তো!
নিহত সাংবাদিক দম্পতি হত্যা মামলার বাদি নওশের আলমকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক গুরুত্ব দিয়ে খবরটি প্রকাশ করেছে। কারা তাকে হুমকি দিচ্ছে, তাও কী আমাদের ‘তড়িৎকর্মা” (নাকি অকর্মা) পুলিশ ও গোয়েন্দারা বের করতে অক্ষম? অভিজাত রাষ্ট্রীয় “খুনি বাহিনী”র বিশেষ টেকনিক‍্যাল যন্ত্রপাতি নিয়ে কী ওরা আঙুল চুষছে? হুমকিদাতাকে বের করা কী খুবই কঠিন কাজ? নাকি তারা এই হুমকিদাতাকে অন্ধকারেই রাখতে চায়?
আমার এক সিনিয়র সহকর্মী সাংবাদিক বন্ধু জনপ্রিয় একটি বাংলা দৈনিকে কলাম লিখেছেন। সেখানে তিনি প্রশাসন ও সাংবাদিক বন্ধুদের উদ্দেশে‍্য বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডে যে বা যারাই জড়িত থাকুক, তাদের চিহ্নিত করুন, গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করুন এবং সুষ্ঠু বিচারের মুখোমুখি করুন। আর সাংবাদিক বন্ধু-সহকর্মীদের কাছে আবেদন, আপনারা সাংবাদিকতার প্রাথমিক শর্ত সত্যনিষ্ঠ থাকুন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করুন। গুজব ছড়াবেন না। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর এই ঘটনা নিয়েও পুলিশসহ গোয়েন্দা বিভাগ জোর তদন্ত- অনুসন্ধান চালাচ্ছে। আশা করি, খুব শিগগির তারা খুনিদের চিহ্নিত করে দেশবাসীর সামনে হাজির করতেও পারবে। যতক্ষণ পর্যন্ত খুনিরা শনাক্ত না হয়, যতক্ষণ তাদের আইনের আওতায় আনা না যায়, ততক্ষণ আমাদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে বলেই আমি মনে করি” বাহ্ কী চমৎকার নির্দেশনা! একবারেই পুলিশ বা প্রশাসনের ডুপ্লিকেট। আমার প্রশ্ন হলো-এটা ধৈয‍্যর্ ধরার ব‍্যাপার নয়। মানুষের ধৈযের্‍্যর বাঁধ ভেঙ্গে গেছে বহু আগেই। আপনাদের মনে নেই মানিক সাহার কথা, শামছুর রহমান কেবলের কথা, দীপংকর চক্রবত্তর্ীর কথা, গৌতম দাশের কথা কিংবা অন‍্য আরও অনেক সাংবাদিক যাঁরা সন্ত্রাসীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। এসব খুনেনর ঘটনার পরও আমাদের বিভন্ন মহল থেকে ধেয‍্যর্ ধারণ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ফল কী পাওয়া গেছে? তা বোধহয় আর বর্ণনা করার দরকার নেই। কাজেই কোন আশ্বাস, প্রতিশ্রুতি, নাটক বা সুবচন নয় আমরা খুনিকে গ্রেফতার দেখতে চাই, বিচার চাই, খুনের রহস‍্য উন্মোচন করার দায়িত্ব প্রশাসন বা সরকারের। কালক্ষেপণ করে ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার নতুন কোন নজির যাতে সরকার সৃষ্টি করতে না পারে তার লক্ষে‍্য সাংবাদিক বন্ধুদের সববাইকে একতাবদ্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
একটা বিষয় উল্লেখ করা দরকার। প্রশাসন বা সরকার আন্তরিক হলে কেবল সাগর ও রুনি হত‍্যাকান্ডই নয় সকল হত‍্যাকান্ডেরই কিনারা করা কোন ব‍্যাপারই না। কিন্তু প্রশাসন বা সরকারে সেই আন্তরিকতা আছে কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন! খোদ রাজধানী ঢাকাতেই একের পর এক সাংবাদিক খুন হচ্ছেন নিজ বাড়িতে, তার প্রতিকার মিলছে না। আমি দায়ত্ব নিয়েই বলছি, সরকার ও প্রশাসন হয়ত চাইছে না যে সাগর-রুনি হত‍্যা রহস‍্য উন্মোচিত হোক? প্রশাসন যদি মনে করে খুনি শনাক্ত বা খুনের কারণ বের করা খুবই কঠিন বা দুরুহ তাহলে ৭২ ঘন্টার জন‍্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব আমাদের হাতে দিন, খুনি ও খুনের মোটিভ বের করে দেবো আমরা।
আরেকটি জাতীয় দৈনিকের রিপোর্ট অনুযায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছেন, “আস্থা রাখুন, ধৈর্য ধরুন। সহসাই সুসংবাদ মিলবে।” এই সুসংবাদ জনগণের দোড়গোড়ায় আসতে আর কত দেরি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী! সাগর-রুনির সন্তান মেঘের দাদি সালেহা মনির বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও খুনিরা ধরা পড়ছে না। এই হত্যাকাণ্ডের আসামি ধরতে দেরি হলে আসামিরা আড়ালে চলে যাবে।” সাগর-রুনি যে ভবনে বাস করতেন সেই ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তিন ব‍্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তারা কী তথ‍্য দিয়েছে ইতোমধে‍্য তাও জানানো হচ্ছে না। তাদেরকে গ্রেফতারও দেখানো হয়নি? বিনা গ্রেফতার বা বিচার কিংবা আদালতের নির্দেশ ছাড়া কাউকে কতদিন যাবত আটক রাখার বিধান আছে-তা আমার জানা নেই। এক্ষেত্রে আবার যদি কেউ নিরপরাধ হয় তাহলে আইনে কী বলা আছে সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরাই মত দেবেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশ বা আদেশ ছাড়া কাউকে দিনের পর দিন আটক রাখা যে মানবাধিকারের লংঘণ-তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। আরেকটি খবর শোনা যাচ্ছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছিল যে সাগর-রুনির ফ্লাটের ঘরের জানালার যে রড কাটা হয় সেই ফাঁক দিয়ে কোন পূর্ণবয়স্ক মানুষ বের হতে পারবে না। এখন নাকি বলা হচ্ছে সেই জায়গা দিয়ে মানুষ বের হওয়া সম্ভব! এথেকে বুঝতে আর বাকি নেই যে প্রশাসন বা সরকারই মূল ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে চাইছে! জনমনে যদি এই প্রশ্ন ওঠে তা সরকার কী করে খন্ডন করবে?
ছোট্র, অবুঝ ও নিষ্পাপ ‘মেঘ’ আমার সন্তানের চেয়ে কয়েক মাসের বড়। এই ছোট্র শিশুটির মানসিক অবস্থার কথা কী ভাবছে সরকার, এই ঘুনে ধরা সমাজ? নাকি সববাই সমবেদনা প্রকাশ ও দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দিয়েই দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে? সরকারের কাছে আমাদের দাবি সত‍্যটা দ্রুত প্রকাশ করা হোক, তারা অতি আপন কিংবা রাজনৈতিক সুহৃদ হলেও খুনিদের ধরুন এবং বিচার করুন। সমাজ ও রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করুন। ছবি-গুগল। http://www.eurobangla.org/, editor.eurobangla@yahoo.de,

না, অবাক হবার কিছু নেই!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। হাসিনা কিংবা সাহারা কারও নির্দেশ কিংবা প্রতিশ্রুতি রক্ষা হলো না এবারও! না অবাক হবার কিছু নেই। এটাই ওই মৃতু‍্যপুরির রাজনৈতিক স্বরুপ। হায় হতভাগ‍্য বাঙালি জাতি আমার! চল্লিশ বছরেও তোর কপালে কেউ শান্তির তিলক পড়াতে চাইলো না! খুনিদের ধরা হয়নিতো কী হয়েছে, রাজনৈতিক ব‍্যবসাটাতো ঠিকই চলছে! রাষ্ট্রীয় মিথ‍্যা ভাষণ বন্ধ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী “সর্বদয়ালু” শেখ হাসিনা আবারও একজন মেঘের দায়িত্ব নিলেন। আমরা জানি বিএনপি জামায়াত জোট ক‍্যাডারদের হাতে নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে পারেননি কিশোর মহিমা। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মহিমা সমাজের বুকে চাবুক আর আমাদের ভোতা বিবেকে শান দেবার চেষ্টা করে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন। শুধু মহিমাই নন রজুফা, শিউলি, তৃষা, সিমিসহ অসংখ‍্য ঘটনা। আজকের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন মহিমার ছোট বোন ফাহিমার সব দায়িত্ব নেয়ার। বাস্তবে তার কি নাতিজা হয়েছে দলনিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মাধ‍্যমে তার সরজমিন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হতে পারে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় বাবা মা হারানো সন্ত্রানদের দায়িত্ব নেবার ঘোষণা দিলেইতো আর সেই সন্তানেরা বাবা-মা’কে ফিরে পাবেন না। এই মেঘেরা যাতে তাদের বাবা মা’দের না হারায় তার কার্যকর ব‍্যবস্থা গ্রহণ করুন। তাহলেই মেঘদের দায়িত্ব নিতে হবে না। ঘটনার ব‍্যাপকতা আর মিডিয়ার শোরগোলের কারণে হয়ত আপনি বাধ‍্য হয়েই মেঘের দায়িত্ব নেবার ঘোষণা দিলেন। আগেও এমন অনেক মহানুভবতার পরিচয় জাতি পেয়েছে হয়ত! কিন্তু তাতেতো আর হারানো বাবা মা’কে কেউ ফিরে পাননি। আর সেটা কোনদিন সম্ভবও নয়। একজন দু’জন মেঘের দায়িত্ব নেয়া মানেতো সবার দায়িত্ব নেয়া নয়। দৈনিক ইত্তেফাকের খবরে দেখলাম, রাজধানীর মহাখালীতে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে সন্ত্রাসীরা চাঁদার দাবিতে একটি বাসায় ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে নাফিত হাসান নিশাক (৬) নামের একটি শিশু। বর্তমানে শিশু নিশাক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সে বনানী বিদ্যা নিকেতনের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তার পিতার নাম বশির আহম্মেদ। শিশুটির পরিবারের লোকজন জানিয়েছে, চাঁদার দাবিতে স্থানীয় সন্ত্রাসী দিপু গ্রুপের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
তাই বলছি সাগর-রুনিরা যাতে নৃশংসতার শিকার না হয়, সেই পথের সন্ধান করুন। আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার আর কার্যকর গণতান্ত্রিক চর্চাই পারে সাগর-রুনিদের বাঁচাতে। নইলে রাজনৈতিক ব‍্যবসা কিংবা সস্তা বাহবা নিয়ে “সব দায়িত্ব আমি নিলাম” তাতে অবস্থার কোনই পরিবর্তন ঘটবে না। প্রতিটি নাগরিকের ভাল-মন্দ জানমালের নিরাপত্তার দায়-দায়িত্ব কিন্তু রাষ্ট্রের এক মহান কর্তব‍্য। সেটাতে আপনার কোন কৃতিত্ব আছে কী? আপনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন ৪৮ ঘন্টার মধে‍্যই সাগর-রুনির খুনিরা ধরা পড়বে। তা কার্যকর হলো না। সাহারা আরও বললেন দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো! আসলে উনার ভালো-মন্দের কোন ধারণা আছে কিনা তা নিয়েই সন্দেহ আছে আমাদের। আর আপনার ক্রসফায়ারপটু আইজির মুখেই শোনা গেলো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্রটি। তিনি এক সভায় জানালেন, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১১টি খুন, ৫৫টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ৮৭টি মাদকের মামলা থানায় নথিভুক্ত হচ্ছে। তিনি আবার একটি নসিহতনামাও তুলে ধরেন সাংবাদিকদের সামনে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার মনে করেন, “সার্বিক বিচারিক কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হলেই সাজার হার বাড়তে পারে। কিন্তু বিচারিক কার্যক্রম শেষ হতে অনেক সময় লাগে। এতে করে মামলা-সংশ্লিষ্ট সবাই একপর্যায়ে হতাশ হয়ে পড়ে। তাদের আগ্রহও কমে যায়। তবে বর্তমান অবস্থা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো।” (সূত্র প্রথম আলো)।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো কিংবা আগের চেয়ে অনেক ভালো বলে যতই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করুন না কেন তাতে কিন্তু সত‍্য চাপা পড়বে না। সত‍্য তার আপন শক্তিতেই উদ্ভাসিত হবে। এবং সেই শক্তি একদিন আপনাদের তামাম মিথ‍্যাচারকে পরাভূত করবে। এতে আমাদের কোন সন্দেহ নেই। কেবল আপনারা ক্ষমতার মোহে সত‍্যকে ধামাচাপা দিতেই ব‍্যস্ত। তাতে কিন্তু আখেরে আপনাদেরই মাশুল দিতে হবে। এটা এখন নয় বুঝবেন যখন আপনাদের ভুলের কারণে পুরনো একটা জগদ্দল পাথর জাতির ওপর আবার খবরদারি করবে, তখন। যখন আপনাদের করার আর কিছুই থাকবে না।
আইন-শৃঙ্খলা ভালো না মন্দ তার আরও দু’একটি উদাহরণ তুলে ধরা যায়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর এর রিপোর্টে বলা হয়েছে,গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় বখাটেকে আটক করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। একইদিন অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় রাঘবপুর গ্রামে এ হামলায় নিহত হবিবুর রহমান (৫৫) ওই গ্রামেরই বাসিন্দা। বখাটেরা হাবিবুরের বাড়িঘরে ভাংচুরও করে। ময়মনসিংহে মিথ্যা মামলায় থানায় আটকে এক প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাকে চোখ বেঁধে মারধর করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম (৬৫) বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র তারাকান্দার সভাপতি। শেয়রবাজারের তোঘলকি কান্ড আর দুর্নীতির কারণে ইতোমধে‍্য ঢাকায় ও চট্রগ্রামে দুই শেয়ার ব‍্যবসায়ী আত্মহত‍্যা করেছেন। শেয়ারবাজার কেলেংকারির হোতাদের কিছুই হয়নি। হবে বলেও আশা করার কোন কারণ নেই। এইতো সেদিন দেশের প্রধম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এর দৌহিত্রকে পুলিশ কী নির্দয়ভাবে নির্যাতন চালিয়েছে।
যাহোক পুলিশের আইজি বলেছেন, “বেধে দেয়া সময়ে তদন্ত শেষ করা সম্ভব নয়। বে আস্থা নিয়ে বলছি, সাংবাদিক দম্পতি খুনের ঘটনা তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গ্রেফতার আছে কি না, তদন্তের স্বার্থে তা জানাতে পারছি না। যারা তদন্ত কাজে যুক্ত আছেন তারা ৪৮ ঘণ্টা কাজ করে ফেলেছেন। অপরাধীদের ব্যাপারে তাদের ধারণা চলে এসেছে। তদন্ত কাজও সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে কৌশলগত কারণে সব কিছুর উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। ” দেশবাসি অতীতে সংঘটিত প্রতিটি চাঞ্চল‍্যকর হত‍্যাকান্ডের পরপরই একই বক্তব‍্য শুনেছেন অগণিতবার। কাজেই পুলিশের আইজির কথাও দেশের মানুষ কতটা আশ্বস্ত হতে পেরেছেন তা বলা মুশকিল।
দেশবাসি এই বর্বরোচিত ঘটনার রহস‍্য জানতে চায়। খুনি গ্রেফতারের নামে কোন মহড়া বা তদন্তের নামে পুরো ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার মতো কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনার মুখোমুখি হতে চান না দেশবাসি। আইন-শৃঙ্খলা ভালো কী মন্দ সেই বিতর্কের চেয়েও দেশে আইনের শাসন ও ন‍্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা জরুরি। ছবিটি দৈনিক কালের কণ্ঠ থেকে নেয়া। http://www.eurobangla.org/, editor.eurobangla@yahoo.de,

‘মেঘ’ তুমি আমাদের ক্ষমা করো না, বাবা!



জাহাঙ্গীর আলম আকাশ
।। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে খুনিদের ধরতে। সেই ২৪ ঘন্টা চলে গেছে। আর বেশি কথা বলা সাহারা বলেছিলেন ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ধরা হবে। দেখা যাক এসব কথার কথা গতানুগতিকতায় পর্যবসিত হয় কিনা। আর আমাদের মিডিয়ার বন্ধুরা বলেছেন ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ধরা না হলে আন্দোলন। কিন্তু তারা প্রশ্ন করে বলেননি যে এখনও কেন ধরা হয়নি।আমরা আপনাদের খবর প্রচার বন্ধ করলাম যতক্ষণ পর্যন্ত হত্যাকারিদের ধরা হবে না।
ক্ষমতাসীনরা সব হত্যাকান্ডের পর এই মুখস্ত করা কথাগুলিই বলে থাকে। এটা নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এবং পুলিশের পদস্থ কর্তারা প্রতিটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড সংঘটিত হবার পরপরই এমন ভাষণ দিয়ে থাকেন। না এটা কোন বিশেষ দলীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা পুলিশের আইজির কথা বলছি না আমরা। এটা একটা সার্বজনীন বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বাংলার জনগণের দুর্ভাগ্য যে তাঁরা সরকার পান, কিন্তু সেই সরকার জনগণের না হয়ে নির্দিষ্ট দলীয় সরকারে পরিণত হয় এবং তাদের কল্যাণেই বেশি ত‍ৎপর থাকে, জনগণ যে দেশের মালিক সেটা তারা ভুলে যায়। অথচ সংবিধান অনুযায়ী জনগণই দেশের মালিক। দেশের মালিককে বানিয়ে দেয়া হয় চাকর আর জনগণের সেবকরা হয়ে যায় মুনিব!
এলিটবাহিনী ও পুলিশ কারণে অকারণে রাস্তায়, কর্মস্থলে, বাড়িতে সর্বত্রই সাধারণ মানুষকে মারছে। মানুষ মার খাচ্ছে। সাধারণ মানুষ সব অন্যায় অবিচার নির্যাতন হজম করছেন অসহায় হয়ে, নিরুপায় হয়ে, কারণ তাদের করার কিছুই নেই।

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের নাতি রাকিব হোসেনকে নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকায় ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আমি বলবো না যে আদালত ঠিক করেনি। বরং এটা নিদ্বির্ধায় বলা যায় যে আদালত ১০০ ভাগ সঠিক কাজটিই করেছে। কিন্তু একটি প্রশ্ন উঠতে পারে জনমনে। সেটি হলো আদালত কি এই আদেশগুলি সাধারণ মানুষের বেলায় কখনো দেয়? মোর্দা কথা হলো দেশে আইন সমানভাবে চলে না সবার বেলায়। সমস্যাটা এখানেই। সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন প্রশ্নে আসা যাক। দেশে শত শত উদাহরণ আছে সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের। কোন ঘটনারই কী সঠিক সুষ্ঠু ও কার্যকর তদন্ত হয়েছে? খুন বা নির্যাতনের ঘটনাগুলির পেছনে যেসব রাঘব-বোয়ালদের হাত রয়েছে তারা কী শনাক্ত হয়েছে আজও? বিচারেরর প্রশ্নটি তো সুদূর পরাহত এক আশা আমাদের মৃত্যুউপত্যকাখ্যাত সোনার বাংলাদেশে! নিশ্চয়ই বাঙালি বিস্মৃত জাতি নয়।
চট্রগ্রাম স্টেডিয়ামে প্রবীণ ফটো সাংবাদিক আলহাজ্ব জহিরুল হককে কি নিষ্ঠুর নির্দয়ভাবে পিটিয়েছিল এক পুলিশ কর্মকর্তা। তার কী কোন শাস্তি বা বিচার হয়েছে আজও? জনপ্রিয় সাংবাদিক নেতা বাংলাদেশ অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরীর ওপর কুষ্টিয়ায় নির্যাতনের কথাও কোন সাংবাদিক ভোলেনি। সন্ত্রাসীদের বোমার আঘাত দেশপ্রেমিক সাংবাদিক মানিক সাহার মস্তককে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল। হয়ত এখনও খুলনার সেই রাজপথে মানিক সাহার রক্তের গন্ধ পাওয়া যাবে! কী অপরাধ ছিল খুলনার আরেক জনপ্রিয় সম্পাদক হুমায়ুন কবির বালুর? যশোরের রানার সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুলের হত্যার কী সঠিক বিচার পেয়েছেন তার পরিবার? সাংবাদিকতাজগতে তথ্যভান্ডার নামে পরিচিত শামছুর রহমান কেবলের স্ত্রী সেলিনা এবং কন্যা সেজুঁতির চোখের জলধারা কোন কিছুর বিনিময়ে কী থামানো যাবে?
সৎ সাংবাদিক দীপংকর চক্রবর্ত্তীর পরিবার এখন কিভাবে চলছে তার কী কোন খোঁজ আমরা রাখি? ফরিদপুরেরর সেই দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার চক্র যারা গৌতম দাশকে হত্যার জন্য দায়ি তারা কী এখনও বহাল তবিয়তে নেই? ফরিদপুরের আরেক সাংবাদিক বন্ধু প্রবীর শিকদার কী কখনও আগের অবস্থানে (শারীরীক) কখনও ফিরতে পারবেন? নাকি ফেনির টিপু সুলতান কখনও ভুলতে পারবেন সেই নৃশংসতার কথা যা তার জীবনের উপর দিয়ে বয়ে গেছে? ঢাকার তরুণ সাংবাদিক এফ এম মাসুমকে কী নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়েছিল তথাকথিত এলিট বাহিনীর জানোয়ারদল? মাসুম কী কখনও নির্যাতনকারীদের বিচার বা শাস্তি দেখার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারবেন এই বাংলায়? শেখ বেলালউদ্দীনের পরিবারকে আমরা কী দিয়ে শান্তনা দেবো? দেশটিভির সাংবাদিক গিয়াসউদ্দিনতো হয়ত এখনো সেই দু:সহ স্মৃতির কথা মনে করে ডুকরে কেঁদে ওঠেন?
তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক নিখিল ভদ্র কী কখনও ভেবেছিলেন তাকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হতে হবে, কিংবা অকারণেই প্রতিবন্ধি জীবনে গমন করতে হবে? সাংবাদিক দীনেশ দাশ কী আর কখনও তার প্রিয় সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিতে পারবে? মিশুক মুনীরদের মতো প্রতিভাবান সাংবাদিক কী আবার জন্মাবে এই বাংলায়? তারেক মাসুদ এর মতো চলচিত্র নির্মাতাকে সোনার বাংলা কী ফিরে পাবে কখনও? যুদ্ধাপরাধবিরোধী আন্দোলনের প্রথমসারির নেতা সাংবাদিক কলামিষ্ট শাহরিয়ার কবির কী কখনও সেই ভয়াবহ নির্যাতনের দু:সহ যন্ত্রণা ভুলে গেছেন? কেন স্বপরিবারে জীবন দিতে হবে সাংবাদিক ফরহাদ খাঁকে? ভিডিও সাংবাদিক এনটিভির আতিক, এটিএনএর মিঠু, সিলেটে প্রবীন সাংবাদিক ফতেহ ওসমানীওতো এই মহাজোট সরকারের আমলেই খুন হয়েছেন। বিচার কী পেয়েছেন তাঁদের স্বজনরা।
বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে রেডিও জার্মান ডয়েচেভেলে তৎকালিন সম্পাদক মাসকাওয়াথ আহসানকেও জঙ্গিরা হত‍্যার হুমকি দিয়েছিল। ডয়েচেভেলের বাংলাদেশ প্রতিনিধি হারুন উর রশিদকেও এই সরকারের আমলেই লাঞ্ছিত করে র্দুনীতিবাজ একটি চক্রের লোকেরা। তার কী কোন বিচার পাওয়া গেছে? সাংবাদিক তাসনীম খলিলের নিযর্াতনকারিদের কী বিচার হবে ইহজনমে? কার্টুনিষ্ট আরিফের সহকর্শিমীরা শিল্পচর্চার স্বাধীনতা কী কখনও পাবে বাংলায়? তসলিমা নাসরিনদের আর কতকাল মাতৃভূমির বাইরে থেকে স্বদেশে ফেরার আকুতি জানাতে হবে? সাংবাদিক সালিম সামাদ কিংবা এনামুল হক চৌধুরী কী এই জীবনে তাদের ওপর পরিচালিত রাষ্ট্রীয় ববর্রতার কথা কোনদিন ভুলতে পারবেন? তাদের ওপর নির্যাতনের কী বিচার আমরা পেয়েছি আজও? ঐতিহাসিক প্রফেসর মুনতাসির মামুন, কলামিষ্ট নাট্যকার অধ্যাপক মলয় ভৌমিকদের মতো দেশপ্রেমিকদেরকে সামান্য রাষ্ট্রীয় কর্মচারিদের হাতে কেন অবমাননার শিকার হতে হবে? লন্ডনস্থ বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক সাইদুর রহমান, রাজশাহী বিশ্বিবদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহান, দেশপ্রেমিক অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন কিংবা অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিকদের ওপর রাষ্ট্র কেন অত্যাচার-নিপীড়ন চালাবে? অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস, অধ্যাপক এস তাহের আহমদ কিংবা অধ্যাপক আফতাবদের কারা হত্যা করেছে? প্রথাবিরোধী লেখক অধ‍্যাপক হুমায়ূন আজাদ হত‍্যার নেপথে‍্যর নায়করা কী ধরা পড়েছে? দেশপ্রেমিক অধ‍্যাপক বিশিষ্ট রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ অধ‍্যাপক সনৎ কুমার সাহা হত‍্যাপ্রচেষ্টাকারিদের কী ধরা হয়েছে আজও?
যাহোক, অনেকে আবার ফেইসবুকে সাগর-রুনির সঙ্গে তোলা আগেকার ছবি দিয়ে ভরে ফেলেছে। হয়ত এটাই তারা বোঝাতে চাইছে যে, “দেখো সাগর-রুনির সঙ্গে আমার কত ভালো সম্পর্ক ছিল”! শোকপ্রকাশ আর খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি। যা আমরা সব হত্যাকান্ডের সময়ই বলি থাকি।অনেকে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাইছে। কিন্তু দেশে কী কেবল সাগর ও রুনিরাই অস্বাভাবিক মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন নাকি শত শত মানুষ অস্বাভাবিকভাবে মারা পড়ছেন, কিংবা মারা হচ্ছে? বিচার ছাড়াই কোন মানুষকে হত্যা কী স্বাভাবিক মৃত্যু? এবিষয়েতো মিডিয়ার কোন চিৎকার চেচামেচি দেখা যায় না। কেন, হয়ত তারা বলবে যারা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে মারা পড়ছে তারাতো “সন্ত্রাসী”! প্রকৃতঅর্থে তারা কী সবাই সন্ত্রাসী নাকি তাদের নামে সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসীর ফাইল বানিয়েও অনেককে মেরে ফেলা হচ্ছে? কাউকে অপহরণ করা হচ্ছে, এরপর লাশ মিলছে বালুচরে, নদীতে, পুকুরে কিংবা গাছের ডালে। এইতো আমার বাংলাদেশ! আসল কথা হলো কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলার শক্তি নেই আমাদের মিডিয়াগুলির! আমি পুরোপুরি মিডিয়াকে দোষারোপ করতে চাই না। সব অনিয়ম অপরাধের মূলেই তো জড়িয়ে আছে দৃর্বৃত্ত রাজনীতি, বৈষম্য আর অর্থনৈতিক সংকট। সেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বৈষম্য আর অসুস্থ রাজনীতির হাত থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে সমাজটাকে স্বাভাবিক মৃত্যুর জায়গা বানানো যাবে কী? দুর্নীতি আর অনিয়ম কোথায় নেই? সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের তালিকা যত বড় তার চেয়ে বড় এই হত্যা-নির্যাতনের দায় নিয়ে প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের তালিকা। এই দু’টি দল হত্যা নির্যাতন বন্ধ করার উপায় খোঁজার চেয়ে একে অপরকে দায়ি করার দিকেই আগ্রহী বেশি। “আমার বা আমাদের আমলে নয় উনার বা উনাদের আমলেই সাংবাদিক হত্যা নির্যাতন বেশি হয়েছে”। এই হলো খালেদা হাসিনার দর্শন। কাজেই যা হবার তাই হচ্ছে। সাংবাদিক হত্যা নির্যাতন বেড়েই চলেছে। এক্ষেত্রে কেউ যদি বলে যে, “সাংবাদিক হত্যা নির্যাতনের জন্য হাসিনা খালেদাই বেশি দায়ি তা কী খুব অসমীচীন হবে”?
এমন আরও কত ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লেখার কলেবর বাড়ানো যাবে। সেদিকে যেতে চাই না। রাষ্ট্রীয়বাহিনীর বর্বর নির্যাতনের শিকার এক ক্ষুদে সংবাদকর্মী হিসেবে গণমাধ্যম বা সাংবাদিক সমাজের কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছে।দেশে একের পর এক সাংবাদিক হত্যা নির্যাতন গঠেই চলেছে, কিন্তু তার কোন প্রতিকার নেই। খুনের নির্যাতেনর বিচার পাই না আমরা। কিন্তু কেন? আমরা কী আমাদের ন্যায্যতা বা অধিকারের অবস্থানটাকে সংহত করতে পেরেছি? আপনারা কী অনুগ্রহ করে বলবেন, কেন আপনারা বারবার আত্মসমর্পণ করছেন অবিচার, অত্যাচার আর নিপীড়নের কাছে? আমরা গভীরভাবে শোকাগত, সমবেদনা জানাচ্ছি, তদন্ত করুন, আমরা বিচার চাই ইত্যাদিতে কী খুন নির্যাতন বন্ধ হবে? নাকি সাংবাদিক সমাজকে দলমত ও নিজস্ব ব্যবসাপাতির উর্দ্ধে উঠে ইস্পাতসম দৃঢ় ঐক্যবদ্ধ হয়ে পেশাগত স্বাধীনতা আর সাংবাদিক তথা মানুষের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্নে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের পথে এগুতে হবে? সেই জায়গায় আমরা কতটুকু এগুনোর মানসিকতা সহনশীলতা কিংবা পেশাদারিত্বের পরিচয় রাখতে পারবো তার ওপরই নির্ভর করবে সাংবাদিক তথা মানুষের জানমালের নিরাপত্তার মতো কঠিন প্রশ্নটি। গণমাধ্যম আর গণতন্ত্র একটি আরেকটির পরিপূরক। স্বাধীন এবং নিরাপদ সাংবাদিকতা চাইলে একটা গণতান্ত্রিক সমাজ রাষ্ট্র অপরিহার্য। কাজেই গণতন্ত্র যাতে চর্চিত হয় সেই কাজটিও সাংবাদিকতার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে, বোধকরি।
আরেকটি প্রশ্ন খালেদা ও হাসিনার কাছে। আপনারা যুদ্ধাপরাধী কিংবা স্বৈরাচারিদের সঙ্গ ত্যাগ করে ক্ষমতা বা গদি রক্ষার কিংবা ক্ষমতা বা গদিতে যাবার জন্য নয় জনগণের জন্য নয়া রাজনীতির পথ রচনা করুন। যে পথে থাকবে আইনের শাসন, গণতন্ত্রের সত্যিকারের চর্চা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার। দেশে দুর্নীতি, দলীয়করণ, নিপীড়ন, নির্যাতন, হত্যা-খুন বন্ধ হবে না কোনদিন। যদি আপনারা দুইজন মনে প্রাণে একজন আরেকজনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ভালবাসা, বিশ্বাস, আস্থা এবং গণতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচয় দিতে না পারেন? নইলে পর্শিয়া কিংবা সেজুঁতিরা বাবা হারাতেই থাকবেন, আর মেঘেরা সাগর-রুনিদের হারিয়ে অমানিশার অন্ধকারে হারিয়ে যাবেন! বোধকরি এই অন্ধকার থেকে আপনারা জাতিকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে এখনই এক হয়ে যুদ্ধাপরাধী আর স্বৈরাচারীদের কোল থেকে নামিয়ে জনগণের কাতারে এসে দাঁড়াবেন। নইলে গণমাধ্যম ও গণতন্ত্র কোনটাই নিরাপদ হবে না! খুনিদের বিচারও চাই না, শাস্তিও না। কারণ যেটা হবে না করা হবে না সেটা চেয়ে লাভ কী বলুন? বাবা মেঘ তুমি আমাদের ক্ষমা করো না বাবা, কখনও না! তোমার প্রিয় বাবা-মা দু’জনেই শান্তিতে থাকবে বাবা। তোমার জন‍্য আমাদের কোন দু:খ নেই কষ্টও নেই। কারণ তোমার মনের ভেতরে যে কষ্টধারা তা কী আমরা বোঝার ক্ষমতা রাখি বাবা? নাকি সেই বোধ বিচার বিবেচনা আছে আমাদের? -গুগল। http://www.eurobangla.org/, editor.eurobangla@yahoo.de,

সাগর-রুনির মেঘের দু’চোখজুড়ে বইছে বৃষ্টির ধারা!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। একের পর এক সাংবাদিক খুন হবেন। আমরা শোক প্রকাশ করবো, বিক্ষোভে অংশ নেবো। বড় বড় শোক সভা করবো। কেউ বলবো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। কেউ বলবো সন্ত্রাসীদের হাত যত বড়ই হোক তাদের ধরা হবে, শাস্তিও হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তাব‍্যক্তিরা বলবো ঘটনার তদন্ত চলছে, এই মুহুর্তে এর বেশি কিছু বলা যাবে না। অপরাধীদের ধরার জন‍্য বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। সাংবাদিক ও লেখকরা বড় বড় রিপোর্ট এবং কলাম লিখবেন। মিছিলে, সভা, সমাবেশে, বিক্ষোভে ফেটে পড়বেন সাংবাদিক-সহকর্মী বন্ধুরা। টিভি চ‍্যানেলগুলি দিনভর খবর প্রচার করবে। সংবাদপত্রগুলি শিরোনাম করবে সাংবাদিক খুনের ঘটনায়। শোকবার্তা আর শোকসভার বন‍্যায় ভেসে যাবে গণমাধ‍্যমপাড়া। কেউ কেউ বলবেন এগুলি একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। অনেকে বলবেন খুনি পেশাদার, আবার কখনও বলা হবে এটা অপেশাদার খুনির কাজ। পেশাদার হোক আর অপেশাদার হোক খুন খুনই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাকে কেবল বিচ্ছিন্নই নয়, বলা হবে পেশাগত কারণে নয় ব‍্যক্তিগত আক্রোশ কিংবা সম্পত্তির লোভে সাংবাদিককে খুন করা হয়েছে। কেউ কেউ ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে দায়-দায়িত্ব এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করবেন। আবার ক্ষমতাসীনরা বলবে ২৪ ঘন্টার মধে‍্য খুনিদের ধরা হবে। নানাভাবেই দেশে খুনির পক্ষাবলম্বন করা হবে কৌশলে নয়তো অনেকটা খোলামেলাভাবেবই। যাহোক এমনসব ইত‍্যাদি আরও কত কথা, কত ঘটনা। কিন্তু সবকিছুই থেমে যাবে একটা পর্যায়ে। যা বাংলাদেশের এক গতানুগতিক চিত্র। তবে শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসী, খুনি বা অপরাধীদের সতিকারের বিচার আর হয় না। ফলে অপরাধ সংঘটনে পেশাদার ও অপেশাদার সকলেই উদ্বুদ্ধ হন পরবর্তী অপরাধ ঘটানোর জন‍্য। কেন অপরাধ বাড়ছে, অপরাধীদের সুষ্ঠু বিচার হয় না কেন সেই আসল সমস‍্যার নিয়ে আলোচনা হয়ত হবে, কিন্তু কার্যকরভাবে নয়। সবকিছুই দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে। একদল বলবে সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সম্পূর্ণ ব‍্যর্থ। আরেক দল বলবে বিরোধীদল দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। রাজনৈতিক ও বাণিজি‍্যকস্বার্থ এবং রাজনীতিপ্রিয় মিডিয়াও বিভক্ত হয়ে পড়বে এই দুই শিবিরে।
২০০৯ সালের জুন মাসে সাগর সরওয়ার এর সাথে জার্মানির বন শহরে দেখা হয়েছিল। তখন তিনি কাজ করতেন রেডিও জার্মান ডয়েচেভেলেতে। আমি ডয়েচেভেলে গ্লোবাল ফোরামের সম্মেলনে গিয়েছিলাম বন শহরে। তখন সাগর সরওয়ারের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। উনি বলেছিলেন, “তুমি এসেছো শুনেছি আগেই। আজ দেখা হলো। ভালো লাগছে।” এটাই ছিল আমাদের শেষ দেখা। বাংলাদেশের প্রাচীন এবং প্রগতিশীল বাংলা দৈনিক “সংবাদ” এ আমি কাজ করতাম রাজশাহী থেকে। সাগর ঢাকায় কাজ করতেন একই পত্রিকায়। ঢাকায় গেলে উনার সঙ্গে কথা হতো। সাগরের স্ত্রী মেহেরুন রুনিও আমার পরিচিত। তিনিও একজন পেশাদার সাংবাদিক। জার্মানি থেকে দেশে ফিরে সাগর যোগ দেন মাছরাঙ্গা টিভির বার্তা সম্পাদক হিসেবে। আর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় কাজ করা রুনি সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত এটিএন বাংলায়। উভয়ের আরেকটি পরিচয় আছে। সেটি হলো তারা স্বামী-স্ত্রী। তাদের একটা ছোট্র শিশুপুত্র আছে। নাম মেঘ। মেঘের দু’চোখজুড়ে এখন বইছে বৃষ্টির ধারা। এই বৃষ্টি কী আর কখনো কোন শান্তনাতেই থামানো যাবে? আমরা জানি না! মেঘের প্রিয় বাবা আর মাকে দুবর্ৃত্তরা পাঠিয়ে দিয়েছে এক “অচিন দেশে”। যেখানে গেলে আর কেউ ফেরে না। সাগর ও রুনিও ফিরবেন না কোনদিনও। মেঘ আর একটিবারের জন‍্যও মা কিংবা বাবা বলে কাউকে ডাকতেও পারবে না, কাছেও পাবে না। সাগর-রুনির মতো করে “বাবা সোনা” বলে মেঘকেও আর কেউ কোলে তুলে আদর-স্নেহ করবে না। কি নিয়তি এই নিষ্পাপ শিশুটির!মেঘের হৃদয়ের হাহাকার শূণ‍্যতা, কান্না কী ওই ঘাতকদের মনে বিন্দুমাত্র অনুশোচনার দাগ কাটতে সক্ষম হবে?
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ অর্থাৎ শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে এই সাংবাদিক দম্পত্তিকে হত‍্যা করা হয়। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় নিজ ফ্লাটে নৃশংসভাবে সাগর ও রুনিকে হত‍্যা করে সন্ত্রাসীরা। সকালে ঘুম থেকে উঠে মেঘ বাবা-মার মৃত দেহ দেখে প্রিয় নানীকে টেলিফোন করে। এরপরই এই বর্বর হত‍্যাকান্ড জানাজানি হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর বড় বড় ব‍্যক্তি, বিরোধীদলীয় ও সরকার দলীয় নেতা, বিশ্ববিদ‍্যালয়ের উপাচার্য, সাংবাদিক নেতা ও সহকর্মীরা ছুটে যান সাগরের বাসায়। সারাদেশে সাংবাদিক সমাজ রাজপথে নেমে থাতকদের বিচারের দাবি জানাচ্ছে। যেভাবে আগে অসংখ‍্যবার একইভাবে রাজপথে নেমেছিল প্রিয় সহকর্মী সাংবাদিক বন্ধুর খুনিদের বিচারের দাবিতে। ১৯৮৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৩১ জন সাংবাদিক হত‍্যাকান্ডের শিকার হলেন। ২০১১ সালে রাজধানীতেই আরেক সাবাদিক ফরহাদ খাঁ এবং তাঁর স্ত্রীকেও নিজ ঘরে হত‍্যা করেছিল ঘাতকরা। সেই হত‍্যারও বিচার হয়নি। সাংবাদিক মানিক সাহা, হুমায়ুন কবির বালু, শেখ বেলালউদ্দিন, হারুন রশিদ খোকন, শামছুর রহমান কেবল, দীপংকর চক্রবত্তীর্, সাইফুল আলম মুকুল, শ.ম. আলাউদ্দীন, গৌতম দাশসহ অন‍্য সাংবাদিক হত‍্যাকান্ডেরও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি আজও। এই সাবাদিক হত‍্যা তালিকা দিন দিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। আমরা জানি না এই তালিকায় পরবর্তী টার্গেটে কোন সাংবাদিক বন্ধুর নামটি পড়বে! এইতো কিছুদিন আগে সাংবাদিক দীনেশ দাশ, চলচিত্রনির্মাতা তারেক মাসুদ এবং সাংবাদিক মিশুক মুনীরকে হত‍্যা করা হলো “সড়ক দূর্ঘটনা”র মাধ‍্যমে। একইভাবে সাংবাদিক বন্ধু নিখিল ভদ্রকে সারাজীবনের জন‍্য প্রতিবন্ধি করে দেয়া হলো। কিন্তু প্রতিকার কোথায়?
গতানুগতিকভাবে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বিবৃতি দিয়েছেন এবং সাংবাদিক দম্পত্তি হত‍্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এমন নিন্দা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমাবেদনা জানিয়ে হাজারো বিবৃতি আরও আসবে। প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক দম্পত্তি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “এই দুই প্রতিভাবান সাংবাদিকের মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।” ক্ষমতাসীনরা এভাবেই বক্তব‍্য দিয়ে থাকেন। এটা একটা রুটিন বক্ত‍বে‍্যর মতো আর কী। কিন্তু নির্দেশ পর্যন্তই শেষ। আর কোন অগ্রগতি পরবর্তীতে হয় না। এর ভুরি ভুরি প্রমাণ আছে বাংলায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া শোকবার্বতায় বলেন, “রাজধানীতে সাংবাদিক দম্পতির নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আবারো প্রমাণ হলো দেশে যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ড সরকারের দুর্বিনিত দুঃশাসনের ফল।” একই বক্তব‍্য একই অভিযোগ আমরা বারবার শুনছি সাবেক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীদের কাছ থেকে। কিন্তু আমরা অবস্থার পরিবর্তন দেখতে পাই না। ঘটনা ঘটে, আর নেতা-নেত্রীদের গদবাধা বক্তব‍্য চলতেই থাকে। হত‍্যা-খুন বন্ধ হয় না। মানুষের নিরাপত্তাও বাড়ে না কখনও।
বিরোধী দল বিএনপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত‍্যাগ দাবি করেছে। বিএনপি-জামাত জোট আমলে আওয়ামী লীগ একইভাবে একই দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু আমাদের দেশের ক্ষমতাসীন নেতা-নেত্রীদের গায়ের চামড়া “গন্ডারের চামড়া”র চেয়েও শক্ত মনে হয়! দেশ গল্লা গেলেও কেউ কখনও পদত‍্যাগ করে না এখানে। বরং নিজের দায়-দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই বেশি লক্ষ‍্যণীয়। কোন সভ‍্য সমাজে মানুষকে এভাবে হত‍্যা কিংবা রাষ্ট্র কখনও হত‍্যাকে সমর্থন করতে পারে না। হাসিনা খালেদা দুই নেতাই বাংলাদেশে বিনাবিচারে মানুষ হত‍্যার লাইসেন্স প্রদানকারি!
দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল কি মন্দ সেই তর্কে না গিয়েও বলা যায় আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী, গোয়েন্দারা কী করে? এই বিশাল নিরাপত্তা খাতে জনগণের ট‍্যাক্সের কোটি কোটি টাকা ব‍্যয় হচ্ছে প্রতিবছর। সরকার র‍্যাব এবং পুলিশকে বিনাবিচারে মানুষ হত‍্যার লাইসেন্স দিয়েছে। এই সুযোগে তারা বিশেষ করে র‍্যাব যাকে তাকে ধরে হত‍্যা করছে। শত শত মানুষকে তারা হত‍্যা করেছে ২০০৪ সাল থেকে। সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসীদের দমনের নামে র‍্যাব ক্রসফায়ার নিয়েও আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশজুড়ে হত‍্যা-খুনের বা খুনি অপরাধীদের জন‍্য বিশেষ রুম বা জায়গা থাকলেও জায়গা নেই সততা, ন‍্যায়বোধ আর ন‍্যায়বিচারের!
সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ডের পর সামাজিক মিডিয়ায় নিন্দা, প্রতিবাদ আর শোক প্রকাশের ঝড় উঠেছে। আমার কয়েকজন বন্ধু খুনিদের ফাঁসি দাবি করেছেন। আমি বলবো ফাঁসি নয় বিচার চাই। সব সাংবাদিক হত‍্যা-নিযর্াতনের বিচার চাই আমরা। কিন্তু বিচারটা আসবে কোথা থেকে এবং কিভাবে? সেটাই বড় প্রশ্ন। বিচার হবে তখনই যখন দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চা, সহশীল রাজনীতি এবং আইনের শাসন আসবে, বিনাবিচারে মানুষ হত‍্যা বন্ধ হবে, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হবে তখনই কেবল ন‍্যায়বিচার প্রত‍্যাশা করা যায়। কাজেই শোক প্রকাশ আর দু’একটি মানববন্ধনে হত‍্যা নির্যাতন বন্ধ কিংবা ন‍্যায়বিচার পাওয়া যাবে না কোনদিনও। রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন‍্য এক গণবিপ্লব অপরিহার্য। সেটা আর বেশিদূরে নয়। কারণ একটা দেশ এভাবে চলতে পারে না, যেখানে কোন আইনের শাসন, সতি‍্যকারের গণতান্ত্রিক চর্চা এবং রাজনীতিতে সহনশীলতার বিন্দুমাত্র প্রকাশ নেই। দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষও যদি বলেন যে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বা ঘটেছে। কিন্তু তারপরও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী বা সরকারপক্ষ তার বিপক্ষেই কথা বলবে। এটাই জাতির জন‍্য দুর্ভাগ‍্য। অপহরণ, গুপ্ত হত‍্যা বাড়ছ। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করে বলছে বারবার যে এসবের পেছনে র‍্যাবের সরাসরি হাত রয়েছে। তারপরও তারা এটা স্বীকার করতে নারাজ। তারা বলবে উদ্বিঘ্ন হবার কিছু নেই। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণেই আছে। সবমিলিয়ে একটা মিথ‍্যা আর প্রহসনের সমাজ রাষ্ট্র জনগণের সামনে ভেসে উঠছে । মিথ‍্যা আশ্বাস কিংবা বক্তব‍্য প্রদান আর ঘটনাকে যেকোনপ্রকারে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা থেকেই মূলত: সমাজে অস্থিরতা আর আতংক বেড়েই চলেছে। বাড়ছে ব‍্যক্তি ও গোষ্ঠী গত সংঘাত। সরকার, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আর রাজনীতিতে যতদিন সত‍্য ও ন‍্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জায়গায় না আসবে ততদিন এই সমাজ ও রাষ্ট্রে হত‍্যা-খুন, অপহরণ ও অপরাধ বেড়েই চলবে, এতে সন্দেহের কোন কারণ নেই জনমনে। আইনের দৃষ্টি যখন সমাজে সমানভাবে দেখে না, আইনের শাসন কার্যকর নেই সেখানে জনগণের ভরসা বা আশ্রয়ের জায়গাটা কোথায়?
সাগর-রুনির সন্তান মেঘ আজ কাঁদছে। জীবনভর কাঁদবে। একইভাবে মানিক সাহার সন্তান পর্শিয়া, নাতাশাও কেঁদেছে, কাঁদছে, কাঁদবে। কেবল ভাইয়ের কন‍্যা সেজুঁতিসহ আরও অনেক সাংবাদিক সন্তানের উদাহরণ দেয়া যাবে। অন‍্য আরও লাখো লাখো সন্তান কাঁদছে প্রিয় বাবাকে হারিয়ে। এই পিতাহারা সন্তানগুলির কান্না থামাবো আমরা কিসের বিনিময়ে কোন শান্তনায়? এই মতু‍্যউপত‍্যকার জন‍্য একাত্তরে মানুষ লড়েনি পশ্চিমপাকিস্তানীদের নির্যাতন, বৈষম‍্য আর অবিচারেরর বিরুদ্ধে। ছবি-ফেইসবুক থেকে নেয়া। http://www.eurobangla.org/, editor.eurobangla@yahoo.de,

বর্বরতা-নৃশংসতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় উপহাস!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশের তিনদিক ঘিরে আছে ভারত। একদা বাংলা (বাংলাদেশ) ভারতের সঙ্গেই ছিল। বৃটিশদের কূটবুদ্ধি আর কৌশলের কারণে ভারত দ্বিখন্ডিত হয় ১৯৪৭ সালে। তথাকথিত দ্বিজাতিতত্ত্ব বা সাম্প্রদায়িক ধর্মীয় সুতোর বিভাজন টেনে বৃটিশরা ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে। সেই পরিকল্পিত ভুলের মাশুল আজও দিয়ে যাচ্ছে গোটা ভারতবর্ষ। শান্তির প্রতিক অহিংস নেতা বলে বিশ্বময় পরিচিত মহান মাহাত্মা গান্ধী কোন পেক্ষাপটে এবং কেন বৃটিশদের সেই পাতা ফাঁদে পা দিয়েছিলেন সে বিষয়ে আলোচনা করার মত ধৃষ্টতা বা যোগ‍্যতা কোনটাই নেই আমার! আমার আলোচনার বিষয়বস্তু গান্ধী বা ভারতবর্ষের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নয়।
দুর্ভাগ‍্যক্রমে আজকের বাংলাদেশ তৎকালিন পাকিস্তানের অন্তর্গত হয়। পশ্চিম পাকিস্তানীদের অত‍্যাচার, বৈষম‍্য আর স্বৈরাচারি ভূমিকার কারণে মাত্র চব্বিশ বছরেই ভেঙ্গে যায় পাকিস্তান। তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ বহু ত‍্যাগের বিনিময়ে অর্জন করে স্বাধীনতা। সেই মুক্তি সংগ্রামে খাঁটি বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েছিল ভারত এবং তৎকালিন সোভিয়েত ইউনিয়ন। ভারত আর বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত যেন আজ এক মৃতু‍্যউপত‍্যকায় পরিণত হয়েছে। উভয়দেশের কতিপয় অসাধু ব‍্যবসায়ী চোরাকারবারীদের টাকা তৈরীর কারখানায় পরিণত হয়েছে এই বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের সীমান্ত। গরু, হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ অন‍্য আরও অনেক বস্তু চোরাচালান হয় সীমান্তজুড়ে। এই অসৎ ব‍্যবসাচক্রের মূল হোতা বা রাঘববোয়ালরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বর্বরতার শিকার হচ্ছেন হাবিবরা, যারা দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোগানোর জন‍্য কেবল গরু কিংবা অন‍্য পন‍্য এপার ওপার করার দু:সাধ‍্য কাজটি করে থাকেন। আর ফেলানীদের লাশ কাঁটাতাঁরে ঝুলে। খুনি, নির্যাতনকারি বিএসএফ বলি আর বিজিবি বলি কারও কিছু হয় না! ভারতের মিডিয়া এনডিটিভি বিএসএফের নৃশংসতার যে চিত্র সম্প্রচার করেছে তা কী কোন সভ‍্য বাহিনী, দেশ বা জাতির পক্ষে করা সম্ভব?
অন‍্যদিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার রক্ষায় সম্পূর্ণ ব‍্যর্থ। বিচারবহির্ভূত হত‍্যাকান্ড, গুপ্তহত‍্যা, অপহরণ কোনটাই বন্ধ হয়নি। সবকিছুই সেখানে অবলীলায় সংঘটিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দ্বারা। সংবিধান, আইন কোনকিছুরই তোয়াক্কা নেই। কোন ঘটনারই বিচার পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। সেখানে বলতে গেলে জোর যার মুল্লুক তার অবস্থা। একটা জাতির কতটা অধ:পতন বা নিলজ্জ নৃশংস হলে এই পর্যায়ে নামতে পারে কোন রাষ্ট্রীয় বাহিনী।
বাংলাদেশের একটি অনলাইন মিডিয়ার খবর অনুযায়ী বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম‍্যান অধ‍্যাপক মিজানুর রহমান বলেছেন যে, সীমান্তে নির্যাতন বন্ধ না হলে জাতিসংঘে নালিশজানানো হবে। বাহ্ চমৎকার! ব‍্যাপারটি এমন দাঁড়ালো, এখনো নালিশ করার মতো তেমন কিছুই ঘটেনি? হায়রে অন্ধ দেশ, মানবাধিকার, রাষ্ট্র। তোর চোখ খুলবে কবে? আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, দেশের বাইরেরটা যেমন বর্বরতা ভেতরেরটাও একইভাবে নৃশংস, ভয়ানক। রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় বাহিনী কখনও খুন করার লাইসেন্স পেতে পারে কী? হাসিনা এবং তাঁর সরকার বিচারবহির্ভূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ না করার জন‍্য এখন পর্যন্ত কোথায় নালিশ করেছেন, মানবাধিকার কমিশনের মাননীয় চেয়ারম‍্যান? নাকি আপনিও এই নৃশংসতার পক্ষেই পরোক্ষভাবে, তা জানতে বড্ড ইচ্ছে করে!
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম‍্যান মাঝেমধে‍্যই সংবাদমাধ‍্যমে শিরোনাম হন খুব সুন্দর সুন্দর কথা বা বক্তব‍্য প্রদান করার জন‍্য। যেমনটি হয়েছিলেন লিমন নামের এক অভাগা দরিদ্র ছাত্র র‍্যাবের গুলিতে পঙ্গু হয়ে যাবার পর। কিন্তু মিডিয়ার শিরোনাম হবার জন‍্য বক্তৃতা দেয়া আর বাস্তবে কোন সমস‍্যার গুণগত পরিবর্তন বা সমাধান করা কী এক ঘটনা? না কখনই না। অধ‍্যাপক মিজান খুব সুন্দর ঝাঁঝালো বক্তব‍্য রাখেন মানবাধিকারের পক্ষে। সেটা আমরা সবাই জানি, কথা বলা আর কথাকে কাজে পরিণত করা এক নয়। কাজ করার সুযোগ না থাকলে তিনি পদ ছেড়ে দিতে পারেন। কিন্তু পদও ছাড়বো না, কাজও করবো না তা কী হয়? লিমনের বিষয়ে তিনি কী পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন? অপরাধী র‍্যাবের শাস্তি হয়েছে কী? ওরকম একটা নিরাপদ জায়গায় থেকে আপনি আমি আমরা সববাই খুব চিৎকার চেচামেচি করতে পারি মিডিয়ার শিরোনাম হতে পারি, তাতে কী লিমনরা সম্মানিত হন নাকি তারা হারানো পা কিংবা জীবন ফিরে পাচ্ছেন? কাঁটাতাঁরে ঝুলন্দ বাংলাদেশের প্রতিক ফেলানিদের খোঁজ নেবার ফুসরত থাকে না আমাদের মিডিয়া কিংবা সমাজপতিদের। ঘটনা ঘটে যাবার পর বেশ লম্ফঝম্ফ চলে, মিডিয়ায় শোরগোল তোলে মুক্তবাজার অর্থনীতির বাজারী গণমাধ‍্যমগুলি। কিন্তু সড়কপথে জমাটবদ্ধ রক্ত যেমন বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে মুছে যায় ঠিক তেমনিভাবে ফেলানী, হাবিব কিংবা লিমনদের কথাও বিস্মৃত হয়ে যায় আমার স্বার্থপর মিডিয়া, সমাজ, রাষ্ট্র! বর্বরতা আর নৃশংসতা নিয়ে রাষ্ট্র যখন উপহাস করে তখন অপরাধী খুনিচক্র উৎসাহিত হয়। সমাজে নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতা বাড়তে থাকে। পচা রাজনীতি আর দুর্নীতি-দুবৃত্তায়নযুক্ত রাষ্ট্রনায়কদের দৌরাত্মে বাযালি জাতি আজ ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে। রোগটাতো আর সাধারণ মানুষের শরীরে নেই, রোগটা ধরেছে সমাজের চালিকাশক্তি রাজনীতির মাথায়। রাজনীতির এই পচনরোগ থেকে জাতি উদ্ধারের পথ একটাই আর তা হলো কৃষক-শ্রমক জনতার ঐক‍্য এবং গণবিপ্লব। এর কোন বিকল্প পথ আমাদের জানা নেই। জনতার জয় একদিন হবে নিশ্চয়ই। ছবি গুগল থেকে নেয়া। http://www.eurobangla.org/,